জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া–এর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য, লেনদেন বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথি বিএফআইইউতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আসিফ মাহমুদ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠকদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়। তবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েন আসিফ মাহমুদ। নিজ জেলা কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি। বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দলীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) কেবল রণক্ষেত্রেই নয়, মার্কিন অর্থনীতিতেও বড় ধরনের আঘাত হানতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ফোর্বস এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, গত শনিবার হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের প্রাথমিক ব্যয় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্যয়ের নেপথ্যে যা রয়েছে: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা ‘ভাস্ট আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর পেছনে। পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামলা শুরুর আগের সামরিক প্রস্তুতিতেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৬৩ কোটি ডলার। এরপর গত ২৪ ঘণ্টায় বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং টমাহক মিসাইল ব্যবহারের ফলে ব্যয়ের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। শুধুমাত্র বি-২ বোমারু বিমানের উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচই কয়েক কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও ঝুঁকি: পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত যদি দুই মাস স্থায়ী হয়, তবে মার্কিন অর্থনীতির মোট ক্ষতির পরিমাণ ২১ হাজার কোটি (২১০ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে সরাসরি সামরিক খরচ হবে প্রায় ৬৫ থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলার। বাকিটা আসবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাণিজ্যে অচলাবস্থার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার মার্কিন অপরিশোধিত তেলের (WTI) দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭১ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ প্রণালী যদি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। রাজনৈতিক চাপ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধকে ৪ থেকে ৫ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, বিশেষজ্ঞরা একে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করছেন। ঘরোয়া রাজনীতিতেও ট্রাম্প চাপের মুখে রয়েছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ আমেরিকান এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। বিরোধীরা দাবি করছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এই ‘বেআইনি’ যুদ্ধ সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেনিকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই সরাসরি সংঘাতের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে তেহরান ও আশপাশের এলাকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক অভাবনীয় প্রতিরক্ষা লড়াইয়ের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে গত চার দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর আছড়ে পড়া কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরান থেকে ধেয়ে আসা মোট ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৫৫টি ড্রোন মাঝআকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল আরব আমিরাতের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো। ইরান থেকে মোট ১৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলেও তার মধ্যে ১৭২টিই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করেছে আমিরাতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ১৩টি সাগরে পতিত হয়েছে এবং মাত্র একটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে আকাশপথে চালানো হয়েছে বিশাল ড্রোন হামলা। মোট ৮১২টি ইরানি ড্রোনের মধ্যে ৭৫৫টিই আকাশেই ধ্বংস করা হয়। তবে বাকি ড্রোনগুলো কিছু স্থাপনায় আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনের এই ভয়াবহ হামলায় আমিরাতে ৩ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে আমিরাত সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কার মুখে সাইপ্রাসে নিজেদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ও কর্মীদের নিরাপত্তায় ড্রোন বিধ্বংসী অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার এবং রাজকীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'এইচএমএস ড্রাগন' (HMS Dragon) মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, "সাইপ্রাস এবং সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে এবং সেখানে ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ডেস্ট্রয়ার দ্রুত পৌঁছাবে। মূলত সোমবার সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি 'আরএএফ আক্রোতিরি'তে একটি ড্রোন আঘাত হানার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নিল ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় তারা সর্বদা প্রস্তুত এবং মিত্রদের নিরাপত্তায় এই রক্ষণাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া–এর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য, লেনদেন বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথি বিএফআইইউতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আসিফ মাহমুদ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠকদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়। তবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েন আসিফ মাহমুদ। নিজ জেলা কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি। বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দলীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। সব নিয়মিত ও জরুরি কনসুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইরানের হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। গত সোমবার (২ মার্চ) কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় ইরান, যা কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা নাগরিকদের সতর্ক করেছে। তালিকায় রয়েছে বাহরাইন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর ও গাজা, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান ও কাতার। এদিকে সৌদি আরবে কানাডার দূতাবাসও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার ভোরে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কানাডা এ সিদ্ধান্ত নেয়। হামলায় সামান্য আগুন ধরে যায় এবং আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সৌদি আরব হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হামলার জবাবে দ্রুত ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সদ্য সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ করেছেন, কোনো চাপের কারণে নয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। মোমেন বলেন, “নতুন সরকারের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সহযোগী হিসেবে পদত্যাগ করেছি। নির্বাচিত সরকার আসার ১৪তম দিনে পদত্যাগ করা হলো। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।” তিনি আরও বলেন, “পরিবর্তনের পর আসা নির্বাচিত সরকারেরও প্রত্যাশা আছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য সরকার আমাদের চেয়ে যোগ্য কমিশন স্থাপন করবেন। এতে দুদক এবং রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হবে।” দুদকের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, “আমাদের নখ-দাঁত থাকা না থাকা বিচার করার মালিক আপনারা। আমরা দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।” ড. মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঁচ বছরের মেয়াদে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ছিলেন। তাদের সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী এবং হাফিজ আহসান ফরিদও মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মো. ইদ্রিস (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে স্বজনরা তাঁর মরদেহ থানায় নিয়ে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। নিহত ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার এলাকায় ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন জহিরুল। পরিবারের দাবি, কিছুদিন আগে ইদ্রিস ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে ডেকে নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। স্বজনরা প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন, পরে ঢাকায় নিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরানো হয়। তবে সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইদ্রিস তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলেন। তবে তিনি বা তাঁর সহযোগীরা কোনো মারধর করেননি। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) কেবল রণক্ষেত্রেই নয়, মার্কিন অর্থনীতিতেও বড় ধরনের আঘাত হানতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ফোর্বস এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, গত শনিবার হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের প্রাথমিক ব্যয় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্যয়ের নেপথ্যে যা রয়েছে: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা ‘ভাস্ট আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর পেছনে। পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামলা শুরুর আগের সামরিক প্রস্তুতিতেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৬৩ কোটি ডলার। এরপর গত ২৪ ঘণ্টায় বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং টমাহক মিসাইল ব্যবহারের ফলে ব্যয়ের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। শুধুমাত্র বি-২ বোমারু বিমানের উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচই কয়েক কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও ঝুঁকি: পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত যদি দুই মাস স্থায়ী হয়, তবে মার্কিন অর্থনীতির মোট ক্ষতির পরিমাণ ২১ হাজার কোটি (২১০ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে সরাসরি সামরিক খরচ হবে প্রায় ৬৫ থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলার। বাকিটা আসবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাণিজ্যে অচলাবস্থার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার মার্কিন অপরিশোধিত তেলের (WTI) দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭১ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ প্রণালী যদি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। রাজনৈতিক চাপ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধকে ৪ থেকে ৫ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, বিশেষজ্ঞরা একে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করছেন। ঘরোয়া রাজনীতিতেও ট্রাম্প চাপের মুখে রয়েছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ আমেরিকান এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। বিরোধীরা দাবি করছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এই ‘বেআইনি’ যুদ্ধ সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেনিকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই সরাসরি সংঘাতের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে তেহরান ও আশপাশের এলাকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক অভাবনীয় প্রতিরক্ষা লড়াইয়ের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে গত চার দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর আছড়ে পড়া কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরান থেকে ধেয়ে আসা মোট ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৫৫টি ড্রোন মাঝআকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল আরব আমিরাতের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো। ইরান থেকে মোট ১৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলেও তার মধ্যে ১৭২টিই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করেছে আমিরাতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ১৩টি সাগরে পতিত হয়েছে এবং মাত্র একটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে আকাশপথে চালানো হয়েছে বিশাল ড্রোন হামলা। মোট ৮১২টি ইরানি ড্রোনের মধ্যে ৭৫৫টিই আকাশেই ধ্বংস করা হয়। তবে বাকি ড্রোনগুলো কিছু স্থাপনায় আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনের এই ভয়াবহ হামলায় আমিরাতে ৩ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে আমিরাত সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কার মুখে সাইপ্রাসে নিজেদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ও কর্মীদের নিরাপত্তায় ড্রোন বিধ্বংসী অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার এবং রাজকীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'এইচএমএস ড্রাগন' (HMS Dragon) মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, "সাইপ্রাস এবং সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে এবং সেখানে ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ডেস্ট্রয়ার দ্রুত পৌঁছাবে। মূলত সোমবার সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি 'আরএএফ আক্রোতিরি'তে একটি ড্রোন আঘাত হানার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নিল ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় তারা সর্বদা প্রস্তুত এবং মিত্রদের নিরাপত্তায় এই রক্ষণাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে আকস্মিক ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই হামলার প্রেক্ষাপটে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের গুরুতর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির অন্যতম আধুনিক যুদ্ধজাহাজ 'এইচএমএস ডানকান'-কে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও জাহাজটি মোতায়েনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে কৌশলগত কারণে একে যেকোনো মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পাঠানোর জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাসের ঘাঁটিতে এই ড্রোন হামলা ব্রিটিশ সামরিক উপস্থিতির ওপর একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর জবাবে রয়্যাল নেভির উপস্থিতি ওই অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।