বিশ্ব

স্পেনের পর এবার মার্কিন যুদ্ধবিমানের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইতালির

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মার্চ ৩০, ২০২৬ ২১:৪১
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিলো ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে সিসিলির সিগোনেলা সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করতে সরাসরি বাধা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। 


ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যথাযথ পূর্বানুমতি না থাকায় এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'RAI'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমানটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখনই অবতরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, কোনো ধরনের আলোচনা বা আগাম বার্তা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অধিকন্তু, তদন্তে দেখা গেছে এই ফ্লাইটটি সাধারণ লজিস্টিক বা নিয়মিত কোনো কার্যক্রমের অংশ ছিল না, যা বিদ্যমান চুক্তির পরিপন্থী।


প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইতালি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। 


এর আগে স্পেনও একইভাবে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি মার্কিন এবং ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইতালির এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিবর্তিত কূটনৈতিক মেরুকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৫ সহায়তাকর্মী

দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে স্পষ্ট মানবিক সহায়তার চিহ্নযুক্ত একটি ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলায় পাঁচজন সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ জন ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ এই হামলার পর দেশটিতে মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।   স্টিফেন ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তিনি জানান, হামলার শিকার বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত ছিল।   তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   হামলার শিকার বহরের পরিচালনাকারী জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ) জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম থেকে পাজুত এলাকায় ফিরছিলেন। পথে বহরটির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা। এদিকে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনের (ইউএনএমআইএসএস) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দেশটিতে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ সংখ্যা ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দক্ষিণ সুদান ধারাবাহিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১২:১৪
বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

প্রেমের টানে ধর্ম ও নাম বদল, তিন বছর পর আগের পরিচয়ে ফিরলেন যুবক

প্রেমের টানে ধর্ম ও নাম বদল, তিন বছর পর আগের পরিচয়ে ফিরলেন যুবক

জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জলাশয়ে নেমে ৩০ জনের মৃত্যু

জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জলাশয়ে নেমে ৩০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও কয়েকজন

দোহায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু, কারিগরি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ সংলাপ
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু, কারিগরি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ সংলাপ

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   বুধবার (১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একাধিক সূত্র জানায়, আলোচনা বর্তমানে কেবল প্রযুক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দোহায় অন্তত তিনটি আলাদা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এসব গ্রুপ পারমাণবিক কর্মসূচি, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আর্থিক বিষয়—বিশেষ করে জব্দ করা তহবিল ফেরত দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর এই বিষয়গুলোতেই অগ্রগতি আনার চেষ্টা চলছে।   আলোচনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তারা আলোচনার একটি প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা নিজেরা সরাসরি এই কারিগরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না।   এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক গৃহীত হয়। সেই সমঝোতার পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেন এবং আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়।   তবে পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমঝোতা অনুযায়ী মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরান সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট—তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে না, বরং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই সব ধরনের যোগাযোগ চালিয়ে যাবে।   কাতার সরকারও নিশ্চিত করেছে, আপাতত কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ফলে আলোচনার বর্তমান ধাপ পুরোপুরি পরোক্ষ ও কারিগরি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও এই আলোচনা প্রক্রিয়া চালু থাকা ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। কয়েক দিন আগেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও, সমঝোতা স্মারকের কাঠামোর মধ্যেই এখন তারা আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে অন্তত যোগাযোগের একটি চ্যানেল খোলা থাকছে, যা ভবিষ্যতে বৃহত্তর সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৭:২১
কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাস । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, পাসপোর্টও আটকে গেল; ‘এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু হতে পারে না’

গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান । ছবি: আল জাজিরা

গাজা–পশ্চিম তীর দখলে গতি বাড়িয়েছে ইসরায়েল, শিশু হত্যা নিয়ে ‘গণহত্যার ইঙ্গিত’

ভেনেজুয়েলা উপকূলে উদ্ধরকাজে নিয়োজিত একটি মার্কিন মেরিন হেলিকপ্টার । ছবি: এক্স

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ত্রাণ-উদ্ধার তৎপরতায় ৯ শতাধিক মার্কিন সেনা, বদলাচ্ছে ওয়াশিংটন-কারাকাস সম্পর্ক?

দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবহরে সশস্ত্র হামলা
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবহরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৫; তদন্ত দাবি জাতিসংঘের

দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে মানবিক সহায়তাবাহী একটি বহরে সশস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ এবং দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতিসংঘের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, সোমবার জংলেই অঙ্গরাজ্যের ডুক কাউন্টিতে স্থানীয় অংশীদার সংস্থার পরিচালিত একটি ত্রাণবহরের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও চারজন আহত হন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও হতাহত হয়েছেন। ডুজারিক বলেন, দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, হামলার সময় বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তাবাহী হিসেবে চিহ্নিত ছিল, তবুও তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ জন ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।   হামলার শিকার বহরটি পরিচালনা করছিল জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম এলাকা থেকে পাজুতের উদ্দেশে ফিরছিলেন। ফেরার পথেই তাদের বহরের ওপর হামলা চালানো হয়। জেডিএফ এই ঘটনাকে তাদের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।   এদিকে জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।   ২০১১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহাত্মক সংঘাত ও সহিংসতার কারণে দক্ষিণ সুদান দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানবিক সংকটে রয়েছে। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতি দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ত্রাণকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোকে কঠিন করে দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২:২২
ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের বিল ঘিরে ডেমোক্র্যাট দলে তীব্র বিভক্তি

ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের বিল ঘিরে ডেমোক্র্যাট দলে তীব্র বিভক্তি

রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন

রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন, নিহত অন্তত ৭; আহত ২২

মেক্সিকোতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

মেক্সিকোতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

0 Comments