আমেরিকা

'অভিবাসীরাই গড়েছেন নিউইয়র্ক' যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী বার্তা মেয়র জোহরান মামদানির

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২১:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভাষণ দিচ্ছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভাষণ দিচ্ছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে অভিবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি এমন এক যুক্তরাষ্ট্রের কথা তুলে ধরেন, যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষই দেশটির শক্তি ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে একটি স্পষ্ট আদর্শিক বার্তা বহন করেছে।

 

শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি হলে ঐতিহাসিক এক ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন মামদানি। এই ডেস্কটি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ব্যবহার করেছিলেন। ভাষণের সময় তার পাশে ছিলেন সদ্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া কয়েকজন অভিবাসী।

মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের ইতিহাস মূলত অভিবাসীদের ইতিহাস। তিনি স্মরণ করেন দুর্ভিক্ষের সময় আয়ারল্যান্ড থেকে আসা মানুষ, চীনা নাবিক, এলিস আইল্যান্ড হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা লাখো অভিবাসী, নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা ইহুদি জনগোষ্ঠী, দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে আসা ইতালীয় এবং উন্নত জীবনের আশায় আসা সিরীয়দের।

 

তার ভাষায়, "ফেডারেল সরকারের নানা নিষেধাজ্ঞা ও বাধা সত্ত্বেও অভিবাসীরা নিউইয়র্কে নিজেদের ঘর গড়েছেন এবং এই শহরকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।"

সম্প্রতি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, দেশটির মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মামদানি বলেন, জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার প্রতিটি প্রজন্মের মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং এই আদর্শ এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসেন। পরে ২০১৮ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ভাষণে তিনি বলেন, ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রামে নিউইয়র্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই ঐতিহ্য আজও বহন করছে শহরটি।

তিনি আরও বলেন, নতুন অভিবাসীরা যখন প্রথম নিউইয়র্কে আসতেন, তখন তারা স্বাধীনতার প্রতীক স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং সুযোগের এক নতুন দেশকে দেখতেন।

 

সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, "আপনাদের প্রত্যেকের হাতে একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। আপনারাই ঠিক করবেন, আমেরিকা বলতে কী বোঝায়।"

তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারও সমালোচনা করেন। নাম উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এমন একটি আমেরিকার ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে কেবল নির্বাচিত কিছু মানুষেরই স্বাধীনতা থাকবে।

 

তার ভাষায়, "তাদের কাছে আমেরিকা ততই ছোট হয়ে যায়, যত বেশি মানুষকে স্বাগত জানায়। তারা মনে করে, এই দেশ শুধু নির্দিষ্ট উচ্চারণ, নির্দিষ্ট বর্ণ বা নির্দিষ্ট পরিচয়ের মানুষের জন্য।"

মামদানি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তিনি নাগরিকদের বিভেদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

দেশপ্রেম প্রসঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, প্রকৃত দেশপ্রেম মানে দেশের ত্রুটি অস্বীকার করা নয়। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের দাবি এবং দেশের উন্নতির জন্য কাজ করাই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়।

 

এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেখানে আতশবাজি, সামরিক ব্যান্ড, বিমান প্রদর্শনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর ছয়টি শাখাকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই জাতীয় দিবসে ট্রাম্প ও মামদানির বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, নাগরিকত্ব এবং জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ম্যাডিসন হাইটসের মসজিদে হুমকির ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির অভিযোগে মামলা করেছে ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের একটি মসজিদে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার হুমকি

মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসে একটি মসজিদে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক গৃহহীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি ও কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হুমকির উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়, ধর্মীয় নেতারা এবং ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয়।   ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ক্রিস্টোফার লর্ডের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির মিথ্যা অভিযোগ (False Threat of Terrorism) এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত তার জামিন ৫ লাখ ডলার নগদে নির্ধারণ করেছেন।   তদন্তে জানা গেছে, গত ২৮ জুন বিকেলে ম্যাডিসন হাইটসের আমেরিকান ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার-এর ভয়েসমেইলে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা রেখে যায় অভিযুক্ত। সেখানে মসজিদের সদস্যদের হত্যার হুমকি, মুসলিমদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি এবং সহিংসতার ভাষা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।   ঘটনার পর মিশিগানের মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা এবং ইমামস কাউন্সিল অব মিশিগান এক সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। ইমামস কাউন্সিল অব মিশিগানের সহসভাপতি স্টিভ মুস্তাফা এলতুর্ক বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকি নতুন নয়। তবে ২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসলামবিদ্বেষমূলক ঘটনাগুলো আরও বেড়েছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণ।   ডিয়ারবর্ন হাইটসের ইসলামিক হাউস অব উইজডম-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মোহাম্মদ আলী এলাহী বলেন, ইসলামবিদ্বেষ বহুদিন ধরেই সমাজে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় নেতারা জানান, চলতি বছরে মিশিগানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা তাদের নথিভুক্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে।   ধর্মীয় অধিকারকর্মী সাইয়েদ নাজাহ আল-হুসাইনি বলেন, এটি শুধু একটি মসজিদের বিরুদ্ধে হুমকি নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে উপাসনার অধিকারের ওপর আঘাত। তার ভাষায়, গির্জা, সিনাগগ, মন্দির কিংবা মসজিদ, সব উপাসনালয়ই নিরাপদ থাকা উচিত।   সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে প্রায়ই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালেও ম্যাডিসন হাইটসের এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত এফবিআই বা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি। এমনকি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এফবিআই মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও করেনি বলে তারা দাবি করেন।   এমলাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফবিআই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটর ক্যারেন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপদে ধর্মীয় উপাসনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত সংকট বা মাদকাসক্তির কারণ থাকলেও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, একই ব্যক্তি ট্রয় শহরের একটি রেস্তোরাঁর কর্মীকেও মদ্যপ অবস্থায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পৃথক তদন্তের আওতায় রয়েছেন। মিশিগান শাখার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR-MI)-এর নির্বাহী পরিচালক ইমাম দাউদ ওয়ালিদ বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সহিংসতার হুমকিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত এবং এ ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে তাদের সংগঠন।   এ ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মসজিদ, সিনাগগ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কিংবা হামলার হুমকির ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   সূত্র: MLive, Oakland County Prosecutor's Office

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২২:৭
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভাষণ দিচ্ছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

'অভিবাসীরাই গড়েছেন নিউইয়র্ক' যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী বার্তা মেয়র জোহরান মামদানির

দুর্ঘটনায় নিহত অন্তঃসত্ত্বা লোরেনা লোপেজ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তার গর্ভের যমজ সন্তান

চার মাসের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমেছে ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার ডে কেয়ারে ৪ মাসের শিশুর মৃত্যু, ১৭ বছরের কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

মিশিগানের মলে গুলির ঘটনা, তদন্তে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের শপিং মলে পরিচিত দুই পক্ষের বিরোধ মুহূর্তেই রূপ নেয় প্রাণঘাতী গোলাগুলিতে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরের একটি জনপ্রিয় শপিং মলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ গুলিবর্ষণে রূপ নিলে দুইজন নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আতঙ্কে ক্রেতা ও কর্মচারীরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে মল থেকে বেরিয়ে যান।   ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানিয়েছে, শহরের ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার শপিং মলে পরিচিত দুই পক্ষের একদল তরুণের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেটি মারামারিতে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।   ডিয়ারবর্ন পুলিশের প্রধান ইসা শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনো এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা ছিল না। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা একে অপরের পরিচিত ছিলেন। মলে দেখা হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত গুলিবর্ষণে গড়ায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষের কাছেই হ্যান্ডগান ছিল।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ দুইজনের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়তেই পুরো শপিং মলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মল থেকে বের হওয়ার সময় একজন পথচারী একটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি গুলিবিদ্ধ ছিলেন না।   ঘটনার পরপরই ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার খালি করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মলটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনার পর মানুষকে দৌড়ে শপিং মল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   মিশিগান অঙ্গরাজ্য পুলিশের স্পেশালিস্ট লেফটেন্যান্ট টাইরান হাওয়ার্ড জানান, রাজ্য পুলিশ তদন্তে ডিয়ারবর্ন পুলিশকে সহায়তা করছে। ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি স্থানীয় পুলিশের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেন। ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার ডেট্রয়েটের পশ্চিমে অবস্থিত ডিয়ারবর্ন শহরের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। মলটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখানে ১২৫টিরও বেশি দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে কেনাকাটা করতে আসেন।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময় প্রতিবছরই বন্দুক-সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে এবারের ঘটনাও নতুন করে জননিরাপত্তা ও অস্ত্র সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২০:৩৫
দুই শিশুকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা মায়ের I ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের হোটেল কক্ষে দুই শিশুকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা মায়ের, তদন্তে হিউস্টন পুলিশ

মেক্সিকোর নাগরিক আইরিস রিয়াল-বেসেরা I ছবি: সংগৃহীত

জেল থেকে বেরিয়েই ফের আটক, ফেন্টানিল পাচারে দণ্ডিত নারীকে হেফাজতে নিল আইস

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে এক ঘরে বন্দি ১৬ শিশু, দেখে শিউরে উঠলেন তদন্তকারীরা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
সান্তা ক্লারিটায় এশীয় প্রতিবেশীর প্রতি ভয়ংকর বর্ণবাদী গালিগালাজ, ভিডিও ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্লারিটায় রাস্তায় গাড়ি চালানোকে কেন্দ্র করে এক এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিবেশীর ওপর জঘন্য বর্ণবাদী মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক বয়স্ক নারী অপর গাড়ির চালককে উদ্দেশ্য করে চরম বর্ণবাদী গালিগালাজ করছেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে এশিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। ইন্টারনেটে ক্ষিপ্ত নেটিজেনরা ওই নারীকে অহংকারী ও বর্ণবাদী আচরণের জন্য 'ক্যারেন' (Karen) আখ্যা দিয়েছেন।   অনলাইনে এলেইন লাফোর্জ নামে শনাক্ত হওয়া ওই নারী ভিডিওতে চিৎকার করে বলছিলেন, "তুমি এশিয়ায় ফিরে যাচ্ছো না কেন? এশিয়ায় ফিরে যাও এবং গিয়ে রিকশা চালাও।" ভুক্তভোগী নারী, যিনি ভিডিওটি ধারণ করছিলেন, তাঁকে ক্যামেরায় দেখা যায়নি। তবে তিনি জানান, বাড়ি ফেরার পথে লাফোর্জ দ্রুতগতিতে তাঁর গাড়িটি অতিক্রম করেন এবং এরপরই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।   এমনকি রেকর্ডিং শুরুর আগে ওই নারী আঙুল দিয়ে 'এশীয় চোখ' ভেংচি কাটছিলেন বলেও ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। ভিডিওতে ভুক্তভোগী নারীকে বলতে শোনা যায়, তিনিও একই শেফিল্ড এবং অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আশপাশের এলাকায় থাকেন এবং তিনি অভিযুক্তের গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের ছবি তুলে রেখেছেন।   ভুক্তভোগী নারী পরবর্তীতে ২ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা ইনস্টাগ্রাম ক্রিয়েটর মাইকেল ম্যাকহোর্টারের কাছে ভিডিওটি শেয়ার করেন। ম্যাকহোর্টার নিয়মিত এ ধরনের সামাজিক সংঘাতের ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন। ভুক্তভোগী তাঁকে জানান, প্রথমে অভিযুক্ত নারী তাঁর পেছনে থাকলেও পরে সামনে এসে পাগলের মতো আচরণ শুরু করেন এবং রাস্তার মাঝে বারবার ব্রেক কষতে থাকেন।   নিজের বাড়ির ঠিকানা গোপন রাখতে তিনি ওই সময় বাড়ির সামনে দিয়ে না থেমে গাড়ি চালিয়ে চলে যান। এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সান্তা ক্লারিটার স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ম্যাকহোর্টার নিজেও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্ণবাদী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১৮:৩৬
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

স্ন্যাপচ্যাটে শিক্ষার্থীদের কাছে অশালীন ছবি-ভিডিও পাঠানোর অভিযোগে স্কুল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার

বার্নি স্যান্ডার্স  ও ড. আবদুল এল-সায়েদক I ছবি: সংগৃহীত

মিশিগান সিনেট নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীর পাশে বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোটি ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে ১৫ বছরের শিক্ষার্থীর শোবার ঘর পরিদর্শন I ছবি: সংগৃহীত

অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে ১৫ বছরের শিক্ষার্থীর শোবার ঘর পরিদর্শন; টেক্সাসে স্কুলপ্রধানকে ঘিরে বিতর্ক

0 Comments