মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
ট্রাম্পের মতে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং এটি 'পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে'।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখতে পারিনি। আমি সবসময় জানতাম তারা কতটা দুর্বল এবং মজার ব্যাপার হলো পুতিনও সেটা ভালো করেই জানেন।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় ন্যাটো মিত্রদের অনীহা। হরমুজ প্রণালীতে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় মিত্র দেশগুলোকে 'কাপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, মিত্রদের সমর্থন হওয়া উচিত ছিল 'স্বয়ংক্রিয়', যা এই সংকটের সময় দেখা যায়নি।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার তুলনা টেনে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। অথচ ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তারা আমাদের পাশে থাকল না।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার এই বিমুখতা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সাগরের বুক থেকে এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেইশা নিকোল জোনস (৩১) নামের ওই তরুণীকে সর্বশেষ স্থানীয় একটি স্ট্রিপ ক্লাবের (অ্যাডাল্ট এন্টারটেইনমেন্ট ক্লাব) বাইরে দেখা গিয়েছিল। ফ্লোরিডার বিস্কেইন উপসাগরে ভার্জিনিয়া কির কাছে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর একটি গবেষণা ভবনের নিকটবর্তী পানিতে তার মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। এই রহস্যজনক মৃত্যুর পর শোকে পাথর হয়ে গেছে তার পরিবার। কীভাবে এবং কেন তিনি সেখানে পৌঁছালেন, তার উত্তর খুঁজছেন স্বজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা। স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে নর্থ মিয়ামি বিচের 'ডিনস গোল্ড' নামক একটি স্ট্রিপ ক্লাব থেকে বের হয়ে ট্যাক্সিতে করে হ্যালান্ডেল বিচের 'স্কারলেটস ক্যাবারেট' নামের আরেকটি ক্লাবে যান কেইশা। একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওই ক্লাবের বাইরে একজন ব্যক্তির হাত ধরে থাকতে দেখা যায়। যেখান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ওই ক্লাবটির দূরত্ব সেখান থেকে প্রায় ২১ মাইল। কেইশার বাবা রিচার্ড ফার্লো সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই ব্যক্তিই সম্ভবত শেষ মানুষ, যার সঙ্গে তার মেয়েকে জীবিত দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তারা এখনই বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার অফিস জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণের জন্য তারা পরিবারের সদস্যদের জন্য অপেক্ষা করছে। এদিকে, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে মিশিগান থেকে মিয়ামি বিচে ছুটে এসেছেন রিচার্ড ফার্লো। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, তাদের পুরো পরিবার এখন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তার মেয়ে সম্প্রতি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছিল, নিয়মিত গির্জায় যেত এবং জীবনকে একটি সুন্দর পথে নিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। মর্গে মেয়ের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাওয়া একটি মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি শারীরিকভাবেও অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান। কে বা কারা কেইশার সঙ্গে শেষ মুহূর্তে ছিল এবং কীভাবে তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে ক্যাসিনোতে বড় ধরনের এক হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবরুদসহ ৩৬ বছর বয়সী অ্যালিসন হাওলেট নামের এক ট্রান্সজেন্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জন্মসূত্রে পুরুষ হলেও অ্যালিসন একজন নারী হিসেবেই জীবনযাপন করেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি, মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলা, গাড়ি ও অস্ত্র চুরি এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অ্যালিসনের সাবেক স্ত্রী পুলিশকে ফোন করে জানান যে, অ্যালিসন তার গাড়ি চুরি করে পালিয়েছে এবং গাড়িতে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অ্যালিসন সম্ভবত পুলিশের গুলিতে নিজের মৃত্যু (সুইসাইড বাই কপ) অথবা কোনো বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করেছেন। সাবেক স্ত্রীর ফোনে থাকা ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং সানসেট স্টেশন হোটেলের একটি গ্যারেজে গাড়িটি খুঁজে পায়। গ্যারেজে পৌঁছানোর পর পুলিশ কর্মকর্তারা দেখেন, অ্যালিসন গাড়ির ভেতরে উচ্চস্বরে গান বাজাচ্ছেন এবং গাড়ি থেকে বের হওয়ার নির্দেশ বারবার অমান্য করছেন। একপর্যায়ে দীর্ঘক্ষণ পর তিনি পুলিশের কাছে পান করার জন্য পানি চান। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগান উপস্থিত চৌকস পুলিশ কর্মকর্তারা। অ্যালিসন পানির বোতল নিতে হাত বাড়াতেই কর্মকর্তারা তার হাত চেপে ধরে তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করেন। এ সময় তাকে কাবু করতে পুলিশ টেজার (Taser) ব্যবহার করে। গ্রেপ্তারের পরপরই পুলিশ দেখতে পায়, অ্যালিসন একটি হ্যান্ডগানের ওপর বসে ছিলেন এবং পেছনের সিটেই একটি এমপি৫ (MP5) সাবমেশিনগান রাখা ছিল। পরবর্তীতে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আরও ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং শত শত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। শুধু তাই নয়, হেন্ডারসনে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, গ্রেনেড লঞ্চার অ্যাটাচমেন্ট, সাইলেন্সার ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যালিসন গত কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে তাকে এফবিআই গ্রেপ্তার না করলে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানোর হুমকি দিতে শোনা যায়। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কসে এক অপরিচিত যুবকের আকস্মিক ও নির্মম হামলায় গুরুতর আহত হওয়া ৬২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মিং ঝাং হি নামের ওই ব্যক্তি হামলার শিকার হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত মঙ্গলবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, গত ১২ জুন রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিটে ব্রঙ্কসের কনকোর্স এলাকার ইস্ট মাউন্ট ইডেন অ্যাভিনিউয়ের কাছে ওয়ালটন অ্যাভিনিউয়ের একটি ভবনের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে ২৭ বছর বয়সী কার্লোস ভ্যালেন্টিন নামের এক যুবকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন কুইন্সের বাসিন্দা মিং ঝাং হি। এ সময় কার্লোস তাকে সজোরে ঘুষি মারেন, যার ফলে ওই বৃদ্ধের মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। হামলাকারী ওই যুবক ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় মিং ঝাং হিকে দ্রুত লিংকন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সংকটাপন্ন অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। অন্যদিকে, অভিযুক্ত কার্লোস ভ্যালেন্টিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মারা যাওয়ায় নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) এবং ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) মিলে কার্লোসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পরিবর্তন করে আরও কঠোর শাস্তির ধারা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।