ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বক্তব্য দিন দিন বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠছে। ১০ মার্চ সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে শুমার বলেন, ইরান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক ভিন্নমুখী বক্তব্য দিচ্ছে। এতে দেশবাসী ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তিনি জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কংগ্রেসের সামনে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবিও জানান। তার এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের ভেতরে আরও তীব্র হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শুমার বলেন, একদিকে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন যাতে মনে হয়েছে ইরানে অভিযান প্রায় শেষ। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আরও ভয়াবহ লড়াই সামনে আসছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—আসলে কোনটি সত্য? যুদ্ধ কি শেষের পথে, নাকি সবচেয়ে কঠিন সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই না করেই ট্রাম্প তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেন, যা পরে তার নিজের বক্তব্যেই খণ্ডিত হয়ে যায়। এদিকে একটি স্কুলে হামলার জন্য ইরানের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রকে দায়ী করে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তারও তীব্র সমালোচনা করেন শুমার। ওই হামলায় ১৬৮ মেয়েশিশুসহ মোট ১৭৫ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শুমার বলেন, ইরানের অস্ত্রভান্ডারে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি ওই হামলা এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি সতর্ক করেন, চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী-তে উত্তেজনা বাড়ার কারণে। শুমার আরও বলেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি করছে। তাই প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কংগ্রেসের সামনে এসে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। তিনি বিশেষভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে কংগ্রেসের শুনানিতে ডাকার আহ্বান জানান।
লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১০০টি রকেট ছুড়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব রকেট নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রভাব পড়ে উত্তর ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফা, গ্যালিলি অঞ্চল এবং গোলান মালভূমি জুড়ে। সংঘাত তীব্র হওয়ার পর চলতি মাসে এটিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান ও লেবানন থেকে একযোগে ইসরাইলে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সেই আশঙ্কার মধ্যেই এবার বড় ধরনের রকেট হামলার ঘটনা ঘটল। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করার চেষ্টা ধরা পড়ায় শিক্ষককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে রাসেল মিয়া (৩৪) নামে একজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় আগারগাঁওয়ের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সামনের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইডিয়াল এলএলবি কলেজের ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে তেজগাঁও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সোহেল রানাকে নকল রুখার চেষ্টায় শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া ও অন্য এক শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে রাসেল মিয়াকে আইনের আওতায় এনেছে এবং মামলার অপর আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র জমা দিয়ে বের হওয়ার সময়ই দুই শিক্ষার্থী হঠাৎ আমার ওপর হামলা চালায়। সহকর্মী ও কেন্দ্রের কর্মচারীরা আমাকে উদ্ধার করেন। পুলিশ এবং শিক্ষামন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে মামলা দ্রুত গ্রহণ করা হয়েছে।
দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনটি শর্ত জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানে চালানো সামরিক হামলার ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইরানের ন্যায্য অধিকারগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসন চালাবে না, তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্যারান্টি দিতে হবে। মাইক্রো ব্লগিং সাইটে তিনি লিখেছেন, ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামানোর একমাত্র পথ হলো—ইরানের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না বলে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী গ্যারান্টি দেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শর্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনটি শর্ত জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানে চালানো সামরিক হামলার ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইরানের ন্যায্য অধিকারগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসন চালাবে না, তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্যারান্টি দিতে হবে। মাইক্রো ব্লগিং সাইটে তিনি লিখেছেন, ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামানোর একমাত্র পথ হলো—ইরানের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না বলে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী গ্যারান্টি দেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শর্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি। তিনি একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করার অনুমতি কোনো পক্ষকেই দেওয়া হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন আল-সুদানি। ফোনালাপের সময় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, ইরাককে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইরাক তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ হবে এবং ইরানে আঘাত করার মতো মূল লক্ষ্যগুলো ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি যখনই চাইব, এটি শেষ হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতা মেলানো নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি গত বুধবার বলেন, এই যুদ্ধ কোনো সময়সীমা ছাড়াই চলতে পারে। রয়টার্স এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাৎজ জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন এবং ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অভিযানের সমস্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলতে থাকবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। সূত্র: বিবিসি
ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বক্তব্য দিন দিন বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠছে। ১০ মার্চ সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে শুমার বলেন, ইরান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক ভিন্নমুখী বক্তব্য দিচ্ছে। এতে দেশবাসী ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তিনি জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কংগ্রেসের সামনে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবিও জানান। তার এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের ভেতরে আরও তীব্র হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শুমার বলেন, একদিকে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন যাতে মনে হয়েছে ইরানে অভিযান প্রায় শেষ। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আরও ভয়াবহ লড়াই সামনে আসছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—আসলে কোনটি সত্য? যুদ্ধ কি শেষের পথে, নাকি সবচেয়ে কঠিন সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই না করেই ট্রাম্প তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেন, যা পরে তার নিজের বক্তব্যেই খণ্ডিত হয়ে যায়। এদিকে একটি স্কুলে হামলার জন্য ইরানের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রকে দায়ী করে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তারও তীব্র সমালোচনা করেন শুমার। ওই হামলায় ১৬৮ মেয়েশিশুসহ মোট ১৭৫ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শুমার বলেন, ইরানের অস্ত্রভান্ডারে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি ওই হামলা এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি সতর্ক করেন, চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী-তে উত্তেজনা বাড়ার কারণে। শুমার আরও বলেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি করছে। তাই প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কংগ্রেসের সামনে এসে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। তিনি বিশেষভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে কংগ্রেসের শুনানিতে ডাকার আহ্বান জানান।
রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করার চেষ্টা ধরা পড়ায় শিক্ষককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে রাসেল মিয়া (৩৪) নামে একজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় আগারগাঁওয়ের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সামনের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইডিয়াল এলএলবি কলেজের ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে তেজগাঁও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সোহেল রানাকে নকল রুখার চেষ্টায় শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া ও অন্য এক শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে রাসেল মিয়াকে আইনের আওতায় এনেছে এবং মামলার অপর আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র জমা দিয়ে বের হওয়ার সময়ই দুই শিক্ষার্থী হঠাৎ আমার ওপর হামলা চালায়। সহকর্মী ও কেন্দ্রের কর্মচারীরা আমাকে উদ্ধার করেন। পুলিশ এবং শিক্ষামন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে মামলা দ্রুত গ্রহণ করা হয়েছে।
লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১০০টি রকেট ছুড়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব রকেট নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রভাব পড়ে উত্তর ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফা, গ্যালিলি অঞ্চল এবং গোলান মালভূমি জুড়ে। সংঘাত তীব্র হওয়ার পর চলতি মাসে এটিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান ও লেবানন থেকে একযোগে ইসরাইলে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সেই আশঙ্কার মধ্যেই এবার বড় ধরনের রকেট হামলার ঘটনা ঘটল। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১০০টি রকেট ছুড়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব রকেট নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রভাব পড়ে উত্তর ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফা, গ্যালিলি অঞ্চল এবং গোলান মালভূমি জুড়ে। সংঘাত তীব্র হওয়ার পর চলতি মাসে এটিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান ও লেবানন থেকে একযোগে ইসরাইলে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সেই আশঙ্কার মধ্যেই এবার বড় ধরনের রকেট হামলার ঘটনা ঘটল। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনটি শর্ত জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানে চালানো সামরিক হামলার ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইরানের ন্যায্য অধিকারগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসন চালাবে না, তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্যারান্টি দিতে হবে। মাইক্রো ব্লগিং সাইটে তিনি লিখেছেন, ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামানোর একমাত্র পথ হলো—ইরানের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না বলে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী গ্যারান্টি দেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শর্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি। তিনি একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করার অনুমতি কোনো পক্ষকেই দেওয়া হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন আল-সুদানি। ফোনালাপের সময় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, ইরাককে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইরাক তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ কতদিন চলবে তা তিনি এখনও নির্ধারণ করতে পারছেন না। বুধবার তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বৈঠকে এই তথ্য জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু বৈঠকে বলেন, এখনো অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। আমাদের গতিশীলতা অসাধারণ এবং আমরা সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছি। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে সেটি আমি আপনাদের বলতে পারব না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, আজ রাতের মধ্যে ইসরায়েলজুড়ে বিস্তৃত ও বড় হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ বিপুল রকেট নিক্ষেপ করতে পারে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একসঙ্গে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামরিক মোকাবিলা দীর্ঘায়িত হতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।