আন্তর্জাতিক

৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:১৬
সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

চলমান আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে চরম জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কৌশলগত তেলের মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) কমতে কমতে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ইউরেশিয়া ডেইলির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গিয়েই ওয়াশিংটনকে তাদের জরুরি মজুতে হাত দিতে হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটির বর্তমান কৌশলগত তেলের মজুত কমে মাত্র ৩১৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৩ সালের পর এটিই আমেরিকার ইতিহাসের সর্বনিম্ন মজুতের রেকর্ড। এমনকি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের সর্বনিম্ন রেকর্ডের চেয়েও বর্তমান মজুত আরও ২৭ মিলিয়ন ব্যারেল কম।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এবার মূলত ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের অর্থনৈতিক ও জ্বালানিগত প্রভাব মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই মজুত ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সদস্য দেশগুলোর বৈঠকে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা।

 

রাশিয়ার ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইগর ইউশকভ এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতেই যুক্তরাষ্ট্র মূলত এই নীতি অনুসরণ করছে।

 

তবে প্রতিবার যখনই দেশটির তেলের মজুত রেকর্ড মাত্রায় কমে যাওয়ার খবর সামনে আসে, তখনই আন্তর্জাতিক বাজারে এর উল্টো ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ার তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন বিকল্প পথ ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইউশকভ সতর্ক করে আরও বলেন, চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম আবারও ১০০ ডলার বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পার্লামেন্টমুখী বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ। ছবি:সংগৃহীত
রণক্ষেত্র দিল্লিতে, এবার বন্ধ হলো ইন্টারনেট!

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।   সোমবার (২০ জুলাই) সকালে সিজেপির ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক সমর্থক যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হন। পরে তারা সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) মোতায়েন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় কয়েকজন রাস্তায় বসে অবস্থান নেন।   বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিগন্যাল জ্যামার ব্যবহারের কারণেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   এর আগে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।   পুলিশের বাধার পর কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংসদ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৯:২
ভারতে আন্দোলন।ছবি:সংগৃহীত

সংসদ ঘেরাওয়ের পথে ককরোচ পার্টি, দিল্লিতে আটক বহু বিক্ষোভকারী

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও । ছবি:সংগৃহীত

হরমুজে হামলা বন্ধ করলেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার পথ খোলা

আটককৃত যুবক।ছবি:সংগৃহীত

উলঙ্গ অবস্থায় ছুটন্ত ট্রেনের ছাদে ‘সার্ফিং’, শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার অ্যারিজোনার যুবক

সিঙ্গাপুরের মুসলিম বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ফয়সাল ইব্রাহিম।ছবি:সংগৃহীত
এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ, শেষ পর্যন্ত পদ হারালেন সিঙ্গাপুরের মন্ত্রী

সিঙ্গাপুরের মুসলিমবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ফয়সাল ইব্রাহিম এক নারীর সঙ্গে তার আচরণ ও যোগাযোগকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্য এবং ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) সদস্যপদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।    প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রায় এক মাস আগে এক নারী সাধারণ নাগরিক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ই-মেইল করে ফয়সালের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি জানান। এরপর বিষয়টি তদন্ত করা হয়। অধিকাংশ যোগাযোগই অনলাইনে বার্তার মাধ্যমে হয়েছিল এবং তারা কয়েকটি জনসমাগমমূলক অনুষ্ঠানের পাশাপাশিও দেখা করেছিলেন। পরে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেন, যা পুলিশ তদন্ত করে।    তদন্ত শেষে পুলিশ এবং অ্যাটর্নি-জেনারেলের চেম্বারের পরামর্শে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো পক্ষই ফৌজদারি অপরাধ করেননি। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, ফৌজদারি অপরাধ না থাকলেও একজন রাজনৈতিক পদধারী ও সংসদ সদস্য হিসেবে ফয়সালের আচরণ প্রত্যাশিত মানদণ্ড পূরণ করেছে কি না, সেটি আলাদা বিষয়। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, তার আচরণ সেই মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।   পদত্যাগপত্রে ফয়সাল ইব্রাহিম লিখেছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি এমন সম্পর্ক গড়ে তোলারও ইচ্ছা পোষণ করেননি। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি যথাসময়ে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা তার বিচারবোধের একটি ভুল ছিল। এ কারণে তিনি রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, ফয়সাল ইব্রাহিম দুই দশকেরও বেশি সময় জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি তার পদত্যাগে দুঃখ প্রকাশ করলেও দায়িত্ব স্বীকার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, সিনিয়র মিনিস্টার অব স্টেট জাকি মোহাম্মদ অন্তর্বর্তীকালীন মুসলিমবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।    ফয়সাল ইব্রাহিম ২০০৬ সাল থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ২০২৫ সালে মুসলিমবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার পদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতি, ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিকতা নিয়ে একাধিক বিতর্কের কারণে ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি চাপের মুখে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৬:২১
ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত ভারত।ছবি:সংগৃহীত

বন্যা, ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত ভারত, প্রাণহানি বেড়ে ২৫

হিজাবি নারী । ছবি:সংগৃহীত

মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধের দাবি ও শরিয়া আইন নিয়ে কড়া অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

সন্তানদের উগ্রবাদ শেখানোর অভিযোগ আটক আইএস মা এর জামিন, ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলিয়ানরা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
বিমানে ইকোনমি থেকে ফার্স্ট ক্লাসে ফ্রি আপগ্রেড পেতে যা করবেন, জানালেন ১৫ বছরের অভিজ্ঞ বিমানবালা

পরবর্তী বিমানযাত্রায় ইকোনমি ক্লাস থেকে ফার্স্ট ক্লাসে বিনামূল্যে আসন আপগ্রেড করার কথা ভাবছেন? কাজটা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। ১৫ বছর ধরে বিমানবালা হিসেবে কাজ করা বারবারা ব্যাসিলিয়ারি জানিয়েছেন, যাত্রীরা সামনের দিকের বিলাসবহুল আসনে যাওয়ার জন্য নানা ফন্দি আঁটেন।   কিন্তু কেবিন ক্রুদের বকশিশ দেওয়া বা 'হানিমুনে যাচ্ছি' বলে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা—এসবের কোনোটিই আসলে কাজে আসে না। বারবারা জানান, বেশিরভাগ সময় বিমানে ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগেই আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়। ফলে ক্রুদের কাছে অনুরোধ করেও কোনো লাভ হয় না, কারণ তারা কেবল এয়ারলাইন্সের দেওয়া তালিকা অনুসরণ করেন।   মূলত 'ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার স্ট্যাটাস' বা যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন, আপগ্রেডের ক্ষেত্রে তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে স্ট্যাটাস যেমনই হোক না কেন, কিছু স্মার্ট কৌশল জানা থাকলে ফার্স্ট ক্লাসে আপগ্রেড পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। বারবারা পরামর্শ দেন, ফ্লাইটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে অনলাইনে চেক-ইন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তা সম্পন্ন করা উচিত।   অনেক এয়ারলাইন্সে একই অগ্রাধিকার থাকা দুই যাত্রীর মধ্যে যিনি আগে চেক-ইন করেন, তাকেই আপগ্রেডের সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া, যারা একা ভ্রমণ করেন তাদের এই সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ, বিমানে পুরো একটি পরিবারের বদলে কেবল একজন যাত্রীর আসন পরিবর্তন করা ক্রুদের জন্য অনেক সহজ।   পোশাকের বিষয়টি সরাসরি আসন পরিবর্তনের সাথে যুক্ত না হলেও, পরিপাটি পোশাক পরলে তা যাত্রীর অনুকূলে কাজ করতে পারে। বারবারা বলেন, খুব বেশি ক্যাজুয়াল বা অগোছালো পোশাক অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একেবারে স্যুট-টাই পরতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে পরিপাটি থাকলে ক্রুদের নজর এড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়।   সম্প্রতি বিমানের পোশাকবিধি নিয়ে এয়ারলাইন্স কর্মীদের কড়াকড়ি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার এড্ডা এলিসাকে তার পোশাকের কারণে সম্প্রতি লুফথানসা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হয়নি। টিকটকে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, স্পোর্টস ব্রা ও বাইকার শর্টস পরায় এক এয়ারলাইন্স কর্মী তাকে 'নগ্ন' আখ্যা দিয়ে বিমানে উঠতে বাধা দিয়েছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৬:২৮
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

পেরুর আন্দিজ অঞ্চলে শক্তিশালী ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, ধসে পড়ল ঘরবাড়ি-গির্জা, নিহ ত ৫

সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২০ লাখ টাকার লোভে নিজের স্বামীকে বিষধর সাপের কামড় খাইয়ে হত্যা করলেন স্ত্রী

0 Comments