তুরস্কের মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি শক্তির ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.৫ ধরা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এএফএডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র তোকাত অঞ্চলের নিকশার শহরে ছিল। ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ৬.৪ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয় এবং আশেপাশের কয়েকটি প্রদেশেও এটি টের পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ক্ষতির তথ্য নেই। হাবারতুর্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর অনেক বাসিন্দা ঠান্ডা থাকা সত্ত্বেও বাইরে বা গাড়িতে অপেক্ষা করেছেন, কারণ তারা ভয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। তুরস্ক ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে, তাই দেশটিতে নিয়মিত কম্পন ঘটে।
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের নিশানায় এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন নিউজম। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে আদতে দেশটির লাভই হচ্ছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিউজম বিদ্রুপ করে লেখেন, “আমেরিকাবাসী, দুশ্চিন্তার কিছু নেই! আপনাদের গ্যাসোলিন বা জ্বালানির দাম বাড়ছে ঠিকই—কিন্তু এতে ট্রাম্পের প্রচুর অর্থ উপার্জন হচ্ছে। তাই সব ঠিক আছে।” মূলত সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা খরচ করে ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন কি না, নিউজম তার শ্লেষাত্মক বার্তার মাধ্যমে সেই প্রশ্নই তুলেছেন। তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও ট্রাম্প সেটাকে ইতিবাচকভাবে দেখায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
যুদ্ধের শুরুতে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহতের সংখ্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে কেবল সাতজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও, গত ২৪ ঘণ্টায় জানা গেছে যে প্রকৃত আহতের সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ জনেরও বেশি। আহত এই বিশাল সংখ্যক সেনাকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তিনটি সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে—যার দুটি যুক্তরাষ্ট্রে এবং একটি জার্মানির ল্যান্ডস্টুলে অবস্থিত। সূত্রমতে, জার্মানিতে চিকিৎসাধীন সেনাসদস্যদের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। এমনকি একজনের অঙ্গহানির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কেন মার্কিন সামরিক বাহিনী এই বিশাল সংখ্যক আহতের তথ্য গোপন রাখল, তা নিয়ে এখন ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই লুকোচুরির নেপথ্যে কৌশলগত কারণ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পরদিন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব এবং কোচ গৌতম গম্ভীর ট্রফি নিয়ে স্থানীয় একটি হনুমান মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে যান। আর এই ঘটনাকেই ‘ভারতীয় দলের জন্য লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ও বর্তমান তৃণমূল সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ। বিতর্কের সূত্রপাত ও কীর্তি আজাদের কড়া সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কীর্তি আজাদ লিখেছেন, "শেম অন টিম ইন্ডিয়া। ১৯৮৩ সালে আমরা যখন কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, সেই দলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের খেলোয়াড় ছিল। আমরা ট্রফি মাতৃভূমি ভারতে এনেছিলাম, কোনো মন্দিরে নয়।" তিনি আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকেও আক্রমণ করে বলেন, "দলটা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে, জয় শাহের পরিবারের নয়। সিরাজ কেন মসজিদে বা সঞ্জু কেন চার্চে ট্রফি নিয়ে যাননি? এই ট্রফি ১৪০ কোটি ভারতীয়র, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নয়।" এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর পডকাস্টে মুখ খুলেছেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেন, "এই ধরনের মন্তব্য আমাদের ছেলেদের সাফল্যের আনন্দকে ছোট করে দেয়। আমরা ট্রফি জিতেছি, উৎসব করছি—এটাই বড় কথা। এসব বিতর্ক দলের জন্য হিতকর নয়।" অন্যদিকে, ক্রিকেটার ঈশান কিষান সাংবাদিকদের জানান, মাঠের জয় নিয়ে প্রশ্ন করাই শ্রেয়, কে কী ব্যক্তিগত মন্তব্য করলেন তা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই। কীর্তি আজাদের সুরেই কথা বলেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য তারিক আনোয়ার। তিনি মনে করেন, ট্রফি নিয়ে ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার কোনো পরম্পরা নেই এবং এটি ভুল দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। তবে পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, "ভারতের পরিচয় সনাতনী সংস্কৃতির সঙ্গেই যুক্ত।" শিবসেনা নেতা কৃষ্ণা হেগড়ে এবং আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য হরভজন সিংও কীর্তি আজাদের সমালোচনা করেছেন। হরভজনের মতে, "খেলা আর রাজনীতিকে আলাদা রাখা উচিত। কে কোথায় আশীর্বাদ নিতে যাবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত আস্থার বিষয়।" প্রেক্ষাপট ও কীর্তি আজাদের পরিচয় কীর্তি আজাদ ভারতের হয়ে ৭টি টেস্ট ও ২৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ১৯৯১-৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই দিল্লি রঞ্জি ট্রফি জেতে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য থাকাকালীন এমএস ধোনি ও গৌতম গম্ভীরের মতো তারকারা সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য।
তুরস্কের মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি শক্তির ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.৫ ধরা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এএফএডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র তোকাত অঞ্চলের নিকশার শহরে ছিল। ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ৬.৪ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয় এবং আশেপাশের কয়েকটি প্রদেশেও এটি টের পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ক্ষতির তথ্য নেই। হাবারতুর্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর অনেক বাসিন্দা ঠান্ডা থাকা সত্ত্বেও বাইরে বা গাড়িতে অপেক্ষা করেছেন, কারণ তারা ভয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। তুরস্ক ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে, তাই দেশটিতে নিয়মিত কম্পন ঘটে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, তারা মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করুক। বিষয়টি জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে উদ্ধৃত করে। আইআরজিসি’র গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাজার হাজার মার্কিন সেনা হোটেল, ব্যক্তিগত আবাস বা বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন “আমাদের আরব ভাইদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।” বার্তায় বলা হয়েছে, “আমরা বাধ্য হচ্ছি মার্কিন সেনাদের শনাক্ত করতে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে। তাই হোটেলগুলোতে তাদের আশ্রয় না দেওয়াই ভালো এবং তাদের অবস্থান থেকে অন্যদের দূরে থাকা উচিত।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “মার্কিন সেনাদের লুকিয়ে থাকার স্থানগুলো সঠিকভাবে জানানো মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণের ইসলামী দায়িত্ব। সেই তথ্য আমাদের কাছে টেলিগ্রামে পাঠাতে হবে।” সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার মধ্যে লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মিত্রদেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সময়ে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ শুরু করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালায়। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। শুক্রবার এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তারা এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে উল্লেখ করে। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ইসরাইলকে যেন লেবাননের ওপর ধারাবাহিক হামলা বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন মেনে চলতে বাধ্য করা হয়। কাতার আরও জানায়, লেবাননের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের সমর্থন অটুট থাকবে। একই সঙ্গে দেশটির স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নেওয়া সব উদ্যোগকে তারা সমর্থন জানায়। এদিকে গত সোমবার থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু রয়েছে। পাশাপাশি এসব হামলার ফলে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় নাজারেথের কাছে অবস্থিত একটি গ্রামে অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইসরাইলি সরকারি টেলিভিশন Kan News জানিয়েছে, নাজারেথের কাছের জারজির গ্রামে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। আহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হামলার আগে বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। একই সময়ে লেবাননের সীমান্তঘেঁষা উত্তর দিক থেকেও হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই সম্প্রসারিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে মুদ্রা বিনিময়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার জানা জরুরি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ— বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা ইউএস ডলার (USD) ১২৩.১২ ইউরো (EUR) ১৪১.৮০ ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ১৬৪.৪৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) ৮৭.০২ জাপানি ইয়েন (JPY) ০.৭৭৫ কানাডিয়ান ডলার (CAD) ৯০.৩০ সুইডিশ ক্রোনা (SEK) ১৩.১৬ সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) ৯৬.২৫ চীনা ইউয়ান রেনমিনবি (CNY) ১৭.৯২ ভারতীয় রুপি (INR) ১.৩৩ শ্রীলঙ্কান রুপি (LKR) ২.৫৪ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) ৩১.৩০ সৌদি রিয়াল (SAR) ৩২.৮১ কাতারি রিয়াল (QAR) ৩৩.৬০ কুয়েতি দিনার (KWD) ৪০০.২৬ ওমানি রিয়াল (OMR) ৩১৭.০০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED) ৩৩.৩৪ বাহরাইনি দিনার (BHD) ৩২৫.৭৬ সুইস ফ্রাঁ (CHF) ১৫৩.৬২ দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW) ০.০৮২ মুদ্রার বিনিময় হার যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: গুগল
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, বিশেষ লাইসেন্সের মাধ্যমে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজে লোড করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্রেজারির অধীন সংস্থা অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন পরিস্থিতিতে সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে তেলের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেটিও এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে হয়। ফলে পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের সদস্য দেশগুলোকে সরকারি মজুত থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন সূত্র বলছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান তাদের তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। পারস্য উপসাগরে অন্য দেশগুলোর তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেলের মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
তুরস্কের মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি শক্তির ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.৫ ধরা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এএফএডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র তোকাত অঞ্চলের নিকশার শহরে ছিল। ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ৬.৪ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয় এবং আশেপাশের কয়েকটি প্রদেশেও এটি টের পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ক্ষতির তথ্য নেই। হাবারতুর্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর অনেক বাসিন্দা ঠান্ডা থাকা সত্ত্বেও বাইরে বা গাড়িতে অপেক্ষা করেছেন, কারণ তারা ভয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। তুরস্ক ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে, তাই দেশটিতে নিয়মিত কম্পন ঘটে।
যুদ্ধের শুরুতে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহতের সংখ্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে কেবল সাতজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও, গত ২৪ ঘণ্টায় জানা গেছে যে প্রকৃত আহতের সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ জনেরও বেশি। আহত এই বিশাল সংখ্যক সেনাকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তিনটি সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে—যার দুটি যুক্তরাষ্ট্রে এবং একটি জার্মানির ল্যান্ডস্টুলে অবস্থিত। সূত্রমতে, জার্মানিতে চিকিৎসাধীন সেনাসদস্যদের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। এমনকি একজনের অঙ্গহানির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কেন মার্কিন সামরিক বাহিনী এই বিশাল সংখ্যক আহতের তথ্য গোপন রাখল, তা নিয়ে এখন ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই লুকোচুরির নেপথ্যে কৌশলগত কারণ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
দুবাইয়ের কেন্দ্রীয় অংশে শুক্রবার (১৩ মার্চ) একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের সময় কিছু ভবন কেঁপে ওঠে এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার চিহ্ন দেখা যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তিনি দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, যার প্রভাবে আশেপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি ভবনের বাইরের অংশে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই। প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, শেখ জায়েদ রোডের দিক থেকে সাইরেনের শব্দও শোনা গেছে। ঘটনার পরপরই এলাকা ঘিরে ফেলে দুবাই পুলিশ। জানা গেছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি ভবন উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল সেন্টার (ডিআইএফসি) এলাকায়। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশে মাঝ-আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী একটি মার্কিন KC-135 স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেন্টকম জানায়, মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি' চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি বিমানের মধ্যে একটি ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ভূপাতিত হয় এবং অন্যটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বিমানটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন বা বন্ধুপ্রতিম পক্ষের হামলায় বিধ্বস্ত হয়নি। তবে বিমানে থাকা অন্তত ৫ থেকে ৬ জন ক্রু সদস্যের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ কারিগরি ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত দিলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইরাকি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে এবং এর সকল আরোহী নিহত হয়েছেন। তবে সেন্টকম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি নিরাপদ আকাশসীমায় ঘটেছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর এটি চতুর্থ মার্কিন বিমান হারানোর ঘটনা। গত সপ্তাহেও কুয়েতি বাহিনীর ভুলে তিনটি মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং মার্কিন বাহিনী পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।