আন্তর্জাতিক

১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে সব সরকারি কাজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৩:২৭
১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সব সরকারি কার্যক্রমে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত
১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সব সরকারি কার্যক্রমে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনায় নতুন যুগ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সব ধরনের সরকারি কার্যক্রমে বাংলা ভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় আয়োজিত এক সেশনে সোমবার (২০ জুলাই) এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক চিঠিপত্র, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং অফিসিয়াল নির্দেশনাসহ সব দাপ্তরিক কাজে বাংলাকে প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

 

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য বা প্রশাসনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। রাজ্য জুড়ে বাংলা ভাষার বিস্তার ও ব্যবহারে গতি আনতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি যোগাযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

এর আগে রবিবার রাজ্য সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে দেশের প্রথম ভাষাভিত্তিক জাদুঘর 'শব্দালোকে'র শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রশংসা করে বলেন, ভাষা কেবল ভাব প্রকাশের বাহন নয়, এটি মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। মানুষ ভাষাকে বানায়নি, বরং ভাষাই মানুষকে গড়ে তুলেছে। তিনি সরকারি প্রশাসনিক কাজে বাংলার ব্যবহার আরও বাড়ানোর যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা বিবেচনায় নিয়েই রাজ্য সরকার এই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিধানসভার কার্যক্রম বাংলায় চালনার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। স্পিকারের সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হওয়ায় ইতোমধ্যে বিধানসভায় বাংলার ব্যবহার শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি নথিপত্র সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি সহজবোধ্য হয়ে উঠবে এবং প্রশাসনিক কাজে বাংলা ভাষা আরও মজবুত ভিত্তি পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে দফায় দফায় সংঘর্ষে ১১৮ পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ৭০

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘিরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা গত ৬ জুন থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।     পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি শুরুর পর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। পরে তারা আবার যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হয়ে অগ্রসর হতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জও করে। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ইট-পাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ করে, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালায় এবং সরকারি যানবাহন ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি করে। পুলিশের মতে, এতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।       পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে বিশেষ পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের লাঠিচার্জে বিক্ষোভকারীদেরও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।     তবে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২:১৬
সাগর। ছবি:সংগৃহীত

সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা, লোহিত সাগরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের (ইউনাইটেড স্টেটস) প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি:সংগৃহীত

ভিসা না পাওয়ার আশঙ্কায় কানাডার বনপথে যুক্তরাষ্ট্রে,ব্রিটিশ নাগরিকের কারাদণ্ড

১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সব সরকারি কার্যক্রমে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত

১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে সব সরকারি কাজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়কে মার্কিন ও ইসরায়েল বিরোধীদের উৎসব বলল ইরান

বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেনের ঐতিহাসিক ট্রফি জয়কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিরোধীদের জন্য এক বিশাল আনন্দ-উৎসব হিসেবে মন্তব্য করে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। তেহরানের বার্তা অনুযায়ী, স্প্যানিশ ফুটবল দলের এই অসাধারণ সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেসব মানুষের মনে ব্যাপক উদ্দীপনা জুগিয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন-ইসরায়েল জোটের যেকোনো ধরনের অন্যায় ও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার।   সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের নেওয়া স্পষ্ট কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে তাদের প্রতি এক অভূতপূর্ব ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার সামরিক হামলা ও গণহত্যার তীব্র বিরোধিতা করা এবং ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ নীতির প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করায় বৈশ্বিক মঞ্চে স্পেনের সুনাম ও সমর্থন বহুলাংশে বেড়ে যায়।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইরনা-এর বরাত দিয়ে দেশটির শীর্ষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষের অসামান্য মানসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি জানান, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষের অধিকারের পক্ষে স্পেনের অবস্থান এবং ইরানের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাবই প্রমাণ করে যে স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দৃঢ়তা এই জাতির রক্তে প্রবাহিত।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্প্যানিশ সরকারের এই ফিলিস্তিনপন্থী নীতি ও মার্কিন আগ্রাসনের বিপক্ষে দাঁড়ানোর সাহসী পদক্ষেপ ফুটবল মাঠেও বাড়তি আবেগ সৃষ্টি করেছে। ফলে স্পেনের এই বিশ্বজয় এখন আর শুধু তাদের একক কোনো অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে আগ্রাসনবিরোধী কোটি কোটি মানুষের এক যৌথ বিজয় হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।   ইরান সরকারের পক্ষ থেকে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে যে, সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোর এই বার্তা খেলাধুলার মাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়া উচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে স্পেনের মতো স্বাধীনচেতা দেশগুলোর ভূমিকা বিশ্বশান্তির পথকে আরও সুগম করবে বলেও মনে করে তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৩:২০
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনমুখী মিছিলের সময় দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া নিরাপত্তা। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে রণক্ষেত্র, বিক্ষোভের মুখে সংসদ ভবন ছাড়লেন মোদি

নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পার্লামেন্টমুখী বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ। ছবি:সংগৃহীত

রণক্ষেত্র দিল্লিতে, এবার বন্ধ হলো ইন্টারনেট!

ভারতে আন্দোলন।ছবি:সংগৃহীত

সংসদ ঘেরাওয়ের পথে ককরোচ পার্টি, দিল্লিতে আটক বহু বিক্ষোভকারী

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও । ছবি:সংগৃহীত
হরমুজে হামলা বন্ধ করলেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার পথ খোলা

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরানকে আগে তার আচরণে বাস্তব পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে হবে।   রোববার স্থানীয় সময় রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিরোধী নয়। তবে যেকোনো সমঝোতা এমন হতে হবে, যা বাস্তবসম্মত এবং ইরান বাস্তবে মেনে চলতে প্রস্তুত থাকবে।   তার ভাষায়, “এটি এমন একটি চুক্তি হতে হবে, যা তারা বাস্তবে কার্যকর করবে।”রুবিওর দাবি, এক সপ্তাহ আগে ইরানের হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে তেহরান তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, “তাদের আচরণ বদলাতে হবে, তাহলেই আমাদের আচরণও বদলাবে।”   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ইরানের ভেতরে এখন দুই ধরনের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে চায়, অন্য পক্ষ দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে কূটনৈতিক সমাধান চায়।   রুবিও বলেন, ইরানের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন চায়—এমন ব্যক্তিরা যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রাধান্য পায় এবং আলোচনার দায়িত্ব নেয়, তাহলে সেটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।   ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির নেতৃত্বকেই দায়ী করেন তিনি। তার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তেল বিক্রির মাধ্যমে যে অর্থ ইরান পায়, তার বড় অংশ নিজেদের জনগণের উন্নয়নের পরিবর্তে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পেছনে ব্যয় করা হয়।   রুবিও বলেন, ওই অর্থ জনগণের কল্যাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করা উচিত ছিল।   হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, বর্তমানে বিশ্বের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে মূল দায়িত্ব পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র।   তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যয় বহনে বিশ্বের অন্যান্য দেশও আর্থিকভাবে অংশগ্রহণ করুক।   রুবিওর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ কোনো একটি দেশের নিয়ন্ত্রণে রেখে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের পরিপন্থী।   তবে মার্কো রুবিওর এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৬:৪৫
আটককৃত যুবক।ছবি:সংগৃহীত

উলঙ্গ অবস্থায় ছুটন্ত ট্রেনের ছাদে ‘সার্ফিং’, শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার অ্যারিজোনার যুবক

সিঙ্গাপুরের মুসলিম বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ফয়সাল ইব্রাহিম।ছবি:সংগৃহীত

এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ, শেষ পর্যন্ত পদ হারালেন সিঙ্গাপুরের মন্ত্রী

ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত ভারত।ছবি:সংগৃহীত

বন্যা, ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত ভারত, প্রাণহানি বেড়ে ২৫

0 Comments