ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৪২ জনই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও যুদ্ধের নিষ্ঠুরতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি অভিযোগ করেছেন যে, পরিকল্পিতভাবে ইরানের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার জন্য সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হাসপাতালটি তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল না। বর্তমানে গান্ধী হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জরুরি বিভাগ ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মো. ইদ্রিস (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে স্বজনরা তাঁর মরদেহ থানায় নিয়ে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। নিহত ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার এলাকায় ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন জহিরুল। পরিবারের দাবি, কিছুদিন আগে ইদ্রিস ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে ডেকে নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। স্বজনরা প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন, পরে ঢাকায় নিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরানো হয়। তবে সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইদ্রিস তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলেন। তবে তিনি বা তাঁর সহযোগীরা কোনো মারধর করেননি। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাসের সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এর ফলে নিয়মিত এবং জরুরি—সব ধরনের কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে গত রাতে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনার পরপরই কুয়েতে এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এছাড়া গতকাল সোমবার খোদ কুয়েতেই এক ভয়াবহ ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। একের পর এক এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে যেকোনো বাণিজ্যিক উপায়ে (Commercial flight) নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। মূলত ড্রোন হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থার কারণে মার্কিন স্থাপনাগুলো এখন উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা বজায় থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত বিমান চলাচল সংকটের কথা বিবেচনা করে বড় ঘোষণা দিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের প্রবেশ ভিসার (Entry Visa) মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এর জন্য প্রবাসীদের কোনো ফি প্রদান করতে হবে না এবং কোনো সরকারি দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি বাড়তি কোনো আবেদন জমা দেওয়ারও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। মূলত বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যারা যাতায়াত নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন, তাদের স্বস্তি দিতেই কাতার সরকার এই মানবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে যারা ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই ভিসার মেয়াদ শেষ করে আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, ওই নির্দিষ্ট তারিখের আগের সময়টুকুর জন্য প্রযোজ্য জরিমানা বা নিষ্পত্তির অর্থ পরিশোধ করতে হবে। জরিমানা পরিশোধের পর থেকেই কেবল বর্ধিত এক মাসের মেয়াদ এবং ফি অব্যাহতির সুবিধাটি তাদের জন্য কার্যকর হবে। কাতারের এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও ভ্রমণকারী বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৪২ জনই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও যুদ্ধের নিষ্ঠুরতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি অভিযোগ করেছেন যে, পরিকল্পিতভাবে ইরানের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার জন্য সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হাসপাতালটি তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল না। বর্তমানে গান্ধী হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জরুরি বিভাগ ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত বিমান চলাচল সংকটের কথা বিবেচনা করে বড় ঘোষণা দিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের প্রবেশ ভিসার (Entry Visa) মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এর জন্য প্রবাসীদের কোনো ফি প্রদান করতে হবে না এবং কোনো সরকারি দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি বাড়তি কোনো আবেদন জমা দেওয়ারও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। মূলত বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যারা যাতায়াত নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন, তাদের স্বস্তি দিতেই কাতার সরকার এই মানবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে যারা ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই ভিসার মেয়াদ শেষ করে আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, ওই নির্দিষ্ট তারিখের আগের সময়টুকুর জন্য প্রযোজ্য জরিমানা বা নিষ্পত্তির অর্থ পরিশোধ করতে হবে। জরিমানা পরিশোধের পর থেকেই কেবল বর্ধিত এক মাসের মেয়াদ এবং ফি অব্যাহতির সুবিধাটি তাদের জন্য কার্যকর হবে। কাতারের এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও ভ্রমণকারী বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বোনকে কুপিয়ে হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় ছোট ভাইকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী। সোমবার (২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হালিশহর থানার ঈদগাহ বড় পুকুর দক্ষিণপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেনোয়ারা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা সাবের আহমেদের স্ত্রী। হত্যার অভিযোগে আটক ছোট ভাইয়ের নাম জানে আলম। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সেনোয়ারার স্বামী ও ছেলে তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে ছিলেন। বাসায় একা থাকা অবস্থায় জানে আলম স্বর্ণালংকার নিতে গেলে বোন বাধা দেন। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে জানে আলম বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সন্দেহজনক আচরণ দেখে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনির চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহতের ছেলে সেকান্দার হোসেন বলেন, তারাবির নামাজ শেষে বাসায় ফিরে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং দেখেন লোকজন তার মামাকে আটক করে রেখেছে। হালিশহর থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সুলতান মোহাম্মদ আহসান উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জানে আলমকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মো. ইদ্রিস (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে স্বজনরা তাঁর মরদেহ থানায় নিয়ে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। নিহত ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার এলাকায় ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন জহিরুল। পরিবারের দাবি, কিছুদিন আগে ইদ্রিস ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে ডেকে নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। স্বজনরা প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন, পরে ঢাকায় নিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরানো হয়। তবে সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইদ্রিস তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলেন। তবে তিনি বা তাঁর সহযোগীরা কোনো মারধর করেননি। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৪২ জনই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও যুদ্ধের নিষ্ঠুরতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি অভিযোগ করেছেন যে, পরিকল্পিতভাবে ইরানের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার জন্য সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হাসপাতালটি তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল না। বর্তমানে গান্ধী হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জরুরি বিভাগ ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত বিমান চলাচল সংকটের কথা বিবেচনা করে বড় ঘোষণা দিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের প্রবেশ ভিসার (Entry Visa) মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এর জন্য প্রবাসীদের কোনো ফি প্রদান করতে হবে না এবং কোনো সরকারি দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি বাড়তি কোনো আবেদন জমা দেওয়ারও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। মূলত বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যারা যাতায়াত নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন, তাদের স্বস্তি দিতেই কাতার সরকার এই মানবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে যারা ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই ভিসার মেয়াদ শেষ করে আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, ওই নির্দিষ্ট তারিখের আগের সময়টুকুর জন্য প্রযোজ্য জরিমানা বা নিষ্পত্তির অর্থ পরিশোধ করতে হবে। জরিমানা পরিশোধের পর থেকেই কেবল বর্ধিত এক মাসের মেয়াদ এবং ফি অব্যাহতির সুবিধাটি তাদের জন্য কার্যকর হবে। কাতারের এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও ভ্রমণকারী বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন বিশ্বরাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে নিহতের সংখ্যা সাড়ে পাঁচশ ছাড়িয়েছে, যার প্রভাব আছড়ে পড়ছে ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং পর্যন্ত। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো পরাশক্তিগুলো এখন খাড়াখাড়ি দুই ভাগে বিভক্ত। পরাশক্তিদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া: রাশিয়া ও চীন: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ মস্কো ও বেইজিং এই হামলার কড়া সমালোচনা করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির মৃত্যুকে একটি 'নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড' হিসেবে অভিহিত করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, চীন একে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখছে এবং অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য: কৌশলী সমর্থন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়োর স্টারমার জানিয়েছেন, তারা সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলায় সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো এখন উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানি: সুর পাল্টে কঠোর অবস্থান ফ্রান্স সরকার খামেনির মৃত্যুকে একজন 'স্বৈরাচারী শাসকের পতন' হিসেবে উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, জার্মানি সতর্ক করে জানিয়েছে যে ইরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোতে হামলা বন্ধ না করে, তবে তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন: অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, এই আগুন নেভানো না গেলে বিশ্বশান্তি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তেহরান এখন আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েল হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ব এখন এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
সব আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে ইরানে দ্বিতীয়বারের মতো যুগপৎ হামলা চালিয়েছে মহাক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র ও এর প্রধান মিত্র ইসরায়েল। এবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর এখন অনেকের মনে প্রশ্ন প্রাচীন সভ্যতার এই দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা পাবে তো? গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইরানের নির্বাসিত ‘যুবরাজ’ রেজা পাহলভি নিজের ওয়েবসাইটে ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইরানের ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো আপস হবে না। আমরা ইরানের এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।” তার ভাষ্য, ইরানের ভৌগোলিক বিভাজন কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যাবে না। যারা দেশের অখণ্ডতা নষ্ট করতে কাজ করবে কিংবা সমর্থন দেবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এতে আরও বলা হয়, ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী ‘শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত’ লড়াই চালিয়ে যাবে। উল্লেখ করা যায়, আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ইরানের জনগণের প্রবল আন্দোলনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন সম্রাট রেজা শাহ পাহলভি। সে সময় যুবরাজ রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে ছিলেন। সাবেক এই রাজার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতা এবং নিজ দেশের জনগণের ওপর কঠোর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। ইরান-সম্রাট দেশত্যাগের পর যারা ক্ষমতায় আসেন, তাদের বিরুদ্ধেও জন-নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করায় বিপ্লব-পরবর্তী শাসকরা বিশ্বজুড়ে ‘প্রতিরোধের মুখ’ হিসেবে পরিচিতি পান। সাম্প্রতিক হামলায় খামেনির নিহত হওয়ার খবরে ইরানে খামেনিপন্থিদের শোকের পাশাপাশি পাহলভিপন্থিদের উল্লাসের ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেখা গেছে। এমন বাস্তবতায় দুই পক্ষই ইরানের অখণ্ডতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবুও প্রায় ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। কয়েক বছর আগে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল এক প্রতিবেদনে বলেছিল “ইরানকে ভেঙে টুকরো টুকরো করা একটি অলীক কল্পনা।” সেখানে ইরানের সম্ভাব্য ভাঙনকে ‘বলকানাইজেশন’ বা ‘বলকানীকরণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যার উদাহরণ সাবেক যুগোস্লাভিয়ার বিভাজন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভগুলো মূলত রাজনৈতিক ছিল; জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিদ্রোহের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। অধিকাংশ ইরানি এক পতাকার নিচে থাকার মানসিকতা পোষণ করেন। তবে জাতিগত বিভেদের চিত্রও উপেক্ষা করার মতো নয়। ইরানে প্রধান সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে আজেরি, কুর্দি, আরব ও বেলুচ। প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশে সংখ্যালঘুরা মোট জনসংখ্যার বড় অংশ। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নেও ক্ষোভের কথা বলা হয়। ইরানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ শিয়া মতাবলম্বী হলেও সুন্নি সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ধর্মীয় উত্তেজনার ইতিহাস রয়েছে। কিছু অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলনের ঘটনাও ঘটেছে। তেহরান টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানকে ‘বলকানের’ মতো ভেঙে ফেলার ধারণাকে ‘কৌশলগত ভ্রান্তি’ বলা হয়েছে। সেখানে যুক্তি দেওয়া হয় বলকান অঞ্চলে বাইরের শক্তির সরাসরি আগ্রাসন ছিল না; জাতিগত আত্মপরিচয়ের উত্থান থেকেই বিভাজন ঘটে। কিন্তু ইরানের জাতিগত বৈচিত্র্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গভীরভাবে সংযুক্ত। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করিয়ে দেন যুগোস্লাভিয়ার নেতা মার্শাল টিটোর মৃত্যুর আগ পর্যন্তও ঐক্যের বয়ান জোরালো ছিল। তার এক দশক পরই শুরু হয় বিভাজন। ফলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, ইরান অস্থিতিশীল হলে তার প্রভাব ককেশাস, উপসাগরীয় অঞ্চল, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ইরানকে ভেঙে ফেলার আগে বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে বহুমাত্রিক হিসাব-নিকাশ করতে হবে। ইরানের পশ্চিমে কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বে সিস্তান-বেলুচিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা প্রায়ই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে। বেলুচ ও কুর্দিদের মধ্যে স্বাধীনতার দাবিও রয়েছে। উত্তর-পশ্চিমে আজেরিদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তা বিদ্যমান। তবে এসব আন্দোলন সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র কাঠামো অটুট রয়েছে। রেজা পাহলভি সম্প্রতি এক মতামতে বলেছেন, “ইরান ইরাক নয়।” ইরাকে বিদেশি হস্তক্ষেপের পর যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আশঙ্কা ও বিশ্লেষণ চলছে। তথ্য সূত্র: ডেইলি স্টার
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।