সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট দুবাই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হামলার পর ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ২টার দিকে এ তথ্য প্রকাশ করে Reuters। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল ভোরে সৌদি আরব–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস রিয়াদ লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবারের হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতায় ভূমধ্যসাগরে রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই এসব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফ্রান্স তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ Charles de Gaulle–কে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রণতরী ফ্রান্সের নৌশক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ ছাড়া ফ্রান্স এরই মধ্যে Dassault Rafale যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত এয়ার রাডার মোতায়েন করেছে। এসব প্রযুক্তি ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, কুয়েতের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলায় প্রথমে তিনজন সেনা নিহত হন। পরবর্তীতে আরও তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। অতিরিক্ত নিহতদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান এবং দু’জনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, হামলাটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে চালানো হয়। কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও একটি প্রজেক্টাইল প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর যৌথ হামলার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা এই সরু সামুদ্রিক পথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার হলেও জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত পথ মাত্র প্রায় ৩ কিলোমিটার। এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই দুই দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করে। OPEC–ভুক্ত সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে রপ্তানি হয়। এসব তেল মূলত এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি তাদের প্রায় পুরো এলএনজি উৎপাদন হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবহন করে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে কাতার সাময়িকভাবে গ্যাস উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর যৌথ হামলার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা এই সরু সামুদ্রিক পথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার হলেও জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত পথ মাত্র প্রায় ৩ কিলোমিটার। এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই দুই দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করে। OPEC–ভুক্ত সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে রপ্তানি হয়। এসব তেল মূলত এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি তাদের প্রায় পুরো এলএনজি উৎপাদন হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবহন করে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে কাতার সাময়িকভাবে গ্যাস উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতায় ভূমধ্যসাগরে রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই এসব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফ্রান্স তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ Charles de Gaulle–কে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রণতরী ফ্রান্সের নৌশক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ ছাড়া ফ্রান্স এরই মধ্যে Dassault Rafale যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত এয়ার রাডার মোতায়েন করেছে। এসব প্রযুক্তি ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট দুবাই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হামলার পর ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ২টার দিকে এ তথ্য প্রকাশ করে Reuters। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল ভোরে সৌদি আরব–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস রিয়াদ লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবারের হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
বর্তমান সমাজে পারিবারিক অশান্তি ও সহিংসতার একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে পরকীয়া সম্পর্ক। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্ক শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বই তৈরি করে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ভাঙন ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরকীয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেক সময় সঙ্গীর আচরণে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে পরকীয়ার সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তবে নিশ্চিত না হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সতর্কভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সঙ্গীর মোবাইল ফোন ব্যবহারের ধরন হঠাৎ পরিবর্তন হলে সেটির দিকে নজর রাখা জরুরি। একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় সঙ্গী যদি অকারণে ফোনে ব্যস্ত থাকেন, বারবার মেসেজ বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে কাজের প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার বাড়তেও পারে, তাই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এ ছাড়া সঙ্গী যদি আগের তুলনায় কম সময় দিতে শুরু করেন বা নিজের মধ্যে গুটিয়ে যেতে থাকেন, তবে সেটিও একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। তবে কর্মব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত চাপের কারণে এমন পরিবর্তন হতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অযৌক্তিক রাগ, খিটখিটে আচরণ বা কথায় বিরক্তির সুর থাকাও অনেক সময় পরকীয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। পাশাপাশি আপনার দৈনন্দিন চলাফেরা, বাড়ি ফেরার সময় বা অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত খোঁজখবর নেওয়াও সন্দেহের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সঙ্গীর হঠাৎ নিজের চেহারা, পোশাক বা সাজসজ্জার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়াও পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। তবে এটি সব সময় পরকীয়ার নিশ্চিত প্রমাণ নয়—সঙ্গী হয়তো নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অন্যতম উপায়।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট দুবাই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হামলার পর ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ২টার দিকে এ তথ্য প্রকাশ করে Reuters। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল ভোরে সৌদি আরব–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস রিয়াদ লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবারের হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতায় ভূমধ্যসাগরে রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই এসব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফ্রান্স তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ Charles de Gaulle–কে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রণতরী ফ্রান্সের নৌশক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ ছাড়া ফ্রান্স এরই মধ্যে Dassault Rafale যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত এয়ার রাডার মোতায়েন করেছে। এসব প্রযুক্তি ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, কুয়েতের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলায় প্রথমে তিনজন সেনা নিহত হন। পরবর্তীতে আরও তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। অতিরিক্ত নিহতদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান এবং দু’জনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, হামলাটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে চালানো হয়। কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও একটি প্রজেক্টাইল প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর যৌথ হামলার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা এই সরু সামুদ্রিক পথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার হলেও জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত পথ মাত্র প্রায় ৩ কিলোমিটার। এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই দুই দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করে। OPEC–ভুক্ত সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে রপ্তানি হয়। এসব তেল মূলত এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি তাদের প্রায় পুরো এলএনজি উৎপাদন হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবহন করে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে কাতার সাময়িকভাবে গ্যাস উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।