যমুনা ও সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ার ইনকিলাব মঞ্চের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। খুনিদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শুক্রবার জুমার পর শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি শনিবারও (২৭ ডিসেম্বর) অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ ও জাতীয় সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

 

‘কাউকেই সেফ এক্সিট দেওয়া হবে না’ শনিবার বিকেলে শাহবাগের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সরকারকে উদ্দেশ্য করে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন:

হুঁশিয়ারি: যারা ভাবছেন পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে বা রক্তের সাথে বেইমানি করে বিদেশে পালিয়ে যাবেন (সেফ এক্সিট), তাদের সেই স্বপ্ন সফল হবে না। জনতা এই জমিনেই আপনাদের বিচার করবে।

 

কঠোর কর্মসূচি: যদি আগামী ২৭ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও সংসদ ভবন ঘেরাও করা হবে।

 

উপদেষ্টাদের সমালোচনা: তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও কেন হাদি হত্যার খুনিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে? বিচার প্রক্রিয়ায় কারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

 

শাহবাগে ছাত্র-জনতার রাত্রিযাপন শুক্রবার রাতভর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করার পর শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুনরায় বিক্ষোভ শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ হাদির কবর জিয়ারত করতে আসায় অল্প সময়ের জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও, তিনি চলে যাওয়ার পর জনস্রোত আরও বৃদ্ধি পায়।

স্লোগান ও দাবি: শাহবাগ চত্বরে অবস্থানকারীরা ‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’—এমন নানা স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে রেখেছেন।

 

অবরোধ: শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আশপাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

 

হাদি হত্যার প্রেক্ষাপট গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান শরীফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হাদির এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইনকিলাব মঞ্চের এই আন্দোলন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শাহবাগের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘেরাওয়ের হুমকি প্রশাসনের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও দেখুন

অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় নারী-শিশুসহ ২৭৩ জন আটক

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সাগরপথে ট্রলারে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৭৩ জনকে …