- প্রচ্ছদ
- Topic
শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখন শহরের ডিডিওটি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারছে। ‘রাইড টু রাইজ’ কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা চালু করেছে সিটি অব ডেট্রয়েট। বিনামূল্যে রাইডের জন্য কোনো আলাদা বাস পাস, আবেদন বা ফি প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীকে শুধু বাসে ওঠার সময় স্কুল থেকে দেওয়া বৈধ স্টুডেন্ট আইডি দেখাতে হবে। ডেট্রয়েট সিটির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি, চার্টার ও বেসরকারি স্কুলে পড়া কে-১২ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির সুবিধা পাবে। স্টুডেন্ট আইডিতে শিক্ষার্থীর নাম, ছবি এবং স্কুলের নাম থাকতে হবে। সাধারণ স্টেট আইডি স্কুল কর্তৃক ইস্যু করা স্টুডেন্ট আইডির বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। এই সুবিধা শুধু স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা ডিডিওটির নিয়মিত রুট ব্যবহার করে স্কুলের পাশাপাশি আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম, কাজ, খেলাধুলার অনুশীলন কিংবা অন্য প্রয়োজনেও বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে। বাস চলাচলের সময়সীমার মধ্যে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তেও সুবিধাটি পাওয়া যাবে। শহরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি বছরের ৩৬৫ দিন কার্যকর রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ডের প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে কর্মসূচিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। পরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার বাড়ায় এটি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগস্টে সিটি অব ডেট্রয়েট জানায়, ‘রাইড টু রাইজ’ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষজুড়ে চলবে এবং কর্মসূচিটির জন্য মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাজেট থেকে ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দুই মাসে কর্মসূচিটি চালু হওয়ার পর ডিডিওটি বাসে শিক্ষার্থীদের যাত্রীসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছিল। মেয়র শেফিল্ড বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির পথে পরিবহন যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ ‘রাইড টু রাইজ অ্যাম্বাসেডর’ কর্মসূচিও যুক্ত করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জন অ্যাম্বাসেডর বাস, ট্রানজিট সেন্টার এবং বিভিন্ন হাইস্কুলের বাসস্টপে ব্যস্ত সময়ে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের পাশাপাশি ডিডিওটি এবং ডেট্রয়েট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ট্রানজিট ইউনিটসহ অন্যান্য সিটি কর্মীরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন। ডেট্রয়েট সিটির ভাষ্য, পরিবহন খরচ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল, চাকরি বা বিভিন্ন শিক্ষামূলক সুযোগে অংশ নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই বাধা কমাতেই বিনামূল্যে গণপরিবহনের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাইড টু রাইজ ব্যবহারের প্রক্রিয়াও সহজ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে যেকোনো নিয়মিত ডিডিওটি সিটি বাসে উঠতে হবে, চালককে বৈধ স্কুল আইডি দেখাতে হবে, তারপর কোনো ভাড়া না দিয়েই যাত্রা করা যাবে। আলাদা অ্যাপ, বিশেষ ট্রানজিট পাস বা কোনো আবেদনপত্রের প্রয়োজন নেই। ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেও চালু থাকায় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি স্কুল ও অন্যান্য কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করছে শহর কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের বিছানায় বসে ল্যাপটপে শিক্ষার্থীদের গ্রেডের কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের শিক্ষক আলেহান্দ্রো নাভারো। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি প্রতিবেদনের নম্বর প্রস্তুত করার চিন্তা ছিল তাঁর। মেয়ে সান্দ্রা ভেনেগাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি তোলার পরদিনই মারা যান তিনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ছবিটি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ডেল রিও শহরের এই গণিত শিক্ষকের বয়স ছিল ৬৬ বছর। সান্দ্রা জানান, হাসপাতালে যেতে হবে জেনেই তাঁর বাবা ল্যাপটপ ও চার্জার সঙ্গে নিয়েছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের গ্রেডের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। সান্দ্রার বর্ণনা অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা নাভারোর পরীক্ষা করছিলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর ঝুঁকি নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আবার গ্রেডের কাজে ফিরে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের বিছানায় বাবার সেই মুহূর্তের ছবিটি সান্দ্রা ফেসবুকে প্রকাশ করেন ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ছবির সঙ্গে দেওয়া লেখায় সান্দ্রা শুধু বাবার দায়িত্ববোধের কথাই বলেননি, শিক্ষকতার বাইরে পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাবার বাড়িতে শেষবার দেখা করতে গিয়ে যে দুই ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন, তখনও তাঁর বাবা কাজ করছিলেন। এখন তাঁর মনে হয়, ল্যাপটপ বন্ধ করে সেই সময়টা একসঙ্গে কাটাতে পারলে ভালো হতো। শিক্ষকদের কাজের মূল্য দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কর্মঘণ্টার সীমা বজায় রাখতে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করার আহ্বান জানান সান্দ্রা। শিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, কর্মক্ষেত্রে কাউকে দিয়ে আপনার জায়গা পূরণ করা গেলেও পরিবারে তা সম্ভব নয়। বাবার শেষ সময়ের ছবির সঙ্গে তিনি রেখে যান কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে এই কথাটিও। সূত্র: ইউনিভিশন, এল ইউনিভার্সো
স্বপ্ন পূরণের জন্য বয়স যে সব সময় বাধা নয়, তারই এক উদাহরণ তৈরি করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। জীবনের এমন একটি সময়ে এসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় নতুন করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেছেন, যখন অনেকেই হয়তো নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার কথা ভাবেন না। তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরও বড়। ভবিষ্যতে তিনি একজন নিউরোলজিস্ট হতে চান। তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় জীববিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ভর্তি হয়েছেন তিনি। এখান থেকেই চিকিৎসাশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক ভিত্তি তৈরি করে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ফেরা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে পড়াশোনার নিয়মে অভ্যস্ত হওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এবং তুলনামূলক কম বয়সী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই পরিবেশে নিজের একাডেমিক যাত্রা শুরু করা, সব মিলিয়ে এটি একটি বড় পরিবর্তন। তবে বয়সের হিসাবের চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার সামনে পথটিও সংক্ষিপ্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোলজিস্ট হওয়ার জন্য প্রথমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করতে হয়। এরপর মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রি অর্জন এবং পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্সি ট্রেনিং সম্পন্ন করতে হয়। ফলে ৩৭ বছর বয়সে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট দিয়ে শুরু করা মানে সামনে আরও কয়েক বছরের কঠোর পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলে অবস্থিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে জীববিজ্ঞান, বায়োমেডিকেল সায়েন্সসহ স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। মেডিকেল স্কুলে যাওয়ার লক্ষ্য থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও সেখানে প্রি হেলথ একাডেমিক প্রস্তুতির সুযোগ রয়েছে। নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরা নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে বড় জায়গাটি অবশ্য তার বয়স। প্রচলিত ধারণায় স্কুল ও কলেজ শেষ করার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে পেশাগত জীবন শুরু করাকে স্বাভাবিক পথ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে উচ্চশিক্ষায় ফেরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পরিবার, কর্মজীবন কিংবা নতুন পেশাগত লক্ষ্য থেকে অনেকেই জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন। ৩৭ বছর বয়সে তার এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও মূল বিষয় হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের লক্ষ্য। নিউরোলজি চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রোগ নিয়ে চিকিৎসা ও গবেষণা করা হয়। সেই পেশায় পৌঁছানোর দীর্ঘ পথ জেনেই তিনি নতুন করে একাডেমিক যাত্রা শুরু করেছেন বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত পরিচয়, পূর্বের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন এবং ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় তার নির্দিষ্ট একাডেমিক মেজর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দাবি করা হচ্ছে না। এই গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নয়। বরং জীবনের ৩৭তম বছরে এসে দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে জেনেও নতুন একটি পেশাগত লক্ষ্য অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকে নিউরোলজিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ অনেক দীর্ঘ। সেই পথ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, সেটি ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্তটিই দেখায়, উচ্চশিক্ষা কিংবা নতুন পেশার পথে যাত্রার জন্য সবার সময়সূচি এক নয়। কারও সেই পথ শুরু হয় ১৮ বা ২০ বছর বয়সে, আবার কারও জন্য নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে ৩৭ বছরেও। সূত্র: abronotes
শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ, অবরোধ এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ হাইস্কুলে সোমবার ক্লাস পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পরিবেশ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদোয়ার গেফ্রে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষার্থী আন্দোলনগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। ফ্রান্সে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হাইস্কুল রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ৪০০ থেকে ৫০০ প্রতিষ্ঠানে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ইল দ্য ফ্রান্স অঞ্চলেই ১৬০টির বেশি হাইস্কুল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ক্লাস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শিক্ষার্থীরা মূলত শিক্ষা খাতে আরও জনবল ও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক সংকট, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি না হওয়া, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, দীর্ঘ ও চাপপূর্ণ ক্লাস সূচি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম পারকুরসুপ ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। নঁত, মার্সেইসহ বিভিন্ন বড় শহর ও ছোট এলাকায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। গত সপ্তাহে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শুক্রবার শত শত হাইস্কুলে বিক্ষোভ ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অগ্নিসংযোগ বা ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষা বিভাগের অন্তত ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। সরকারের দাবি, এসব সহিংসতার অনেক ঘটনায় স্কুলের বাইরের ব্যক্তিরাও জড়িত ছিল। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড়ও হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের কয়েক দিনের অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে আটক করা হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে। শুক্রবার ১৫৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, তাদের মূল দাবি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা না করে সরকার নিরাপত্তা ও সহিংসতার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশিত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের আশ্বাস পায়নি। ফলে মঙ্গলবার আরও বড় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নও ওই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে ফরাসি সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে অস্বীকার করা হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুও শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো নিয়ে কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ নির্ধারণ করেছেন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ কিছু বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে, সেখানে দ্রুত ক্লাস পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনে কিছু রাজনৈতিক ও উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শিক্ষক ও শিক্ষা খাতে জনবল সংকট, ভবনের দুরবস্থা এবং শিক্ষাব্যবস্থার চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই বর্তমান আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। সরকারও আন্দোলনের প্রাথমিক দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পুরোপুরি অস্বীকার করেনি। সোমবার শত শত প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ থাকলেও সংকটের এখানেই অবসান হচ্ছে না। মঙ্গলবারের নতুন দেশব্যাপী কর্মসূচিকে সামনে রেখে ফরাসি সরকার, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে চলমান আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কর্মরত চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়াসহ আরও অন্তত দশজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ অন্তত আটজন নেতাকর্মী এই হামলায় সরাসরি অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে পরিবহন মার্কেট থেকে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক ও লোহার পাইপের মতো দেশীয় বস্তাভর্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জিয়াউর রহমান হল গেটে আসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা করা। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে। তবে অস্ত্রসহ তাদের উপস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রক্টরের সামনেই দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির ওপর চড়াও হয় তারা। একপর্যায়ে বিডিনিউজ প্রতিনিধিকেও বেধড়ক পেটানো হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে দেন। পরে খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হলে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। হামলায় আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায় এবং হামলাকারীরা সাংবাদিকদের পুঁতে ফেলারও হুমকি দেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে আহসান হাবীবের বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উভয়েই ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন। ছাত্রদলের এমন সশস্ত্র অবস্থানের সমালোচনা করে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। মূলত এর জের ধরেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হলের সামনে জড়ো হয়ে এই নারকীয় হামলা চালায় ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও এই হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি এবং তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ভয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে অবহিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে একটি আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞানের ক্লাস করার পাশাপাশি ভুট্টা তোলে, পশুর যত্ন নেয়, বাসন ধোয়। মিল্টন একাডেমির অধিভুক্ত মাউন্টেন স্কুলে ২০২৬ সালের শরৎ ও ২০২৭ সালের বসন্ত সেমিস্টারের নির্ধারিত ফি ৩৯ হাজার ৭৫০ ডলার। খামারের কাজ ও উচ্চ ফি নিয়ে ৩ অক্টোবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভারমন্টের ভারশায়ারে ৪১৮ একর জায়গাজুড়ে স্কুলটির কার্যক্রম। দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সেখানে একটি সেমিস্টার পড়তে পারে; অধিকাংশই একাদশ শ্রেণির। স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রচলিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে খামার, বন ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সাধারণত সপ্তাহে প্রায় আট ঘণ্টা খামারের কাজে অংশ নেয়। ফসল তোলা, ভেড়া ও গরুর দেখাশোনা এবং কাঠ কাটার পাশাপাশি রান্নাঘর ও শ্রেণিকক্ষের কাজও ভাগ করে করতে হয়। একই সময়ে অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট বা এপি ক্যালকুলাসের মতো বিষয় পড়ার সুযোগ থাকে। ফলে প্রায় ৪০ হাজার ডলার শুধু কৃষিকাজ শেখার ফি নয়; এটি পূর্ণ আবাসিক শিক্ষাক্রমের নির্ধারিত খরচ। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফি থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম, শিক্ষা সফর, বই, পাঠ্য উপকরণ ও দলগত কর্মসূচির ব্যয় মেটানো হয়। তবে যাতায়াতের খরচ পরিস্থিতিভেদে আলাদা হতে পারে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবিমা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে বাইরে ব্যবহারের সরঞ্জাম স্কুল থেকে ধার নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। পূর্ণ ফি সব পরিবারকে দিতে হয় না। মাউন্টেন স্কুল আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেয়, যা ফেরত দিতে হয় না। স্কুলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ভর্তি মৌসুমে গৃহীত শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশকে এমন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে স্কুলটির পরিচালকের দেওয়া হিসাবে, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা পায়। খামারে কাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি রয়েছে। সেমিস্টারের শুরুতে তাঁদের ফোন জমা দিতে হয়; ল্যাপটপ মূলত পড়াশোনার জন্য ব্যবহার করা যায়। কয়েক দিনের প্রকৃতিনির্ভর একক ভ্রমণও কর্মসূচির অংশ। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এসব অভিজ্ঞতার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নিজের কাজের দায়িত্ব নেওয়া এবং অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শেখানো। কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আশা করেন, ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতা কলেজে ভর্তির আবেদনে কাজে আসবে। স্কুলও আবেদন ও প্রবন্ধ লেখায় পরামর্শ দেয়। তবে ভর্তি পরামর্শক অ্যাডাম নগুয়েন বলেছেন, শুধু ব্যয়বহুল একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কলেজে বাড়তি সুবিধার নিশ্চয়তা দেয় না। শিক্ষার্থীর নিজের আগ্রহ ও শেখার লক্ষ্যটির সঙ্গে কর্মসূচির সম্পর্ক থাকাই তাঁর মতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: মাউন্টেন স্কুলের ফি ও কর্মসূচির তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬। কলাম্বিয়ার গিবসন পন্ড পার্কে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১৫০ জন নিবন্ধিত অতিথি অংশ নেন। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নতুন ভর্তি হওয়া ২৮ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী সদস্য রয়েছে এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সাউথ ক্যারোলিনার বৃহত্তর কমিউনিটির কাছে তুলে ধরাও সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। গিবসন পন্ড পার্কে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন। অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় গরম সবজি সিঙ্গারা দিয়ে। এরপর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং পার্কের পুকুর, বোর্ডওয়াক, হাঁটার পথ ও সবুজ পরিবেশ ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে সময় কাটান অংশগ্রহণকারীরা। দুপুরে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। পোলাও, চিকেন রোস্ট, মিশ্র সবজি, ডিম ও সালাদসহ নানা পদ নিয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে একসঙ্গে বসেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা। খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন থাকায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজনে দম্পতিদের জন্য বেলুন রেস, পুরুষদের জন্য মার্বেল রেস, নারীদের জন্য পিলো পাসিং এবং শিশুদের জন্য বিস্কুট রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাগুলো ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। খেলায় অংশ নেওয়া ও অন্যদের উৎসাহ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে তৈরি হয় প্রাণবন্ত যোগাযোগ। সাংস্কৃতিক পর্বেও ছিল বৈচিত্র্য। নতুন যোগ দেওয়া শিক্ষার্থী ঐশী জ্যোতির পরিবেশনার পর বাবা-ছেলের জুটি আনন্দ ও তাহমিদ ভাই সংগীত পরিবেশন করেন। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও কমিউনিটির বন্ধনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল ২০২৬ সালের নতুন ২৮ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণাভ দাস নবাগতদের উদ্দেশে একটি বিশেষ কবিতা রচনা করেন এবং অনুষ্ঠানে তা আবৃত্তি করেন। নতুন শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা, কলাম্বিয়া এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটির নতুন পরিবারের অংশ হিসেবে স্বাগত জানানোর এই আয়োজন উপস্থিতদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এরপর বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার রফিকুল ইসলাম রানা নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে উপহার দিয়ে স্বাগত জানান। নতুন শিক্ষার্থীরাও একে একে নিজেদের পরিচয় দেন এবং কলাম্বিয়ার বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হন। আয়োজকদের আশা, এই পরিচয়পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তি আরও শক্ত হবে। বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহরিমা মোহসিন মোহনা ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনের গত এক বছরের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন এবং আগামী বছরেও কমিউনিটির সদস্যদের নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষদিকে ছিল র্যাফেল ড্র। এ বছর মোট ১৫টি র্যাফেল পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে আগের বছরগুলোতে পুরস্কারের সংখ্যা ছিল ১০টি। পাশাপাশি এবার যুক্ত করা হয় দুটি বিশেষ পুরস্কার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয় একটি রেজিস্ট্রেশন ডোর প্রাইজ। এ ছাড়া নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি র্যাফেল টিকিট বিক্রি করা ফ্রেশারকেও দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার। আয়োজকদের মতে, ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভার মূল লক্ষ্য ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। বাংলাদেশি খাবার, সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে পারস্পরিক যোগাযোগ ও কমিউনিটি বন্ধনের একটি বিশেষ আয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের পেছনে যারা পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবা, রান্না, খাবার পরিবেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ছবি তোলা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে সময় দিয়েছেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আয়োজনটি সফল হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস ও কলাম্বিয়ায় একটি পরিচিত ও আপন পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে আয়োজিত এই মিলনমেলা শুধু ফ্রেশার্স সংবর্ধনা বা বার্ষিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুরোনো বন্ধুদের পুনর্মিলন, নতুনদের সঙ্গে পরিচয়, বাংলাদেশি সংস্কৃতির উদযাপন এবং কমিউনিটির পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির জন্য একটি স্মরণীয় আয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অধ্যয়নরত অবস্থায় মারা গেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আলম মুনশি। সাস্ট স্পটলাইটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর ৩৪ দিন কোমায় থাকার পর বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। তানভীর শাবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৪ থেকে ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সাস্ট স্পটলাইট জানিয়েছে, তিনি নিজ শিক্ষাবর্ষে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তানভীর। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কিয়ুং জে লি গবেষণা দলের সদস্য তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। সাস্ট স্পটলাইটের তথ্যমতে, তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১০টি। এসব গবেষণাপত্রে মোট ১৩৩টি সাইটেশন বা অন্য গবেষণায় উদ্ধৃতি রয়েছে। তাঁকে স্মরণ করে সাস্ট স্পটলাইটের লেখায় বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের গবেষণা শেখাতে সহযোগিতা করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, কাজের প্রক্রিয়া বোঝানো এবং গবেষণায় আগ্রহী হতে উৎসাহ দিতেন তিনি। ওই স্মরণলেখায় তানভীরকে প্রচারবিমুখ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিজের অর্জন তুলে ধরার চেয়ে গবেষণা ও অন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সময় দিতেন বলে উল্লেখ করা হয়। তানভীরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সাস্ট স্পটলাইট। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে সংগঠনটি। সূত্র: সাস্ট স্পটলাইট
ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোমস্টেতে অবস্থানের পর গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নিমিশা ঠাকুরিয়ার রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সী আসিফ আলী ওরফে আশিক আলীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মৃ ত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি সম্ভাব্য হ ত্যা কা ণ্ড হিসেবেও তদন্ত করছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে গুয়াহাটির আজারা এলাকার গারালের একটি হোমস্টেতে নিমিশা ও আসিফ অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় নিমিশাকে গারাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাকে গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা মৃ ত ঘোষণা করেন। নিমিশার বয়স ২১ বছর। আসিফ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, নিমিশা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁ স দিয়ে আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে গুয়াহাটি পশ্চিমের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বলিন দেওরি জানিয়েছেন, পুলিশ ওই বক্তব্য সরাসরি গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ঘটনাটি হ ত্যা কা ণ্ড হতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়েছে নিমিশার শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন। তবে এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে এবং মৃ ত্যুর সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ম য় না ত দ ন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃ ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার আগে পরিবারের সঙ্গে নিমিশার শেষ ফোনালাপও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার বাবা দীপ ঠাকুরিয়ার দাবি, রাত প্রায় ২টার দিকে নিমিশা তার মাকে ফোন করে জানান, তাকে মা র ধ র করা হচ্ছে এবং বুকে আঘাত করা হয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে আর ঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি। অন্য একটি বর্ণনায় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের বরাতে নিমিশার শেষ কথাগুলোর মধ্যে ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নিমিশার বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ হোমস্টেটিও সিল করে দিয়েছে। অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগে হোমস্টের রেজিস্টারসহ বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিমিশার মোবাইল ফোনও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোমস্টের মালিক ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার পর আজারা ও ধরাপুর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় মহাসড়ক ১৭ অবরোধ করে এবং ঘটনাটিকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্দেশ্য বা ধর্মীয় যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার কথা জানায়নি এবং মৃ ত্যুর সব সম্ভাব্য দিক তদন্ত করা হচ্ছে। এনডিটিভি উল্লেখ করেছে, ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি বিতর্কিত ধারণা, যেখানে মুসলিম পুরুষরা ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে হিন্দু নারীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বলে দাবি করা হয়। নিমিশার ঘটনায় এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তার প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পুলিশ। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য উইক, দ্য স্টেটসম্যান, এএনআই
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের কাছে স্থানীয় কয়েকজন আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে তুলে দেন বলে জানিয়েছে আরটিভি। পরে তাঁদের প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়। প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, শনিবার দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে তথ্য পাওয়া যায়নি। আরটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি মেসের পাশে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থী দুজনকে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এই দাবির বিস্তারিত বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ওই সময় ছাত্রটিকে চড়থাপ্পড় মারার অভিযোগও উঠেছে। প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান আরটিভিকে বলেন, প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিক্ষার্থী দুজন বিয়েতে সম্মতি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিভাবকদের ডেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীরা চাপমুক্ত পরিবেশে সম্মতি দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকায় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হলো না। সূত্র: আরটিভি
শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমার পাশাপাশি অনলাইন অশালীন কনটেন্টে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে লাগাম টানতে নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালে এবং বিরতির সময়ও শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। তবে জরুরি পরিস্থিতি কিংবা আগে থেকে পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমানো এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারের সঙ্গে অনলাইন অশালীন কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় মোবাইল ও সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ শিক্ষক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পরই নতুন এই নীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থীর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। কলেজে যাওয়ার আগের শেষ তিন বছরের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে মূলত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। মেক্সিকো ছাড়াও ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও পেরুসহ বেশ কয়েকটি দেশ স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে শিক্ষার পরিবেশ আরও মনোযোগী করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরুর জন্য। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার নিশ্চয়তা পান। সেপ্টেম্বর থেকে তার এমআইটির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ফায়েজের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া ফায়েজ ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। চার বছর বয়সে বড় ভাইবোনদের কাছ থেকে দাবা শেখার মাধ্যমে তার আগ্রহের শুরু। প্রথম শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিতর্কেও যুক্ত হন। ২০২১ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফায়েজের শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় ক্যাম্প এবং জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে শুরু করেন। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। একই বছর আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জপদক পান। ২০২৪ সালেও আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক অর্জনের তথ্য ফায়েজের নিজের প্রকাশিত প্রোফাইল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তথ্যেও রয়েছে। শুধু প্রতিযোগিতার সাফল্যেই থেমে থাকেননি ফায়েজ। ২০২৫ সালে তিনি OlyPara নামে একটি অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩টি দেশের সদস্য নিয়ে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ছিল অলিম্পিয়াড প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত রিসোর্স শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজলভ্য করা। সেখানে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, কাস্টমাইজড পরীক্ষা এবং সাবেক অলিম্পিয়াড পদকজয়ীদের লেখা বিভিন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। গবেষণাতেও তার আগ্রহ ছিল। তিনি GSA Bioinformatics Internship-এ একমাত্র হাইস্কুল ইন্টার্ন হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালের BSM International Conference-এ নিজের গবেষণা উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি নটর ডেম কলেজে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমই পরে তার এমআইটি অ্যাপ্লিকেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এমআইটিতে পড়ার স্বপ্ন ফায়েজের অনেক দিনের হলেও ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক পাওয়ার পর তিনি এটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে নেন। এরপর কোচিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজেই SAT ও Duolingo English Test-এর প্রস্তুতি নেন। SAT-এ ১৫৫০ নম্বর এবং Duolingo English Test-এ ১৪০ নম্বর অর্জন করেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি এমআইটির অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করা শুরু করেন। নিজের অর্জনগুলো সাজানো, শিক্ষকদের কাছ থেকে সুপারিশপত্র নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশনের বিভিন্ন অংশ প্রস্তুত করতে সময় দেন। পরে এমআইটির ইন্টারভিউতেও অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউটি ছিল অনেকটা কথোপকথনের মতো, যেখানে তিনি নিজের গবেষণা, অলাভজনক উদ্যোগ ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এমআইটির ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর উদ্যোগ, কৌতূহল, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার সামঞ্জস্যও বিবেচনা করা হয়। এমআইটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফলাফলভিত্তিক শ্রেণিতে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ২৯ হাজার ২৮১টি আবেদন পড়েছিল এবং ১ হাজার ৩৩৪টি ভর্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফায়েজের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত সাধারণত শিক্ষার্থীদের হাইস্কুলের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই আসে। এমআইটির বর্তমান ভর্তি তথ্যেও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিস্তৃত ও কঠিন একাডেমিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেয়। ফায়েজের নিজের ভাষায়, তার যাত্রার মূল বিষয় ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নিজের আগ্রহের জায়গাগুলোতে কাজ করা। দাবা দিয়ে শুরু হওয়া সেই পথ তাকে অলিম্পিয়াড, গবেষণা, বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের জন্য অলাভজনক উদ্যোগ এবং শেষ পর্যন্ত এমআইটির ক্লাসরুমে নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের শরতে সেই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী এখন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরবর্তী পথ তৈরি করছেন। সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
কানাডার টরন্টোতে আগামী বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়ান ফিউচার কনফারেন্স ২০২৭। ১২ থেকে ১৫ মে চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ নেতা, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, গবেষক ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ৪৭ বছর বয়সী বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক এই সম্মেলনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০২৭ সালের আয়োজনটি ওয়ান ফিউচার কনফারেন্সের তৃতীয় সংস্করণ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার টরন্টোর ডাউনটাউনে প্রায় ৩০০ অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি পুরোপুরি অর্থায়িত এবং ২৫টি আংশিক অর্থায়িত আসন রাখা হয়েছে। পুরোপুরি অর্থায়িত আসনে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক যাওয়া-আসার বিমান ভ্রমণের জন্য সহায়তা, তিন রাতের আবাসন, সম্মেলনের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, খাবার ও কফির বিরতি, কর্মশালা, আলোচনা সভা, সনদ, সম্মেলনের স্মারকসামগ্রী এবং কানাডার ভিসা আবেদনের জন্য আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। আংশিক অর্থায়িত আসনে নির্বাচিতদের জন্য তিন রাতের আবাসন, সম্মেলনে পূর্ণ অংশগ্রহণ, কর্মশালা ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ, খাবার, সনদ, সম্মেলনের স্মারকসামগ্রী এবং ভিসার আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই ক্যাটাগরিতে বিমান ভ্রমণের খরচের জন্য সহায়তা থাকবে না। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরোপুরি ও আংশিক অর্থায়িত আসনের জন্য আবেদনকারীদের একবার আবেদন করলেই দুই ধরনের অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের সম্ভাবনা, আবেদনকারীর আগ্রহ ও প্রেরণা, অর্জন, আবেদনপত্রে দেওয়া উত্তর এবং সামগ্রিক যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ভৌগোলিক এবং জেন্ডার ডাইভারসিটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। আবেদনকারীদের বয়সসীমা ১৭ থেকে ৪৭ বছর। নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তরুণ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা এবং সামাজিক উদ্যোক্তারাও আবেদন করতে পারবেন। সম্মেলনে নেতৃত্ব ও জননীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি, ডাইভারসিটি, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা ও বিভিন্ন কার্যক্রম থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ থাকবে। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরোপুরি ও আংশিক অর্থায়িত আসনের আবেদনের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া আবেদন অর্থায়িত আসনের জন্য বিবেচনা করা হবে না। অর্থায়িত আসনের পাশাপাশি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আরও কয়েকটি সুযোগ রাখা হয়েছে। আবাসনসহ সম্মেলন পাসের মাধ্যমে তিন রাতের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সম্মেলনে অংশ নেওয়া যাবে। আবাসন ছাড়া পাসের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীকে নিজের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আলাদা ভিসা আমন্ত্রণ প্যাকেজও রয়েছে। এর মাধ্যমে সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু নথি পাওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে ভিসার আমন্ত্রণপত্র বা ভিসা সহায়তা পাওয়ার অর্থ কানাডার ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কানাডা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই সম্মেলনে নির্বাচিত হলেও কানাডায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসার আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া আলাদাভাবে সম্পন্ন করতে হবে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওয়ান ফিউচার কনফারেন্সের প্রথম আয়োজন টরন্টোতে এবং দ্বিতীয় সংস্করণ স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৭ সালের আয়োজনটি আবার টরন্টোতে ফিরছে। এবারের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩০০ আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় হুথি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই থেমে গেছে। দোকানপাট বন্ধ, স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই এবং নিরাপত্তার আশঙ্কায় বহু পরিবার ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গত সপ্তাহে হুথিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মোখা ছেড়ে পালিয়েছে। অনেকেই দক্ষিণের সরকারি নিয়ন্ত্রিত শহর এডেনের দিকে যাচ্ছেন। তবে অর্থের সংকটে বহু পরিবার শহরেই আটকে আছে। এডেনে যাওয়ার বাসভাড়াও বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। মোখার বাসিন্দা মাহমুদ জানান, তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কাজে যেতে পারেননি। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। আগে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকা দোকানগুলো এখন অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহরে বিদ্যুৎ থাকলেও রাত ৮টার দিকে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। শিক্ষা কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, মোখায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শিশুদের ওপর হুথিদের প্রভাব বিস্তার বা নিয়োগের আশঙ্কাও কিছু পরিবারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। মোখা ছেড়ে পালানো মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দেশটিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মোখার গুরুত্ব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত শহরটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে মোখা ও আশপাশের এলাকায় হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মোখায় এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা, চলাচলে বাধা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্থবিরতা। শহর ছেড়ে পালানোর সামর্থ্য যাদের নেই, তাদের অনেকেই ঘরেই অবস্থান করছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায়ও সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়তে থাকায় দেশটির দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। Source: আরব নিউজ, রয়টার্স
মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর অভিবাসী পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্কুলগুলোতেও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কমেছে। গত শীতকালে মিনেসোটায় হাজার হাজার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে অপারেশন মেট্রো সার্জ চালানো হয়। অভিযানের সময় আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি স্কুলের আশপাশেও দেখা যায়। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের নতুন প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়, কেউ কেউ ক্লাসে মনোযোগ হারায় এবং কয়েকটি পরিবার সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একজন শিক্ষক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেছেন, ‘শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।’ এটি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, সরকারি পরিসংখ্যান নয়। সাহান জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি শেখা শিক্ষার্থীর হার বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে মার্চ ২০২৬-এ আগের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কম ছিল। তুলনায়, একই প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমেছিল ৮০ জনেরও কম। শিক্ষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যেতে পারে। আগামী স্টেট স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শিক্ষকরা বলছেন, শুধু নম্বর দিয়ে ওই সময়ের শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিচার করলে অভিযানের কারণে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসবে না। মিনেসোটা সরকারের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্কুল-নেতাদের জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাজ্যের ৮০ শতাংশ পাবলিক স্কুল নেতা বলেছেন, অপারেশন মেট্রো সার্জ শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টুইন সিটিজ মেট্রো এলাকায় এই হার ছিল ৯৫ শতাংশ। অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু স্কুলে উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইসিইর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিনেসোটা রিফর্মার ও এমপিআর নিউজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ পরে বহিষ্কৃত হন বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। এদিকে অপারেশন মেট্রো সার্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও এর বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযানকে বেআইনি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারক এখনো মামলাটি খারিজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টদের উদ্দেশ্য স্কুলে শিশুদের গ্রেপ্তার করা নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযানের প্রভাব নিয়ে শিক্ষক, পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, মিনেসোটার স্কুলগুলোতে অপারেশন মেট্রো সার্জের প্রভাব নিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুল পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত—সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পুরো কারণ শুধু অভিবাসন অভিযান - এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক ওই পরিসংখ্যান একা প্রমাণ করে না। Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
১৯৮১ সালে শিকাগোর সাউথ সাইডের এক মেধাবী তরুণী স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। ভালো ফলাফল, মেধার স্বীকৃতি এবং সিনিয়র ক্লাসের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সেই শিক্ষার্থী ছিলেন মিশেল রবিনসন। পরবর্তী সময়ে তিনিই বিশ্বজুড়ে পরিচিত হন মিশেল ওবামা নামে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে পরামর্শ নিতে গিয়ে এক শিক্ষকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য শুনেছিলেন, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারত। মিশেল তখন শিকাগোর হুইটনি এম. ইয়ং ম্যাগনেট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর বড় ভাই ক্রেইগ রবিনসন তখন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন। ভাইয়ের পথ অনুসরণ করে মিশেলও প্রিন্সটনে পড়ার স্বপ্ন দেখেন। মিশেল পরে জানিয়েছেন, পরিবারের কেউ তাঁকে বিশেষভাবে প্রিন্সটনে আবেদন করতে বলেননি। তবে ভাই সেখানে পড়ছেন, এটিই তাঁকে বিশ্বাস করতে সাহায্য করেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর জন্যও সম্ভব। হাইস্কুলের এক পরামর্শদাতার সঙ্গে দেখা করে মিশেল যখন প্রিন্সটনে পড়ার ইচ্ছার কথা জানান, তখন তিনি উৎসাহের বদলে সংশয় শুনেছিলেন। মিশেলের স্মৃতিকথা অনুযায়ী, পরামর্শদাতা তাঁর প্রিন্সটনে পড়ার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এমন মন্তব্য একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিতে পারত। কিন্তু মিশেল সেই মন্তব্যকে নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি। প্রিন্সটনে ভর্তি হওয়ার পথটিও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মিশেল জানিয়েছেন, তাঁর স্কুলে শিক্ষার্থীর তুলনায় কলেজ পরামর্শদাতার সংখ্যা ছিল কম। কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ব্যক্তিগত সহায়তাও সবার জন্য সহজলভ্য ছিল না। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যও সীমিত ছিল। তবু তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি এবং প্রিন্সটনে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৮১ সালে মিশেল রবিনসন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। সেখানে তিনি সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং আফ্রিকান আমেরিকান শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। চার বছরের পড়াশোনা শেষে ১৯৮৫ সালে তিনি প্রিন্সটন থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রিন্সটনের পর তাঁর শিক্ষাজীবন আরও এগিয়ে যায়। মিশেল হার্ভার্ড আইন স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তাঁর পেশাগত জীবন তাঁকে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের পরিচিতির দিকে নিয়ে যায়। ২০০৯ সালে তাঁর স্বামী বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মিশেল ওবামা দেশটির ফার্স্ট লেডি হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান ফার্স্ট লেডি। হোয়াইট হাউসে থাকাকালে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। যে তরুণীকে একসময় প্রিন্সটনের জন্য যথেষ্ট যোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তিনিই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে স্নাতক হন। তাঁর গল্পটি দেখায়, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অন্য কারও সন্দেহই শেষ কথা নয়। মিশেল ওবামার নিজের জীবনেই সেই সন্দেহকে অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধে না থাকার হার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। নতুন এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘ননপেমেন্ট রেট’ বলতে এমন ঋণগ্রহীতাদের বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া রয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট রেট’-এর সঙ্গে এক নয়। এনপিআরের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বেসরকারি ও মুনাফাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কনস্ট্রাকশন ট্রেনিং সেন্টার এবং টেক্সাসের লেজেন্ডস বারবার কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঋণ পরিশোধে না থাকার হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাইভারসিফায়েড ভোকেশনাল কলেজের ক্ষেত্রেও হারটি বেশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফেডারেল ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৩ শতাংশের ঋণ পরিশোধ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া ছিল। ওই বছর শিক্ষার্থীদের নেওয়া প্রায় ৩৫ লাখ ডলারের ফেডারেল ঋণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ননপেমেন্ট হারের ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২৪টিই বেসরকারি মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ১৫টি এবং বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ৬১টি। অন্যদিকে, দেশজুড়ে সব প্রতিষ্ঠানের গড় ননপেমেন্ট হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্যেও শিক্ষাঋণ পরিশোধে সমস্যার ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার প্রতিষ্ঠানে ননপেমেন্ট হার ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে প্রায় ৯০ লাখ ঋণগ্রহীতা মোট ২২০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিয়ে ডিফল্ট অবস্থায় ছিলেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বারবার, হেয়ারস্টাইলিং, নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার মতো পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম আয়ের পরিবারের এবং পড়াশোনা শেষে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের পেশায় প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল ঋণ অব্যাহত রাখার নীতি কতটা কার্যকর। তবে ননপেমেন্টের পেছনে শিক্ষার্থীদের আয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরনসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। এদিকে শিক্ষাঋণ পরিশোধের হার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া বা ডিফল্টে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন একটি জবাবদিহি কাঠামোও চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় যেসব উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না, সেসব কর্মসূচি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ফেডারেল ডাইরেক্ট লোন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও পরিবার নিয়ে যাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। একই সঙ্গে অস্থায়ী ভিসাধারীদের দীর্ঘদিন অবস্থান এবং এক ভিসা থেকে আরেক ভিসায় যাওয়ার সুযোগও সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে অভিবাসন নীতি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সরকারের লক্ষ্য হলো নেট বিদেশি অভিবাসন বছরে প্রায় ৩ লাখ থেকে কমিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় নিতে পারেন। শিক্ষার্থীর কোর্স ও ভিসার ধরন অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের কাজের সুযোগও থাকতে পারে। নতুন পরিকল্পনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য এই সুবিধা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারের অভিবাসন পরিকল্পনায় শুধু শিক্ষার্থীদের পরিবার নয়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া এবং এক ধরনের অস্থায়ী ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন করে নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কমানোর এই উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। করোনা মহামারির পর ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর অভিবাসন দ্রুত বাড়ে। তবে এরপর থেকে নেট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির নেট বিদেশি অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর আগের বছর ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫ লাখ ৩৮ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী ছিল অস্থায়ী শিক্ষার্থী, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার। সরকারের নতুন পরিকল্পনার পেছনে আবাসন, অবকাঠামো এবং শ্রমবাজারের ওপর অভিবাসনের প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্কও রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিশ্চিত রাখার বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় রাখছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভিসা আবেদন ও পারিবারিক পরিকল্পনায় নতুন নিয়মগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে নতুন বিধিগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং কোন কোন শিক্ষার্থী বা কোর্স এর আওতায় পড়বে, তা সরকারের চূড়ান্ত নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তি বন্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে রাজ্য শিক্ষা বোর্ডে আলোচনা হয়েছে। নতুন নিয়মটি অনুমোদিত হলে এসব কর্মসূচিতে ভর্তির আগে শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অথবা বৈধভাবে দেশটিতে থাকার প্রমাণ দিতে হবে। প্রস্তাবিত নিয়মটি পোস্টসেকেন্ডারি ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা বা সিটিই কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট, অ্যাপ্লাইড টেকনোলজি ডিপ্লোমা, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স ও সায়েন্সের কিছু অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং ডুয়াল এনরোলমেন্ট রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে তথ্যপ্রযুক্তি, মেকানিক্স, এইচভিএসি, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পরিবহন, পর্যটন ও নির্মাণসহ বিভিন্ন পেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে নিয়মটি কার্যকর হলে অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের এসব পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে। ফ্লোরিডা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যে পোস্টসেকেন্ডারি কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী ছিল। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি ডিগ্রি, সার্টিফিকেট ও শিল্পভিত্তিক সনদ দেওয়া হয়। এই উদ্যোগটি ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের সরকারি শিক্ষায় প্রবেশ সীমিত করার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ। এর আগে রাজ্যের স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ২৮টি পাবলিক কলেজে অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধের নিয়ম অনুমোদন করেছে। রাজ্যের ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে কি না, সেটি আলাদা বিষয়। ফ্লোরিডা প্রশাসনিক বিধির নথিতে নিয়ম ৬এ-১০.০২৪৬-কে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং ১৬ সেপ্টেম্বরের স্টেট বোর্ড অব এডুকেশনের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে এটি অনুমোদনের জন্য রাখা হয়েছিল। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের পর ২১ দিনের জনমত গ্রহণের সময়সীমা ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে নিয়মটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল। তাই “চূড়ান্তভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে” না বলে আপাতত “ভর্তি বন্ধের উদ্যোগ” বা “প্রস্তাব” বলা বেশি নির্ভুল। সোর্স: ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন
সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সান দিয়েগো শাখা সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির (এসডিএসইউ) ক্রিমিনাল জাস্টিস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এই আয়োজনে শুধু মতবিনিময় নয়, বরং ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ তদন্ত ও ফেডারেল সার্ভিসে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়েগোর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। ব্যুরোতে কী ধরনের কাজ করা হয়, বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কী ধরনের ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা এফবিআইয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ব্যুরোর বিভিন্ন পেশাগত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে এফবিআই বা একই ধরনের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থায় কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের এভিডেন্স রেসপন্স টিমের কাজ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। অপরাধস্থলে কীভাবে আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং একটি অপরাধ তদন্তে এসব প্রমাণ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যুরোর কাজের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়োর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গঠন, ব্যুরোর কাজের ধরন এবং অপরাধ তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে চান। কর্মকর্তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও কৌতূহলকে উৎসাহিত করেন। এফবিআই সান দিয়ো এক পোস্টে জানায়, তরুণ ও আগ্রহী ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে তারা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল প্রশ্ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করা হয়। এ ধরনের কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও একটি ফেডারেল তদন্ত সংস্থার কাজ, পেশাগত পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ক্যারিয়ার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের ঘোষিত ‘ফুললি ফান্ডেড’ বৃত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পর শেষ ধাপে গিয়ে সুবিধা কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর দাবি, শুরুতে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, বিমানভাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা বলা হলেও তাদের হাতে আসা অফার লেটারে এসবের বড় অংশের উল্লেখ নেই। ফলে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও এখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোরের আওতায় ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় পাঁচ বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উচ্চশিক্ষা কমিশন বা এইচইসির তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিগুলো আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের আওতায় দেওয়ার কথা। এর এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসাশিক্ষায় দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল। পাকিস্তানের এইচইসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিটি পূর্ণ অর্থায়িত এবং এর আওতায় টিউশন ফি, স্টাইপেন্ড, হোস্টেল ও মেসের খরচ, সেটেলমেন্ট অ্যালাউন্স, বিমানভাড়া এবং বই ও স্টেশনারির খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। এই তথ্য এখনো এইচইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৃত্তির বিবরণে রয়েছে। তবে মাস্টার্সে নির্বাচিত কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অভিযোগ, দীর্ঘ আবেদন, পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে পাওয়া অফার লেটারে ঘোষিত সুবিধাগুলোর সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফার লেটারে শুধু টিউশন ফি ও আবাসন ফি মওকুফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাসিক ভাতা, খাবার, যাতায়াত, বিমানভাড়া ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ নিজেদের বহন করতে হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আবেদন করার সময় তারা যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করেছিলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের সম্মতি ছাড়াই সেই পছন্দ পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে যারা পূর্ণ অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা এখন নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মাসিক ভাতা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার খরচ না থাকলে বিদেশে অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এদিকে পাকিস্তানের এইচইসি জানিয়েছে, নলেজ করিডোরের আওতায় দেওয়া বৃত্তি সম্পূর্ণ অর্থায়িত। তাদের প্রকাশিত শর্তে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট এইচইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। ২০২৬ সালের মে মাসে পাকিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এইচইসি জানিয়েছিল, প্রথম ধাপে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন। প্রকৌশল, মেডিকেল সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা ভর্তি হয়েছেন। নলেজ করিডোরের দ্বিতীয় ধাপও ২০২৬ সালে চালু করা হয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপোর মাধ্যমে ২০টি পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলে ধরে। ওই সময়ও ৫০০টি ফুললি ফান্ডেড আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের কথা প্রচার করা হয়। ফলে ঘোষিত সুবিধা ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা অফার লেটারের শর্তের মধ্যে পার্থক্যের অভিযোগটি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। কারণ, সরকারি বৃত্তির প্রকাশিত শর্তে যে সুবিধাগুলোকে পূর্ণ অর্থায়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো চূড়ান্ত অফার লেটারে কীভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে, সেটিই এখন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রশ্ন। আপাতত এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।