নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মনে করেন, নিউইয়র্কে তার রাজনৈতিক দর্শনের সাম্প্রতিক সাফল্য কেবল একটি শহর বা অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষায়, কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে যে রাজনীতির কথা তিনি বলছেন, সেই বার্তা এখন সারা দেশেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
রোববার সম্প্রচারিত এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক জোনাথন কার্লকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে এবং যেকোনো নির্বাচিত পদে জয়ী হতে পারেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে রাজনীতি করলে সেটি কেবল নিউইয়র্কেই নয়, পুরো দেশেই গ্রহণযোগ্য হবে।
সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে মামদানির সমর্থিত তিন প্রার্থী—ক্লেয়ার ভালদেজ, দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার এবং ব্র্যাড ল্যান্ডার—নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হন। এর মধ্যে দুইজন বর্তমান ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যকে পরাজিত করেন। এই ফলাফলকে অনেক বিশ্লেষক নিউইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, মানুষের প্রধান উদ্বেগ এখন রাজনীতি নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ব্যয়। কেন বাসাভাড়া বাড়ছে, কেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, কিংবা কঠোর পরিশ্রমের পরও কেন শিশু পরিচর্যার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে—এসব প্রশ্নের উত্তরই মানুষ জানতে চায়। তার মতে, ডেমোক্রেটিক পার্টিরও এসব বাস্তব সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা উচিত।
তিনি আরও বলেন, শুধু বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে ভোটারদের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। জনগণের সামনে এমন একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে, যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন কিংবা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ছাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেবে।
তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সবাই মামদানির মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, নিউইয়র্কের মতো উদারপন্থী ভোটার অধ্যুষিত এলাকায় প্রগতিশীল প্রার্থীদের সাফল্য মিললেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে একই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়েও কথা বলেন মামদানি। তিনি বলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির উচিত এ বিষয়ে নিজেদের ভোটারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সকল মানুষের সমান অধিকারের ভিত্তিতে অবস্থান গ্রহণ করা। তবে ইসরায়েলকে একটি ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে সমর্থন করেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, তিনি এমন একটি রাষ্ট্রকে সমর্থন করেন যেখানে সব নাগরিক ধর্ম নির্বিশেষে সমান অধিকার ভোগ করেন।
সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলের পর জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কে তার সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্য ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর নতুন পরিচালক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত ওকলাহোমা স্টেট ট্রুপার ল্যান্স শ্রয়ারকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়; বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের স্পষ্ট বার্তাও বহন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখো অভিবাসী পরিবারের জন্য এই পরিবর্তনের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রায় তিন দশকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ল্যান্স শ্রয়ারকে আইসের পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ওকলাহোমায় দীর্ঘ ২৯ বছর দায়িত্ব পালনকারী শ্রয়ার একজন "প্রকৃত দেশপ্রেমিক" এবং দক্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা। তিনি অপরাধ দমন এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন। আইস যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের প্রধান সংস্থাগুলোর একটি। সংস্থাটি অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, আটক, বহিষ্কার এবং কর্মস্থল বা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। ফলে সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন সরাসরি অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১৭ সালের পর থেকে আইসে সিনেট-অনুমোদিত কোনো স্থায়ী পরিচালক দায়িত্ব পালন করেননি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সংস্থাটি এতদিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। শ্রয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অভিজ্ঞতার একটি হলো ২৮৭(জি) কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ অফিসগুলো আইসের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে অংশ নিতে পারে। ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় এই অভিজ্ঞতার বিশেষ উল্লেখ করে বলেন, শ্রয়ার বিপজ্জনক অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগ ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি কৌশলের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ল্যান্স শ্রয়ার খুব পরিচিত কোনো ব্যক্তি নন। তাঁর প্রকাশ্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার তথ্যও সীমিত। ফলে আইসের মতো বড় একটি ফেডারেল সংস্থা পরিচালনায় তাঁর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতায় আইসের অভিযান আরও জোরদার হতে পারে। ল্যান্স শ্রয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁর মনোনয়ন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষে কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। রিপাবলিকানরা দ্রুত অনুমোদনের পক্ষে থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা আইসের জবাবদিহি, অভিবাসীদের অধিকার এবং সংস্থার ক্ষমতার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ফলে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কোনো ধরনের শিথিলতার বার্তা দিতে চাইছে না। বরং কঠোর আইন প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থানই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কট্টর পুঁজিবাদ ও ইসরায়েলের প্রতি অন্ধ সমর্থনের দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ভেঙে প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রের এক নতুন জোয়ার তৈরি হয়েছে। দেশটির সবচেয়ে ধনী শহর নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানির হাত ধরে মার্কিন রাজনীতিতে এই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ‘মামদানি ইফেক্ট’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসির অভ্যন্তরীণ দলীয় নির্বাচনে মূলধারার ডেমোক্র্যাটদের হারিয়ে প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রী প্রার্থীদের বড় জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী শক্তির জোরালো আবির্ভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিউইয়র্কের প্রাথমিক নির্বাচনে মেয়র মামদানির সমর্থনে ব্র্যাড ল্যান্ডার, ড্যারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার এবং ক্লেয়ার ভালদেজের মতো সমাজতন্ত্রী প্রার্থীরা হেভিওয়েট ও ঐতিহ্যবাহী ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিদের পরাজিত করেছেন। এই বিজয়ী প্রার্থীরা সরাসরি ইসরায়েলের গাজা নীতি এবং ধনকুবেরদের একচেটিয়া পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। প্রগতিশীল এই নতুন ধারাকে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে এখন ‘স্কোয়াড ২.০’ বলা হচ্ছে, যা আগামীতে হাউস লিডারদের ওপর বড় প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আমেরিকার ব্লু স্টেট বা ডেমোক্র্যাটদের মূল ঘাঁটিগুলোতে সমাজতন্ত্র এখন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে পুঁজিবাদের চেয়ে সমাজতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সী ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি বিশাল অংশ এখন আবাসন সংকট, চড়া বাড়িভাড়া এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্রীদের দেওয়া বিনামূল্যে শিশু যত্ন ও বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের মতো নীতিগুলোকে সমর্থন করছে। তবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই বামপন্থী রূপান্তর নিয়ে দলের ভেতরেই তীব্র কোন্দল ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট নেতারা সতর্ক করেছেন যে, সমাজতন্ত্র বা পুলিশের ফান্ড বন্ধ করার মতো চরমপন্থী স্লোগানগুলো আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রিপাবলিকানরা এই প্রগতিশীল এজেন্ডাগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর সাধারণ ভোটারদের ডেমোক্র্যাটদের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রক্ষণশীল নেতারা ডেমোক্র্যাটদের এই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনকে পুঁজি করে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছেন। ট্রাম্প একে কমিউনিস্টদের চাল আখ্যা দিয়ে সমাজ যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তা সত্ত্বেও প্রগতিশীল ঘরানার নেতারা মনে করেন, মার্কিন তরুণ সমাজ বর্তমান বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে পরিবর্তনের জন্য ক্ষুধার্ত এবং গাজা যুদ্ধে মার্কিন সরকারের ভূমিকার কারণে তারা মূলধারা থেকে মুখ ফিরিয়ে প্রগতিশীলদের দিকে ঝুঁকছে।
টেক্সাস প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে প্রকাশ্য দিবালোকে পাঁচ সন্তানের জননী ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ডেল রিও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ব্যস্ত সড়কের পাশে ওই নারীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ২১ বছর বয়সী এক নারী, তার ১৯ বছর বয়সী বোন এবং তাদের ২১ বছর বয়সী এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনের বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে কাজ করছেন। নিহত নারীর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, তিনি অত্যন্ত সহৃদয় ও পরোপকারী ছিলেন। পাঁচ সন্তানের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের প্রয়োজনেও সবসময় এগিয়ে আসতেন। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও পরিচিতদের গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের একজনের হাসিমুখে পুলিশের গাড়িতে ওঠার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।