Live update news
ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান গোলামরেজা সুলাইমানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সুলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই দাবি জানায়।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাজধানী তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে বিমান বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে গোলামরেজা সুলাইমানিকে ‘খতম’ করা হয়েছে। গত ছয় বছর ধরে তিনি বাসিজ ইউনিটের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।   তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান’ যুদ্ধের এযাবতকালের অন্যতম বড় হত্যাকাণ্ড। এর আগে যুদ্ধের প্রথম দিনে তেহরানে এক ড্রোন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।   ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া গোলামরেজা সুলাইমানি ইরানের অভ্যন্তরীণ আন্দোলন দমনে বাসিজ বাহিনীকে ব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন।   উল্লেখ্য, যুদ্ধের ১৮তম দিনে এসে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এখন ইরানের প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি করেছে। এ যুদ্ধের ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

৮ মিনিট Ago
ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প শিবিরে অনুশোচনা, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের ভেতরেই এখন অনুশোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্তে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং আরও সময় নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব দ্বিধা কাটিয়ে ট্রাম্প দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।   সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক কিছু সামরিক সাফল্য বিশেষ করে ইরানে পূর্ববর্তী হামলা ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের অভিজ্ঞতা ট্রাম্পকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি ধারণা করেছিলেন, স্থলসেনা ছাড়াই ইরান সরকারকে দ্রুত দুর্বল করা সম্ভব হবে।   তবে বর্তমানে প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এতে করে সংঘাত প্রত্যাশার তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে এক ধরনের ‘এসক্যালেশন ট্র্যাপ’-এ পড়ে গেছেন। অর্থাৎ এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে শক্তির প্রমাণ দিতে গিয়ে ক্রমাগত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যদিও বাস্তব সাফল্য তুলনামূলক কমে আসছে।   একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তৎপরতা ট্রাম্পকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে প্ররোচিত করছে, যদিও অনেকেই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।   প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের তীব্রতা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ওই অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ প্রায় ১,৩০০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৪ জন সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

৪৬ মিনিট Ago
‘বেপরোয়া যুদ্ধ’ নীতি, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন ডেমোক্র্যাটরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকীম জেফ্রিস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।  ট্রাম্পের গৃহীত নীতিকে একটি ‘বেপরোয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী যুদ্ধ’ (War of choice) হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। জেফ্রিস অভিযোগ করেন যে, কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কংগ্রেসের পূর্বানুমতি ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন এই সংঘাত উস্কে দিয়েছে, যা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন শত শত কোটি ডলার ব্যয় করা একটি কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, এই অঘোষিত যুদ্ধ মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। ডেমোক্র্যাটরা অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য এবং কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

৫৯ মিনিট Ago
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বার্তায় চরম বিশৃঙ্খলা, তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগামহীন এবং স্ববিরোধী বক্তব্য এখন তার প্রশাসনের জন্য একটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। এলমাসরির মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, তিনি বারবার তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি এমনও মন্তব্য করেছিলেন যে, "হয়তো আমাদের সেখানে (মধ্যপ্রাচ্যে) থাকাই উচিত ছিল না।" ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন—যদি সেখানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির প্রয়োজনই না থাকতো, তবে এই যুদ্ধে প্রাণহানির দায়ভার কে নেবে? কেনই বা এই যুদ্ধের সূচনা করা হলো? অধ্যাপক মাসরি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিশৃঙ্খলা কেবল ট্রাম্পের একার নয়, বরং তার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যেমন হেগসেথসহ অন্যদের বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ধারাবাহিক ভুল যোগাযোগ এবং পরস্পরবিরোধী মন্তব্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক ভয়াবহ ‘মেসেজিং ক্রাইসিস’ বা বার্তা আদান-প্রদান সংক্রান্ত সংকটের রূপ নিয়েছে।

১ ঘন্টা Ago
বিশ্ব রাজনীতি
ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প শিবিরে অনুশোচনা, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের ভেতরেই এখন অনুশোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্তে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং আরও সময় নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব দ্বিধা কাটিয়ে ট্রাম্প দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।   সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক কিছু সামরিক সাফল্য বিশেষ করে ইরানে পূর্ববর্তী হামলা ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের অভিজ্ঞতা ট্রাম্পকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি ধারণা করেছিলেন, স্থলসেনা ছাড়াই ইরান সরকারকে দ্রুত দুর্বল করা সম্ভব হবে।   তবে বর্তমানে প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এতে করে সংঘাত প্রত্যাশার তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে এক ধরনের ‘এসক্যালেশন ট্র্যাপ’-এ পড়ে গেছেন। অর্থাৎ এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে শক্তির প্রমাণ দিতে গিয়ে ক্রমাগত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যদিও বাস্তব সাফল্য তুলনামূলক কমে আসছে।   একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তৎপরতা ট্রাম্পকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে প্ররোচিত করছে, যদিও অনেকেই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।   প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের তীব্রতা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ওই অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ প্রায় ১,৩০০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৪ জন সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
গোলামরেজা সুলাইমানিক
ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান গোলামরেজা সুলাইমানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সুলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই দাবি জানায়।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাজধানী তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে বিমান বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে গোলামরেজা সুলাইমানিকে ‘খতম’ করা হয়েছে। গত ছয় বছর ধরে তিনি বাসিজ ইউনিটের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।   তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান’ যুদ্ধের এযাবতকালের অন্যতম বড় হত্যাকাণ্ড। এর আগে যুদ্ধের প্রথম দিনে তেহরানে এক ড্রোন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।   ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া গোলামরেজা সুলাইমানি ইরানের অভ্যন্তরীণ আন্দোলন দমনে বাসিজ বাহিনীকে ব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন।   উল্লেখ্য, যুদ্ধের ১৮তম দিনে এসে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এখন ইরানের প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি করেছে। এ যুদ্ধের ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেবে না জার্মানি: চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সামরিকভাবে অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।   রাজধানী বার্লিন-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জার্মানির সংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী এই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মতো কোনো অনুমোদন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটো—কোনো পক্ষ থেকেই পাওয়া যায়নি। শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, এই সংঘাত ন্যাটোর আওতার বিষয় নয়।   মের্ৎস আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর আগে জার্মানির সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শও করেনি। পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কখনোই কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত হয়নি।   তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জার্মানি কীভাবে সামরিকভাবে এতে জড়িত হতে পারে—সে প্রশ্নই ওঠে না।”   বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই অবস্থান ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ ইস্যুতে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।   সূত্র: আল জাজিরা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বার্তায় চরম বিশৃঙ্খলা, তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগামহীন এবং স্ববিরোধী বক্তব্য এখন তার প্রশাসনের জন্য একটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। এলমাসরির মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, তিনি বারবার তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি এমনও মন্তব্য করেছিলেন যে, "হয়তো আমাদের সেখানে (মধ্যপ্রাচ্যে) থাকাই উচিত ছিল না।" ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন—যদি সেখানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির প্রয়োজনই না থাকতো, তবে এই যুদ্ধে প্রাণহানির দায়ভার কে নেবে? কেনই বা এই যুদ্ধের সূচনা করা হলো? অধ্যাপক মাসরি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিশৃঙ্খলা কেবল ট্রাম্পের একার নয়, বরং তার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যেমন হেগসেথসহ অন্যদের বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ধারাবাহিক ভুল যোগাযোগ এবং পরস্পরবিরোধী মন্তব্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক ভয়াবহ ‘মেসেজিং ক্রাইসিস’ বা বার্তা আদান-প্রদান সংক্রান্ত সংকটের রূপ নিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোর অনাগ্রহে অসন্তোষ প্রকাশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রমে অংশ নিতে কিছু মিত্র দেশের অনীহায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ আগ্রহী হলেও অনেকেই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে অনিচ্ছুক। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই অনাগ্রহীদের মধ্যে এমন দেশও আছে যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।   ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংকালে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের মিত্র সত্ত্বেও অনেক দেশ কার্যক্রমে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান করেছে, কিন্তু সংকটের সময় তাদের সক্রিয়তা প্রত্যাশার তুলনায় কম।   এদিকে সোমবার কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশ জানিয়েছে, আপাতত তারা হরমুজ প্রণালি চালু রাখার জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৩০টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে, তবে নতুন মাইন স্থাপন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নন।   যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ওই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি তেলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্রদের নির্লিপ্ততা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির, কর্মীদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মী ও আশপাশের এলাকার মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এ প্রকাশিত এক বার্তায় আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, অঞ্চলে থাকা সব আমেরিকান শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালি করে নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব শিল্পকারখানায় আমেরিকানদের অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেগুলোর আশপাশের এলাকার মানুষকেও দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হামলায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।   তবে ঠিক কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।   এর আগে গত সপ্তাহে তাসনিম নিউজ এজেন্সির টেলিগ্রাম চ্যানেলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। তালিকায় রয়েছে অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট এবং এনভিডিয়া-এর অফিস।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
আফগানিস্তানের তোরখাম সীমান্তের কাছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর তালেবান সেনারা একটি গাড়িতে রকেট লঞ্চার লোড করছে
পাকিস্তান-আফগানিস্তানের কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে গড়াচ্ছে?
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0

প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।   সোমবার (১৬ মার্চ) আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে, রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সন্ধ্যার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।   তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিমান হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, এই হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন।   তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।   অন্যদিকে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, হামলার স্থানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে আকাশে বিমান চলাচল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দও শোনা গেছে।   জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন।   গত বছরের অক্টোবর মাসে উভয় দেশ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতেই থাকে, যা এখন বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, মার্কিন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান ভারতের
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক কমিশন (USCIRF)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে কেবল ‘ভ্রান্ত’ নয়, বরং একটি ‘নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত’ দলিল হিসেবে অভিহিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই প্রতিবেদনে ভারতের বাস্তব চিত্রকে আড়াল করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা এই রিপোর্টটি দেখেছি। এটি পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভারতের পক্ষ থেকে এটি সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে।" প্রতিবেদনে যা ছিল এবং ভারতের কড়া জবাব উল্লেখ্য যে, USCIRF-এর প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি শর্ত হিসেবে রাখারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জয়সওয়াল বলেন, যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বরং কমিশন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ভারতের সমালোচনা করার আগে কমিশনের উচিত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দেওয়া।

ছবি: সংগৃহীত।
আরব আমিরাতে ইরানের ক্রমাগত হামলার নেপথ্যে আসল কারণ কী?
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ২,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। মূলত আমিরাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পরিবহন খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে।  সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। শুধু বিমানবন্দরই নয়, অঞ্চলটির অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি চলন্ত গাড়িতে রকেট হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। বিবিসির সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত মনে করছে তাদের অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো ভাবছে এই চাপের মুখে আমিরাত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই ক্রমাগত হামলায় আমিরাতের কর্মকর্তারা এখন চরম ক্ষুব্ধ।

ছবি: সংগৃহীত।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলা: কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গ্রিন জোন
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ভয়াবহ রকেট ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ, ২০২৬) ভোরে গ্রিন জোনে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত এই কূটনৈতিক মিশনে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। হামলার পর দূতাবাস চত্বর থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, অন্তত পাঁচটি ড্রোন এবং বেশ কয়েকটি রকেট লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত তিনটি ড্রোনকে দূতাবাসের দিকে ধেয়ে আসতে দেখা গেছে। দূতাবাসের সি-র‌্যাম (C-RAM) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে দুটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আঘাত হানে। এর পরপরই সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে চারপাশ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি এ যাবতকালের অন্যতম তীব্র হামলা। ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই হামলার পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। হামলার পরপরই ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী বাগদাদের উচ্চ সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’ এলাকাটি সিলগালা করে দিয়েছে। সেখানে থাকা অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন ও সরকারি ভবনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। ইরাকি ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে ইরান-পন্থি গোষ্ঠীগুলো মার্কিন অবস্থানে বারবার আঘাত হানছে, যার ধারাবাহিকতায় আজকের এই বড় ধরনের হামলাটি ঘটল।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
185 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
201 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
133 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়