ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং ১১ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (এইচআরএএনএ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এই তথ্য তুলে ধরে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পরিচালিত সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে মোট নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা অন্তত ৭৪২ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ইরানের ত্রাণ সংস্থা Iranian Red Crescent Society মৃতের সংখ্যা ৫৫৫ জন বলে জানিয়েছিল। তবে প্রকাশিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এইচআরএএনএ আরও জানায়, সর্বশেষ হামলায় একাধিক সামরিক ঘাঁটি, দুটি আবাসিক এলাকা এবং বান্দার আব্বাসে অবস্থিত শহীদ বাহোনার পিয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের মোট মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশ—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা Anadolu Agency। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়। এতে অংশ নেয় বি-২ স্টেলথ বোমারু, এফ-২২, এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৮ যুদ্ধবিমান, এ-১০ আক্রমণ বিমান, ইএ-১৮জি ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার এবং প্যাট্রিয়ট ও থ্যাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি থেকে টানা উড্ডয়ন করে চারটি বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ২,০০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডি-এএম) ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। বি-২ বিমানের উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও দীর্ঘ উড্ডয়ন সময় বিবেচনায় কেবল এই অংশেই প্রায় ৩০.২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের সমন্বিত উড্ডয়ন ও হামলায় ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ২৭১.৩৪ মিলিয়ন ডলার। বিশেষায়িত বিমান যেমন ইএ-১৮জি গ্রাউলার, এ-১০সি থান্ডারবোল্ট ও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সামুদ্রিক টহল বিমান, গোয়েন্দা নজরদারি বিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার এবং স্থলভিত্তিক হিমার্স রকেট ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় সম্মিলিত আকাশ ও স্থল অভিযানের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪২৩.৫৭ মিলিয়ন ডলার। অভিযানে অংশ নেয় দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী— USS Abraham Lincoln এবং USS Gerald R. Ford। এই রণতরী ও তাদের সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোর দৈনিক পরিচালন ব্যয় আনুমানিক ১৫ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এ ধরনের ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ওয়াশিংটন, প্রতিবেদন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা নিয়ে কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’ অনুযায়ী জমা দেওয়া এক চিঠিতে তিনি অভিযানের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করলেও ইরানের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তার নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের ভেতরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক কমান্ড কাঠামোসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা এবং Strait of Hormuz দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অবাধ চলাচল বজায় রাখা। পাশাপাশি ইসরায়েলসহ মিত্রদের সম্মিলিত আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেও এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট আরও জানান, অভিযানে কোনো মার্কিন স্থলবাহিনী ব্যবহার করা হয়নি এবং বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, সামরিক অভিযানের পূর্ণ সময়সীমা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা অনিশ্চিত থাকায় এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে কি না—তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের বর্বরোচিত হামলার মুখেও ইরান কোনোভাবেই মাথা নত করবে না। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা মানে জীবনের ওপর আঘাত, আর স্কুলে হামলা মানে একটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।” অসুস্থ রোগী এবং শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করাকে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুরো বিশ্বের উচিত এই বর্বরোচিত কাজের নিন্দা জানানো। ইরান এই ধরনের অপরাধের মুখে চুপ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি এলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং ১১ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (এইচআরএএনএ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এই তথ্য তুলে ধরে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পরিচালিত সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে মোট নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা অন্তত ৭৪২ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ইরানের ত্রাণ সংস্থা Iranian Red Crescent Society মৃতের সংখ্যা ৫৫৫ জন বলে জানিয়েছিল। তবে প্রকাশিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এইচআরএএনএ আরও জানায়, সর্বশেষ হামলায় একাধিক সামরিক ঘাঁটি, দুটি আবাসিক এলাকা এবং বান্দার আব্বাসে অবস্থিত শহীদ বাহোনার পিয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের (ওয়ারহেড) সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম দেশটি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্ত নিল। স্থানীয় সময় সোমবার ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ল’ইল লং সামরিক ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা দেন মাখোঁ। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি ফ্রান্সের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রেসিডেন্ট মাখোঁ জানান, বর্তমানে ফ্রান্সের ভাণ্ডারে ৩০০টিরও কম পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে ঠিক কতটি বোমা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দেননি। পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্সের সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মাখোঁ আরও ঘোষণা করেন, এখন থেকে মিত্রদেশগুলো চাইলে সাময়িকভাবে ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান নিজেদের ভূখণ্ডে মোতায়েন করার অনুমতি পাবে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ‘অতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প’ নিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী দেশ কাতার তাদের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত সোমবার কাতারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে একটি আঘাত হানে মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে এবং অন্যটি কাতার এনার্জির রাস লাফফানে। উল্লেখ্য, রাস লাফফান বিশ্বের বৃহত্তম তরল গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র, যেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এলএনজি রপ্তানি করা হয়। হামলায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার এনার্জি সাময়িকভাবে উৎপাদন স্থগিত রেখেছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায়। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে বর্তমানে প্রায় ৭০০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্যাসবাহী জাহাজ। ইতিমধ্যে এই পথে গ্যাস সরবরাহ ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশ ও বিশ্ববাজারে প্রভাব বিশ্বের মোট গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। আকস্মিক উৎপাদন বন্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতার থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন বলেন, কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধ হওয়া বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তবে পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এলএনজি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পর কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর রাজধানী আবুধাবি-তে একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আবুধাবির মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুসাফ্ফা জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনাল–এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। এ ঘটনায় টার্মিনালে আগুন ধরে গেলেও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা–এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং ১১ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (এইচআরএএনএ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এই তথ্য তুলে ধরে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পরিচালিত সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে মোট নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা অন্তত ৭৪২ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ইরানের ত্রাণ সংস্থা Iranian Red Crescent Society মৃতের সংখ্যা ৫৫৫ জন বলে জানিয়েছিল। তবে প্রকাশিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এইচআরএএনএ আরও জানায়, সর্বশেষ হামলায় একাধিক সামরিক ঘাঁটি, দুটি আবাসিক এলাকা এবং বান্দার আব্বাসে অবস্থিত শহীদ বাহোনার পিয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের মোট মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশ—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা Anadolu Agency। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়। এতে অংশ নেয় বি-২ স্টেলথ বোমারু, এফ-২২, এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৮ যুদ্ধবিমান, এ-১০ আক্রমণ বিমান, ইএ-১৮জি ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার এবং প্যাট্রিয়ট ও থ্যাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি থেকে টানা উড্ডয়ন করে চারটি বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ২,০০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডি-এএম) ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। বি-২ বিমানের উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও দীর্ঘ উড্ডয়ন সময় বিবেচনায় কেবল এই অংশেই প্রায় ৩০.২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের সমন্বিত উড্ডয়ন ও হামলায় ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ২৭১.৩৪ মিলিয়ন ডলার। বিশেষায়িত বিমান যেমন ইএ-১৮জি গ্রাউলার, এ-১০সি থান্ডারবোল্ট ও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সামুদ্রিক টহল বিমান, গোয়েন্দা নজরদারি বিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার এবং স্থলভিত্তিক হিমার্স রকেট ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় সম্মিলিত আকাশ ও স্থল অভিযানের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪২৩.৫৭ মিলিয়ন ডলার। অভিযানে অংশ নেয় দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী— USS Abraham Lincoln এবং USS Gerald R. Ford। এই রণতরী ও তাদের সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোর দৈনিক পরিচালন ব্যয় আনুমানিক ১৫ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এ ধরনের ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের বর্বরোচিত হামলার মুখেও ইরান কোনোভাবেই মাথা নত করবে না। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা মানে জীবনের ওপর আঘাত, আর স্কুলে হামলা মানে একটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।” অসুস্থ রোগী এবং শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করাকে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুরো বিশ্বের উচিত এই বর্বরোচিত কাজের নিন্দা জানানো। ইরান এই ধরনের অপরাধের মুখে চুপ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি এলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে।
বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই রুট দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা পুড়িয়ে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিল। মঙ্গলবার আইআরজিসি কমান্ডারের পক্ষ থেকে প্রণালীটি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম কৌশলগত পয়েন্ট। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের তেল ও গ্যাস বহিঃবিশ্বে রপ্তানির জন্য মূলত এই রুটের ওপরই নির্ভরশীল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। এর আগে ইরান একাধিকবার এই রুট বন্ধের হুমকি দিলেও এবার সরাসরি জাহাজ পুড়িয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা জোরদার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।