Live update news
ইরানের নতুন বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে অথবা সেগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এসব স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সীমিত পর্যায়ে নেই এবং তা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   এদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

৫ মিনিট Ago
ইরানের পাল্টা জবাবে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে বাড়ছে উদ্বেগ

মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।   সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ওয়াশিংটন তাদের আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে হয়।   এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সহজ হবে না, এবং এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২৪ মিনিট Ago
ইরানে ১৬৫ শিশু হত্যা, পেন্টাগনের কাছে জবাব চাইলেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা

ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের একটি নৌঘাঁটি ও সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি 'টমাহক ক্রুজ মিসাইল'-এর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে।   বুধবার হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটররা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে নৈতিক দায়িত্ব, বর্তমান প্রশাসন তা অবজ্ঞা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি যুদ্ধের জন্য কোনো 'শর্ত' বা 'নিয়ম' না থাকার কথা বলেছিলেন—বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এদিকে জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি 'ভয়াবহ ভুল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

৩৩ মিনিট Ago
হরমুজ প্রণালিতে একইদিনে তিন কার্গো জাহাজে হামলা

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।   অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।

৪২ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে পারবে ইরান, ট্রাম্পের সবুজ সংকেত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলেও আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় কাটতে শুরু করেছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানি জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে খেলার জন্য পূর্ণ স্বাগত। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক বিশেষ বৈঠকে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং ইরানের কোয়ালিফিকেশন নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ফিফা প্রধান বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইরানি দল অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।" তবে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হতে পারে। তিনি বলেন, "হামলার এই ভয়াবহতার পর আমরা স্বাভাবিকভাবে বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে থাকব, এমনটা আশা করা কঠিন।" খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করা হলেও সমর্থকদের ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা এখনো কাটেনি। এর আগে ইরানি ভক্তদের ভিসা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল, যা বড় ধরণের বিতর্কের জন্ম দেয়। এমনকি গত বছর ওয়াশিংটনে ড্র অনুষ্ঠানের সময়ও অর্ধেক প্রতিনিধি ভিসা না পাওয়ায় ইরান বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। এত সব উত্তেজনার মাঝেও ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো আশাবাদী। তিনি এই টুর্নামেন্টকে বিশ্ব ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্বকে একত্রিত করতে ফুটবলের চেয়ে বড় শক্তি আর নেই। এখন আগের চেয়েও বেশি আমাদের এমন একটি মিলনমেলা প্রয়োজন।"

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে ১৬৫ শিশু হত্যা, পেন্টাগনের কাছে জবাব চাইলেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা

ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের একটি নৌঘাঁটি ও সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি 'টমাহক ক্রুজ মিসাইল'-এর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে।   বুধবার হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটররা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে নৈতিক দায়িত্ব, বর্তমান প্রশাসন তা অবজ্ঞা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি যুদ্ধের জন্য কোনো 'শর্ত' বা 'নিয়ম' না থাকার কথা বলেছিলেন—বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এদিকে জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি 'ভয়াবহ ভুল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে ২০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রিসেন্ট

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ১৯,৭৩৪টি বেসামরিক কাঠামো হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সবথেকে বেশি।   রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার তালিকায় রয়েছে ৭৭টি মেডিকেল সেন্টার এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমনকি মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত খোদ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিজস্ব ১৬টি স্থাপনাও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি।    হাসপাতাল ও স্কুলগুলোর ওপর এমন আঘাত সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের পাল্টা জবাবে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে বাড়ছে উদ্বেগ

মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।   সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ওয়াশিংটন তাদের আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে হয়।   এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সহজ হবে না, এবং এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১৬টি মাইনবাহী জাহাজ ধ্বংস
১৬টি মাইনবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা হামলা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দামামা এখন চরম সীমায়। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ১৬টি মাইন পাতা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অকার্যকর মাইন বহনকারী ইরানি নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রতিফলন। তবে সংঘাত কেবল সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই; ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই।   ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। একইসাথে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ। অন্যদিকে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বেজে উঠছে সাইরেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে।   এই চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি আমেরিকান ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাজ্যও বিশেষ বিমানে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এখন তেহরান থেকে বৈরুত, আর রিয়াদ থেকে দুবাই—পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের নতুন বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে অথবা সেগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এসব স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সীমিত পর্যায়ে নেই এবং তা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   এদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের নতুন বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি
আবু জোবায়ের মার্চ ১১, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে অথবা সেগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এসব স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সীমিত পর্যায়ে নেই এবং তা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   এদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের পাল্টা জবাবে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে বাড়ছে উদ্বেগ
আবু জোবায়ের মার্চ ১১, ২০২৬ 0

মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।   সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ওয়াশিংটন তাদের আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে হয়।   এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সহজ হবে না, এবং এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে ১৬৫ শিশু হত্যা, পেন্টাগনের কাছে জবাব চাইলেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা
আবু জোবায়ের মার্চ ১১, ২০২৬ 0

ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের একটি নৌঘাঁটি ও সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি 'টমাহক ক্রুজ মিসাইল'-এর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে।   বুধবার হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটররা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে নৈতিক দায়িত্ব, বর্তমান প্রশাসন তা অবজ্ঞা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি যুদ্ধের জন্য কোনো 'শর্ত' বা 'নিয়ম' না থাকার কথা বলেছিলেন—বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এদিকে জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি 'ভয়াবহ ভুল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালিতে একইদিনে তিন কার্গো জাহাজে হামলা
আবু জোবায়ের মার্চ ১১, ২০২৬ 0

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।   অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
174 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
190 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
125 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়