বিশেষ প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক গুগল নির্বাহীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৬:৫০
গুগলের সাবেক কর্মকর্তা শীতল রেজিয়েন এর ছবি সংগৃহীত
গুগলের সাবেক কর্মকর্তা শীতল রেজিয়েন এর ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি নির্বাহী ও গুগলের সাবেক কর্মকর্তা শীতল রেজিয়েনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী কির্ক বি. রেজিয়েনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দম্পতির ছেলে জেসন রেজিয়েন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

 

কব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার কিছু আগে স্মিরনা এলাকার একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে ৫৭ বছর বয়সী শীতল রেজিয়েনকে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময় বাড়ির বাইরে আহত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁদের ২৩ বছর বয়সী ছেলে জেসনকে।

 

ঘটনার পর ৫৬ বছর বয়সী কির্ক বি. রেজিয়েনকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ফেলনি মার্ডার, দুটি অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্ট এবং অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই কব কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন।

 

শীতল রেজিয়েন প্রযুক্তি খাতে দুই দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন। গুগলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি হোম ডিপো ও গোটু ফুডসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। এছাড়া তাঁর নামে দুটি সফটওয়্যার পেটেন্ট রয়েছে।

 

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে। কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন

View more
গুগলের সাবেক কর্মকর্তা শীতল রেজিয়েন এর ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক গুগল নির্বাহীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি নির্বাহী ও গুগলের সাবেক কর্মকর্তা শীতল রেজিয়েনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী কির্ক বি. রেজিয়েনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দম্পতির ছেলে জেসন রেজিয়েন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।   কব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার কিছু আগে স্মিরনা এলাকার একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে ৫৭ বছর বয়সী শীতল রেজিয়েনকে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময় বাড়ির বাইরে আহত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁদের ২৩ বছর বয়সী ছেলে জেসনকে।   ঘটনার পর ৫৬ বছর বয়সী কির্ক বি. রেজিয়েনকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ফেলনি মার্ডার, দুটি অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্ট এবং অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই কব কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন।   শীতল রেজিয়েন প্রযুক্তি খাতে দুই দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন। গুগলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি হোম ডিপো ও গোটু ফুডসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। এছাড়া তাঁর নামে দুটি সফটওয়্যার পেটেন্ট রয়েছে।   পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে। কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৬:৫০
মুসলিমদের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন এর ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ডালাসে ইনডোর ওয়াটার পার্কে ঈদুল আজহা উদযাপন, মুসলিম পরিবারগুলোর ব্যতিক্রমী আয়োজন আলোচনায়

ছবি: বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় ও ফান্ডিংয়ের তথ্য নিয়ে পড়াশোনায় ব্যস্ত এক শিক্ষার্থী (প্রতীকী ছবি)

বিদেশে পড়তে চান? ফান্ডিং পাওয়ার আগে এই ৩ বিষয় অবশ্যই জেনে নিন

ফেডারেল পদে নিয়োগের বিরোধিতায় ট্রাম্পপন্থীরা। কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ফেডারেল গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিরোধিতায় ট্রাম্পপন্থীরা

ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট, ১০ বছরে বন্ধ হয়েছে ৬৩০টি স্কুল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বহু স্কুলে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কমছে নতুন শিক্ষার্থীর ভর্তি, কোথাও ছোট হয়ে আসছে স্নাতক ব্যাচ, আবার কোথাও শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে পুরো স্কুল। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক কোনো সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন, যার প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী কম ভর্তি হয়েছে। গত এক দশকে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার।   শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মহার হ্রাস, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে পরিবারগুলোর অন্য এলাকায় স্থানান্তর এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের প্রভাব। একসময় যেসব অঞ্চল দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিচিত ছিল, সেখানেও এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।   স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও অধ্যাপক মাইকেল কার্স্ট বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার খুব কম স্কুল জেলা আছে যেখানে এই সংকট দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, এটি এখন প্রায় পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সাধারণ বাস্তবতা।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জন্মহার হ্রাস। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪৩ লাখ শিশুর, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৬ লাখে। অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে জন্মহার।   গবেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব কয়েক বছর পর দৃশ্যমান হয়। কারণ আজ যারা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হচ্ছে, তাদের জন্ম হয়েছে পাঁচ বা ছয় বছর আগে। ফলে কম জন্মহার এখন সরাসরি স্কুলের ভর্তি সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। যদিও শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, অনেক পরিবার সাময়িকভাবে সন্তানদের বেসরকারি স্কুল বা ঘরে শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ায় ভর্তি কমেছে। কিন্তু পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল কারণ জনমিতিক পরিবর্তনই।   বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো, ওকল্যান্ড, সান হোসে এবং উপকূলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী কমার হার সবচেয়ে বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার (পিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে বে এরিয়া অঞ্চলে সরকারি স্কুলে ভর্তি কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও প্রায় ১০ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসের মতো শহরে বসবাসের খরচ এতটাই বেড়েছে যে অনেক তরুণ পরিবার সেখান থেকে স্যাক্রামেন্টো বা সেন্ট্রাল ভ্যালির মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে বড় শহরগুলোর স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে।   তবে বর্তমানে কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। আগামী এক দশকে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো অঞ্চলেই ধারাবাহিক শিক্ষার্থী বৃদ্ধি বজায় থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বহু ভাষাভাষী ও অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার্থী হ্রাসের হার তুলনামূলক বেশি। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বহু ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অভিবাসী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে অভিবাসন প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাবও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে স্কুলগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্কুলের অর্থায়নের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ভর্তি সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী কমলে কমে যায় বাজেটও।   স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬৩০টি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান হোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পাঁচটি স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের ওপরও পড়ছে। ভর্তি কমে যাওয়ার কারণে অনেক জেলায় নিয়োগ স্থগিত, কর্মী ছাঁটাই এবং শিক্ষক সংখ্যা কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি শিক্ষা খাতে অর্থায়ন স্থিতিশীল থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে বেশি সম্পদ ব্যয় করা সম্ভব হবে। ছোট শ্রেণিকক্ষ, ব্যক্তিগত সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি কাজে লাগানো যেতে পারে।   এদিকে গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই প্রবণতা শুধু স্কুল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কমে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং বাজেট সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।   শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থী সংকট মোকাবিলায় শুধু ব্যয় কমানো যথেষ্ট হবে না। বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন, সাশ্রয়ী আবাসন বৃদ্ধি এবং পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে হবে।   তাদের ভাষায়, এটি কেবল স্কুলের ভর্তি কমার গল্প নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।

Unknown প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২১:০
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে বাড়ছে ইসলামের অনুসারী, মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ

ছবি: সংগৃহীত

২৫০ বছর পূর্তির আগেই কমছে ‘আমেরিকান প্রাইড’, গণতন্ত্র ও আমেরিকান ড্রিমে আস্থা হারাচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা

ছবি: সংগৃহীত

এক ভিসায় ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ২২ দেশ ভ্রমণের সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়: যে ক্যাম্পাসগুলোতে পড়ার স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশিরা

উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত গন্তব্যগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করেন। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ হয়ে আছে।   বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়নকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং, টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের বিভিন্ন তালিকায় নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের সেরাদের মধ্যে স্থান পেয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক ক্যারিয়ারের দরজা খুলে দেয়।   বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বিশ্বজুড়ে। অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাছেই এমআইটি উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ স্বপ্নের নাম।   একইভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ব্যবসা, আইন, চিকিৎসা, জননীতি এবং মানবিক বিষয়ে হার্ভার্ডের খ্যাতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনায়ক, নোবেল বিজয়ী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।   ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সিলিকন ভ্যালির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গুগল, নেটফ্লিক্স, ইয়াহু এবং আরও অনেক সফল প্রযুক্তি উদ্যোগের পেছনে স্ট্যানফোর্ডের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, ছোট ক্লাস সাইজ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। পাশাপাশি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় মানবিক বিজ্ঞান, আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়।   বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা ক্যালটেক একটি বিশেষ আকর্ষণের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।   পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে বিশ্বজুড়ে উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছে। কম্পিউটার বিজ্ঞান, প্রকৌশল, অর্থনীতি এবং পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে বার্কলে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত।   এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ও বিশ্বের সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিয়মিতভাবে স্থান পেয়ে থাকে। বিশেষ করে জনস হপকিন্স চিকিৎসা বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য এবং গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।   শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। নেতৃত্বের গুণাবলি, গবেষণায় অংশগ্রহণ, সামাজিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততাও ভর্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী পূর্ণ বা আংশিক বৃত্তি নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পরিবার তাদের সন্তানদের মিডিল স্কুল থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু করেন জাতে এসব আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।   বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এসব প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি শুধু উচ্চশিক্ষার সনদ নয়; এটি বিশ্বমানের গবেষণা, পেশাগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করে। আর সেই পথের অন্যতম বড় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যেগুলো এখনও হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ২০:৫৩
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে? সামনে আসছে নতুন তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় সঠিক লাইসেন্স ছাড়াই ১৭ বছর বিমান চালানোর অভিযোগ, এয়ার কানাডার পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: নাবিলাহ পার্কস

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় প্রথম মুসলিম নারী সিনেটর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ, এবার লড়ছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে

0 Comments