জুলাই অভ্যুত্থানের সেই অদম্য সাহসের প্রতীক, রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ এবার পা রাখছেন দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা, জাতীয় সংসদে। গুলিবিদ্ধ কিশোর গোলাম নাফিজকে রিকশার পাদানিতে করে হাসপাতালে নেওয়ার সেই হৃদয়বিদারক ও সাহসী দৃশ্যের নায়ককে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবন থেকে নিজের আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করেছেন নূর মোহাম্মদ। জীবনের এই অভাবনীয় প্রাপ্তিতে আবেগাপ্লুত নূর মোহাম্মদ বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও পাওয়া। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট বিকেলে ফার্মগেটে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হন মেধাবী ছাত্র গোলাম নাফিজ। অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ যখন নিথরপ্রায় নাফিজকে একটি রিকশায় তুলে দেয়, তখন নিজের জীবনের পরোয়া না করে তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন নূর মোহাম্মদ। পথে রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হলেও দমে যাননি তিনি; বরং নাফিজকে নিয়ে বিকল্প পথে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছুটে চলেন। ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের ক্যামেরায় ধরা পড়া রিকশার পাদানিতে ঝুলন্ত নাফিজের সেই ছবিটি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। সেই ছবির সূত্র ধরেই মা-বাবা খুঁজে পেয়েছিলেন তাদের প্রিয় সন্তানের মরদেহ। নাফিজের সেই স্মৃতিবাহী রিকশাটি গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে। এক সাধারণ শ্রমজীবীর এই অসাধারণ মানবতা ও সাহস আজ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মানিত হতে যাচ্ছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপ কেবল ‘অযৌক্তিক’ নয়, বরং এটি ‘অনৈতিক’ এবং ‘পুরোপুরি বেআইনি’। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে ইরানকে শাস্তি দিতেই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানান যে, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ১৯ জন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন এই নিষেধাজ্ঞা সদস্য রাষ্ট্রগুলো অনুমোদন করেছে। তবে ইরান এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে ইরানি দলের পক্ষে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া "নিশ্চয়ই সম্ভব নয়"। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের জেরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংশয় ছিল। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর আশ্বস্ত করেছিলেন যে ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে, তবে তেহরান সেই প্রস্তাব কার্যত প্রত্যাখ্যান করল। ক্রীড়ামন্ত্রী দানিয়ামালি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে শহীদ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যারা আমাদের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের দেশে গিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।" উল্লেখ্য, গ্রুপ 'জি'-তে ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ইরানের এই সিদ্ধান্ত ফুটবল প্রেমীদের মাঝে বড় ধরণের শূন্যতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে বুধবার (১১ মার্চ) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি মোস্তফা কামাল খান জানান, অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়ার আগে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ঢাকা-টুঙ্গিপাড়া ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা ২০২৬’ নামে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মসূচির কারণে আলোচনায় ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার দ্বারা মারধরের শিকার হন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, তিনি ফেসবুকে ‘গণকান্নার’ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর ধানমন্ডি ৩২-এ গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সেই অদম্য সাহসের প্রতীক, রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ এবার পা রাখছেন দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা, জাতীয় সংসদে। গুলিবিদ্ধ কিশোর গোলাম নাফিজকে রিকশার পাদানিতে করে হাসপাতালে নেওয়ার সেই হৃদয়বিদারক ও সাহসী দৃশ্যের নায়ককে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবন থেকে নিজের আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করেছেন নূর মোহাম্মদ। জীবনের এই অভাবনীয় প্রাপ্তিতে আবেগাপ্লুত নূর মোহাম্মদ বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও পাওয়া। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট বিকেলে ফার্মগেটে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হন মেধাবী ছাত্র গোলাম নাফিজ। অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ যখন নিথরপ্রায় নাফিজকে একটি রিকশায় তুলে দেয়, তখন নিজের জীবনের পরোয়া না করে তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন নূর মোহাম্মদ। পথে রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হলেও দমে যাননি তিনি; বরং নাফিজকে নিয়ে বিকল্প পথে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছুটে চলেন। ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের ক্যামেরায় ধরা পড়া রিকশার পাদানিতে ঝুলন্ত নাফিজের সেই ছবিটি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। সেই ছবির সূত্র ধরেই মা-বাবা খুঁজে পেয়েছিলেন তাদের প্রিয় সন্তানের মরদেহ। নাফিজের সেই স্মৃতিবাহী রিকশাটি গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে। এক সাধারণ শ্রমজীবীর এই অসাধারণ মানবতা ও সাহস আজ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মানিত হতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে ইরানি দলের পক্ষে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া "নিশ্চয়ই সম্ভব নয়"। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের জেরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংশয় ছিল। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর আশ্বস্ত করেছিলেন যে ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে, তবে তেহরান সেই প্রস্তাব কার্যত প্রত্যাখ্যান করল। ক্রীড়ামন্ত্রী দানিয়ামালি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে শহীদ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যারা আমাদের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের দেশে গিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।" উল্লেখ্য, গ্রুপ 'জি'-তে ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ইরানের এই সিদ্ধান্ত ফুটবল প্রেমীদের মাঝে বড় ধরণের শূন্যতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকার গুলশানে এক পথচারীকে মারধরের অভিযোগে আলোচিত রুশ-বাংলা মডেল মনিকা কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে মনিকা কবিরকে অবিলম্বে অশালীন ও বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, মনিকা কবিরকে বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধতা সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিশেষ করে তার ওয়ার্ক পারমিট ও বৈধ ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে। সাত দিনের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ-১৯৭৬, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর গুলশান এলাকায় এক পথচারীকে মারধরের অভিযোগে মনিকা কবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। ঘটনাটির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ওয়াশিংটন তাদের আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে হয়। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সহজ হবে না, এবং এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত পলাতক আসামি ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবাসী ভদ্রেশকুমার চেতনভাই প্যাটেলকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাকে ধরতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভবেশ কুমার প্যাটেল ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডানকিন ডোনাটস দোকানের ভেতরে তার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঘটনার পরপরই তিনি পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য কোনো দেশে পালিয়ে থাকতে পারেন। তার ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকায় তিনি ভারতে বা অন্য কোনো দেশে ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এফবিআই জানিয়েছে, এই মামলায় আগে কম পরিমাণ পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও গ্রেপ্তারে অগ্রগতি না হওয়ায় পুরস্কার বাড়িয়ে ১ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পলাতক আসামি। সংস্থাটি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা এফবিআইকে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে অথবা সেগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এসব স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সীমিত পর্যায়ে নেই এবং তা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপ কেবল ‘অযৌক্তিক’ নয়, বরং এটি ‘অনৈতিক’ এবং ‘পুরোপুরি বেআইনি’। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে ইরানকে শাস্তি দিতেই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানান যে, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ১৯ জন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন এই নিষেধাজ্ঞা সদস্য রাষ্ট্রগুলো অনুমোদন করেছে। তবে ইরান এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সদস্য দেশগুলো জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মুক্ত করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। আইইএ নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী আবার সচল না হলে এই তেল সরবরাহ খুব সীমিত প্রভাবই ফেলবে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বাজারে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়া হয়েছিল, যা বর্তমানে ঘোষণা করা ৪০ কোটি ব্যারেলের থেকেও কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অবরুদ্ধ তেল থাকায় এই সরবরাহ খুব নগণ্য এবং মাত্র ২৫ দিনে শেষ হয়ে যাবে। আইইএর ঘোষণার পরও বিশ্ব তেলের বাজারে দাম প্রভাবিত হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি, আর মার্কিন WTI প্রায় ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ১২তম দিনে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে ইরানের তেল খাত সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইরান বর্তমানে যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফোয়াদ ইজাদি বলেন, ‘‘ইরানি কর্মকর্তারা এমন কৌশল ভাবছেন যাতে যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষতি পূরণ করা যায়।’’ ইজাদির মতে, ইরানের ভেতরে কয়েকটি প্রস্তাব আলোচনাাধীন। এর মধ্যে একটি হলো আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা, যেখানে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো অর্থ প্রদান করবে। অন্য একটি প্রস্তাব হলো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ। তিনি বলেন, ‘‘ইরান আর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারবে না, আর অন্যরা স্বাভাবিকভাবে লাভবান হবে—এমন পরিস্থিতি আর চলবে না।’’ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। এখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে, তাই নতুন কোনো কর বা বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে তেহরান দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ১ হাজার ৩শ’র বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে এবং সরকারের উপদেষ্টা ইউসেফ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধের আঘাত সত্ত্বেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন। নিজ টেলিগ্রাম চ্যানেলে বুধবার (১১ মার্চ) তিনি বলেন, ‘‘আমি খবর শুনেছিলাম যে মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। আমি কিছু বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়েছিলাম, যাদের সঙ্গে খামেনি পরিবারের যোগাযোগ রয়েছে। তারা আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ৫৬ বছর বয়সী খামেনিকে ‘রমজান যুদ্ধের একজন আহত যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে তার আঘাতের ধরন সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিন দিন আগে তার প্রয়াত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। তার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে চলা নানামুখী জল্পনা-কল্পনার মাঝেই এই মন্তব্য এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি ও দুই ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম দিনেই খামেনি আহত হয়েছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।