ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা একটি ইরানি ইউনিটের নেতাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। পিট হেগসেথ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করা সেই ইউনিটের নেতাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই এর জবাব দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নিহত ব্যক্তি একটি ইরানি ইউনিটের প্রধান ছিলেন, যারা ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। খবরে বলা হয়েছে, এই অভিযানটি মূল সামরিক লক্ষ্য না হলেও পরে তাকে লক্ষ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে তাকে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছিল যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নির্দেশে ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তেহরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট চালু করেছেন অ্যানিমেটেড টিভি সিরিজ ‘সাউথ পার্ক’-এর সাবেক লেখক টবি মর্টন। ওয়েবসাইটটিতে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেহেতু নিজেকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে তুলে ধরেন, তাই তাঁর ছেলে ব্যারনও দেশের জন্য যুদ্ধে যেতে পারেন। সেখানে ট্রাম্প পরিবারের “প্রমাণিত জিন” ও “সাহসিকতার উত্তরাধিকার” নিয়েও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। সাইটটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি অফিসের চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়ার মতো ভঙ্গিতে দেখানো কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে ট্রাম্পের বড় ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের নামে কিছু কাল্পনিক মন্তব্যও দেওয়া হয়েছে, যা মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে তৈরি। এর আগে টবি মর্টন ট্রাম্প প্রশাসনকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ওয়েবসাইট ছিল ট্রাম্পের নামে কেনেডি সেন্টারের নাম যুক্ত করার বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঘিরে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৮৬৬ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৯৪৬ জন।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রবল চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে থেকে ট্রাম্পকে যতটা শক্তিশালী মনে হচ্ছে, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ তার জন্য ততটাই জটিল। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার-এর সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে জানান, "ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাগুলো আপাতদৃষ্টির চেয়ে অনেক বেশি গভীর।" সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে রিপাবলিকান সমর্থকদের ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, যদি এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু বা ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে তারা এই হামলার সমর্থনে থাকবেন না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ৯৩ শতাংশ নাগরিক ইরানের ওপর হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন। মাসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্প যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত করেন, তবে তাকে দেশে চরম রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে এবং তীব্র জনরোষের মুখোমুখি হতে হবে।
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন একটি গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন যা প্রায় অদৃশ্য এবং যার ৯৯.৯ শতাংশই গঠিত হয়েছে রহস্যময় ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা কৃষ্ণবস্তু দিয়ে। মহাকাশের এই রহস্যময় বস্তুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের কৌতূহল নিরসনে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের আবিষ্কৃত এই গ্যালাক্সিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্যান্ডিডেট ডার্ক গ্যালাক্সি-২’ বা CDG-2। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্যালাক্সিটি এতটাই অস্পষ্ট যে সাধারণ টেলিস্কোপে এর অস্তিত্ব ধরা পড়াও অসম্ভব। হাবল টেলিস্কোপের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ গ্যালাক্সিগুলো (যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে) শত শত কোটি নক্ষত্র এবং উত্তপ্ত গ্যাস দিয়ে গঠিত হয় যা উজ্জ্বল আলো ছড়ায়। কিন্তু CDG-2 গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আমাদের মিল্কিওয়ের তুলনায় এটি মাত্র ০.০০৫ শতাংশ উজ্জ্বল। এর বিশাল ভরের প্রায় পুরোটাই ডার্ক ম্যাটার, যা কোনো আলো প্রতিফলন বা শোষণ করে না। বিজ্ঞানীরা মূলত গ্যালাক্সিটির ভেতরে থাকা চারটি প্রাচীন নক্ষত্রপুঞ্জের (Globular Clusters) নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে এর মহাকর্ষীয় টান বুঝতে পেরেছেন এবং এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিস্টিকস ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক দাই লি (Dayi Li) জানান, "এটি একটি ব্যর্থ গ্যালাক্সি। সম্ভবত সৃষ্টির শুরুর দিকেই এর চারপাশের বড় গ্যালাক্সিগুলো এর ভেতরে থাকা নক্ষত্র তৈরির প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন গ্যাস কেড়ে নিয়েছিল। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি ডার্ক ম্যাটার হ্যালো এবং কিছু নক্ষত্র নিয়ে মহাকাশে টিকে আছে।" ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের মোট ভরের প্রায় ৮৫ শতাংশ হলেও আজ পর্যন্ত সরাসরি এটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। CDG-2 এর মতো গ্যালাক্সিগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য একটি ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে সাধারণ নক্ষত্রের আলো বা গ্যাসের প্রভাব ছাড়াই ডার্ক ম্যাটারের ধর্ম নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালানো সম্ভব হবে। এই আবিষ্কারটি আবারও প্রমাণ করল যে মহাবিশ্বের বিশাল অন্ধকার অংশে এখনও এমন অনেক কিছু লুকিয়ে আছে যা আমাদের চেনা জগতের চেয়েও অনেক বেশি রহস্যময়।
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা একটি ইরানি ইউনিটের নেতাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। পিট হেগসেথ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করা সেই ইউনিটের নেতাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই এর জবাব দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নিহত ব্যক্তি একটি ইরানি ইউনিটের প্রধান ছিলেন, যারা ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। খবরে বলা হয়েছে, এই অভিযানটি মূল সামরিক লক্ষ্য না হলেও পরে তাকে লক্ষ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে তাকে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছিল যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নির্দেশে ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তেহরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
ঢাকা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। তবে আসিফ মাহমুদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তার দাবি, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির এসব অভিযোগ স্রেফ অপপ্রচার, যা কখনোই প্রমাণিত হবে না। বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জনসমক্ষে তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এমন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজ আসিফ মাহমুদের পরিবারের ৪ সদস্যের মোট ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যারা সরকার পরিবর্তনের পর ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশে থেকে আইনি বিধি মেনে সব হিসাব দিচ্ছেন, তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে আসিফের বিরুদ্ধে যে ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল ও অপপ্রচার চলছে, তা দিনশেষে কেবল অভিযোগ হিসেবেই টিকে থাকবে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসবের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
কুয়েতের আকাশসীমায় একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ঘটনায় প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমি থেকে নিক্ষেপ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পরে জানা যায়, মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত এবং যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান ভুলবশত তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঘটে যাওয়া এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এফ/এ-১৮ হর্নেট একটি সামুদ্রিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা প্রধানত মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত হয়। প্রথম প্রজন্মের এফ-১৮-এর পর এর একাধিক উন্নত সংস্করণ তৈরি হয়েছে, যেগুলোর দায়িত্ব ও সক্ষমতায় ভিন্নতা রয়েছে। ‘এফ/এ’ অর্থ হলো, বিমানটি আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও ভূমিতে আঘাত—উভয় ধরনের মিশনে সক্ষম। কুয়েতের আকাশে কীভাবে এ ভুল হামলা ঘটেছে, তা এখনো তদন্তাধীন। এফ/এ-১৮ হর্নেটকে মার্কিন নৌবাহিনীর এফ-১৪ টমক্যাটের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮৬ সালের ‘টপ গান’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত এফ-১৪ টমক্যাটের জায়গায় পরবর্তীতে এফ/এ-১৮ দায়িত্ব গ্রহণ করে। একই সঙ্গে এটি এ–৭ করসেয়ার ও এফ–৪ ফ্যান্টমের দায়িত্বও নেয়। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টপ গান–২’ সিনেমায়ও এফ-১৮ হর্নেটকে দেখানো হয়। বোয়িংয়ের মতে, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট ক্যারিয়ার এয়ার উইংসের মেরুদণ্ড এবং এটি বহুমুখী স্ট্রাইক ফাইটার। এফ/এ-১৮-এর আরেক সংস্করণ ইএ–১৮ গ্রোলার, যা ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত। এটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে এবং রাডার সিগন্যালের উৎস লক্ষ্য করে অ্যান্টি রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। বোয়িংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপার হর্নেট ও গ্রোলার একসঙ্গে পরিপূরক ক্যারিয়ার-ভিত্তিক দল গঠন করে, যা বহুমাত্রিক আঘাত ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক আধিপত্য নিশ্চিত করে। কুয়েতের আকাশে সাম্প্রতিক ভুল হামলার ঘটনা আবারও আলোচনায় এনেছে এই যুদ্ধবিমানকে, যা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি হলিউডের পর্দাতেও পরিচিত। সূত্র: এনডিটিভি
ফেসবুক পেজ থেকে আয়ের বিষয়টি সচরাচর গোপন রাখতেই পছন্দ করেন ইনফ্লুয়েন্সার বা তারকারা। তবে এক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে মাসিক ও বাৎসরিক আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো চমক দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ৪৯ লাখ ছাড়িয়েছে। নিয়মিত জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে ভিডিও, ছবি এবং মতামত শেয়ার করেন তিনি। সম্প্রতি এক তথ্যে তিনি জানান, তার একটি ভিডিও ১৭ মিলিয়ন ভিউ হওয়ার বিপরীতে তিনি মাত্র ৪০ ডলার আয় করেছেন। তবে সবশেষ দুই দিনেই এসেছে ১২০ ডলার। আয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে হাসনাত জানান, গত মাসে তার পেজ থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকার সমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি আয়ের এই ধারা বজায় থাকে, তবে তার মাসিক গড় আয় ৪ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সেই হিসেবে বছরে তার আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ লাখ টাকা। সাধারণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া আয়ের হিসাব জনসমক্ষে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন নজির গড়লেন এই নেতা। তার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও অনুসারীরা।
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন একটি গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন যা প্রায় অদৃশ্য এবং যার ৯৯.৯ শতাংশই গঠিত হয়েছে রহস্যময় ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা কৃষ্ণবস্তু দিয়ে। মহাকাশের এই রহস্যময় বস্তুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের কৌতূহল নিরসনে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের আবিষ্কৃত এই গ্যালাক্সিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্যান্ডিডেট ডার্ক গ্যালাক্সি-২’ বা CDG-2। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্যালাক্সিটি এতটাই অস্পষ্ট যে সাধারণ টেলিস্কোপে এর অস্তিত্ব ধরা পড়াও অসম্ভব। হাবল টেলিস্কোপের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ গ্যালাক্সিগুলো (যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে) শত শত কোটি নক্ষত্র এবং উত্তপ্ত গ্যাস দিয়ে গঠিত হয় যা উজ্জ্বল আলো ছড়ায়। কিন্তু CDG-2 গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আমাদের মিল্কিওয়ের তুলনায় এটি মাত্র ০.০০৫ শতাংশ উজ্জ্বল। এর বিশাল ভরের প্রায় পুরোটাই ডার্ক ম্যাটার, যা কোনো আলো প্রতিফলন বা শোষণ করে না। বিজ্ঞানীরা মূলত গ্যালাক্সিটির ভেতরে থাকা চারটি প্রাচীন নক্ষত্রপুঞ্জের (Globular Clusters) নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে এর মহাকর্ষীয় টান বুঝতে পেরেছেন এবং এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিস্টিকস ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক দাই লি (Dayi Li) জানান, "এটি একটি ব্যর্থ গ্যালাক্সি। সম্ভবত সৃষ্টির শুরুর দিকেই এর চারপাশের বড় গ্যালাক্সিগুলো এর ভেতরে থাকা নক্ষত্র তৈরির প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন গ্যাস কেড়ে নিয়েছিল। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি ডার্ক ম্যাটার হ্যালো এবং কিছু নক্ষত্র নিয়ে মহাকাশে টিকে আছে।" ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের মোট ভরের প্রায় ৮৫ শতাংশ হলেও আজ পর্যন্ত সরাসরি এটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। CDG-2 এর মতো গ্যালাক্সিগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য একটি ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে সাধারণ নক্ষত্রের আলো বা গ্যাসের প্রভাব ছাড়াই ডার্ক ম্যাটারের ধর্ম নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালানো সম্ভব হবে। এই আবিষ্কারটি আবারও প্রমাণ করল যে মহাবিশ্বের বিশাল অন্ধকার অংশে এখনও এমন অনেক কিছু লুকিয়ে আছে যা আমাদের চেনা জগতের চেয়েও অনেক বেশি রহস্যময়।
শনিবার থেকে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু-এর সংকলিত তথ্য ও অনুমানে জানা গেছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কাতার-এর আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি-তে স্থাপিত মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা, যার মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতার নিশ্চিত করেছে। রোববার কুয়েত-এ বন্ধুত্বপূর্ণ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো রক্ষা করা যায়নি। এসব বিমানের প্রতিস্থাপন ব্যয় প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাহরাইন-এর রাজধানী মানামা-এ অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলায় স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওপেন-সোর্স তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলোর মূল্য কয়েক কোটি ডলার হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর আল-রুওয়াইস শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন করা একটি অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবিও করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্রে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়, যার সম্ভাব্য ক্ষতি শত কোটি ডলারের বেশি। এসব হিসাব একত্র করলে অঞ্চলে প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক অংশ, কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি এবং বাহরাইনের নৌঘাঁটি। কিছু স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কূটনৈতিক মিশনও হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সৌদি আরব-এর রাজধানী রিয়াদ-এ মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। কুয়েত সিটি ও দুবাই-এ অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর কাছেও বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা একটি ইরানি ইউনিটের নেতাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। পিট হেগসেথ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করা সেই ইউনিটের নেতাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই এর জবাব দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নিহত ব্যক্তি একটি ইরানি ইউনিটের প্রধান ছিলেন, যারা ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। খবরে বলা হয়েছে, এই অভিযানটি মূল সামরিক লক্ষ্য না হলেও পরে তাকে লক্ষ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে তাকে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছিল যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নির্দেশে ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তেহরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রবল চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে থেকে ট্রাম্পকে যতটা শক্তিশালী মনে হচ্ছে, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ তার জন্য ততটাই জটিল। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার-এর সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে জানান, "ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাগুলো আপাতদৃষ্টির চেয়ে অনেক বেশি গভীর।" সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে রিপাবলিকান সমর্থকদের ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, যদি এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু বা ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে তারা এই হামলার সমর্থনে থাকবেন না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ৯৩ শতাংশ নাগরিক ইরানের ওপর হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন। মাসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্প যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত করেন, তবে তাকে দেশে চরম রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে এবং তীব্র জনরোষের মুখোমুখি হতে হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার ব্রুনেই দারুসসালামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ল্যাভরভ উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কৌশল ইরানকে শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্ররোচিত করতে পারে। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি দেশের শান্তিপূর্ণ অধিকার, যা অন্য রাষ্ট্রও ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি এটি ইরান থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরান শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন, বর্তমান সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে পুরো অঞ্চল পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছে।
স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসুস মন্টেরো বলেছেন, স্পেন কোনোভাবেই কারও দাস হবে না। তিনি জানিয়েছেন, কোনো হুমকি বরদাশত করা হবে না এবং দেশের মূল্যবোধ রক্ষা করা হবে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনায় স্পেনের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার না দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্প্যানিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পেনের স্থিতিশীল নীতি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা হবে না যা স্পেনের স্বার্থ ও মূল্যবোধের বিরোধী বা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। সূত্র: আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।