- প্রচ্ছদ
- Topic
শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা-সংক্রান্ত নির্দেশনা সামনে এসেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা মূলত তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ভিসা, ভ্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে না পারলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যোগদান বা একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাননি, তাদের জন্য সময়সীমাটি গুরুত্বপূর্ণ। হার্ভার্ডের এই নির্দেশনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও প্রবেশ-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা এবং নিজেদের ভিসার শর্ত দুটিই ভালোভাবে অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর ইতোমধ্যে বৈধ ভিসা রয়েছে, তাদেরও ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এদিকে, হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তাদের জন্য সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছানো শুধু ভ্রমণের বিষয় নয়—ক্লাস শুরু, আবাসন, ওরিয়েন্টেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গেও এটি সরাসরি যুক্ত। তাই নতুন শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা ও ভ্রমণ নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, হার্ভার্ডে নতুন শিক্ষাবর্ষে যোগ দিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভিসা ও ভ্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করেন। এতে দৈনন্দিন খরচের কিছুটা জোগান দেওয়ার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হয়। তবে দেশভেদে শিক্ষার্থীদের কাজের সময়সীমা ও নিয়ম ভিন্ন। শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই কাজ ক্যাম্পাসের ভেতরে করার নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। আর নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকে। কানাডায় ক্লাস চলাকালে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে সরকারি ছুটির সময়ে কাজের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য নয়। আর জার্মানিতে বছরে সর্বোচ্চ ১৪০ পূর্ণ দিন বা ২৮০ অর্ধদিবস কাজের অনুমতি রয়েছে। সেমিস্টারের সময় সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার নিয়ম রয়েছে। এবার আসা যাক সম্ভাব্য আয়ের হিসাবে। যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি ও রেস্তোরাঁ-হসপিটালিটি খাতে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টায় প্রায় ১১ থেকে ১৪ পাউন্ড আয় করতে পারেন। তবে গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজির মতো বিষয়ে দক্ষ শিক্ষার্থীরা টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কানাডায় সাধারণ খণ্ডকালীন কাজে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কানাডীয় ডলার আয় করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সহকারী হিসেবে এই আয় ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৪০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণা সহকারী হিসেবেও ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩৫ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে কানাডায় ন্যূনতম মজুরি প্রদেশভেদে আলাদা। অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের মজুরি তুলনামূলক বেশি। খুচরা বিক্রি ও হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ থেকে ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার আয় করা যায়। আর টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু খণ্ডকালীন চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খণ্ডকালীন কাজের আয় দিয়ে বাজার-সদাই, যাতায়াত ও মোবাইল বিলের মতো নিয়মিত কিছু খরচ সামলানো সম্ভব হলেও টিউশন ফি ও বাসাভাড়ার মতো বড় ব্যয়ের জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। কারণ কাজের সুযোগ সবসময় নিশ্চিত নয়, আর ভিসার নির্ধারিত সময়সীমার বেশি কাজ করাও আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম, কাজের অনুমোদিত সময় এবং শ্রম আইন ভালোভাবে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন পেপাল ও ভেনমো ব্যবহার করে সরাসরি টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক খরচ পরিশোধ করতে পারছেন। নতুন এই পেমেন্ট সুবিধা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে এবং চলতি বছর আরও প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হতে পারে। প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলামাইন ইউনিভার্সিটি, বাটলার ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অনলাইন পেমেন্ট পোর্টাল থেকেই পেপাল বা ভেনমোকে পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। এই সুবিধা চালু করতে পেপাল শিক্ষা খাতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইলুমিয়া, নেলনেট ক্যাম্পাস কমার্স ও টাচনেটের সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেশন করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী বা পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেমের ভেতর থেকেই পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্টের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড অথবা পেপাল ও ভেনমো অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স থেকে দেওয়া যাবে। তবে এই সুবিধা ব্যবহার করলেই যে অতিরিক্ত খরচ থাকবে না, তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সার্ভিস বা প্রসেসিং ফি নেওয়া হতে পারে। যেমন, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে টিউশন পরিশোধ করলে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস ফি প্রযোজ্য হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ভিন্ন হতে পারে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিও ২০ ডলারের বেশি পেপাল ও ভেনমো লেনদেনে কমপক্ষে ৩ ডলার সার্ভিস ফি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই বড় অঙ্কের টিউশন পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেপাল ও ভেনমোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব লেনদেনে এনক্রিপশন ও জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নন-ব্যাংক পেমেন্ট অ্যাপে রাখা অর্থ সবসময় প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকে না। পেপালের কিছু নির্দিষ্ট ব্যালেন্স প্রোগ্রাম ব্যাংকের মাধ্যমে এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্সের আওতায় পড়তে পারে। তবে সব পেপাল বা ভেনমো ব্যালেন্স এই সুরক্ষা পায় না। পেপাল নিজেও জানিয়েছে, এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়, পেপালের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নয়। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য টিউশন পরিশোধের পদ্ধতি আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। তবে টিউশনের মতো বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি, পেমেন্টের উৎস এবং অর্থের সুরক্ষা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ভিসা নীতির পরিবর্তন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, পড়াশোনার খরচ এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে এখন অনেকেই বিকল্প দেশ বিবেচনা করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে দেশ বদলাচ্ছেন। বরং শিক্ষা, চাকরি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, ব্যবসা ও তুলনামূলক সহজ অভিবাসন ব্যবস্থা মিলিয়ে নতুন গন্তব্যের তালিকা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের পাশাপাশি রোমানিয়া, পর্তুগাল, সেশেলসসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। জাপানেও টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম রয়েছে। জাপান এখন বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সরকারি প্ল্যাটফর্মেও জাপানের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণরাও দক্ষিণ কোরিয়াকে কাজের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ইউরোপে জার্মানি এখন দক্ষ কর্মীদের অন্যতম বড় বিকল্প। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গাইডেও জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পর্তুগালও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারও পর্তুগালকে বৈধ শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি ক্রমেই পরিচিত বিকল্পে পরিণত হচ্ছে। ইতালি অবশ্য নতুন গন্তব্যের চেয়ে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে গেলে ইতালিকে বাদ দেওয়া যায় না। আয়ারল্যান্ডও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। ইংরেজিভাষী দেশ হওয়া এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় দেশটি যুক্তরাজ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই প্রবণতায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি ব্যবসা, প্রযুক্তি, পেশাদারি সেবা ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো স্থায়ী অভিবাসনের পথ নয়; কাজ ও ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি ভিসার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের নিয়ম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে। সিঙ্গাপুরও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও উচ্চ দক্ষতার চাকরিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দেশটির দিকে তাকাচ্ছেন। তবে ছোট শ্রমবাজার এবং তুলনামূলক উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বড় বিষয়। নিউজিল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাইরে ইংরেজিভাষী একটি বিকল্প। দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য দেশটির বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দূরত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা। এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার কিছু দেশও নতুন সুযোগের কারণে নজরে আসছে। নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ঘানা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কেনিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নাইরোবি আফ্রিকার প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের আকর্ষণ করছে। মরিশাসও বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পর্যটন, আর্থিক সেবা ও ব্যবসার পরিবেশ দেশটিকে আফ্রিকা অঞ্চলে আলাদা অবস্থান দিয়েছে। উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্কও ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে নতুন করে বিবেচনায় আসছে। তবে এসব দেশে সুযোগ থাকলেও ভাষা, ভিসা, স্থানীয় শ্রমবাজার এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের অভিবাসনের চিত্রে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। মানুষ শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে তাকিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার মতো দেশও বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ও শিক্ষার্থীর কাছে বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনের কারণ ও সুযোগ এক নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশকে শুধু “সহজে যাওয়ার দেশ” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভিসা পাওয়া, কাজের অনুমতি, বেতন, কর, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেয় না। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের মানচিত্র এখন একমুখী নয়। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা কোথায় বেশি সুযোগ, কম ঝুঁকি এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়া যেতে পারে, সেই হিসাবেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে।
এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান, কিন্তু এখনো আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর নেই? সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা কোর্স এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। তবে এর অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট ইংরেজি কোর্স, নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে পরে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পাঁচটি সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, যোগ্যতা ও প্রোগ্রামের শর্ত আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এই নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে সেই শর্ত পূরণের পথ নিতে পারেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই কার্যক্রমে এফ-১ শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ এবং আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সময়ে স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা অবস্থায় শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্ধারিত উচ্চতর ইংরেজি স্তর সফলভাবে শেষ করার পর শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পূর্ণাঙ্গ ভর্তিতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাস শুরু করার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এগোনোর সুযোগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, ফ্লোরিডা ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে আবেদন করতে পারেন। এখানে শিক্ষার্থীর ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা নির্ধারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের অষ্টম স্তর সফলভাবে শেষ করার পর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো স্কোরের প্রয়োজন থাকে না। ফলে এইচএসসি বা সমমানের স্কুল শিক্ষা শেষ করা কোনো শিক্ষার্থীর কাছে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর প্রস্তুত না থাকলেও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, টেক্সাস টেক্সাসের ডেন্টনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ইংরেজি প্রস্তুতির সুযোগ দেয়। এখানে নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষায় শ্রবণ, পড়া, ব্যাকরণ ও লিখিত ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ স্তর সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ইংরেজি কোর্সের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কোর্সেও পড়তে পারেন। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি মূল্যায়ন ও নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি, পেনসিলভানিয়া পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি শিক্ষা এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য কোনো শিক্ষার্থী যদি টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর জমা না দেন, তাহলে তাকে অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। টেম্পলের আমেরিকান ভাষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের বিশেষ ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমও এমন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পথ, যাদের ইংরেজির স্কোর সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন ইংরেজি ক্লাস, একাডেমিক সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে টেম্পল ইউনিভার্সিটির সরাসরি স্নাতক ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার স্কোর রয়েছে। তাই “আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি” বলতে এখানে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাসে ঢুকে যাওয়া নয়; বরং অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তি এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগকে বোঝায়। ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা, আলাবামা আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী একাডেমিক ভর্তির শর্ত পূরণ করেন কিন্তু ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন না, তারা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ব্যবস্থায় আবেদনের সময় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর তারা ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটের ছয়টি স্তর রয়েছে। শিক্ষার্থীর শুরুতে থাকা ইংরেজি দক্ষতা এবং শেখার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রোগ্রাম শেষ করতে কত সময় লাগবে তা নির্ধারিত হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ স্তর সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করাও ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণের একটি স্বীকৃত পথ। তবে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পেতে শুধু ইংরেজি ভাষার শর্ত পূরণ করলেই হবে না। একাডেমিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। আইইএলটিএস বা টোফেল একেবারেই লাগবে না? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে হবে। “আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াই” কথাটির অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা, দক্ষতা পরীক্ষা বা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহার করা হতে পারে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি নিয়ে প্রথমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিকল্প পথে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগ থাকতে পারে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর থাকলে সেটি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভর্তি বা ভাষার স্তর নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা যায়। তাই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয় বলে আইইএলটিএস বা টোফেল সব পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয়, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফ-১ ভিসা ও আই-২০-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত নয়। এফ-১ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস প্রক্রিয়া, ভিসা আবেদন এবং সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখে। তবে আই-২০ পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভিসা সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। তাই আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও ইংরেজিতে নিজের পড়াশোনার পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। খরচ ও একাডেমিক যোগ্যতাও দেখতে হবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকার কারণে শুধু ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা নিশ্চিত হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে একাডেমিক যোগ্যতা, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতা, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আলাদা শিক্ষার ফি ও অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার আগে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ইংরেজি শেখার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অষ্টম স্তর, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ষষ্ঠ স্তর, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট এবং কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের শর্ত এক নয়। টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও অস্থায়ী ভর্তি ও ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমের আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাই এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ও শর্তসাপেক্ষ ভর্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে। তবে এগুলোকে আইইএলটিএস বা টোফেলের “বিকল্প পরীক্ষা” হিসেবে নয়, বরং ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের বিকল্প ভর্তি-পথ হিসেবে দেখা উচিত। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ভর্তি নীতি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার ফি, আর্থিক যোগ্যতা এবং এফ-১ ভিসাসংক্রান্ত নির্দেশনা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। ভর্তি ও ইংরেজি ভাষার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে চালু হচ্ছে। নির্ধারিত সপ্তাহে প্রতিদিন সব ক্লাসে উপস্থিত থাকলে হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১০০ ডলার এবং মিডল স্কুল শিক্ষার্থীরা ৫০ ডলারের ভিসা গিফট কার্ড পাবে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট তাদের 'পারফেক্ট অ্যাটেনডেন্স পেইস' কর্মসূচিতে মিডল স্কুল শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করছে। এই কর্মসূচি অবশ্য নতুন নয়। ডেট্রয়েটের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপস্থিতি কমাতে আগের দুই বছর ধরে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত পাঁচ দিনের প্রতিটি চক্রে শতভাগ উপস্থিতি ধরে রাখতে পারলে একজন হাইস্কুল শিক্ষার্থী ১০০ ডলারের গিফট কার্ড পেয়েছে। পুরো কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ ছিল। ডিস্ট্রিক্টের তথ্য অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ হাইস্কুল শিক্ষার্থী অন্তত একবার ১০০ ডলারের গিফট কার্ড পেয়েছে। ডেট্রয়েটের ২৬টি হাইস্কুলে মোট ১৫ হাজার ২৪৭ শিক্ষার্থী ছিল। অর্থাৎ প্রায় ৮৪ শতাংশ হাইস্কুল শিক্ষার্থী অন্তত একটি পেমেন্ট পেয়েছে। শুধু স্কুলে হাজির হলেই অবশ্য টাকা পাওয়া যায় না। নির্ধারিত পাঁচ দিনের চক্রে শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন স্কুলে থাকতে হয় এবং নির্ধারিত প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। উপস্থিতির তথ্য স্কুলের রেকর্ডের মাধ্যমে যাচাই করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীদের গিফট কার্ড দেওয়া হয়। কর্মসূচিটির ফলাফলও নজরে পড়ার মতো। ডিস্ট্রিক্টের হিসাবে, হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার কর্মসূচি শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে হাইস্কুল পর্যায়ে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এপ্রিলের শেষ নাগাদ তা কমে প্রায় ৫৪ শতাংশে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে কোনো শিক্ষার্থী একটি শিক্ষাবর্ষের মোট স্কুল দিবসের অন্তত ১০ শতাংশ অনুপস্থিত থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিত শিক্ষার্থী হিসেবে ধরা হয়। ১৮০ দিনের একটি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১৮ দিন বা তার বেশি স্কুল মিস করলে এই শ্রেণিতে পড়তে পারে একজন শিক্ষার্থী। ডেট্রয়েটে সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পুরো ডিস্ট্রিক্টের প্রায় ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির তালিকায় ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, বিশেষ করে হাইস্কুল পর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। এই কারণেই জানুয়ারি থেকে মার্চের সময়কে আর্থিক প্রণোদনার জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শীতের এই সময়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সাধারণত কমে যায়। অথচ একই সময়ে নিয়মিত ক্লাস করা ক্রেডিট অর্জন এবং সময়মতো গ্র্যাজুয়েশনের পথে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরে ১৮ দিন বা তার কম স্কুল মিস করা শিক্ষার্থীরা স্টেট অ্যাসেসমেন্টে গ্রেড লেভেল বা তার ওপরে ফল করার ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি সম্ভাবনাময়। এ কারণেই শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সরাসরি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার কৌশল বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগের কর্মসূচিটি শুধু নবম থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সেটি মিডল স্কুলেও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ উপস্থিতির সপ্তাহে ১০০ ডলারের প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে, আর যোগ্য মিডল স্কুল শিক্ষার্থীরা একইভাবে সপ্তাহে ৫০ ডলার পাবে। 'পারফেক্ট অ্যাটেনডেন্স পেইস' ডেট্রয়েট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বৃহত্তর উপস্থিতি উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। ডিস্ট্রিক্টের 'ব্লুপ্রিন্ট ২০২৭' পরিকল্পনায় গড় দৈনিক উপস্থিতি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৪২ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কুলে উপস্থিতির বিনিময়ে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও ডেট্রয়েট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য স্পষ্ট - শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনা, পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বাড়ানো এবং তাদের গ্র্যাজুয়েশনের পথে ধরে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব রকেট ডিজাইন, নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের সুযোগ নিয়ে আবারও শুরু হচ্ছে নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলেজ ও ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি যোগ্য মিডল ও হাইস্কুল পর্যায়ের দলগুলো আবেদন করতে পারবে। নাসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদন বা প্রপোজাল জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল টাইম। নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ মূলত নয় মাসব্যাপী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। এতে নির্বাচিত শিক্ষার্থী দলগুলোকে একটি হাই-পাওয়ার রকেট ডিজাইন, তৈরি, পরীক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে হয়। রকেটের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং পেলোডও তৈরি করতে হয়। ফলে এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব মহাকাশ ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ কাছ থেকে শেখার সুযোগ। পুরো কর্মসূচিটি পরিচালনা করে আলাবামার হান্টসভিলে অবস্থিত নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিস অব স্টেম এনগেজমেন্ট। চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয় তৈরিতে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম এবং আর্টেমিস কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনাররা যুক্ত থাকেন। নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রপোজাল জমা দিতে পারে। এটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ এবং প্রপোজাল যাচাইয়ের পর দল নির্বাচন করা হয়। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগ। তবে এই পর্যায়ে সরাসরি সব স্কুল আবেদন করতে পারবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আমেরিকান রকেট্রি চ্যালেঞ্জের শীর্ষ ২৫টি স্কুল এবং রকেটস ফর স্কুলস প্রতিযোগিতার ক্লাস টু বিভাগের শীর্ষ সাতটি স্কুল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রপোজাল জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। একটি স্কুল থেকে সর্বোচ্চ একটি দল অংশ নিতে পারবে। চ্যালেঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের কাজ অনেকটাই নাসার বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ার আদলে পরিচালিত হয়। নির্বাচিত দলকে ধাপে ধাপে প্রিলিমিনারি ডিজাইন রিভিউ, ক্রিটিক্যাল ডিজাইন রিভিউ, ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ এবং লঞ্চ রেডিনেস রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ করেই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে। রকেট উৎক্ষেপণের পরও কাজ শেষ হবে না। শিক্ষার্থীদের রকেটের ফ্লাইট ও পেলোড থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পোস্ট লঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ডিজাইন, পরীক্ষা, উৎক্ষেপণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যন্ত পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফসাইকেলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করে নাসা। ২০২৭ সালের স্টুডেন্ট লঞ্চের চূড়ান্ত আয়োজন হবে আলাবামার হান্টসভিলে। নাসার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, লঞ্চ ডে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এপ্রিল ২০২৭। এখানেই বিভিন্ন দলের তৈরি হাই-পাওয়ার রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। নাসা বলছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের রকেট বানানো শেখানো নয়। ভবিষ্যতের স্টেম ও অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি তৈরির জন্য বাস্তব গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী করে তোলার বিষয়টিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। আগ্রহী কলেজ ও ইউনিভার্সিটি এবং যোগ্য স্কুল দলগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ১৪ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যেই নাসার কাছে প্রপোজাল জমা দিতে হবে।
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সামা সাফিকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি সামরিক হেফাজতে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব। সামার মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সামা সাফি পশ্চিম তীরের বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ২ জুন ভোরে রামাল্লার কাছে পরিবারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে। একই অভিযানে বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন নারী শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ওইদিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে মোট ৩১ জনকে আটক করা হয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সামা ও অন্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈরী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রচার এবং অন্যান্য সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তবে সামার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আইনজীবীও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সামার পরিবার জানিয়েছে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ কারণে হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও তার আটকের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। সামার মুক্তির দাবিতে এরই মধ্যে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা সরব হয়েছেন। ১২ জুন দেওয়া এক বক্তব্যে রাশিদা তালিব বলেন, সামা একজন ২০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ও শিক্ষার্থী এবং তার একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন সরকারকে তাকে মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনও সামার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ভোরে সামাকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে গেলেও তাকে কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার পরিবার বা মার্কিন দূতাবাসকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি। সামাকে প্রথমে পশ্চিম তীরের ওফার সামরিক কারাগারে নেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাকে জেরুজালেমের একটি ইন্টারোগেশন সেন্টারে স্থানান্তরের তথ্যও এসেছে। সামার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হেফাজতে রয়েছেন। সামার ঘটনা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এসব আটকের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ফিলিস্তিনি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হামলার পর তারা অভিযুক্ত সহপাঠীকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় শেরিফের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লি কাউন্টির জোনসভিল মিডল স্কুলে। অভিযুক্ত ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে একজন শিক্ষককে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। লি কাউন্টির শেরিফ গ্যারি পারসন্স জানান, শিক্ষককে আঘাত করার পরপরই কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে। তারা হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরিফ পারসন্স বলেন, "শিক্ষার্থীরা প্রশংসার দাবিদার। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ সম্ভবত আরও বড় ক্ষতি ঠেকিয়েছে। অন্তত শিক্ষকের জীবন রক্ষা করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।" শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আহত শিক্ষক প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাত পেয়েছেন। তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদ ছিলেন। হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের রান্নাঘর থেকে একটি রান্নার ছুরি নিয়ে এসেছিল। সেই ছুরি দিয়েই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর জখমের উদ্দেশ্যে হামলা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। ভার্জিনিয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক পাওয়ার পর তাকে আটক করেছে স্কুল পুলিশ। বুধবার সকালে সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসের সান্টি হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় পুরো স্কুল লকডাউন রাখা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্লাস আবার শুরু হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি ঝামেলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিকভাবে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশির সময় এক শিক্ষার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেয় স্কুল পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর বয়স ও পরিচয় প্রকাশ করেনি। ঘটনাটি ঘটে লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই। ফলে ক্যাম্পাসে বন্দুক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সান্টি হাইস্কুল কিছু সময় লকডাউনে রাখা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাসে ফিরে যায়। ঘটনায় কাউকে গুলি করা হয়েছে বা কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুকটি কী অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং সেটি আগে কোনোভাবে ফায়ার হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে বিপজ্জনক কোনো বস্তু নিয়ে আসা নিষিদ্ধ। এমনকি দেখতে অস্ত্রের মতো বা বিপজ্জনক বস্তু বলে মনে হতে পারে এমন জিনিসও স্কুলে না আনতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিপজ্জনক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্কুলের প্রথম দিনেই এমন ঘটনা ঘটায় ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সান্টি হাইস্কুলে পাওয়া বন্দুকটি কোথা থেকে এসেছে, শিক্ষার্থী কেন সেটি স্কুলে এনেছিল এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। আগামী শরৎ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস-এ ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম সেমিস্টারে প্রচলিত লেটার গ্রেড পাবেন না। তাদের সরকারি একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টে শুধু কোনো কোর্সের ক্রেডিট অর্জিত হয়েছে কি না তা উল্লেখ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, কলেজটির শিক্ষার্থীরাই মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট প্রায় ৮ হাজার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর অর্ধেকের কাছাকাছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, কলেজজীবনের প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের নতুন পরিবেশ ও পড়াশোনার চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে গ্রেডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ক্ষতির ভয় ছাড়াই শিক্ষার্থীরা নতুন বিষয় বা তুলনামূলক কঠিন কোনো কোর্স বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কোনো গ্রেডই থাকবে না। শিক্ষকেরা অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করবেন। এসব তথ্য সম্মাননা, বৃত্তি ও অন্যান্য একাডেমিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টে প্রথম সেমিস্টারের লেটার গ্রেড না থাকায় শিক্ষার্থীদের জিপিএতেও ওই সেমিস্টারের গ্রেডের প্রভাব পড়বে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী শরৎকালে এর বিস্তারিত কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। কেন এমন পরিবর্তন? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কলেজের প্রথম বছর বিশেষ করে প্রথম সেমিস্টার অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের সময়। নতুন পরিবেশ, পড়াশোনার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে অনেকেই মানসিকভাবে লড়াই করেন। ফলে একটি খারাপ গ্রেড যেন পুরো একাডেমিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব না ফেলে, সেই সুযোগ তৈরি করতেই নতুন পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় গ্রেডের মান, গ্রেড বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা এবং কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও গ্রেড বাড়ার প্রবণতা নিয়ে তথ্য সামনে এসেছে। এমলাইভের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ গ্রেড ‘এ’ পর্যায়ে ছিল। এক দশক আগে এই হার ছিল ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গ্রেডিং নিয়ে ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মতো বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক নমনীয় গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের একটি অংশ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রথম সেমিস্টারের গ্রেড নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রেডের চাপ কমলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলের পেছনে না ছুটে শেখার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন। তবে সমালোচকরাও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রথম সেমিস্টারে সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টে গ্রেড না থাকলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ এটিকে উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক মানদণ্ড আরও শিথিল করার প্রবণতা হিসেবেও দেখছেন। সব মিলিয়ে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় গ্রেড, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী শরৎ থেকে শুরু হওয়া পাইলট কর্মসূচির ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হয়।
বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ও অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধ করা যাবে। সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্মে কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভর্তি প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধার চাহিদা বাড়ছিল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষা ব্যয় বহনকারী ব্যক্তি বা অভিভাবকের নামে এসব আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শিক্ষা-সংক্রান্ত এসব কার্ড লেনদেনকে বিদ্যমান ভ্রমণ কোটার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করবে। তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে কার্ডের মাধ্যমে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়ই পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত ‘পারপাস কোড’ ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন করতে হবে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে টিউশন ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ওজন কমানোর ওষুধ তিরজেপাটাইডের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত তদন্তে ওই ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং এর সম্ভাব্য কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। সেখানে শিক্ষার্থী তিরজেপাটাইড ব্যবহার করেছিলেন কি না এবং এর সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তিরজেপাটাইডই মৃত্যুর কারণ ছিল এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তিরজেপাটাইড মূলত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত ওজন কমানোর চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ। এটি ক্ষুধা কমাতে এবং খাবার হজমতন্ত্রে ধীরে চলতে সহায়তা করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে ওজন কমানোর জন্য এই ধরনের ওষুধের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওষুধটির সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের অস্বস্তি রয়েছে। বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কোনো ব্যক্তি ওষুধটি ব্যবহারের পর মারা গেছেন বলেই ওই ওষুধ সরাসরি মৃত্যুর কারণ ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা নথি, শারীরিক পরীক্ষা, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিবেচনা করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিরজেপাটাইডকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা যাচ্ছে না। তদন্তের চূড়ান্ত ফলেই জানা যাবে, ওষুধটির সঙ্গে ওই মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির পার্সিপ্যানিতে তুষারঝড়ের পর ভোর সাড়ে ৪টায় ঘুম থেকে উঠে প্রতিবেশী নাটালি ব্লেয়ারের বাড়ির বরফ পরিষ্কার করে দিয়েছেন পাঁচ হাইস্কুল শিক্ষার্থী। ৬০ থেকে ৮০ ইঞ্চি নয়, প্রায় ৮ ইঞ্চি তুষারে বাড়ির প্রবেশপথ ঢেকে যাওয়ায় নাটালির সকাল ৬টার ডায়ালাইসিস অ্যাপয়েন্টমেন্টে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত কিশোরদের দ্রুত উদ্যোগেই তিনি নিরাপদে চিকিৎসা নিতে যেতে পারেন। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ৪ মার্চ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পার্সিপ্যানি এলাকায় কয়েক ইঞ্চি তুষারপাতের আশঙ্কা ছিল। নাটালির নিয়মিত ডায়ালাইসিস চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল এবং ওই সকালে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তুষারে বাড়ির দীর্ঘ ড্রাইভওয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয় বড় সমস্যা। নাটালির প্রতিবেশী ব্রায়ান ল্যানিগান স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা সেবার কর্মী হিসেবে আগে তার ড্রাইভওয়ের বরফ পরিষ্কার করে দিতেন। কিন্তু ওই ঝড়ের সময় তাকে কাজে থাকতে হওয়ায় তিনি আর সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন না। তখন নিজের ছোট ভাই পার্সিপ্যানি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী প্যাট্রিক ল্যানিগানের সাহায্য চান। প্যাট্রিক এক মুহূর্তও দেরি না করে বন্ধু জাস্টিন স্ট্যানটন, ক্রিস লাইবফ্রেড, টাইলার গ্রিকো ও আমন শারাফিকে বিষয়টি জানান। পাঁচ বন্ধু রাতে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে ভোরে সময়মতো উঠে কাজটি শেষ করতে পারেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বরফের মধ্যে হাতে হোল নিয়ে তারা নাটালির বাড়ির সামনে পৌঁছে যান। প্রায় ৮ ইঞ্চি তুষার সরিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুরো ড্রাইভওয়ে পরিষ্কার করে ফেলেন তারা। সকাল ৬টার দিকে নাটালি যখন বাড়ি থেকে বের হন, তখন তার যাওয়ার পুরো পথ পরিষ্কার। ফলে তিনি নিরাপদে অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে এবং নির্ধারিত সময়ে ডায়ালাইসিসে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে পাঁচ কিশোরকে স্থানীয়ভাবে ‘স্নো অ্যাঞ্জেল’ বা ‘তুষারের ফেরেশতা’ বলে প্রশংসা করা হয়। তাদের এই উদ্যোগ স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে। প্যাট্রিকের বাবা পিটার ল্যানিগান সামাজিক মাধ্যমে ছেলেদের ছবি প্রকাশ করে তাদের এই কাজের কথা জানান। এরপর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পার্সিপ্যানি হাইস্কুলের তৎকালীন অধ্যক্ষও পাঁচ শিক্ষার্থীর এমন দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন। পরে নিউ জার্সির আইনপ্রণেতারাও পাঁচ শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগের স্বীকৃতি দেন। তাদের সম্মানে আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্রও দেওয়া হয়। আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিজেদের ঘুম ও আরাম বিসর্জন দিয়ে তারা একজন প্রতিবেশীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। তুষারের ভেতর ভোররাতে পাঁচ কিশোরের এই ছোট্ট উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে মানবিকতার বড় উদাহরণ। কোনো পুরস্কার বা পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই তারা শুধু একজন প্রতিবেশীকে সময়মতো চিকিৎসা নিতে সাহায্য করেছিল।
বোস্টন ইউনিভার্সিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়িয়েছে। যেসব পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের কম এবং সম্পদের পরিমাণও পরিবারের আয়ের তুলনায় স্বাভাবিক পর্যায়ে, তাদের শিক্ষার্থীরা অন্তত পুরো টিউশন ফি এবং আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশের সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিইউ প্রমিজ’ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নতুন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত আর্থিক প্রয়োজনের ১০০ শতাংশ পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব আর্থিক সহায়তা প্যাকেজে শিক্ষাঋণ রাখা হবে না। তবে পরিবারের আয় ২ লাখ ডলারের নিচে হলেই সবার জন্য পুরো পড়াশোনা বিনামূল্যে হবে, বিষয়টি এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আয়, সম্পদ ও পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির হিসাবে, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম এবং সম্পদ স্বাভাবিক পর্যায়ে, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তায় পুরো টিউশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আবাসন ও খাবারের খরচও কভার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য নেট খরচ শূন্য হতে পারে। ৭৫ হাজার ১ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে পুরো টিউশনসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার পর নেট খরচ বছরে ১০ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে। ১ লাখ ১ ডলার থেকে দেড় লাখ ডলার আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে নেট খরচ ১৫ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে। আর পরিবারের আয় দেড় লাখ ১ ডলার থেকে ২ লাখ ডলারের মধ্যে হলে পুরো টিউশন কভার করার পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশ সহায়তার আওতায় আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে এ স্তরে নেট খরচ ২০ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বোস্টন ইউনিভার্সিটির পূর্ণ টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার, ফি, বই এবং অন্যান্য খরচ যোগ করলে আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট আনুমানিক বার্ষিক খরচ প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলার। এই বিশাল খরচের তুলনায় নতুন আর্থিক সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিবারের আয় ছাড়াও সম্পদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আয়ের তুলনায় পরিবারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ থাকলে ২ লাখ ডলারের নিচে আয় হলেও নির্দিষ্ট সীমার আর্থিক সহায়তা নাও মিলতে পারে। ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করা পরিবারের শিক্ষার্থীরাও আর্থিক সহায়তার বাইরে থাকবেন না। তাদের জন্য পরিবারের নির্দিষ্ট আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আলাদা সহায়তা প্যাকেজ তৈরি করবে বিশ্ববিদ্যালয়। বোস্টন ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় আবেদন ও কাগজপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে পরিবারের আয় ও সম্পদের তথ্যের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা আবেদনও বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও এই নীতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার সন্তানের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ টিউশন ও আবাসন খরচ নিয়ে চিন্তিত, তাদের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বোস্টন ইউনিভার্সিটির সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ‘২ লাখ ডলারের কম আয় মানেই বিনামূল্যে পড়াশোনা’ এমন ধারণা ঠিক নয়। আয়, সম্পদ ও প্রদর্শিত আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। তাই আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তার শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Michigan) কলেজ অফ লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস (এলএসএ) শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান 'মানসিক স্বাস্থ্য সংকট' মোকাবিলার লক্ষ্যে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফল সেমিস্টার থেকে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল ট্রান্সক্রিপ্টে গোপন রাখা হবে। প্রচলিত লেটার গ্রেডের পরিবর্তে তাদের শুধুমাত্র 'পাস/নো ক্রেডিট' ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে এই পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি কলেজের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই এলএসএ কলেজ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত গ্রেড ব্যক্তিগতভাবে জানতে পারবেন এবং অধ্যাপকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও পাবেন। তবে এই ফলাফল কোনোভাবেই তাদের সিজিপিএ-তে (CGPA) যুক্ত হবে না। ট্রান্সক্রিপ্টে কেবল উল্লেখ থাকবে যে, প্রথম সেমিস্টারের সব কোর্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'পাস' বা 'নো ক্রেডিট' হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে একাডেমিক পুরস্কার, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং অন্যান্য পেশাগত সুযোগের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে তাদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করা হবে। দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রেড যথারীতি তাদের ট্রান্সক্রিপ্ট এবং জিপিএ-তে যুক্ত হওয়া শুরু করবে। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজের কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রেড গোপন রাখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং প্রতিযোগিতার বদলে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে শুরুর দিকের চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, সোয়ার্থমোর কলেজ এবং ওয়েলেসলি কলেজের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আগে থেকেই অনুরূপ নীতি চালু রয়েছে। তবে এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। 'থেরাপি নেশন'-এর লেখক ও সাইকোথেরাপিস্ট জোনাথন আলপার্ট দ্য পোস্ট-কে বলেন, "আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে সাধারণ মানসিক চাপকেও একটি বড় ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খারাপ গ্রেড পাওয়া হতাশাজনক বা বিব্রতকর হতে পারে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই মানসিকভাবে ক্ষতিকর নয়।" তিনি আরও বলেন, "কলেজের উচিত শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। কর্মক্ষেত্রে কোনো বস্ আপনার খারাপ পারফরম্যান্স গোপন রাখবেন না। তরুণদের বুঝতে হবে যে খারাপ লাগা মানেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়।"
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির সুযোগ পেতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা) পর্যন্ত ফি নেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ফি যুক্ত করা হতে পারে ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ কর্মসূচির সঙ্গে। এই কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর সাধারণত ১ বছর এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে স্নাতকেরা সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে কাজ করার সুযোগ পান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পর্যায়ে আলোচনাধীন। হোয়াইট হাউস চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে কি না, সেটিও এখনও নিশ্চিত নয়। এছাড়া এই অর্থ শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় নাকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান—কে বহন করবে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো নীতিকেই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার কথা জানিয়েছে ডিএইচএস। এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভিসা ও অভিবাসন নীতি প্রতিটি দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত হলেও ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আর্থিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে বিপুল আয় করা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এতে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের বহু প্রতিষ্ঠান, যারা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করা বিদেশি মেধাবীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে, তারাও দক্ষ কর্মী নিয়োগে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি বৈধ অভিবাসন ও শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা বিধি, অবস্থানের সময়সীমা এবং কর্মসংস্থানের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই প্রস্তাবকে সেই বৃহত্তর অভিবাসন নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় আবেদন করতে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি দম্পতির কাছে একটি প্রশ্ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, শুরুতেই কি স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আবেদন করা উচিত, নাকি আগে একজন একা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে নির্ভরশীল ভিসায় নিয়ে আসাই ভালো? সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা যাচাই আরও কঠোর হওয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিও বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা বলছে, দুটি পথই বৈধ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা এবং নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ শিক্ষার্থী ভিসাধারীর স্বামী বা স্ত্রী ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। চাইলে মূল আবেদনকারীর সঙ্গে একই সময়ে আবেদন করা যায়, আবার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করার পরও ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাই আগের তুলনায় আরও কঠোর হয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষার উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নথিপত্রের সত্যতা, ভিসার শর্ত মেনে চলার সক্ষমতা এবং সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। তবে এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীকে ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে নিয়ে যাওয়ার মৌলিক নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, অনেক আবেদনকারী মনে করেন বিবাহিত হওয়ার তথ্য গোপন করে একা আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু এই ধারণার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো নীতিগত ভিত্তি নেই। বরং ভিসা আবেদনপত্রে বৈবাহিক অবস্থা গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া ভবিষ্যতে গুরুতর আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অভিবাসন আইনের ভাষায় এটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা পরবর্তী ভিসা বা অভিবাসন সুবিধার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাস্তবে এমন ঘটনাও ঘটে, যেখানে মূল শিক্ষার্থীর ভিসা অনুমোদিত হলেও তার স্বামী বা স্ত্রীর ডিপেন্ডেন্ট ভিসা অনুমোদন পায় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুজনই একসঙ্গে ভিসা পান। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা। শুধু বিবাহিত হওয়া বা একসঙ্গে আবেদন করাই ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের একমাত্র কারণ নয়। যারা প্রথমে একা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের জন্যও আইনি পথ খোলা রয়েছে। শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দপ্তরের মাধ্যমে স্বামী বা স্ত্রীর জন্য নতুন অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। এরপর সেই নথির ভিত্তিতে নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে নির্ভরশীল ভিসার আবেদন করা যায়। তবে ডিপেন্ডেন্ট ভিসাধারীদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করার অনুমতি নেই। এছাড়া ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে অবস্থানের বৈধতা মূল শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থান শেষ হলে নির্ভরশীলের অবস্থানও একইভাবে প্রভাবিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবীরাও দীর্ঘদিন ধরে আবেদনকারীদের একটি বিষয়েই গুরুত্ব দিতে বলে আসছেন, সব তথ্য সত্য ও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা। তারা মনে করেন, শুরুতেই স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে আবেদন করবেন, নাকি পরে নিয়ে আসবেন, সেটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বৈবাহিক তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই নিরাপদ কৌশল নয়। অভিবাসন নিয়ে কাজ করেন তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন গুজবের ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনা এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করা। কারণ প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সঠিক তথ্য ও শক্তিশালী নথিপত্রই ভিসা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বিদ্যালয়ের লকডাউন মহড়ার সময় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে তাদের পিঠের ওপর পা রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে থাকা শিক্ষকতার লাইসেন্স স্বেচ্ছায় জমা দিতে হবে। এছাড়া রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়নে অংশ নেওয়া, ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবা করা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি লেখা এবং জরিমানা ও আদালতের বিভিন্ন ফি হিসেবে ২ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিনেসোটার অটার টেইল কাউন্টির আন্ডারউড এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শিক্ষক জেসন লাওয়েল রজার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শাস্তি দেওয়ার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় আদালত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে তার বিরুদ্ধে 'স্টে অব অ্যাডজুডিকেশন' মঞ্জুর করেন। অর্থাৎ তিনি দোষ স্বীকার করলেও আপাতত আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে। প্রবেশন চলাকালে আদালতের সব শর্ত মেনে চললে অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন মহড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তদন্তকারীদের জানান, মহড়ার সময় তিনি উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। তখন শিক্ষক জেসন রজার্স তার পিঠের ওপর দুই পা দিয়ে দাঁড়ান। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, রজার্সের ওজন ৩৫০ পাউন্ডেরও বেশি, যা প্রায় ১৫৯ কিলোগ্রামের সমান। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী তীব্র পিঠের ব্যথায় ভুগতে থাকে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে রজার্স স্বীকার করেন, তিনি শুধু ওই একজন নন, আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠেও পা রেখেছিলেন। তার দাবি ছিল, কয়েকজন শিক্ষার্থী লকডাউন মহড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছিলেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার মতে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিশুদের প্রতি শারীরিক শাস্তির শামিল। ঘটনার পর ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আন্ডারউড স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এরপর থেকে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রবেশন চলাকালে রজার্সকে শিক্ষকতার লাইসেন্স ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা অভিযোগে আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ কার্যকর হতে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যালয়ে জরুরি পরিস্থিতির মহড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হলেও তা পরিচালনার সময় শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের আচরণবিধি এবং বিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটি। ২০২৭ সালের রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম (আরটিপি) স্কলারশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই স্কলারশিপের মাধ্যমে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স (এমফিল) এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে মারডক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে এই বৃত্তির আওতায় আবেদন করা যাবে। বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের তত্ত্বাবধানে গবেষণার সুযোগ এবং বৈশ্বিক গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। মাস্টার্স (গবেষণাভিত্তিক) প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণি অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের গবেষণার সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। সাধারণত প্রথম শ্রেণি বা আপার সেকেন্ড ক্লাস অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি, স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা গবেষণার দক্ষতা প্রমাণ করে এমন সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হবে। আবেদন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সম্পূর্ণ আবেদন গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অফিসে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মারডক ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেতে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এখনো বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্বপ্নগুলোর একটি। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক গবেষণার সুযোগ, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং পড়াশোনা শেষে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ—সব মিলিয়ে প্রতিবছর হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ নয়। সঠিক পরিকল্পনা, সময়মতো প্রস্তুতি এবং প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো আবেদন করার অন্তত এক থেকে দুই বছর আগে। প্রথমেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আপনি স্নাতক, মাস্টার্স নাকি পিএইচডি করতে চান, কোন বিষয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান—এসব বিষয় পরিষ্কার থাকলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একাডেমিক ফলাফল। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারীর জিপিএ বা সিজিপিএকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই শুরু থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া জরুরি। শুধু ভালো ফলাফলই নয়, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রজেক্ট এবং একাডেমিক অর্জনও আবেদনকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে যারা মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চান, তাদের জন্য গবেষণার অভিজ্ঞতা একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করে। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, নেতৃত্বমূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা বা সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলি তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর সামগ্রিক দক্ষতা মূল্যায়ন করে। তাই শুধু পরীক্ষার ফল নয়, পড়াশোনার বাইরেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার চেষ্টা করুন। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান ধাপ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণত IELTS, TOEFL অথবা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত অন্য কোনো ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয়। তবে কোন পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এবং কত স্কোর লাগবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এজন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত ইংরেজি বই পড়া, একাডেমিক লেখা অনুশীলন এবং ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টিও আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। স্নাতক পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় SAT বা ACT স্কোর গ্রহণ করলেও বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান টেস্ট-অপশনাল নীতি অনুসরণ করছে। আবার মাস্টার্স বা পিএইচডির ক্ষেত্রে কিছু প্রোগ্রামে GRE প্রয়োজন হয়, তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বা MBA-এর জন্য অনেক ক্ষেত্রে GMAT চাওয়া হয়। তাই কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার আগে অবশ্যই লক্ষ্যভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া উচিত। এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন। শুধু বিশ্ব র্যাঙ্কিং দেখে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত নয়। বরং নিজের বিষয়, গবেষণার সুযোগ, শিক্ষকদের দক্ষতা, টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, বৃত্তির সুযোগ এবং ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করতে হবে। সাধারণত ৮ থেকে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তালিকায় উচ্চ প্রতিযোগিতার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি তুলনামূলক নিরাপদ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও রাখা উচিত। আবেদনপত্র তৈরির সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে Statement of Purpose (SOP), Letter of Recommendation (LOR), জীবনবৃত্তান্ত (CV/Resume) এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট। SOP-তে নিজের একাডেমিক পটভূমি, গবেষণার আগ্রহ, কেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। অন্যদিকে LOR এমন শিক্ষকের কাছ থেকে নেওয়া উচিত, যিনি আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে পারবেন। একটি সুন্দরভাবে সাজানো CV-তেও আপনার একাডেমিক অর্জন, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, প্রকাশনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম উল্লেখ করা উচিত। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ। টিউশন ফি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যবিমা, বইপত্র এবং দৈনন্দিন খরচ মিলিয়ে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ, ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (TA), রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (RA) এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আংশিক বা পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় স্টুডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে I-20 ফর্ম পাওয়ার পর SEVIS ফি পরিশোধ করতে হয় এবং DS-160 অনলাইন ফর্ম পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে F-1 স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ভিসা সাক্ষাৎকারে সাধারণত পড়াশোনার উদ্দেশ্য, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, অর্থায়নের উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সৎ ও স্পষ্ট উত্তর দেওয়াই সফল হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি। সবশেষে, ভিসা পাওয়ার পর আবাসনের ব্যবস্থা, বিমান টিকিট, স্বাস্থ্যবিমা, প্রয়োজনীয় টিকা এবং নতুন পরিবেশ সম্পর্কে আগাম ধারণা নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পথ দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হলেও সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত প্রস্তুতি এবং অধ্যবসায় থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। সময়মতো প্রস্তুতি শুরু করুন, তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন এবং প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করুন। তাহলেই আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।