- প্রচ্ছদ
- Topic
লন্ডন
লন্ডনের নর্থ অকেন্ডনে প্রস্তাবিত ১৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার চালু হলে বছরে ১২ লাখ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ হতে পারে বলে পরিকল্পনা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাণ নিঃসরণ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে প্রায় ৮ হাজার ৪৮০টি ফ্লাইটের বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমান। ইস্ট হ্যাভারিং ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ইউরোপের অন্যতম বড় ডেটা সেন্টারে পরিণত হতে পারে। ২১৮ হেক্টর গ্রিন বেল্ট জমিতে গড়ে ওঠার কথা রয়েছে এই ক্যাম্পাসের। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের অবকাঠামো হিসেবে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারটির সম্ভাব্য ৬০ বছরের আয়ুষ্কালে মোট কার্বন নিঃসরণ ৭ কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি হতে পারে। আর ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হলেও বছরে প্রায় ২৬৫ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাজ্যের ১০ লাখের বেশি পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি। প্রকল্পটির জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের সংযোগ প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রিড অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। কার্বন নিঃসরণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা নথিতে প্রকল্পটির কার্বন নিঃসরণ যুক্তরাজ্যের ২০৫০ সালের নেট-জিরো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৮ সালের হিসাবে প্রকল্পটির পরিচালনাগত কার্বন নিঃসরণ হ্যাভারিং এলাকার পুরো কার্বন বাজেটের প্রায় ২০ গুণ এবং যুক্তরাজ্যের মোট কার্বন বাজেটের প্রায় ১ শতাংশের সমান হতে পারে। তবে প্রকল্পটির পক্ষে অর্থনৈতিক সুবিধার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ডেভেলপারদের দাবি, ক্যাম্পাসটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি হ্যাভারিংয়ের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। প্রকল্পের পরিকল্পনায় ১১৩ হেক্টরের একটি ইকোলজি পার্ক, ইনডোর হর্টিকালচার সুবিধা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গার কথাও রয়েছে। হ্যাভারিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্থানীয় উন্নয়ন আদেশের খসড়া নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব ও কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বড় ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ, জমি ও শীতলীকরণ অবকাঠামোর প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইস্ট হ্যাভারিং প্রকল্পকে ঘিরে সেই বিতর্কই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস। উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি। ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি। এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য। প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে। উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত। দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ।
লন্ডনের বাসে নিকাব পরার কারণে গালিগালাজ থেকে শুরু করে হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন ২১ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী সালসাবিল। তার অভিযোগ, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই থুতু ছোড়া, ধাক্কা দেওয়া এবং অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিবিসিকে সালসাবিল বলেন, গত ৩১ জুলাই সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রথম একটি বাসে তার নিকাব নিয়ে মৌখিকভাবে অপমান করা হয়। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সেই বাস থেকে নেমে পরের বাসে ওঠেন। কিন্তু সেখানেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। দ্বিতীয় বাসে এক যাত্রী তার পোশাক নিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ সালসাবিলের। তিনি বসতে গেলে ওই ব্যক্তি আক্রমণাত্মকভাবে তাকে বাধা দেন এবং মুখের নিকাব নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। সালসাবিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, মুখে এমন পোশাক পরে তিনি সেখানে স্বাগত নন। একপর্যায়ে নিকাবকে 'সন্ত্রাসবাদ' বলে মন্তব্য করেন ওই যাত্রী এবং সালসাবিল নিজে নিকাব না খুললে জোর করে সেটি খুলে দেওয়ার হুমকি দেন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সালসাবিল। সে সময় বাসের আরেক যাত্রী তার পক্ষে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওই যাত্রীর হাতাহাতিও হয়। সালসাবিল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ওই একজনই সরাসরি তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে বাসের ড্রাইভার হস্তক্ষেপ করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয়। তিনি বাস থেকে নেমে গেলে সালসাবিলও উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে নিজের নির্ধারিত স্টপে নেমে যান। ঘটনার সময় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যে যাত্রী তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সালসাবিলের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন অভিজ্ঞতা তার কাছে নতুন নয়। তার দাবি, ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে অপমান বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, কখনো তার দিকে থুতু ছোড়া হয়, কখনো ধাক্কা দেওয়া হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে আঘাত করে চলে যাওয়া হয়। এত ঘনঘন এমন ঘটনা ঘটে যে সবকিছু রিপোর্ট করতে গেলে তাকে প্রায় সব সময়ই পুলিশ স্টেশনে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ৩১ জুলাইয়ের বাসের ঘটনাটি সালসাবিল মেট্রোপলিটন পুলিশে রিপোর্ট করেননি। এর আগে ইসলামবিদ্বেষী হেইট ক্রাইমের একটি ঘটনা পুলিশকে জানিয়েও প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাননি বলে তার অভিযোগ। সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে পুলিশের কাছে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন তিনি। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সালসাবিল জানান, শহরটিতে তিনি আগে সব সময় নিরাপদ বোধ করতেন। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে সেই অনুভূতি বদলে গেছে। বিশেষ করে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতা বেশি অনুভব করছেন তিনি। তার বক্তব্য, কোনো নারী হিজাব বা নিকাব পরবেন কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পোশাকের কারণে কোনো নারীকে ভয় বা নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হওয়া উচিত নয়। ঘটনাটির ভিডিও দেখেছে বিবিসি। ভিডিও সামনে আসার পর ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের নিরাপত্তা, পুলিশিং ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক সিওয়ান হেওয়ার্ড ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, লন্ডনের পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে গিয়ে কারও ভয় পাওয়া বা হয়রানির শিকার হওয়া উচিত নয়। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে যারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন অথবা এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে অবগত এবং সালসাবিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। পুলিশ বলেছে, লন্ডনের কোনো কমিউনিটিকেই ভয়ভীতি বা নির্যাতন সহ্য করতে হওয়া উচিত নয় এবং সব ধরনের হেইট ক্রাইম মোকাবিলায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লন্ডনে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রিপোর্ট হওয়া ধর্মভিত্তিক হেইট ক্রাইম ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রিপোর্ট হওয়া ইসলামবিদ্বেষী অপরাধ বেড়েছে ৩১ শতাংশ। লন্ডনের ভিকটিমস কমিশনার আন্দ্রেয়া সাইমনও মনে করেন, সালসাবিলের অভিজ্ঞতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে পোশাক দেখে যাদের মুসলিম বা অন্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যায়, তারা এমন ঘটনার বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ঘটনাটি এখন লন্ডনের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা এবং হেইট ক্রাইম রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের আস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
লন্ডনের একটি ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ নারী খলিলা লিস্টার জীবনের এক পর্যায়ে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে ধর্মটি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির পর ১৯ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি একজন পাবলিক স্পিকার, যোগাযোগ প্রশিক্ষক এবং পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা। নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন খলিলা। তার বক্তব্য ও একাধিক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুসলিম হওয়ার আগে তিনি বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেডিও উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং হিপহপ ঘরানার বিভিন্ন আয়োজনে কাজ করতেন তিনি। বিভিন্ন তারকার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পাশাপাশি বড় মঞ্চেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার। পেশাগতভাবে এগিয়ে গেলেও জীবনের অর্থ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ইসলাম গ্রহণ করেন। বন্ধুর জীবনে পরিবর্তন দেখেই ইসলাম সম্পর্কে তার আগ্রহ আরও বাড়ে। এক সাক্ষাৎকারে খলিলা জানিয়েছেন, শুরুতে ইসলামকে নিজের জীবনধারার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি তার। মুসলিম নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন থেকে শুরু করে ধর্মটির বিভিন্ন বিষয় তার কাছে অপরিচিত ছিল। তবে ইসলাম গ্রহণের পর নিজের বন্ধুর আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং জীবনবোধে পরিবর্তন তাকে ধর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে। খলিলার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বন্ধু প্রায় এক বছর ধরে তার সঙ্গে ইসলাম, হাদিস ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে এক স্রষ্টার উপাসনা এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি আস্থা তৈরি হয় তার। শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন খলিলা। নিজের পুরোনো জীবনধারার সঙ্গে নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয় করতে না পেরে সে সময় বিনোদন জগতের ক্যারিয়ার থেকেও সরে আসেন তিনি। খলিলা নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ১৯ বছর বয়সে মুসলিম হওয়ার পর তার জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। যে মূল্যবোধের সঙ্গে তিনি আগে যুক্ত ছিলেন, ইসলাম গ্রহণের পর সেগুলোর অনেক কিছুর সঙ্গে আর নিজেকে মেলাতে পারছিলেন না। ফলে সে সময়ের পেশাগত জীবন ছেড়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন। তার পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ধর্মীয় এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। খলিলা জানিয়েছেন, তার বাবা ছিলেন ইহুদি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাবার মৃত্যুর পর তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে তার বাবা শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও পেশাগতভাবে সক্রিয় হন খলিলা। বর্তমানে তিনি পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম নারী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের পাবলিক স্পিকিং এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তিনি ইসলাম চ্যানেলে উপস্থাপনার পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও অনুষ্ঠানে নিজের ধর্মীয় যাত্রা, মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত নিজের যাত্রাকে খলিলা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মঅনুসন্ধানের ফল হিসেবেই তুলে ধরেছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জীবনে ইসলামের প্রভাব প্রত্যক্ষ করা তাকে ধর্মটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করেছিল। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকায় স্বামী ও তিন মাসের শিশুর পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণী কিরণদীপ কৌর। বিদেশে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া এই তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কিরণদীপের মরদেহ নিজ জন্মভূমি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই সকালে পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকার আক্সব্রিজ রোডের একটি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কিরণদীপ তাঁর স্বামী ও তিন মাস বয়সী সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। অভিযোগ, হঠাৎ এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে ঢুকে কিরণদীপের ওপর হামলা চালায়। তাঁকে বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার শব্দ শুনে তাঁর স্বামী ঘুম থেকে জেগে উঠলেও ততক্ষণে হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে কিরণদীপকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ ৪৪ বছর বয়সী ড্যানিয়েল শন জেমস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, একজনকে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের প্রাথমিক শুনানিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন না এবং কিরণদীপের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কিরণদীপ ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতের পাঞ্জাবের তারন তারান জেলার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে পড়াশোনা করে তিনি একটি ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করবেন। তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর জন্য দরিদ্র পরিবারটি প্রায় ২৫ লাখ রুপি খরচ করেছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। কিরণদীপের মা ও ভাই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা মেয়েকে নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এমন মর্মান্তিক ঘটনার কথা তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি। তারা শুধু ন্যায়বিচার এবং কিরণদীপের মরদেহ দ্রুত গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ চান। এদিকে মরদেহ ভারতে পাঠানো এবং শেষকৃত্যের খরচ বহনের জন্য যুক্তরাজ্যের সাউথহল এলাকার একটি গুরদ্বারা ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিরণদীপের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় ও পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে বইমেলা। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া এ আয়োজন সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং কবি শামীম আজাদ। বইমেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুবাদক আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। কবি শামীম আজাদ বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখক মাসুক ইবনে আনিস এবং গবেষক ফারুক আহমদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন হেনা বেগম। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহের পর হঠাৎ বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে লন্ডনের প্রধান দুটি বিমানবন্দর—হিথ্রো এবং গ্যাটউইকে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে দুই বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ৬০০-এরও বেশি ফ্লাইট চরম বিলম্বের শিকার হয়েছে এবং কয়েক ডজন ফ্লাইট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানের ভেতরেই আটকে আছেন। যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ন্যাটস) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে আবহাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল থাকায় এই অচলাবস্থা সারা দিন জুড়েই বজায় থাকতে পারে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটঅ্যাওয়ার'-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হিথ্রো বিমানবন্দরের কমপক্ষে ৩৬৭টি এবং গ্যাটউইক বিমানবন্দরের ৩৫২টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তীব্র গরমের মধ্যে বিমানের ভেতরেই বসে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু লন্ডনেই নয়, ইতালির ভেনিসসহ ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরেও হিথ্রো ও গ্যাটউইকগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ যাত্রী জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছাড়াই ভেনিস বিমানবন্দরে তাদের অন্তত চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ইজিজেটের মতো বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের বেশ কিছু ফ্লাইট আগে থেকেই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এবং যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। লন্ডনের প্রধান দুটি বিমানবন্দর ছাড়াও লিডস ব্র্যাডফোর্ড, এডিনবার্গ এবং লন্ডন সিটি এয়ারপোর্টেও এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানের এই শিডিউল বিপর্যয় ঠিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিখ্যাত ‘লন্ডন ম্যারাথন’ নিয়ে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকরা। আগামী ২০২৭ সালে এই প্রতিযোগিতাটি দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ডসংখ্যক ১ লাখ দৌড়বিদকে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে এবং দাতব্য তহবিলের জন্য কোটি কোটি পাউন্ড সংগ্রহ করতেই এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ২৪ ও ২৫ এপ্রিল (শনিবার ও রবিবার) এই মেগা ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান গত মার্চ মাসেই একচেটিয়া প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছে, যাকে আয়োজকরা ‘দ্য ডাবল’ নামে অভিহিত করেছেন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের কার্যালয় শুরুতেই এতে সমর্থন দিলেও লন্ডনের পরিবহন বিভাগ (টিএফএল) এবং অন্যান্য অংশীজনদের রাজি করাতে কিছুটা সময় লেগেছে। কারণ টানা দুই দিন পুরো যুক্তরাজ্যের রাজধানী স্তব্ধ বা বন্ধ রাখার বিষয়ে তাদের কিছুটা আপত্তি ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়ার এই আইডিয়াটি সবাই লুফে নেয়। আয়োজকদের আশা, এই দুই দিনের আয়োজন থেকে দাতব্য কাজের জন্য রেকর্ড ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি) তহবিল উঠবে এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদান দাঁড়াবে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড। লন্ডন ম্যারাথনের প্রধান নির্বাহী হিউ ব্র্যাশার বলেন, “২০২৭ সালের এই আয়োজনটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। ১ লাখ দৌড়বিদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়ে আমরা আরও বেশি মানুষ, দাতব্য সংস্থা ও সম্প্রদায়কে বিশ্বের সেরা এই ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছি।” নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক দিনে এলিট নারী, নারী প্যারা-অ্যাথলেট এবং প্রায় ৫০ হাজার সাধারণ দৌড়বিদ অংশ নেবেন। অন্য দিনে এলিট পুরুষ অ্যাথলেটদের পাশাপাশি বাকি ৫০ হাজার সাধারণ দৌড়বিদ দৌড়াবেন। তবে কোনো প্রতিযোগীই টানা দুই দিন অংশ নিতে পারবেন না। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি যুক্তরাজ্যের ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তহবিল সংগ্রহের রেকর্ড তৈরি করবে।
যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট মিডলটনের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত মেডিকেল রেকর্ড অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিয়ে তা অর্থের বিনিময়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির চেষ্টা করায় এক সাবেক স্বাস্থ্যকর্মীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে দেশটির তথ্য কমিশনারের কার্যালয় (আইসিও)। লন্ডনের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা প্রিন্সেসের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার নীতি ভাঙার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে লন্ডনের ওই বেসরকারি হাসপাতালটি (দ্য লন্ডন ক্লিনিক) তাদের এক কর্মীর বিরুদ্ধে কেটের চিকিৎসার নথিপত্রে অবৈধভাবে প্রবেশের গুরুতর অভিযোগটি প্রথম সামনে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাজ্যের তথ্য ও প্রাইভেসির ডেটা ওয়াচডগ ‘আইসিও’ তাৎক্ষণিকভাবে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ওই সাবেক স্বাস্থ্যকর্মীকে ২০১৮ সালের ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্টের ধারা অনুযায়ী এই আনুষ্ঠানিক আইনি সতর্কতা (ফরমাল কশন) দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থা আইসিও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্যের ইচ্ছাকৃত অপব্যবহার করেছেন এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে তা বাইরে পাচারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা স্পষ্টতই একটি চরম বিশ্বাসভঙ্গ। ক্রাউন প্রসিকিউটরদের নীতিমালা এবং আইসিও-র নিজস্ব আইনি পদক্ষেপের নিয়মনীতি puঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হাসপাতালের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় কোনো ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে একে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে একটি অজ্ঞাত শারীরিক সমস্যার কারণে এই লন্ডন ক্লিনিকে কেট মিডলটনের একটি পূর্বপরিকল্পিত পেটের অস্ত্রোপচার (অ্যাবডোমিনাল সার্জারি) করা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। প্রিন্সেস কেট ছাড়াও ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজা চার্লসও বিভিন্ন সময়ে এই নামী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আইসিও-র রেগুলেটরি সুপারভিশনের নির্বাহী পরিচালক ইয়ান হুলমে বলেন, "চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে মানুষ যে ব্যক্তিগত তথ্য দেয়, তা যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে এবং কোনো ধরনের শোষণের শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যখন এই বিশ্বাসের জায়গাটি ভেঙে ফেলা হয়, তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।" হাসপাতালের এক মুখপাত্রও এই তদন্তের সমাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা সবসময় রোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত একটি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সভায় অংশ নিতে আসা দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সভা শুরুর আগেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। একই সময় এনসিপির সমর্থক ও কর্মীরাও ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এনসিপি সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই এলাকা ত্যাগ করেন। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সভাস্থলের বাইরে একটি পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীদের অনুসরণ করে কয়েকজন বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হক আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আটক তিনজনের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন। তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, হাসনাত আবদুল্লাহর সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণ করেছেন। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। লন্ডনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ঘিরে মাঝে মধ্যেই উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই ঘটনাকে ঘিরেও প্রবাসী মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি বিতর্কিত আবাসন প্রদর্শনী বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন দেশটির শতাধিক আইনপ্রণেতা। তাদের অভিযোগ, "গ্রেট ইসরায়েলি রিয়েল এস্টেট ইভেন্ট" নামের এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতির জমি ও সম্পত্তি বিক্রির প্রচার করা হবে। এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপারের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৬৫ জন সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে নির্মিত এসব সম্পত্তি বিক্রি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এই যৌথ চিঠির মূল উদ্যোক্তা লেবার পার্টির সংসদ সদস্য অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার এবং ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং পশ্চিম তীর ও গাজায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করার এখনই সময়। নীতিনির্ধারকদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ হিসেবে স্বীকৃত আবাসন প্রকল্পের বাণিজ্যিক প্রচার লন্ডনের মাটিতে হতে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার সংস্থা ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীও এই প্রদর্শনীর তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি, তবে আইনপ্রণেতাদের এই জোরালো অবস্থান ঋষি সুনাকের পরবর্তী লেবার সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র লন্ডনের ঠিক কোথায় বসে তার কালজয়ী নাটকগুলো লিখেছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা রহস্যের অবশেষে সমাধান হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে শেক্সপিয়রের তৎকালীন বাসস্থানের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গবেষক জফ্রি মার্শ দীর্ঘ এক দশক ধরে লন্ডনের ঐতিহাসিক নথিপত্র এবং কর প্রদানের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। গবেষণায় দেখা যায়, ১৫৯০-এর দশকে শেক্সপিয়র লন্ডনের 'সেন্ট হেলেনস' বিশপের গির্জার নিকটবর্তী একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। বর্তমানে এই স্থানটি লিভারপুল স্ট্রিট স্টেশনের খুব কাছে অবস্থিত। ঐতিহাসিকদের মতে, এই বাড়িতে অবস্থানকালেই শেক্সপিয়র তার অমর সৃষ্টি ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এবং ‘আ মিডসামার নাইটস ড্রিম’-এর মতো নাটকগুলো রচনা করেছিলেন। গবেষক মার্শ জানান, তৎকালীন সময়ে ওই এলাকাটি ছিল অত্যন্ত অভিজাত এবং সেখানে সম্পদশালী ব্যবসায়ী ও গুণী ব্যক্তিদের বসবাস ছিল। এই পরিবেশই হয়তো শেক্সপিয়রকে তার নাটকগুলোতে উচ্চবিত্ত ও রাজকীয় জীবনের প্রতিফলন ঘটাতে অনুপ্রাণিত করেছিল। এর আগে কেবল জানা ছিল যে তিনি সেন্ট হেলেনস প্যারিশে থাকতেন, কিন্তু নির্দিষ্ট বাড়িটি চিহ্নিত ছিল না। এই নতুন আবিষ্কার শেক্সপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন এবং তার কর্মজীবনের শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে নতুন তথ্য উম্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। শনিবারের এই সমাবেশে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন, যেখানে পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা "আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক" লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ বেশ কয়েকজনকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। এমনকি লাঠি হাতে থাকা এক বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকেও পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ (DOJ) সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন অবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট: প্যালেস্টাইন অ্যাকশন মূলত একটি সরাসরি অ্যাকশন গ্রুপ, যারা ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এই গোষ্ঠীটিকে 'সন্ত্রাসবাদী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন জানানো দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছরের কারাদণ্ড। আইনি লড়াই ও পুলিশের অবস্থান: চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ ও ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী’ বলে রায় দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের পর শুরুতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছিল যে, তারা সমর্থনকারীদের গ্রেপ্তার করবে না। কিন্তু গত ২৫ মার্চ পুলিশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কায়সার জোহরা নামে এক অ্যাক্টিভিস্ট আল-জাজিরাকে বলেন, "পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা বা অধিকারের তোয়াক্কা করে না, বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নই তাদের মূল কাজ।" আয়োজকদের মতে, শনিবারের এই সংহতি সমাবেশে প্রায় ১,৫০০ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের করা আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে লন্ডনের রাজপথ। গতকাল রাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জড়ো হয়ে কয়েক হাজার মানুষ এক জরুরি বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি এবং ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে তিনি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, তবে তার পূর্ববর্তী আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রতিবাদে লন্ডনে অবস্থানরত অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ‘ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন’ (IHRC) এই ‘হ্যান্ডস অফ ইরান’ (ইরান থেকে হাত সরাও) শীর্ষক বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে তার ‘গণহত্যামূলক’ মানসিকতা প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, "গত সপ্তাহে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে বারবার বোমা হামলার পর এখন পারমাণবিক হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য একটি পুরো সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করা। আমরা এই নির্লজ্জ অপরাধের মুখে নীরব থাকব না।" বিক্ষোভকারীরা ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধাপরাধের অংশীদার হচ্ছে। তারা অবিলম্বে মার্কিন বোমারু বিমানের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র রক্ষণাত্মক বা আত্মরক্ষামূলক হামলার জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে দাবি করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডাউনিং স্ট্রিটের প্রধান ফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই চরম উত্তজনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব এখন সরাসরি ইউরোপের দেশগুলোতেও দৃশ্যমান হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের ইহুদি অধ্যুষিত গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি সিনাগগের পাশে রাখা এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো মূলত ইহুদি স্বেচ্ছাসেবক দল দ্বারা পরিচালিত হতো। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাস-মোকাবিলাকারী বিশেষ পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনাকে সরাসরি ইহুদি-বিদ্বেষী আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এক বিবৃতিতে তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। স্টারমার বলেন, আমাদের আধুনিক সমাজে কোনো ধরনের ইহুদি বিদ্বেষ বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার স্থান নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোপলিটান পুলিশের প্রধান মার্ক রাওলি অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গোল্ডার্স গ্রিনসহ আশপাশের ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৬৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানের কাছে লন্ডন পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লন্ডনে পৌঁছাতে পারে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে দেশটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্টিভ রিড বলেন, ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে বা তা করার সক্ষমতা রাখে—এমন সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন আমাদের কাছে নেই। এর আগে আইডিএফ দাবি করেছিল, তেহরান-এর হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এদিকে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। স্টিভ রিড জানান, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অন্যটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়। তবে এগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে লন্ডন যেহেতু ইরান থেকে প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে, তাই ব্রিটিশ সরকার এখনই এটিকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে না। তবে ইসরায়েল বারবার সতর্ক করে বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।