ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি একটি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই একই হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন বলেও সেই অসমর্থিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও দাবি করা হয় যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় মস্কো নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি রাষ্ট্রদূত জালালি এই পুরো বিষয়টিকে গুজব হিসেবে আখ্যা দিয়ে সত্যতা নাকচ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরানের সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি লারিজানির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন লারিজানি। ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, তেহরানের ‘শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার পর থেকেই লারিজানির শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ইসরায়েলি গণমাধ্যম তাকে গুরুতর আহত বা নিহত বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। তবে তেহরান এসব দাবিকে ‘পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা’ ও ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আলি লারিজানি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে আজ বিকেলেই প্রকাশ্যে এসে বিবৃতি দেবেন। এই প্রভাবশালী নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এখন আছড়ে পড়ছে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক টেবিলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনা দুই পরাশক্তির সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন এই বৈঠককে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, তখন বেইজিংয়ের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে চরম বিরক্তি ও সতর্কবার্তা। ঘটনার সূত্রপাত হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের দেওয়া এক আহ্বানকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনসহ অন্যান্য দেশকেও এই অভিযানে শরিক হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু বেইজিং এই প্রস্তাবে সায় না দেওয়ায় খোদ ট্রাম্পই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও সোমবার সুর নরম করে তিনি বলেছেন, 'আমি যেতে চাই, কিন্তু দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আটকা পড়েছি। শি-র সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার।' তবে ট্রাম্পের এই 'চমৎকার সম্পর্কের' দাবিকে পাত্তা দিচ্ছেন না চীনা কর্মকর্তারা। বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারার নামে মার্কিন রণতরীর সঙ্গী হওয়াকে চীন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাফ জানিয়েছেন, বেইজিং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের এই আহ্বান রীতিমতো উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র 'গ্লোবাল টাইমস' প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, নাকি আমেরিকার অসমাপ্ত যুদ্ধের ঝুঁকি অন্যের ঘাড়ে চাপানোর ফন্দি? এমনকি কোনো কোনো প্রভাবশালী চীনা ব্লগার রসিকতা করে বলছেন, ট্রাম্পের উচিত তার জাহাজ পাহারার জন্য ইরানি নৌবাহিনীকেই দাওয়াত দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের জন্য নিজের জাহাজ ও কর্মীদের ঝুঁকিতে ফেলা বা ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক চটানোর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ইরান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে তাদের লক্ষ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা; চীনের জ্বালানি তেলের জাহাজ চলাচলে তারা কোনো বাধা দেবে না। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডিং লং মনে করেন, ট্রাম্প সফর করুন বা না করুন, চীন কোনোভাবেই এই যুদ্ধে জড়াতে রণতরী পাঠাবে না। কারণ এটি হবে মার্কিন নেতৃত্বের কাছে সরাসরি নতিস্বীকার। তবে এই টানাপোড়েন চীনের জন্য উভয়সংকট তৈরি করেছে। বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ায় বেইজিংয়ের ধীরগতির অর্থনীতি চাঙ্গা করার পরিকল্পনা বা তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন চাপ কমানোর আলোচনা থমকে যেতে পারে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চীনের অন্তত ৯টি পণ্যবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ইউন সান মনে করেন, বেইজিং হয়তো পর্দার আড়াল থেকে মধ্যস্থতার চেষ্টা করবে। কারণ প্রণালিটি খুলে দিলে চীনের বাণিজ্য যেমন সচল হবে, তেমনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দরকষাকষিতেও সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ট্রাম্পের জন্যও এই বৈঠক অত্যন্ত জরুরি, কারণ যুদ্ধের ময়দানে সফল চুক্তির কৃতিত্ব নিতে তিনিও এখন মরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের (NCTC) পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং চলমান যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে মঙ্গলবার তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক পদত্যাগপত্রে কেন্ট অভিযোগ করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো সরাসরি হুমকি ছিল না, বরং ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনে তাদের মিত্রদের চাপের মুখেই এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছে। কেন্ট তার চিঠিতে লেখেন, "আমি বিবেকবোধ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। এটা স্পষ্ট যে, ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী লবিং গ্রুপের প্ররোচনায় আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।" সাবেক এই গ্রিন বেরে (Green Beret) কর্মকর্তা, যিনি ১১ বার যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন, সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে আমেরিকা আরও একটি অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যয়বহুল মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দিকে পা বাড়াচ্ছে। ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানকে একটি আসন্ন বিপদ হিসেবে চিত্রিত করার যে আখ্যান তৈরি করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর কেন্টকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেই গভীর ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওরমজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে কেন্ট শুরু থেকেই দ্বিমত পোষণ করে আসছিলেন। হোয়াইট হাউস এখনো কেন্টের এই পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বৈদেশিক নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হতেই শিল্পনগরী গাজীপুর থেকে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে শ্রমজীবী মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টার পর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ না থাকায় এবং যানজটহীন যাত্রায় সাধারণ মানুষের চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ দেখা গেছে। মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চার শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের প্রায় ৯৫ শতাংশ কারখানায় বকেয়া বেতন এবং ৯১ শতাংশ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার কারণে এবার মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ ধাপে ধাপে বাড়ছে, ফলে বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। মঙ্গলবার ৪৪৪টি কারখানা ছুটি হয়েছে এবং বুধবার আরও ১৪১৪টি কারখানা ছুটি হওয়ার কথা রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যানজট নিরসনে পেট্রোল টিম, মোবাইল টিম এবং সাদা পোশাকে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ধাপে ধাপে কারখানা ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ায় এবার ঘরমুখো মানুষের যাত্রা অনেক বেশি নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে পোল্যান্ড কোনো ধরনের সামরিক অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্রদের নিয়ে জোট গঠনের আহ্বান জানানোর পরই এ অবস্থান স্পষ্ট করে ওয়ারশ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে পোল্যান্ড কোনো সৈন্য পাঠাবে না। তিনি বলেন, ইরানে কোনো অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই এবং এ বিষয়ে মিত্রদের মধ্যেও কোনো বিভ্রান্তি নেই। সরকারি এক বৈঠকের আগে তুস্ক আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের আওতায় পোল্যান্ডের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন সীমান্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এসব বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে। এদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সহায়তা চাইছে।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপা দাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার ঘোনাপাড়া গ্রামের নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত দীপা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীপার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দীপা তার স্বামীকে একটি ঘরে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরে তার স্বামী বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে দীপার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তবে এ ঘটনার পর থেকে দীপার স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। দীপার সহপাঠীরা জানান, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলা বিভাগ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক চলে যাওয়া সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগামহীন এবং স্ববিরোধী বক্তব্য এখন তার প্রশাসনের জন্য একটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। এলমাসরির মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, তিনি বারবার তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি এমনও মন্তব্য করেছিলেন যে, "হয়তো আমাদের সেখানে (মধ্যপ্রাচ্যে) থাকাই উচিত ছিল না।" ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন—যদি সেখানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির প্রয়োজনই না থাকতো, তবে এই যুদ্ধে প্রাণহানির দায়ভার কে নেবে? কেনই বা এই যুদ্ধের সূচনা করা হলো? অধ্যাপক মাসরি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিশৃঙ্খলা কেবল ট্রাম্পের একার নয়, বরং তার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যেমন হেগসেথসহ অন্যদের বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ধারাবাহিক ভুল যোগাযোগ এবং পরস্পরবিরোধী মন্তব্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক ভয়াবহ ‘মেসেজিং ক্রাইসিস’ বা বার্তা আদান-প্রদান সংক্রান্ত সংকটের রূপ নিয়েছে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আফগান ক্রিকেটাররা। শবে কদরের পবিত্র রাতে দুই হাজার শয্যার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এই হামলার ফলে প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি ও নবিন উল হকের মতো তারকা ক্রিকেটাররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তারা এই হামলাকে ইসরায়েলি বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান নিহতের ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে লিখেছেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে হামলা চালানো একটি জঘন্য অপরাধ। অন্যদিকে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি এই ঘটনাকে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বলি বলে উল্লেখ করেছেন। পেসার নবিন উল হক আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করে পাকিস্তান ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন। যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষের রেশ ধরে এই হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মী ও আশপাশের এলাকার মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এ প্রকাশিত এক বার্তায় আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, অঞ্চলে থাকা সব আমেরিকান শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালি করে নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব শিল্পকারখানায় আমেরিকানদের অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেগুলোর আশপাশের এলাকার মানুষকেও দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হামলায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তবে ঠিক কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে গত সপ্তাহে তাসনিম নিউজ এজেন্সির টেলিগ্রাম চ্যানেলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। তালিকায় রয়েছে অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট এবং এনভিডিয়া-এর অফিস। বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি একটি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই একই হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন বলেও সেই অসমর্থিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও দাবি করা হয় যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় মস্কো নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি রাষ্ট্রদূত জালালি এই পুরো বিষয়টিকে গুজব হিসেবে আখ্যা দিয়ে সত্যতা নাকচ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরানের সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি লারিজানির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন লারিজানি। ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, তেহরানের ‘শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার পর থেকেই লারিজানির শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ইসরায়েলি গণমাধ্যম তাকে গুরুতর আহত বা নিহত বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। তবে তেহরান এসব দাবিকে ‘পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা’ ও ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আলি লারিজানি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে আজ বিকেলেই প্রকাশ্যে এসে বিবৃতি দেবেন। এই প্রভাবশালী নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এখন আছড়ে পড়ছে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক টেবিলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনা দুই পরাশক্তির সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন এই বৈঠককে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, তখন বেইজিংয়ের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে চরম বিরক্তি ও সতর্কবার্তা। ঘটনার সূত্রপাত হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের দেওয়া এক আহ্বানকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনসহ অন্যান্য দেশকেও এই অভিযানে শরিক হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু বেইজিং এই প্রস্তাবে সায় না দেওয়ায় খোদ ট্রাম্পই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও সোমবার সুর নরম করে তিনি বলেছেন, 'আমি যেতে চাই, কিন্তু দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আটকা পড়েছি। শি-র সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার।' তবে ট্রাম্পের এই 'চমৎকার সম্পর্কের' দাবিকে পাত্তা দিচ্ছেন না চীনা কর্মকর্তারা। বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারার নামে মার্কিন রণতরীর সঙ্গী হওয়াকে চীন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাফ জানিয়েছেন, বেইজিং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের এই আহ্বান রীতিমতো উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র 'গ্লোবাল টাইমস' প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, নাকি আমেরিকার অসমাপ্ত যুদ্ধের ঝুঁকি অন্যের ঘাড়ে চাপানোর ফন্দি? এমনকি কোনো কোনো প্রভাবশালী চীনা ব্লগার রসিকতা করে বলছেন, ট্রাম্পের উচিত তার জাহাজ পাহারার জন্য ইরানি নৌবাহিনীকেই দাওয়াত দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের জন্য নিজের জাহাজ ও কর্মীদের ঝুঁকিতে ফেলা বা ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক চটানোর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ইরান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে তাদের লক্ষ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা; চীনের জ্বালানি তেলের জাহাজ চলাচলে তারা কোনো বাধা দেবে না। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডিং লং মনে করেন, ট্রাম্প সফর করুন বা না করুন, চীন কোনোভাবেই এই যুদ্ধে জড়াতে রণতরী পাঠাবে না। কারণ এটি হবে মার্কিন নেতৃত্বের কাছে সরাসরি নতিস্বীকার। তবে এই টানাপোড়েন চীনের জন্য উভয়সংকট তৈরি করেছে। বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ায় বেইজিংয়ের ধীরগতির অর্থনীতি চাঙ্গা করার পরিকল্পনা বা তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন চাপ কমানোর আলোচনা থমকে যেতে পারে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চীনের অন্তত ৯টি পণ্যবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ইউন সান মনে করেন, বেইজিং হয়তো পর্দার আড়াল থেকে মধ্যস্থতার চেষ্টা করবে। কারণ প্রণালিটি খুলে দিলে চীনের বাণিজ্য যেমন সচল হবে, তেমনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দরকষাকষিতেও সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ট্রাম্পের জন্যও এই বৈঠক অত্যন্ত জরুরি, কারণ যুদ্ধের ময়দানে সফল চুক্তির কৃতিত্ব নিতে তিনিও এখন মরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের (NCTC) পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং চলমান যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে মঙ্গলবার তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক পদত্যাগপত্রে কেন্ট অভিযোগ করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো সরাসরি হুমকি ছিল না, বরং ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনে তাদের মিত্রদের চাপের মুখেই এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছে। কেন্ট তার চিঠিতে লেখেন, "আমি বিবেকবোধ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। এটা স্পষ্ট যে, ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী লবিং গ্রুপের প্ররোচনায় আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।" সাবেক এই গ্রিন বেরে (Green Beret) কর্মকর্তা, যিনি ১১ বার যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন, সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে আমেরিকা আরও একটি অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যয়বহুল মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দিকে পা বাড়াচ্ছে। ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানকে একটি আসন্ন বিপদ হিসেবে চিত্রিত করার যে আখ্যান তৈরি করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর কেন্টকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেই গভীর ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওরমজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে কেন্ট শুরু থেকেই দ্বিমত পোষণ করে আসছিলেন। হোয়াইট হাউস এখনো কেন্টের এই পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বৈদেশিক নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।