রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার ব্রুনেই দারুসসালামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ল্যাভরভ উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কৌশল ইরানকে শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্ররোচিত করতে পারে। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি দেশের শান্তিপূর্ণ অধিকার, যা অন্য রাষ্ট্রও ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি এটি ইরান থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরান শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন, বর্তমান সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে পুরো অঞ্চল পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে বিতর্কিত এক অভিযোগ সামনে এসেছে। মার্কিন সেনাদের একটি অংশ দাবি করেছে, কিছু সামরিক কমান্ডার সৈন্যদের বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “যিশুর মনোনীত নেতা” এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নাকি ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অধিকার সংগঠন জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা থেকে ২০০টিরও বেশি অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগগুলো ৫০টির বেশি সামরিক ঘাঁটি থেকে এসেছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু কমান্ডার যুদ্ধ প্রস্তুতি বৈঠকে সৈন্যদের সামনে দাবি করেন যে ইরানে চলমান সংঘাত বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি “ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ”। একটি অভিযোগে এক নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা জানান, তাদের কমান্ডার বৈঠকে বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি যিশুর দ্বারা মনোনীত। ওই অভিযোগটি একটি ইউনিটের ১৫ জন সদস্যের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, যাদের অনেকেই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধিতা নয়; বরং সামরিক পরিবেশে ধর্মীয় মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে তাদের আপত্তি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ওয়াইনস্টিন সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাব বাড়লে তা সংবিধানে নির্ধারিত রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক নীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়নি।
স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসুস মন্টেরো বলেছেন, স্পেন কোনোভাবেই কারও দাস হবে না। তিনি জানিয়েছেন, কোনো হুমকি বরদাশত করা হবে না এবং দেশের মূল্যবোধ রক্ষা করা হবে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনায় স্পেনের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার না দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্প্যানিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পেনের স্থিতিশীল নীতি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা হবে না যা স্পেনের স্বার্থ ও মূল্যবোধের বিরোধী বা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। সূত্র: আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করলেও বেইজিং এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক এবং ইরানের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও চীন কেন এই সংঘাতে ‘সাইডলাইনে’ বা পার্শ্ববর্তী দর্শক হিসেবে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই নিরবতা বা পরোক্ষ অবস্থান কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি বেইজিংয়ের একটি সুচিন্তিত কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল। মূলত তিনটি প্রধান কারণে চীন সরাসরি এই সংঘাতে জড়াতে চাইছে না: ১. ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য: নভেম্বরে আসন্ন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর এবং উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আগে চীন কোনো বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক আরও তিক্ত করতে চায় না। বেইজিং মনে করে, সরাসরি ইরানের পক্ষে সামরিক অবস্থান নিলে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক আলোচনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ২. সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক অবস্থান: চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার নিন্দা জানালেও এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও, তারা সরাসরি ‘হামলার কঠোর নিন্দা’র মতো শব্দ ব্যবহার এড়িয়ে গেছে। তারা চায় না এই সংঘাতে নিজেকে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলতে যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রাশিয়ার মতো সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে বা কড়া ভাষায় সমালোচনায় না গিয়ে চীন একটি ‘পরিমিত’ বা ‘মেজড’ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। ৩. অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা: ইরান চীনের একটি বড় জ্বালানি সরবরাহকারী এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন চায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক যাতে তাদের বিনিয়োগ ও তেলের সরবরাহ নিশ্চিত থাকে। সামরিকভাবে জড়ালে এই বাণিজ্য পথগুলো দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মত: কার্নেগি এনডাউমেন্টের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যেভাবে তার মিত্রদের (যেমন ইসরায়েল বা জাপান) জন্য জীবন বাজি রাখতে পারে, বেইজিংয়ের কৌশলগত দর্শন তেমন নয়। চীন তার সামরিক শক্তিকে মূলত পূর্ব এশিয়া এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। ইরান বা ভেনেজুয়েলার মতো অংশীদারদের জন্য তারা অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে নামা তাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তবে পর্দার আড়ালে চীন বসে নেই। তারা ইরানকে সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে চীন একটি ‘অপেক্ষার নীতি’ (Wait-and-see approach) গ্রহণ করেছে। তারা দেখছে যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরে এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থ কতটুকু প্রভাবিত হয়। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের লেলিহান শিখা থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে কূটনৈতিক চালে নিজের স্বার্থ হাসিল করতেই বেশি মনোযোগী শি জিনপিং প্রশাসন।
সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) গঠন করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নিকারে স্থানীয় সরকার, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিল্প ও আইন মন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসন, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, সমন্বয় ও সংস্কার, আইন ও বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবও কমিটির সদস্য হয়েছেন। নিকার নতুন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর স্থাপন, পুনর্গঠন এবং নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিবেচনা করবে। এছাড়া নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা গঠন বা স্থাপনের প্রস্তাব এবং সেগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পর্কিত বিষয়ও কমিটি দেখবে।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে বিতর্কিত এক অভিযোগ সামনে এসেছে। মার্কিন সেনাদের একটি অংশ দাবি করেছে, কিছু সামরিক কমান্ডার সৈন্যদের বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “যিশুর মনোনীত নেতা” এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নাকি ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অধিকার সংগঠন জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা থেকে ২০০টিরও বেশি অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগগুলো ৫০টির বেশি সামরিক ঘাঁটি থেকে এসেছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু কমান্ডার যুদ্ধ প্রস্তুতি বৈঠকে সৈন্যদের সামনে দাবি করেন যে ইরানে চলমান সংঘাত বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি “ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ”। একটি অভিযোগে এক নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা জানান, তাদের কমান্ডার বৈঠকে বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি যিশুর দ্বারা মনোনীত। ওই অভিযোগটি একটি ইউনিটের ১৫ জন সদস্যের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, যাদের অনেকেই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধিতা নয়; বরং সামরিক পরিবেশে ধর্মীয় মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে তাদের আপত্তি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ওয়াইনস্টিন সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাব বাড়লে তা সংবিধানে নির্ধারিত রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক নীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়নি।
কুয়েতের আকাশসীমায় একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ঘটনায় প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমি থেকে নিক্ষেপ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পরে জানা যায়, মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত এবং যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান ভুলবশত তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঘটে যাওয়া এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এফ/এ-১৮ হর্নেট একটি সামুদ্রিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা প্রধানত মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত হয়। প্রথম প্রজন্মের এফ-১৮-এর পর এর একাধিক উন্নত সংস্করণ তৈরি হয়েছে, যেগুলোর দায়িত্ব ও সক্ষমতায় ভিন্নতা রয়েছে। ‘এফ/এ’ অর্থ হলো, বিমানটি আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও ভূমিতে আঘাত—উভয় ধরনের মিশনে সক্ষম। কুয়েতের আকাশে কীভাবে এ ভুল হামলা ঘটেছে, তা এখনো তদন্তাধীন। এফ/এ-১৮ হর্নেটকে মার্কিন নৌবাহিনীর এফ-১৪ টমক্যাটের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮৬ সালের ‘টপ গান’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত এফ-১৪ টমক্যাটের জায়গায় পরবর্তীতে এফ/এ-১৮ দায়িত্ব গ্রহণ করে। একই সঙ্গে এটি এ–৭ করসেয়ার ও এফ–৪ ফ্যান্টমের দায়িত্বও নেয়। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টপ গান–২’ সিনেমায়ও এফ-১৮ হর্নেটকে দেখানো হয়। বোয়িংয়ের মতে, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট ক্যারিয়ার এয়ার উইংসের মেরুদণ্ড এবং এটি বহুমুখী স্ট্রাইক ফাইটার। এফ/এ-১৮-এর আরেক সংস্করণ ইএ–১৮ গ্রোলার, যা ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত। এটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে এবং রাডার সিগন্যালের উৎস লক্ষ্য করে অ্যান্টি রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। বোয়িংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপার হর্নেট ও গ্রোলার একসঙ্গে পরিপূরক ক্যারিয়ার-ভিত্তিক দল গঠন করে, যা বহুমাত্রিক আঘাত ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক আধিপত্য নিশ্চিত করে। কুয়েতের আকাশে সাম্প্রতিক ভুল হামলার ঘটনা আবারও আলোচনায় এনেছে এই যুদ্ধবিমানকে, যা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি হলিউডের পর্দাতেও পরিচিত। সূত্র: এনডিটিভি
ফেসবুক পেজ থেকে আয়ের বিষয়টি সচরাচর গোপন রাখতেই পছন্দ করেন ইনফ্লুয়েন্সার বা তারকারা। তবে এক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে মাসিক ও বাৎসরিক আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো চমক দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ৪৯ লাখ ছাড়িয়েছে। নিয়মিত জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে ভিডিও, ছবি এবং মতামত শেয়ার করেন তিনি। সম্প্রতি এক তথ্যে তিনি জানান, তার একটি ভিডিও ১৭ মিলিয়ন ভিউ হওয়ার বিপরীতে তিনি মাত্র ৪০ ডলার আয় করেছেন। তবে সবশেষ দুই দিনেই এসেছে ১২০ ডলার। আয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে হাসনাত জানান, গত মাসে তার পেজ থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকার সমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি আয়ের এই ধারা বজায় থাকে, তবে তার মাসিক গড় আয় ৪ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সেই হিসেবে বছরে তার আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ লাখ টাকা। সাধারণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া আয়ের হিসাব জনসমক্ষে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন নজির গড়লেন এই নেতা। তার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও অনুসারীরা।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সেবা আর ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বাজেটে সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি বা কঠোর মিতব্যয়িতা—কোনোটিই নয়; বরং অপচয় রোধই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এলটিইউ-নির্ভর কর আদায়ের চর্চা থেকেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-কে বেরিয়ে আসতে হবে। বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরিটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক এ আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও দ্য ডেইলি স্টার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার ভিত্তি হবে ইন্টার-অপারেবিলিটি। অর্থাৎ সব সেবা ও ডাটাবেইস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। সরকারের লক্ষ্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’—এর মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তিতে অনিয়ম ও অপচয় কমানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বর্তমানে তিনটি বড় সমস্যা রয়েছে—বঞ্চনা (এক্সক্লুশন এরর), অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্তি (ইনক্লুশন এরর) এবং কর্মসূচির খণ্ডিত অবস্থা। ডিজিটাল কার্ড ও একক সনাক্তকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি ঝুঁকিতে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি, যা নারীকেন্দ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করবে। লক্ষ্য হচ্ছে টার্গেটভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সর্বজনীন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া। কর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিতসংখ্যক বড় করদাতার ওপর নির্ভরশীলতা টেকসই নয়। কর সংস্কৃতি বিস্তার ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি বা কঠোর মিতব্যয়িতা—দুটোর কোনোটিই সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে একমাত্র পথ হলো অপচয় রোধ।”
শনিবার থেকে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু-এর সংকলিত তথ্য ও অনুমানে জানা গেছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কাতার-এর আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি-তে স্থাপিত মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা, যার মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতার নিশ্চিত করেছে। রোববার কুয়েত-এ বন্ধুত্বপূর্ণ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো রক্ষা করা যায়নি। এসব বিমানের প্রতিস্থাপন ব্যয় প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাহরাইন-এর রাজধানী মানামা-এ অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলায় স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওপেন-সোর্স তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলোর মূল্য কয়েক কোটি ডলার হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর আল-রুওয়াইস শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন করা একটি অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবিও করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্রে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়, যার সম্ভাব্য ক্ষতি শত কোটি ডলারের বেশি। এসব হিসাব একত্র করলে অঞ্চলে প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক অংশ, কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি এবং বাহরাইনের নৌঘাঁটি। কিছু স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কূটনৈতিক মিশনও হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সৌদি আরব-এর রাজধানী রিয়াদ-এ মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। কুয়েত সিটি ও দুবাই-এ অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর কাছেও বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার ব্রুনেই দারুসসালামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ল্যাভরভ উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কৌশল ইরানকে শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্ররোচিত করতে পারে। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি দেশের শান্তিপূর্ণ অধিকার, যা অন্য রাষ্ট্রও ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি এটি ইরান থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরান শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন, বর্তমান সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে পুরো অঞ্চল পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছে।
স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসুস মন্টেরো বলেছেন, স্পেন কোনোভাবেই কারও দাস হবে না। তিনি জানিয়েছেন, কোনো হুমকি বরদাশত করা হবে না এবং দেশের মূল্যবোধ রক্ষা করা হবে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনায় স্পেনের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার না দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্প্যানিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পেনের স্থিতিশীল নীতি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা হবে না যা স্পেনের স্বার্থ ও মূল্যবোধের বিরোধী বা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। সূত্র: আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করলেও বেইজিং এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক এবং ইরানের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও চীন কেন এই সংঘাতে ‘সাইডলাইনে’ বা পার্শ্ববর্তী দর্শক হিসেবে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই নিরবতা বা পরোক্ষ অবস্থান কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি বেইজিংয়ের একটি সুচিন্তিত কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল। মূলত তিনটি প্রধান কারণে চীন সরাসরি এই সংঘাতে জড়াতে চাইছে না: ১. ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য: নভেম্বরে আসন্ন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর এবং উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আগে চীন কোনো বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক আরও তিক্ত করতে চায় না। বেইজিং মনে করে, সরাসরি ইরানের পক্ষে সামরিক অবস্থান নিলে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক আলোচনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ২. সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক অবস্থান: চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার নিন্দা জানালেও এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও, তারা সরাসরি ‘হামলার কঠোর নিন্দা’র মতো শব্দ ব্যবহার এড়িয়ে গেছে। তারা চায় না এই সংঘাতে নিজেকে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলতে যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রাশিয়ার মতো সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে বা কড়া ভাষায় সমালোচনায় না গিয়ে চীন একটি ‘পরিমিত’ বা ‘মেজড’ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। ৩. অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা: ইরান চীনের একটি বড় জ্বালানি সরবরাহকারী এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন চায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক যাতে তাদের বিনিয়োগ ও তেলের সরবরাহ নিশ্চিত থাকে। সামরিকভাবে জড়ালে এই বাণিজ্য পথগুলো দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মত: কার্নেগি এনডাউমেন্টের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যেভাবে তার মিত্রদের (যেমন ইসরায়েল বা জাপান) জন্য জীবন বাজি রাখতে পারে, বেইজিংয়ের কৌশলগত দর্শন তেমন নয়। চীন তার সামরিক শক্তিকে মূলত পূর্ব এশিয়া এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। ইরান বা ভেনেজুয়েলার মতো অংশীদারদের জন্য তারা অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে নামা তাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তবে পর্দার আড়ালে চীন বসে নেই। তারা ইরানকে সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে চীন একটি ‘অপেক্ষার নীতি’ (Wait-and-see approach) গ্রহণ করেছে। তারা দেখছে যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরে এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থ কতটুকু প্রভাবিত হয়। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের লেলিহান শিখা থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে কূটনৈতিক চালে নিজের স্বার্থ হাসিল করতেই বেশি মনোযোগী শি জিনপিং প্রশাসন।
লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর অব্যাহত হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৪৩৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে হামলার তীব্রতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লেবানন ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে দুপক্ষের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। তেহরানে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপকভাবে বিমান হামলা শুরু করে। হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকায় বাধ্যতামূলক উচ্ছেদের নির্দেশ জারি করেছে। সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে নতুন কৌশলগত অবস্থান নিতে শুরু করেছে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।