বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই সম্প্রসারিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে মুদ্রা বিনিময়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার জানা জরুরি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ— বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা ইউএস ডলার (USD) ১২৩.১২ ইউরো (EUR) ১৪১.৮০ ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ১৬৪.৪৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) ৮৭.০২ জাপানি ইয়েন (JPY) ০.৭৭৫ কানাডিয়ান ডলার (CAD) ৯০.৩০ সুইডিশ ক্রোনা (SEK) ১৩.১৬ সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) ৯৬.২৫ চীনা ইউয়ান রেনমিনবি (CNY) ১৭.৯২ ভারতীয় রুপি (INR) ১.৩৩ শ্রীলঙ্কান রুপি (LKR) ২.৫৪ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) ৩১.৩০ সৌদি রিয়াল (SAR) ৩২.৮১ কাতারি রিয়াল (QAR) ৩৩.৬০ কুয়েতি দিনার (KWD) ৪০০.২৬ ওমানি রিয়াল (OMR) ৩১৭.০০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED) ৩৩.৩৪ বাহরাইনি দিনার (BHD) ৩২৫.৭৬ সুইস ফ্রাঁ (CHF) ১৫৩.৬২ দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW) ০.০৮২ মুদ্রার বিনিময় হার যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: গুগল
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনামগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উত্তাপ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তদন্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি- আজকের পত্রিকাগুলোর শিরোনামে উঠে এসেছে এসব বিষয়। প্রথম আলো— “সময়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যও পাল্টে যায়” প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে তিনটি ভিন্ন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন বক্তব্যে তাদের প্রশংসা করেছেন, যদিও সরকারগুলো একই রাজনৈতিক ধারার নয়। যে রাষ্ট্রপতিকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত হিসেবে দেখা হয়েছে, তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণে ভিন্ন সুর লক্ষ করা গেছে। তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যখন ফ্যাসিবাদী সরকারের কথা বলছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে দুই বছর আগের অবস্থানের স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। বিএনপি ও জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, একটি মহল সহিংসতা সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের যাত্রাপথে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তখন তিনি বক্তব্য শেষ করেছিলেন “জয় বাংলা” বলে। আর এবার তিনি বক্তব্য শেষ করেন “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি কারণ এর প্রকৃতি। সাধারণত এই ভাষণ রাষ্ট্রপতি নিজে লেখেন না; এটি সরকার বা মন্ত্রিসভা প্রস্তুত করে থাকে। রাষ্ট্রপতি সংসদে তা পাঠ করেন এবং পরে সেই ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়। তবে এবারের সংসদ গঠিত হয়েছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। সমকাল— “তেল সরবরাহ কমেছে ৪৫%, কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও লাইন” খবরে বলা হয়েছে, কোটা নীতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাম্প মালিক ও পরিবেশকরা। তাদের দাবি, কাগজে সরবরাহ কমানো হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ; কিন্তু বাস্তবে তা আরও বেশি কমে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। মাঠের চিত্রেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সরকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। অনেক জায়গায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে। মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প একবেলা বন্ধ রাখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ডিপো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিপিসি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বেড়েছে এলএনজির দামও। ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। এপ্রিল–মে মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৩১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। নিউ এইজ— “13th JS maiden session begins amid walkout”, অর্থাৎ ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে প্রায় ২০ মাস আগে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই সর্বশেষ সংসদ অধিবেশন বসেছিল। নতুন সংসদের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও ওয়াকআউট করেন। এতে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিরোধী দল সংসদের গঠনমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। স্পিকার না থাকায় তাঁর চেয়ার ফাঁকা রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে যথাক্রমে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও কায়সার কামাল–এর মনোনয়নের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। পরে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন। এরপর সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয় এবং স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেল মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বণিক বার্তা— “বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও সিমেন্ট খাতে উদ্বৃত্ত উৎপাদন নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র” খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও সিমেন্ট উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং উদ্বৃত্ত উৎপাদনের লক্ষণ রয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত এ ধারণাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছে দেশটি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি অর্থনীতিকে নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)। এ বিষয়ে গত বুধবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদনসংক্রান্ত বিষয়ে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারার অধীনে বিভিন্ন অর্থনীতির কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চার ওপর তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চা অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সেগুলো মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সংকুচিত করছে কি না তা যাচাই করা হবে। তদন্তের আওতায় থাকা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের — “US probes Bangladesh's export incentives, BGMEA ‘uncomfortable’।” অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি প্রণোদনা নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র; এ বিষয়ে বিজিএমইএ বলছে, বিষয়টি ‘অস্বস্তিকর’ খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাকে অস্বস্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে মনে করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্কারোপ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তাঁর মতে, বাংলাদেশে রপ্তানি প্রণোদনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্তের বড় অংশ এসেছে টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি থেকে। বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৪৩টি খাতে রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালে দেশের মোট সিমেন্ট ব্যবহার ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ টন, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। ২০২৫ সালে এ ব্যবহার আরও কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করে, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার এই খাতে নগদ প্রণোদনা দিলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন বা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। আজকের পত্রিকা — “দিনে আটকা ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য” খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ছে। পরিস্থিতি সমাধানে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৭৫টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, যাতে পণ্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, নিয়মিত ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, কারণ নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পৌঁছালে ক্রেতারা বিমুখ হয়ে যেতে পারেন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনা করে অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। নয়া দিগন্তে —“দুবাই, লেবানন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে চতুর্মুখী সঙ্কটে বাংলাদেশিরা” খবরে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনা শুরুর পর থেকে সৌদি আরব, দুবাই, লেবানন, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশে থাকা বাংলাদেশিরা চরম অসুবিধার মুখে পড়েছেন। কোনো দেশে চাকরি হারানো, আবার কোনো দেশে চাকরি থাকলেও ঠিকমতো বেতন বা ভাতা না পাওয়া, এবং ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসতে পারছেন না। ফলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় প্রবাসীদের মৃত্যু হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ তাদের লাশ দেশে পাঠাতে পারছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের সম্মতি নিয়ে প্রবাসীর লাশ স্থানীয়ভাবেই দাফন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালের কণ্ঠ — “বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ নিহত ১৪” খবরে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বর-কনের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায়, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাস রামপালের বেলাই ব্রিজে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে চারজন মারা যান।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের কয়েকটি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি জেলার বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন ডিসি নিয়োগের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠ প্রশাসনে সমন্বয় আনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক পর্যায়ে এটি প্রথম বড় পরিবর্তন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর ১ মার্চ গাজীপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসিদের প্রত্যাহার করা হয়। যদিও প্রত্যাহার করা কর্মকর্তাদের এখনও অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) রাখা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসকরা হলেন— গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ। উল্লেখ্য, তারা গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, এই পাঁচ জেলার পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং সরকারের নীতি বাস্তবায়নে দ্রুতই নতুন জেলা প্রশাসকরা দায়িত্ব নেবেন। জেলা প্রশাসকরা সরকারের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাঠ প্রশাসনে গতি ফেরাতে নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, তারা মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করুক। বিষয়টি জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে উদ্ধৃত করে। আইআরজিসি’র গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাজার হাজার মার্কিন সেনা হোটেল, ব্যক্তিগত আবাস বা বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন “আমাদের আরব ভাইদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।” বার্তায় বলা হয়েছে, “আমরা বাধ্য হচ্ছি মার্কিন সেনাদের শনাক্ত করতে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে। তাই হোটেলগুলোতে তাদের আশ্রয় না দেওয়াই ভালো এবং তাদের অবস্থান থেকে অন্যদের দূরে থাকা উচিত।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “মার্কিন সেনাদের লুকিয়ে থাকার স্থানগুলো সঠিকভাবে জানানো মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণের ইসলামী দায়িত্ব। সেই তথ্য আমাদের কাছে টেলিগ্রামে পাঠাতে হবে।” সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনামগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উত্তাপ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তদন্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি- আজকের পত্রিকাগুলোর শিরোনামে উঠে এসেছে এসব বিষয়। প্রথম আলো— “সময়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যও পাল্টে যায়” প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে তিনটি ভিন্ন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন বক্তব্যে তাদের প্রশংসা করেছেন, যদিও সরকারগুলো একই রাজনৈতিক ধারার নয়। যে রাষ্ট্রপতিকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত হিসেবে দেখা হয়েছে, তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণে ভিন্ন সুর লক্ষ করা গেছে। তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যখন ফ্যাসিবাদী সরকারের কথা বলছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে দুই বছর আগের অবস্থানের স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। বিএনপি ও জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, একটি মহল সহিংসতা সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের যাত্রাপথে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তখন তিনি বক্তব্য শেষ করেছিলেন “জয় বাংলা” বলে। আর এবার তিনি বক্তব্য শেষ করেন “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি কারণ এর প্রকৃতি। সাধারণত এই ভাষণ রাষ্ট্রপতি নিজে লেখেন না; এটি সরকার বা মন্ত্রিসভা প্রস্তুত করে থাকে। রাষ্ট্রপতি সংসদে তা পাঠ করেন এবং পরে সেই ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়। তবে এবারের সংসদ গঠিত হয়েছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। সমকাল— “তেল সরবরাহ কমেছে ৪৫%, কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও লাইন” খবরে বলা হয়েছে, কোটা নীতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাম্প মালিক ও পরিবেশকরা। তাদের দাবি, কাগজে সরবরাহ কমানো হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ; কিন্তু বাস্তবে তা আরও বেশি কমে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। মাঠের চিত্রেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সরকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। অনেক জায়গায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে। মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প একবেলা বন্ধ রাখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ডিপো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিপিসি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বেড়েছে এলএনজির দামও। ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। এপ্রিল–মে মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৩১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। নিউ এইজ— “13th JS maiden session begins amid walkout”, অর্থাৎ ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে প্রায় ২০ মাস আগে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই সর্বশেষ সংসদ অধিবেশন বসেছিল। নতুন সংসদের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও ওয়াকআউট করেন। এতে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিরোধী দল সংসদের গঠনমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। স্পিকার না থাকায় তাঁর চেয়ার ফাঁকা রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে যথাক্রমে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও কায়সার কামাল–এর মনোনয়নের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। পরে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন। এরপর সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয় এবং স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেল মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বণিক বার্তা— “বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও সিমেন্ট খাতে উদ্বৃত্ত উৎপাদন নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র” খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও সিমেন্ট উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং উদ্বৃত্ত উৎপাদনের লক্ষণ রয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত এ ধারণাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছে দেশটি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি অর্থনীতিকে নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)। এ বিষয়ে গত বুধবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদনসংক্রান্ত বিষয়ে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারার অধীনে বিভিন্ন অর্থনীতির কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চার ওপর তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চা অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সেগুলো মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সংকুচিত করছে কি না তা যাচাই করা হবে। তদন্তের আওতায় থাকা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের — “US probes Bangladesh's export incentives, BGMEA ‘uncomfortable’।” অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি প্রণোদনা নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র; এ বিষয়ে বিজিএমইএ বলছে, বিষয়টি ‘অস্বস্তিকর’ খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাকে অস্বস্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে মনে করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্কারোপ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তাঁর মতে, বাংলাদেশে রপ্তানি প্রণোদনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্তের বড় অংশ এসেছে টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি থেকে। বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৪৩টি খাতে রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালে দেশের মোট সিমেন্ট ব্যবহার ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ টন, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। ২০২৫ সালে এ ব্যবহার আরও কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করে, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার এই খাতে নগদ প্রণোদনা দিলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন বা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। আজকের পত্রিকা — “দিনে আটকা ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য” খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ছে। পরিস্থিতি সমাধানে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৭৫টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, যাতে পণ্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, নিয়মিত ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, কারণ নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পৌঁছালে ক্রেতারা বিমুখ হয়ে যেতে পারেন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনা করে অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। নয়া দিগন্তে —“দুবাই, লেবানন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে চতুর্মুখী সঙ্কটে বাংলাদেশিরা” খবরে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনা শুরুর পর থেকে সৌদি আরব, দুবাই, লেবানন, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশে থাকা বাংলাদেশিরা চরম অসুবিধার মুখে পড়েছেন। কোনো দেশে চাকরি হারানো, আবার কোনো দেশে চাকরি থাকলেও ঠিকমতো বেতন বা ভাতা না পাওয়া, এবং ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসতে পারছেন না। ফলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় প্রবাসীদের মৃত্যু হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ তাদের লাশ দেশে পাঠাতে পারছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের সম্মতি নিয়ে প্রবাসীর লাশ স্থানীয়ভাবেই দাফন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালের কণ্ঠ — “বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ নিহত ১৪” খবরে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বর-কনের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায়, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাস রামপালের বেলাই ব্রিজে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে চারজন মারা যান।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, তারা মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করুক। বিষয়টি জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে উদ্ধৃত করে। আইআরজিসি’র গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাজার হাজার মার্কিন সেনা হোটেল, ব্যক্তিগত আবাস বা বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন “আমাদের আরব ভাইদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।” বার্তায় বলা হয়েছে, “আমরা বাধ্য হচ্ছি মার্কিন সেনাদের শনাক্ত করতে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে। তাই হোটেলগুলোতে তাদের আশ্রয় না দেওয়াই ভালো এবং তাদের অবস্থান থেকে অন্যদের দূরে থাকা উচিত।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “মার্কিন সেনাদের লুকিয়ে থাকার স্থানগুলো সঠিকভাবে জানানো মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণের ইসলামী দায়িত্ব। সেই তথ্য আমাদের কাছে টেলিগ্রামে পাঠাতে হবে।” সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার মধ্যে লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মিত্রদেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সময়ে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ শুরু করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালায়। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। শুক্রবার এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তারা এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে উল্লেখ করে। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ইসরাইলকে যেন লেবাননের ওপর ধারাবাহিক হামলা বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন মেনে চলতে বাধ্য করা হয়। কাতার আরও জানায়, লেবাননের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের সমর্থন অটুট থাকবে। একই সঙ্গে দেশটির স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নেওয়া সব উদ্যোগকে তারা সমর্থন জানায়। এদিকে গত সোমবার থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু রয়েছে। পাশাপাশি এসব হামলার ফলে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় নাজারেথের কাছে অবস্থিত একটি গ্রামে অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইসরাইলি সরকারি টেলিভিশন Kan News জানিয়েছে, নাজারেথের কাছের জারজির গ্রামে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। আহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হামলার আগে বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। একই সময়ে লেবাননের সীমান্তঘেঁষা উত্তর দিক থেকেও হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই সম্প্রসারিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে মুদ্রা বিনিময়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার জানা জরুরি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ— বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা ইউএস ডলার (USD) ১২৩.১২ ইউরো (EUR) ১৪১.৮০ ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ১৬৪.৪৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) ৮৭.০২ জাপানি ইয়েন (JPY) ০.৭৭৫ কানাডিয়ান ডলার (CAD) ৯০.৩০ সুইডিশ ক্রোনা (SEK) ১৩.১৬ সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) ৯৬.২৫ চীনা ইউয়ান রেনমিনবি (CNY) ১৭.৯২ ভারতীয় রুপি (INR) ১.৩৩ শ্রীলঙ্কান রুপি (LKR) ২.৫৪ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) ৩১.৩০ সৌদি রিয়াল (SAR) ৩২.৮১ কাতারি রিয়াল (QAR) ৩৩.৬০ কুয়েতি দিনার (KWD) ৪০০.২৬ ওমানি রিয়াল (OMR) ৩১৭.০০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED) ৩৩.৩৪ বাহরাইনি দিনার (BHD) ৩২৫.৭৬ সুইস ফ্রাঁ (CHF) ১৫৩.৬২ দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW) ০.০৮২ মুদ্রার বিনিময় হার যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: গুগল
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, বিশেষ লাইসেন্সের মাধ্যমে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজে লোড করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্রেজারির অধীন সংস্থা অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন পরিস্থিতিতে সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে তেলের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেটিও এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে হয়। ফলে পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের সদস্য দেশগুলোকে সরকারি মজুত থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন সূত্র বলছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান তাদের তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। পারস্য উপসাগরে অন্য দেশগুলোর তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেলের মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, তারা মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করুক। বিষয়টি জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে উদ্ধৃত করে। আইআরজিসি’র গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাজার হাজার মার্কিন সেনা হোটেল, ব্যক্তিগত আবাস বা বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন “আমাদের আরব ভাইদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।” বার্তায় বলা হয়েছে, “আমরা বাধ্য হচ্ছি মার্কিন সেনাদের শনাক্ত করতে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে। তাই হোটেলগুলোতে তাদের আশ্রয় না দেওয়াই ভালো এবং তাদের অবস্থান থেকে অন্যদের দূরে থাকা উচিত।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “মার্কিন সেনাদের লুকিয়ে থাকার স্থানগুলো সঠিকভাবে জানানো মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণের ইসলামী দায়িত্ব। সেই তথ্য আমাদের কাছে টেলিগ্রামে পাঠাতে হবে।” সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় নাজারেথের কাছে অবস্থিত একটি গ্রামে অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইসরাইলি সরকারি টেলিভিশন Kan News জানিয়েছে, নাজারেথের কাছের জারজির গ্রামে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। আহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হামলার আগে বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। একই সময়ে লেবাননের সীমান্তঘেঁষা উত্তর দিক থেকেও হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইসরাইল এখন ইরান-এর বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছে আল জাজিরা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরাইলি হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নেতানিয়াহুর মতে, সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইরান তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিরাপদে ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি। তিনি মন্তব্য করেন, “ইরান এখন আর আগের মতো অবস্থায় নেই।” সংবাদ সম্মেলনে ইরানের নতুন নির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং হিজবুল্লাহ-এর নেতা নাঈম কাসেম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি তাদের কাউকে সরাসরি জীবননাশের হুমকি দিতে চান না। তবে তিনি দাবি করেন, খামেনি মূলত রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন এবং প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা যাচ্ছেন। ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন—বিশেষ করে গত জানুয়ারির বিক্ষোভকারীরা—তাদের প্রতি ইসরাইল সমর্থন জানায়। তবে তিনি এটিও বলেন যে, শেষ পর্যন্ত দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ইরানের জনগণের হাতেই। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নতুন আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সে লক্ষ্যে ইসরাইল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলার কারণে কয়েকটি তেল টার্মিনাল সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে এবং এতে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পশ্চিম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিফুয়েলিং বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তাদের একটি কেসি–১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমার ভেতরে বিধ্বস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই দুর্ঘটনায় নিহত বা আহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনায় দুটি বিমান জড়িত থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনা শত্রুপক্ষের হামলা বা বন্ধুসুলভ গুলির কারণে ঘটেনি। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এর মধ্যেই গত ১ মার্চ আরেক ঘটনায় তিনটি F‑15 Strike Eagle ভুলবশত কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে ভূপাতিত হয়। তবে ওই ঘটনায় বিমানগুলোর ছয়জন ক্রু সদস্য নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির ভেতরে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবও বাড়ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম সংঘাত যেখানে শুরু থেকেই জনসমর্থন তুলনামূলক কম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।