ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে চুক্তি করতে সময় সীমা ঘনিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপে পড়েছেন। একদিকে অভ্যন্তরীণভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ইরানকে “বিপজ্জনক আঞ্চলিক শক্তি” হিসেবে দেখছে। চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতকে ট্রাম্প “সামান্য যাত্রাবিরতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি জটিল; হাজার হাজার বিমান হামলার পরও ইরান টিকে আছে এবং পাল্টা কৌশল হিসেবে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে।
ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি তার চীন সফর স্থগিত করেছেন এবং আশা করা হচ্ছে, মে মাসের মধ্যেই সংঘাতের ইতি টানতে চাইবেন। মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায়। আটলান্টিক কাউন্সিলের নেট সোয়ানসন বলেন, ইরানের লক্ষ্য হচ্ছে টিকে থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন হামলা থেকে বিরত থাকে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের ৯৯ শতাংশ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলেও বাকি ১ শতাংশ ঝুঁকি পুরো পরিস্থিতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে। ইতোমধ্যেই ইরান প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।
দুই পক্ষের অবস্থান এখনও বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করুক, আর ইরান চায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোও উদ্বিগ্ন; সংঘাত ছড়িয়ে গেলে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জনমতও যুদ্ধের বিপক্ষে যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ইরানে সামরিক পদক্ষেপ ভুল ছিল এবং ৬১ শতাংশ ট্রাম্পের কৌশলে অসন্তুষ্ট। সিবিএস নিউজ, ফক্স নিউজ ও রয়টার্স–ইপসোস জরিপেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। যুদ্ধ স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মনে করিয়ে দেন, সম্ভাব্য সমঝোতা শুধু দুই পক্ষের নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ইতিবাচক হবে।
সব মিলিয়ে, কূটনীতি, সামরিক চাপ এবং জনমতের ত্রিমুখী চাপে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড শুক্রবার (২৭ মার্চ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হেভি-ওয়াটার এবং পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার জবাবে তারা পাল্টা হামলা শুরু করেছে। বিপ্লবী গার্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সেনারা হামলা চালাচ্ছে। এই সময়ে কর্মীদের নিরাপত্তার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল, তাদের কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন শেয়ার থাকা অনেক কোম্পানি রয়েছে, যা ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইয়াজদে অবস্থিত একটি ইউরেনিয়াম উত্তোলন কেন্দ্রে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ায় এ ধরনের স্থাপনায় হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই এ ইস্যুতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। তবে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, হামলার ফলে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি এবং পরিবেশে তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা, যারা আশঙ্কা করছেন—এই হামলার জেরে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
গাজায় চলমান গণহত্যার নৃশংসতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। বাবার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু করিমকে। তার কোমল শরীরে অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও পায়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে লোহার পেরেক। প্যালেস্টাইন টিভির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পৈশাচিক ঘটনাটি উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে আল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে। শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর নিজের জীবিকা ও ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ ইজরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির কবলে পড়েন। ইজরায়েলি সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে এবং সঙ্গে থাকা ১৮ মাসের শিশু করিমসহ সেনা শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে ওসামাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে জেরা ও অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু পাশবিকতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যখন ওসামার চোখের সামনেই তার ছোট্ট শিশুটির ওপর শুরু হয় বর্বরতা। টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক উল্লাস। শিশুটির আর্তচিৎকার ইজরায়েলি সেনাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি, বরং তারা হিংস্র উল্লাসে মেতে ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটিকে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হলেও ওসামা আবু নাসর এখনও ইজরায়েলি হেফাজতেই বন্দি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করিমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমার কারণে সে ঘুমের ঘোরেও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।