সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

ভেলায় ভাসছে মরদেহের ভিডিও ভাইরাল, দাফনের মাটি না পাওয়ার দাবিতে যা জানাল প্রশাসন

Unknown প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৭:১৮
সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি সংগৃহীত
সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলাগাছের ভেলায় একটি মরদেহ বহনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে দাবি করা হয়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার কারণে দাফনের জন্য মাটি না পেয়ে মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন এ দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে বলেছে, ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

 

ঘটনাটি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি মোহাম্মদ ফোরকান। এলাকাটি বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে স্বজনরা মরদেহ বহনের জন্য কলাগাছ দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ভেলা ব্যবহার করেন।

 

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে দাবি ছড়ানো হয়েছে তা সঠিক নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। ঘটনাস্থলে নৌকা না থাকায় যে ভেলায় তাঁরা মাছ ধরছিলেন, সেই ভেলাতেই মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হয়।

 

ইউএনও আরও বলেন, “দাফনের জন্য মাটি পাওয়া যায়নি বা মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দর্শক পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন, যা মূলত ‘ভিউ ব্যবসা’।”

 

জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওর দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ভিডিও বিশ্বাস ও প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি পুরোনো কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখান থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে অন্যত্র পুনরায় দাফন করা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

ভাইরাল ভিডিওটি বন্যা পরিস্থিতির একটি বাস্তব দৃশ্য ধারণ করলেও, “দাফনের জন্য মাটি না পেয়ে মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে” — এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহটি যথাযথ ধর্মীয় নিয়ম অনুসরণ করেই দাফন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত
‘আমার আর বোধ হয় চাকরি করা হলো না’ ফেসবুকে এসপির আবেগঘন পোস্ট

পুলিশে পদায়ন নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করার পর খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সেখানে সংযুক্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে সংযুক্ত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।   এরপর নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেজাউল করিম। তিনি লেখেন, “আমি সংযুক্ত: আমার কাজ আর বাংলাদেশ পুলিশের প্রয়োজন নেই।” দীর্ঘ ১৫ বছরের চাকরিজীবনে নয় বছর ‘ডাম্পিং পোস্টিংয়ে’ ছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, সততা, স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ করেও এমন পরিণতি হলে তার আর কিছু বলার নেই।   পোস্টে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। রেজাউল করিমের ভাষ্য, উচিত কথা বলা, সাহস নিয়ে সত্য বলা এবং নিয়ম মেনে কাজ করা কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার সক্ষমতা বিভাগটির নেই। তিনি লেখেন, “এই ডিপার্টমেন্ট আমার জন্য নয়।”   পোস্টের একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশে সংযুক্ত করার কারণ সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন রেজাউল করিম। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তিনি সেটি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন এবং তিনি তার জবাব দেন। পরে শেয়ার করা সংবাদটি মুছে ফেললেও তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।    রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, সংবাদটি শেয়ার করার পর পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি কনফিডেনশিয়াল মো. কামরুল আহসান তাকে বকাঝকা করেন। এরপরই তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে তার দাবি। তবে এ বিষয়ে কামরুল আহসান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।    মো. রেজাউল করিম ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়ার পর সারদার প্রশিক্ষণ শেষে তার প্রথম পোস্টিং হয় মুক্তাগাছা এপিবিএনে। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, এভসেক, ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার ও কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন।    তার সংযুক্তির আদেশ এবং ফেসবুক পোস্ট ঘিরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পদায়ন ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাকে সংযুক্ত করার আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৪:২৫
বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিকের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মাসরুর আরেফিন। ছবি: সংগৃহীত

সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বছরে পারিশ্রমিক ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা

নেত্রকোনার মদনে যৌন নিপীড়নের শিকার মাদ্রাসাছাত্রীর গর্ভধারণের ঘটনাটি প্রথম শনাক্ত করেন ডা. সায়মা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তসত্ত্বার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক, হুমকির মুখেও তদন্তে চিকিৎসক

জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট!

জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট!

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয়চন্দ্র দাস। ছবি: সংগৃহীত
৪ হত্যাকাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, দোষী হলে ছেলের শাস্তিও চান সিদ্ধার্থের বাবা

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয়চন্দ্র দাস দাবি করেছেন, তার ছেলে মাদকাসক্ত নয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে তদন্তে ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।    রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিনয়চন্দ্র এসব কথা বলেন। নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন সিদ্ধার্থদের নিকট প্রতিবেশী।   বিনয়চন্দ্র বলেন, সিদ্ধার্থ নিয়মিত বাড়িতে থাকত এবং তার কথা শুনত। ছেলে কীভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পুলিশের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ শোনার পরও বিষয়টি তার কাছে বিশ্বাস করা কঠিন বলে জানান তিনি।   তার ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সিদ্ধার্থকে পাশের তার কাকার বাড়ি থেকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। তখন তিনি বুঝতে পারেননি কেন পুলিশ তাকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে জানতে পারেন, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে চার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।    তবে চারজনকে হত্যার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিনয়চন্দ্র। তার প্রশ্ন, মাত্র দুজন যুবক কীভাবে একটি পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করতে পারে। এ ঘটনায় অন্য কোনো রহস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা বের করার আহ্বান জানান তিনি।   ঘটনার দিন সিদ্ধার্থ বাড়িতে রাত কাটিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে বিনয়চন্দ্র বলেন, শুক্রবারগুলোতে ছেলে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে যেত। ওই রাতেও ভাত খাওয়ার পর পাশের এক বন্ধুর বাড়িতে থাকার কথা জানিয়েছিল সিদ্ধার্থ।   এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত চারজন হলেন গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম।    এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।    পুলিশের দাবি, গণপতিদের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় তাদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা একে একে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে এবং পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে।    তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তাধীন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আরও যাচাই করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১২:৪৬
নব্বইয়ের দশকে বিটিভির মঞ্চ কাঁপানো সেই কিশোরী বিতার্কিক রেবেকা শাফি আজ সফল এক বিজ্ঞানী। ছবি: সংগৃহীত

বিটিভির বিতর্কের মঞ্চ থেকে হার্ভার্ড হয়ে মস্তিষ্ক গবেষণায় রেবেকা

বিতর্কে ব্যবহৃত 'মাসরুর' নামটি সিটি ব্যাংকের সাবেক এমডি ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন নন বলে দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

পরীমণিকে ৩ কোটি টাকার গাড়ি দেন ‘পুতুলের সাবেক স্বামী’ মাসরুর, বিতর্কে জড়ায় সিটি ব্যাংকের মাসরুরের নাম

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষের দুই বন্ধু: একজন বঙ্গভবনে, অন্যজন অর্থনীতির নীতিনির্ধারণে

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষের দুই বন্ধু: একজন বঙ্গভবনে, অন্যজন অর্থনীতির নীতিনির্ধারণে

ইয়াবা সেবন করে ধরা পরে পরিচয় গোপন রাখতে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা
ইয়াবা সেবন করে ধরা পরে পরিচয় গোপন রাখতে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। আটক দুজন একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত পরিবারের পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ প্রথমে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তারা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যায়।   সেখানে তারা আবার ইয়াবা সেবন করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের দেখতে পান এবং সেখানে কেন এসেছে তা জানতে চান। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা গণপতি চক্রবর্তীর গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে বলে পুলিশের দাবি।   চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।   পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   এরপর নিচতলায় থাকা ১২ বছর বয়সী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। ফলে প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত এবং তাকে জীবিত রাখলে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ প্রিয়মকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দুজন মিলে শিশুটিকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে। পরে বালিশ চাপা দেওয়া হয়।   হত্যাকাণ্ডের পরও বাড়িতে বেশ কিছু সময় অবস্থান করে অভিযুক্তরা। তারা বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং সেখানেই আবার ইয়াবা সেবন করে। কিছু সময় চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেওয়ার পর সুযোগ বুঝে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ আরও জানায়, মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। তারা খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে প্রতি পিস ৩৫০ টাকা দরে ইয়াবা কিনেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।   হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পুলিশের দাবি, মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এসব স্বর্ণালংকার লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আটক দুজনের দেখানো জায়গা থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক দুজনের সম্পৃক্ততা আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   আটক দুজন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৬:৪৬
শিক্ষক পড়েছিলেন ছাদে, স্ত্রী-মেয়ে সিঁড়িতে আর ছেলে খাটের নিচে

শিক্ষক পড়েছিলেন ছাদে, স্ত্রী-মেয়ে সিঁড়িতে আর ছেলে খাটের নিচে

ফরিদপুরে নিজ বাড়ির ছাদে ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশ পরিদর্শক আবীর হোসেনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশ পরিদর্শকের মৃত্যু

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ

0 Comments