ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হয়েছে এবং ফ্রান্স এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করে না। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই হওয়া উচিত ছিল অগ্রাধিকার। তিনি অবিলম্বে সব ধরনের বিমান হামলা বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফরাসি সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ফ্রান্সের ভেতরেও সতর্কতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে। ফ্রান্স তার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ বলেন, সংঘাতের শুরুর দিকেই মিত্রদের আকাশসীমা রক্ষায় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, ইসরায়েল যদি স্থল অভিযান চালায় তবে তা হবে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত ভুল। তিনি ইসরায়েলকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা সম্মান করার আহ্বান জানান।
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের সময় প্রয়োজন হলে শরীর তল্লাশি বা ‘বডি সার্চ’ পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ–এর সভাকক্ষে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা–সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকল প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা হালনাগাদ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের টয়লেটে নকল পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল ঠেকাতে নতুন আইন প্রণয়নের কথাও জানান মন্ত্রী। পরীক্ষা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অটোপাসের সুযোগ থাকবে না। মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে সরে এসে প্রকৃত দক্ষতা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ সময় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নতুন জেলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। প্রস্তাবিত এসব স্কুল প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে পরিচালিত হতে পারে। অন্যদিকে, শিক্ষাক্রম আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড–এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য ও শিল্পকলা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–কে তার জন্মভূমি মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Agence France-Presse (এএফপি)। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরান–এর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন। তাকে মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হবে, যেখানে তার বাবার কবর রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েল–এর সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরান সরকার নিশ্চিত করে। তবে তার জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই শহরেই খামেনির জন্ম হয়েছিল। খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ইরান–এর সাম্প্রতিক সামরিক হামলাকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের ভুল কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন হাকান ফিদান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে আঞ্চলিক সংঘাত বাড়াতে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর হামলার জবাবে ইরান যে পাল্টা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নির্বিচার হামলা কোনো গ্রহণযোগ্য কৌশল হতে পারে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বর্তমান নীতি অনেকটা এমন অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে—নিজেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো অঞ্চলকে একই পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া। হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেন, হামলা অব্যাহত থাকলে আক্রান্ত দেশগুলো দীর্ঘ সময় নীরব থাকবে না এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তাঁর মতে, এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হয়েছে এবং ফ্রান্স এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করে না। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই হওয়া উচিত ছিল অগ্রাধিকার। তিনি অবিলম্বে সব ধরনের বিমান হামলা বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফরাসি সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ফ্রান্সের ভেতরেও সতর্কতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে। ফ্রান্স তার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ বলেন, সংঘাতের শুরুর দিকেই মিত্রদের আকাশসীমা রক্ষায় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, ইসরায়েল যদি স্থল অভিযান চালায় তবে তা হবে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত ভুল। তিনি ইসরায়েলকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা সম্মান করার আহ্বান জানান।
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের সময় প্রয়োজন হলে শরীর তল্লাশি বা ‘বডি সার্চ’ পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ–এর সভাকক্ষে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা–সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকল প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা হালনাগাদ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের টয়লেটে নকল পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল ঠেকাতে নতুন আইন প্রণয়নের কথাও জানান মন্ত্রী। পরীক্ষা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অটোপাসের সুযোগ থাকবে না। মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে সরে এসে প্রকৃত দক্ষতা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ সময় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নতুন জেলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। প্রস্তাবিত এসব স্কুল প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে পরিচালিত হতে পারে। অন্যদিকে, শিক্ষাক্রম আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড–এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য ও শিল্পকলা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট দুবাই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হামলার পর ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ২টার দিকে এ তথ্য প্রকাশ করে Reuters। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল ভোরে সৌদি আরব–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস রিয়াদ লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবারের হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
বর্তমান সমাজে পারিবারিক অশান্তি ও সহিংসতার একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে পরকীয়া সম্পর্ক। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্ক শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বই তৈরি করে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ভাঙন ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরকীয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেক সময় সঙ্গীর আচরণে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে পরকীয়ার সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তবে নিশ্চিত না হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সতর্কভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সঙ্গীর মোবাইল ফোন ব্যবহারের ধরন হঠাৎ পরিবর্তন হলে সেটির দিকে নজর রাখা জরুরি। একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় সঙ্গী যদি অকারণে ফোনে ব্যস্ত থাকেন, বারবার মেসেজ বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে কাজের প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার বাড়তেও পারে, তাই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এ ছাড়া সঙ্গী যদি আগের তুলনায় কম সময় দিতে শুরু করেন বা নিজের মধ্যে গুটিয়ে যেতে থাকেন, তবে সেটিও একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। তবে কর্মব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত চাপের কারণে এমন পরিবর্তন হতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অযৌক্তিক রাগ, খিটখিটে আচরণ বা কথায় বিরক্তির সুর থাকাও অনেক সময় পরকীয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। পাশাপাশি আপনার দৈনন্দিন চলাফেরা, বাড়ি ফেরার সময় বা অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত খোঁজখবর নেওয়াও সন্দেহের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সঙ্গীর হঠাৎ নিজের চেহারা, পোশাক বা সাজসজ্জার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়াও পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। তবে এটি সব সময় পরকীয়ার নিশ্চিত প্রমাণ নয়—সঙ্গী হয়তো নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অন্যতম উপায়।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হয়েছে এবং ফ্রান্স এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করে না। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই হওয়া উচিত ছিল অগ্রাধিকার। তিনি অবিলম্বে সব ধরনের বিমান হামলা বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফরাসি সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ফ্রান্সের ভেতরেও সতর্কতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে। ফ্রান্স তার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ বলেন, সংঘাতের শুরুর দিকেই মিত্রদের আকাশসীমা রক্ষায় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, ইসরায়েল যদি স্থল অভিযান চালায় তবে তা হবে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত ভুল। তিনি ইসরায়েলকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা সম্মান করার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–কে তার জন্মভূমি মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Agence France-Presse (এএফপি)। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরান–এর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন। তাকে মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হবে, যেখানে তার বাবার কবর রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েল–এর সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরান সরকার নিশ্চিত করে। তবে তার জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই শহরেই খামেনির জন্ম হয়েছিল। খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ইরান–এর সাম্প্রতিক সামরিক হামলাকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের ভুল কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন হাকান ফিদান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে আঞ্চলিক সংঘাত বাড়াতে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর হামলার জবাবে ইরান যে পাল্টা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নির্বিচার হামলা কোনো গ্রহণযোগ্য কৌশল হতে পারে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বর্তমান নীতি অনেকটা এমন অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে—নিজেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো অঞ্চলকে একই পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া। হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেন, হামলা অব্যাহত থাকলে আক্রান্ত দেশগুলো দীর্ঘ সময় নীরব থাকবে না এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তাঁর মতে, এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট দুবাই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হামলার পর ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ২টার দিকে এ তথ্য প্রকাশ করে Reuters। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল ভোরে সৌদি আরব–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস রিয়াদ লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবারের হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।