বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সংস্করণের হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। তবে র্যাংকিংয়ে উন্নতি হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় মাত্র ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডে এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স মঙ্গলবার সর্বশেষ এই সূচক প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) টিম্যাটিক ডেটাবেসের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি গন্তব্য বিশ্লেষণ করে এ র্যাংকিং তৈরি করে।
সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগোলেও ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার গন্তব্য কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৭। র্যাংকিংয়ের পরিবর্তন মূলত অন্যান্য দেশের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণেও হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের পাসপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী। দেশটির অবস্থান ৫২তম এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান। ভারতের অবস্থান ৮১তম, শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপাল। পাকিস্তানের অবস্থান ১০১তম, আর তালিকার সর্বশেষে রয়েছে আফগানিস্তান।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়াই কতটি দেশে প্রবেশ করা যায়, তার ভিত্তিতেই এই র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম এবং জবাবদিহির দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয়। এরপর সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং বহু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় অন্তত কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা যুব সংগঠন জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি শুধু একটি পরীক্ষা বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে কেন্দ্র সরকার এখনো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' স্লোগানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিপ্লবী ভগৎ সিং ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। এর অর্থ ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’। বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনে এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ শুধু শিক্ষা খাতের সংকট নয়, বরং তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভ, কর্মসংস্থান সংকট এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সেদিকে নজর রাখছে দেশটির রাজনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক সফরে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই বলে স্বীকার করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মামদানি জানান, তাঁর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে আইনি পর্যালোচনা করেছে। সেই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ভিডিও বার্তায় মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হয়ে পরোয়ানা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময় মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবেন। সম্প্রতি তিনি বলেছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে এলে বিষয়টি নিয়ে তাঁর প্রশাসন আইনি পথ খুঁজছে। তবে সর্বশেষ আইনি পর্যালোচনার পর তিনি স্বীকার করেন, স্থানীয় প্রশাসনের সেই ক্ষমতা নেই। মামদানির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর সেবা করাই মেয়রের দায়িত্ব, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষে প্রচারণা চালানো নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোনো অবস্থাতেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকৃতি দেয় না। ফলে আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে দেশটির ওপর কোনো চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা নেই। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই সময়ে হামাসের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ইসরায়েল সরকার ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর লিবিয়ায় মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রায় ১৪ বছর পর নিজেদের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক উপস্থিতি ফেরাতে ৪১ মিলিয়ন (৪ কোটি ১০ লাখ) মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা একটি নথিপত্র অনুযায়ী, সোমবার আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে যে এই অর্থ লিবিয়ায় পর্যায়ক্রমে দূতাবাস কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয় করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের সুরক্ষায় এই উদ্যোগটি অপরিহার্য। কারণ, লিবিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি সেখানে রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে, যা উত্তর আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি বড় হুমকি। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে লিবিয়ার কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং অভিবাসন প্রবাহের কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকা লিবিয়ার পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিনিধিরা সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং আফ্রিকা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বোলোসসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ত্রিপোলিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে লিবিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা প্রতিবেশী তিউনিসিয়া এবং ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ মাল্টা থেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। নতুন এই তহবিল মূলত ত্রিপোলির বর্তমান একটি ছোট স্যাটেলাইট কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাড়াতে ব্যবহৃত হবে, যা বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সংক্ষিপ্ত সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমেই সেখানে একটি স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করা হবে। লিবিয়ায় এই নতুন উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে নিজেদের বন্ধ থাকা কূটনৈতিক সম্পর্কগুলো নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর ভেনিজুয়েলার কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে বর্তমান প্রশাসন। এছাড়া, নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে দামেস্কেও বন্ধ হয়ে যাওয়া দূতাবাস খোলার জোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নতুন করে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।