Live update news
পুরো অঞ্চল আগুনে জড়ানোর আগেই ইরানের যুদ্ধ থামাতে হবে: এরদোয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আগেই ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হতে পারে। একই সঙ্গে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আগে এবং পুরো অঞ্চল আগুনে জড়িয়ে পড়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হলে তা সম্ভব।”   এরদোয়ান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তুরস্ক খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা থেকে তুরস্ককে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।   এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার পর সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।   এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর থেকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।   এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এরদোয়ান সরাসরি তার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন।   রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারার নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উৎসাহিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।   তবে অনেক বিশ্বনেতার মতো তিনিও বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।   সূত্র: রয়টার্স

৫৫ সেকেন্ড Ago
দায় এড়ানোর চেষ্টা, ইরানে মার্কিন হামলায় ১৬৮ শিশুর মৃত্যু নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মার্কিন সংশ্লিষ্টতার খবর সামনে আসলেও তা নিয়ে ‘অজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিক সামরিক তদন্তে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে আজ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।” তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা সংক্রান্ত তথ্যের (outdated targeting data) কারণে এই ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি ঘটে থাকতে পারে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলার জন্য ইরানকেই পরোক্ষভাবে দায়ী করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নিজের প্রশাসনের পক্ষ থেকেই কেন এর পক্ষে কোনো শক্তিশালী প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, “আমি এ বিষয়ে যথেষ্ট জানি না।” ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু এবং ১৪ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

৯ মিনিট Ago
উইলে চাঞ্চল্যকর তথ্য: নিজের ছেলেকে সুপ্রিম লিডার করতে চাননি খামেনি!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী 'সুপ্রিম লিডার' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই নিয়োগ ঘিরেই এখন উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি।  'দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট'-এর একটি বিস্ফোরক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খোদ খামেনি তাঁর উইলে মোজতবাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করতে নিষেধ করেছিলেন। রিপোর্টে ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান (NUFDI)-এর গবেষক খসরো ইসফাহানি জানিয়েছেন, খামেনির মতে মোজতবার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক ক্যারিশমা বা স্বাধীন পরিচিতি নেই। তা সত্ত্বেও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর প্রবল চাপে মোজতবাকে এই পদে বসাতে বাধ্য হয়েছে ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস'। অভিযোগ উঠেছে, বহু ধর্মীয় নেতাকে সভায় যোগ দিতেই দেওয়া হয়নি। মূলত সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকতেই এই ছক কষা হয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হলেও, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে যে তিনি বর্তমানে 'সুস্থ ও নিরাপদ' আছেন।  ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম বাবার পর ছেলে শীর্ষ পদে বসার ঘটনায় ইরানি বিপ্লবের 'পরিবারতন্ত্র বিরোধী' আদর্শ বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

২৭ মিনিট Ago
সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি চেয়ে চিঠি দিল বাংলাদেশ

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে যে পরিমাণ জ্বালানি আসে, তার বাইরেও জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি সহায়তা চেয়ে ভারত সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপদকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সাথে জ্বালানি মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সম্বলিত চিঠিটি তারা গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে সরাসরি ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ৮০ হাজার টন সরবরাহের কথা রয়েছে।  আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ভারতের এই অতিরিক্ত সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪৬ মিনিট Ago
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
আমেরিকা
দায় এড়ানোর চেষ্টা, ইরানে মার্কিন হামলায় ১৬৮ শিশুর মৃত্যু নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মার্কিন সংশ্লিষ্টতার খবর সামনে আসলেও তা নিয়ে ‘অজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিক সামরিক তদন্তে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে আজ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।” তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা সংক্রান্ত তথ্যের (outdated targeting data) কারণে এই ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি ঘটে থাকতে পারে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলার জন্য ইরানকেই পরোক্ষভাবে দায়ী করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নিজের প্রশাসনের পক্ষ থেকেই কেন এর পক্ষে কোনো শক্তিশালী প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, “আমি এ বিষয়ে যথেষ্ট জানি না।” ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু এবং ১৪ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
আয়াতোল্লা আলি খামেনি ও তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি
উইলে চাঞ্চল্যকর তথ্য: নিজের ছেলেকে সুপ্রিম লিডার করতে চাননি খামেনি!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী 'সুপ্রিম লিডার' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই নিয়োগ ঘিরেই এখন উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি।  'দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট'-এর একটি বিস্ফোরক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খোদ খামেনি তাঁর উইলে মোজতবাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করতে নিষেধ করেছিলেন। রিপোর্টে ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান (NUFDI)-এর গবেষক খসরো ইসফাহানি জানিয়েছেন, খামেনির মতে মোজতবার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক ক্যারিশমা বা স্বাধীন পরিচিতি নেই। তা সত্ত্বেও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর প্রবল চাপে মোজতবাকে এই পদে বসাতে বাধ্য হয়েছে ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস'। অভিযোগ উঠেছে, বহু ধর্মীয় নেতাকে সভায় যোগ দিতেই দেওয়া হয়নি। মূলত সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকতেই এই ছক কষা হয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হলেও, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে যে তিনি বর্তমানে 'সুস্থ ও নিরাপদ' আছেন।  ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম বাবার পর ছেলে শীর্ষ পদে বসার ঘটনায় ইরানি বিপ্লবের 'পরিবারতন্ত্র বিরোধী' আদর্শ বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান
পুরো অঞ্চল আগুনে জড়ানোর আগেই ইরানের যুদ্ধ থামাতে হবে: এরদোয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আগেই ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হতে পারে। একই সঙ্গে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আগে এবং পুরো অঞ্চল আগুনে জড়িয়ে পড়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হলে তা সম্ভব।”   এরদোয়ান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তুরস্ক খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা থেকে তুরস্ককে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।   এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার পর সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।   এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর থেকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।   এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এরদোয়ান সরাসরি তার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন।   রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারার নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উৎসাহিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।   তবে অনেক বিশ্বনেতার মতো তিনিও বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।   সূত্র: রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের পাল্টা জবাবে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে বাড়ছে উদ্বেগ

মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।   সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ওয়াশিংটন তাদের আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে হয়।   এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সহজ হবে না, এবং এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে মোস্ট ওয়ান্টেড ভারতীয় প্রবাসী, গ্রেপ্তারে মিলবে ১ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত পলাতক আসামি ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবাসী ভদ্রেশকুমার চেতনভাই প্যাটেলকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাকে ধরতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভবেশ কুমার প্যাটেল ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডানকিন ডোনাটস দোকানের ভেতরে তার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঘটনার পরপরই তিনি পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।   তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য কোনো দেশে পালিয়ে থাকতে পারেন। তার ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকায় তিনি ভারতে বা অন্য কোনো দেশে ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।   এফবিআই জানিয়েছে, এই মামলায় আগে কম পরিমাণ পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও গ্রেপ্তারে অগ্রগতি না হওয়ায় পুরস্কার বাড়িয়ে ১ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পলাতক আসামি।   সংস্থাটি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা এফবিআইকে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের নতুন বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে অথবা সেগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এসব স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সীমিত পর্যায়ে নেই এবং তা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   এদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান
পুরো অঞ্চল আগুনে জড়ানোর আগেই ইরানের যুদ্ধ থামাতে হবে: এরদোয়ান
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১২, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আগেই ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হতে পারে। একই সঙ্গে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আগে এবং পুরো অঞ্চল আগুনে জড়িয়ে পড়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হলে তা সম্ভব।”   এরদোয়ান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তুরস্ক খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা থেকে তুরস্ককে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।   এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার পর সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।   এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর থেকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।   এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এরদোয়ান সরাসরি তার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন।   রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারার নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উৎসাহিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।   তবে অনেক বিশ্বনেতার মতো তিনিও বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।   সূত্র: রয়টার্স

আয়াতোল্লা আলি খামেনি ও তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি
উইলে চাঞ্চল্যকর তথ্য: নিজের ছেলেকে সুপ্রিম লিডার করতে চাননি খামেনি!
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী 'সুপ্রিম লিডার' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই নিয়োগ ঘিরেই এখন উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি।  'দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট'-এর একটি বিস্ফোরক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খোদ খামেনি তাঁর উইলে মোজতবাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করতে নিষেধ করেছিলেন। রিপোর্টে ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান (NUFDI)-এর গবেষক খসরো ইসফাহানি জানিয়েছেন, খামেনির মতে মোজতবার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক ক্যারিশমা বা স্বাধীন পরিচিতি নেই। তা সত্ত্বেও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর প্রবল চাপে মোজতবাকে এই পদে বসাতে বাধ্য হয়েছে ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস'। অভিযোগ উঠেছে, বহু ধর্মীয় নেতাকে সভায় যোগ দিতেই দেওয়া হয়নি। মূলত সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকতেই এই ছক কষা হয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হলেও, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে যে তিনি বর্তমানে 'সুস্থ ও নিরাপদ' আছেন।  ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম বাবার পর ছেলে শীর্ষ পদে বসার ঘটনায় ইরানি বিপ্লবের 'পরিবারতন্ত্র বিরোধী' আদর্শ বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীদের মধ্যে ফাটল
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে আদর্শিক ও কৌশলগত বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, জাতীয়তাবাদ, পররাষ্ট্রনীতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে ইউরোপের এই রক্ষণশীল শক্তিগুলো এখন দুই ভাগে বিভক্ত। ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীদের একটি অংশ, যাদের 'আটলান্টিসিস্ট' (Atlanticists) বলা হয়, তারা সরাসরি এই যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পপুলিস্ট দল 'রিফর্ম ইউকে'-র প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল ফারাজ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই "অপরিহার্য যুদ্ধে" আমেরিকাকে পূর্ণ সমর্থন দেন। স্পেনের কট্টর ডানপন্থী দল 'ভক্স' (Vox)-ও এই যুদ্ধের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে, জার্মানির 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (AfD)-র মতো দলগুলো এই যুদ্ধের বিষয়ে বেশ সতর্ক। দলটির সহ-সভাপতি টিনো শ্রুপাল্লা সতর্ক করে বলেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন "যুদ্ধের প্রেসিডেন্ট" হয়ে উঠছেন। তাদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নতুন করে শরণার্থী স্রোত ইউরোপের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ দেখা গেছে। কট্টর ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত টমি রবিনসন যুদ্ধের পক্ষে উল্লাস প্রকাশ করলেও, 'ব্রিটেন ফার্স্ট' দলের নেতা পল গোল্ডিং বলেছেন, "এটি আমাদের লড়াই নয়, আমাদের যুদ্ধ নয়। আমাদের উচিত আগে ব্রিটেনকে প্রাধান্য দেওয়া।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজনের মূলে রয়েছে জাতীয়তাবাদ। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টিম বেল জানান, কট্টর ডানপন্থীরা অভিবাসন ইস্যুতে একমত হলেও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তাদের জাতীয় স্বার্থ ভিন্ন। কেউ আমেরিকাকে কৌশলগত মিত্র মনে করে, আবার কেউ মনে করে বিদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া তাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর। সুইডিশ গবেষক মরগান ফিনসিও বলেন, এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও এই দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি দেখা গিয়েছিল। এখন ইরান ইস্যু সেই ফাটলকে আরও প্রশস্ত করছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ভিন্নতাই এই দলগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন মেরুতে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের প্রতি এই সমর্থন বা বিরোধিতা আগামী নির্বাচনগুলোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটেনে নাইজেল ফারাজের যুদ্ধংদেহী মনোভাব তার কট্টর সমর্থকদের খুশি করলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, রিফর্ম ইউকে-র মাত্র ২৮ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। সামগ্রিকভাবে, ইরানের ওপর এই হামলা ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী ঐক্যের সীমাবদ্ধতাকেই আবারও বিশ্বদরবারে উন্মোচিত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই
ইইউ-এর নতুন নিষেধাজ্ঞা ‘অযৌক্তিক ও বেআইনি’: তীব্র প্রতিবাদ ইরানের
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান।  ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপ কেবল ‘অযৌক্তিক’ নয়, বরং এটি ‘অনৈতিক’ এবং ‘পুরোপুরি বেআইনি’। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে ইরানকে শাস্তি দিতেই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানান যে, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ১৯ জন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন এই নিষেধাজ্ঞা সদস্য রাষ্ট্রগুলো অনুমোদন করেছে। তবে ইরান এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
175 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
191 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
126 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়