- প্রচ্ছদ
- Topic
আইন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনকে লক্ষ্য করে একাধিক কঠোর আইন করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক কর্মী হিজাব, হালাল খাবার, ইসলামিক স্কুল এবং মুসলিম সংগঠন নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছেন। আগস্টের শুরুতে ‘ট্রু টেক্সাস প্রজেক্ট’ আয়োজিত এক রাজনৈতিক সম্মেলনে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মুসলিমদের প্রভাবকে ‘ইসলামিফিকেশন অব টেক্সাস’ হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন বক্তা কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। স্টেট সিনেটর বব হল বলেন, টেক্সাসে শরিয়াহ আইন ঠেকানো তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আর স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যান্ডি হপার এমন কিছু প্রস্তাবের কথা বলেন, যেগুলোর লক্ষ্য মুসলিমদের জন্য জীবনকে ‘কঠিন’ করে তোলা। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবলিক স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করা, হালাল খাবার বিক্রিতে বিধিনিষেধ, ইসলামিক চার্টার স্কুল বন্ধ করা এবং মুসলিম সংগঠনগুলোর ওপর আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক তদন্ত বাড়ানো। কিছু প্রস্তাবে মুসলিমদের পেশাগত লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ইসলামকে ধর্মের পরিবর্তে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে সেটিকে নিষিদ্ধ করার পথ তৈরির কথাও সম্মেলনে উঠে আসে। তবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি এবং আগামী আইনসভা অধিবেশনে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা স্পষ্ট নয়। টেক্সাসের মুসলিম সম্প্রদায় অবশ্য এসব উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে। স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ সালমান ভোজানি, যিনি ২০২২ সালে টেক্সাস হাউসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন, বলেন, টেক্সাসের মুসলিমরা কোনো হুমকি নয়; তারা এই রাজ্যেরই অংশ। আইন বিশেষজ্ঞরাও প্রস্তাবগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ ডগলাস লেকক বলেছেন, ধর্মীয় পোশাক বা ধর্মীয় চর্চাকে লক্ষ্য করে এমন আইন হলে তা প্রথম সংশোধনীর অধিকার নিয়ে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, টেক্সাসের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম বলে পরিচয় দেন। এরই মধ্যে টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বিতর্কের মধ্যে মসজিদ নির্মাণ, ইসলামিক আবাসিক প্রকল্প ও মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হালাল খাবার নিষিদ্ধ করার কোনো আইন বর্তমানে টেক্সাসে কার্যকর নেই। বরং টেক্সাস আইনসভায় অতীতে পাবলিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের বিকল্প রাখার প্রস্তাবও উঠেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালে শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করার আরও উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হিজাব বা হালাল খাবার নিষিদ্ধ করার নির্দিষ্ট প্রস্তাবে গভর্নর সমর্থন করবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। টেক্সাস আইনসভায় আগামী অধিবেশনের জন্য বিল প্রি-ফাইলিং শুরু হবে ৯ নভেম্বর, আর আইনসভা অধিবেশন শুরু হবে ১২ জানুয়ারি। অর্থাৎ, এসব প্রস্তাব এখনো মূলত রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও আলোচনার পর্যায়ে। তবে এগুলো বাস্তব আইনে রূপ নিলে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে টেক্সাসে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
টেক্সাসের সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ (দশ আদেশ) প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। হিউস্টন এলাকার তিনজন মা অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ নির্ধারণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। মামলায় বলা হয়েছে, টেক্সাসের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীতে অভিভাবকদের সন্তান লালন-পালন ও ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া টেক্সাস রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত আকার ও বিন্যাসে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন করতে হবে। পোস্টার দান করা হলে স্কুলগুলো তা টানাবে, আর প্রয়োজন হলে জেলা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থেও তা কিনতে পারবে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি ঐতিহ্যের অংশ। তবে বাদীপক্ষের অভিভাবকদের বক্তব্য, সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তাদের মতে, পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের, রাষ্ট্রের নয়। এটি টেক্সাসে এ ধরনের প্রথম মামলা নয়। এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অধর্মীয় পরিবারের সদস্যরা একই আইনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। সেইসব মামলায় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র-ধর্ম পৃথক থাকার নীতির প্রশ্নও সামনে আসে। অন্যদিকে, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন বরাবরই আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ‘দশ আদেশ’ আমেরিকার আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রদর্শন করা আইনসঙ্গত। নতুন মামলার শুনানির মাধ্যমে টেক্সাসের এই বিতর্কিত আইন নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলার ফলাফল শুধু টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অবমাননা করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনতে নতুন আইন প্রণয়নের পথে এগিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ লক্ষ্যে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যসভায় কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি পাস হয়। এখন এটি লোকসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে বিলটি আইনে পরিণত হবে। বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় রাজ্যসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী সদস্যরা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ চললেও স্পিকার অধিবেশন চালিয়ে যান এবং সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে উঠলে বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করে। বিলের জবাবি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সম্মান এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু বিপ্লবী ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মৃত্যুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্ব অপরিসীম। কংগ্রেস কেন এ সংগীতের বিরোধিতা করছে, তা তার বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-সহ জাতীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা বা অসম্মানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে এসব জাতীয় প্রতীক অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর এটি লোকসভার অনুমোদন এবং পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নতুন আইন কার্যকর হবে।
দীর্ঘ আট মাসের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বিতর্কের পর জনপরিসরে মুখ ঢাকা বা বোরকা পরিধান নিষিদ্ধের আইন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে পর্তুগালের সংসদ। নতুন এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো স্থানে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা এখন থেকে বেআইনি বলে গণ্য হবে। কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাকে প্রাথমিকভাবে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জোরপূর্বক এই আইন অমান্য করলে জরিমানার পরিমাণ ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। নতুন এই আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বয়স, লিঙ্গ, ধর্মীয় পরিচয় বা অন্য কোনো কারণে কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করা যাবে না। গত শুক্রবার সংসদে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত সাধারণ ভোটে ডানপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলোর সমর্থনে বিলটি পাস হয়। শেগা, ইনিশিয়েটিভা লিবারেল, পিএসডি এবং সিডিএস-এর মতো দলগুলো এই বিলের পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে, বামপন্থী সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন। মূলত কট্টরপন্থী শেগা পার্টির নেতা আন্দ্রে ভেঞ্চুরার নেতৃত্বাধীন দলটি প্রথম এই প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেছিল। চূড়ান্ত ভোটের আগে গত সপ্তাহে সাংবিধানিক বিষয়ক কমিটিতেও বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে অনুমোদিত হয়। জানা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বিলটি নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছিল এবং তারপর থেকেই এটি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এরপর চলতি বছরের জুনে পিএসডি দল শেগার মূল প্রস্তাবের বিপরীতে একটি বিকল্প খসড়া উপস্থাপন করে, যেখানে সরাসরি ধর্মীয় কারণের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শেগা তাদের আগের প্রস্তাবে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে নতুন খসড়া তৈরি করে। চূড়ান্ত আইনে মূলত জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থকেই জনপরিসরে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টে এক নাটকীয় দিন। একদিনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় প্রকাশ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এর মধ্যে একটি রায়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বাকি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালত তাঁর অবস্থানের বিপক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে একই দিনে বড় একটি আইনি সাফল্যের পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কার মুখে পড়েছেন তিনি। বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্তগুলো দেখিয়েছে যে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট সব ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতিরাও একমত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায়টি ছিল স্বাধীন ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের অপসারণে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে। প্রায় ৯০ বছর আগে দেওয়া একটি ঐতিহাসিক নজিরে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের গঠিত স্বাধীন সংস্থার কমিশনারদের প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো বরখাস্ত করতে পারবেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের চ্যালেঞ্জের পর সুপ্রিম কোর্ট সেই দীর্ঘদিনের নজির বাতিল করে দেয়। ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, যারা প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তারা প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে অপসারণযোগ্য হওয়া উচিত। এতে তারা প্রেসিডেন্টের কাছে এবং প্রেসিডেন্ট জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকবেন। এই রায়ের ফলে শুধু বর্তমান প্রেসিডেন্টই নন, ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টরাও ফেডারেল ট্রেড কমিশনসহ বিভিন্ন স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের অপসারণ ও নতুন নিয়োগে আগের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতা পাবেন। নির্বাচন, যোগাযোগ, শ্রম, আর্থিক ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার ক্ষেত্রেও এই নজির প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। রায়ের পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, "৯০ বছরের নজির পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এমন সময়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যখন সেটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।" তবে একই দিনে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে অপসারণের প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পাঁচ-চার ভোটের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ এবং তিন উদারপন্থি বিচারপতি একমত হয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, লিসা কুক বন্ধকী ঋণসংক্রান্ত জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তবে আদালত বলেছে, তাঁকে অপসারণের আগে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। রবার্টস সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্বিচারে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, তাহলে তার গুরুতর পরিণতি হতে পারে। নির্বাচনী ব্যবস্থাসংক্রান্ত আরেকটি মামলাতেও ট্রাম্প পরাজিত হন। ডাকযোগে পাঠানো ভোট নির্বাচন দিনের ডাকমোহর থাকলে পরে পৌঁছালেও তা গণনা করা যাবে কি না, এ প্রশ্নে আদালত ট্রাম্পের আপত্তি খারিজ করে দেয়। এই মামলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণের ব্যাপক ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর রয়েছে। ডাকযোগে ভোট নিয়ে জালিয়াতির আশঙ্কার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি আদালত গ্রহণ করেনি। এই রায়ের পর ট্রাম্প কংগ্রেসকে তাঁর নির্বাচনী সংস্কার প্রস্তাব পাস করার আহ্বান জানান। ওই প্রস্তাবে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। দিনের আরেকটি বড় ধাক্কা আসে লেখক ই. জিন ক্যারলের করা মানহানি মামলায়। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকে। ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯০-এর দশকে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালত ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্ট কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ করে দেয়। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি মানহানির অভিযোগকে "হাস্যকর" বলেও মন্তব্য করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ৫০ লাখ ডলারের এই মামলায় ট্রাম্পের আইনি লড়াই কার্যত শেষ হয়ে গেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যদিও ক্যারলের পক্ষে দেওয়া পৃথক ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের আরেকটি ক্ষতিপূরণের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল প্রক্রিয়া এখনো চলমান। সোমবারের রায়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা, নির্বাচনী বিধান এবং বিচারিক রায়ের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা টেনে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ নাগরিকের জন্য খুলে গেল কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার এক অভাবনীয় সুযোগ। কানাডার নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের এক সংশোধনী আনার ফলে এখন থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বসবাস করছেন, তাদের অনেকেই আইনিভাবে কানাডীয় হিসেবে গণ্য হবেন। মূল ঘটনা কী? ২০০৯ সাল থেকে কানাডায় একটি নিয়ম প্রচলিত ছিল যে, দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো কানাডীয় নাগরিকের সন্তান যদি দেশের বাইরেই জন্ম নেয়, তবে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেত না। একে বলা হতো 'ফার্স্ট জেনারেশন লিমিট'। কিন্তু গত বছর ওন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট এই নিয়মটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই নিয়মটি বৈষম্যমূলক। এরই প্রেক্ষিতে কানাডা সরকার 'বিল সি-৩' পাস করে, যা গত ডিসেম্বরে কার্যকর হতে শুরু করেছে। এই নতুন আইনের আওতায় যারা জন্মসূত্রে কানাডীয় কিন্তু দেশের বাইরে থাকার কারণে নাগরিকত্ব পাননি (যাদের 'লস্ট কানাডিয়ান্স' বলা হয়), তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা এখন নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। কয়েক প্রজন্ম আগে যাদের পূর্বপুরুষরা কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছিলেন, তারা এখন সহজেই কানাডীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক আমেরিকান একটি 'প্ল্যান বি' বা বিকল্প নাগরিকত্ব হিসেবে কানাডার দিকে ঝুঁকছেন। আবেদন প্রক্রিয়া: ইতিমধ্যেই এই নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নথিপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়ে গেছে। আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা তার আগের কোনো প্রজন্মের সরাসরি রক্তসম্পর্কিত কেউ কানাডার নাগরিক ছিলেন। তবে এক্ষেত্রে আবেদনকারীর কানাডার সাথে একটি 'সুদৃঢ় সংযোগ' (Substantial Connection) থাকতে হবে, যার অর্থ হলো আবেদনকারীর অভিভাবককে কানাডায় নির্দিষ্ট সময় (প্রায় ৩ বছর) বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে আসা আবেদনের হার আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। অনেকে কেবল পারিবারিক শেকড়ের টানে নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কানাডীয় নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী হচ্ছেন।
প্রবল জনরোষ এবং বিরোধী দলগুলোর বাধার মুখে ফ্রান্সে বিতর্কিত ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী বিলটির ওপর ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটি নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও 'ফিলিবাস্টার' বা দীর্ঘ বক্তৃতার মাধ্যমে অধিবেশন আটকে দেওয়ার আশঙ্কায় এর প্রস্তাবকরা সাময়িকভাবে বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নতুন এই বিলটির লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বা 'অ্যান্টি-সেমিটিজম'-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা। ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বর্তমানেও একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে প্রস্তাবিত এই বিলটি সেই সংজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে আরও কঠোর করার কথা বলেছিল। বিলটির প্রস্তাবকরা জানিয়েছেন, এটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি বরং জুন মাসে পুনরায় আলোচনার টেবিলে পেশ করা হবে। মূলত বিরোধীদের রণকৌশলের কাছে নতিস্বীকার করেই আজ এটি আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিলটি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সমালোচকদের দাবি, এই বিলটি পাস হলে ফ্রান্সে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে। তাদের মতে, বিলটিতে 'ইসরায়েল রাষ্ট্র' এবং 'ইহুদি জনগোষ্ঠী'কে একই সূত্রে গেঁথে ফেলা হয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য করা হলে তা উল্টো ইহুদিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং সমাজে বিভেদ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিলটি স্থগিত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এই বিলের বিপক্ষে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিলেন। স্থগিতাদেশের পর প্যারিসের রাজপথে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অন্তত সাময়িকভাবে হলেও একটি বিতর্কিত আইন থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
অপরাধ দমনে এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। এখন থেকে দেশটিতে গুরুতর অপরাধের দায়ে ১২ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশটির সরকার এই নতুন আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, যা আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে-এর নেতৃত্বাধীন সরকার গ্যাং সহিংসতা ও অপরাধ নির্মূলে গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছে। সেই কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই আইনি সংশোধন আনা হলো। নতুন আইন অনুযায়ী, হত্যা, সন্ত্রাসবাদ বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইউনিসেফের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর শাস্তি আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থী এবং এটি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধ দমনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট বুকেলে এই সমালোচনার জবাবে জানিয়েছেন, খুনি এবং ধর্ষকদের কারাগারে আটকে রাখাই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ কারাবন্দী হারের রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নারীদের ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এমন সংগঠিত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে ভেঙে দেওয়া হবে, যারা গর্ভবতী বিদেশি নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন এই প্রবণতা করদাতাদের জন্য বড় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই অবৈধ নয়। কিন্তু কেউ যদি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা প্রতারণার মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে চায়, তাহলে তা আইনের আওতায় পড়বে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় সংবিধানের একটি সংশোধনীর ভিত্তিতে। তবে এই নিয়ম সীমিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, যদি শিশুর বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই আদেশ ইতোমধ্যে একাধিক ফেডারেল আদালত স্থগিত করেছে এবং বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগে মূলত জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং সংগঠিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এ ধরনের ঘটনার নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ সময়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত এক অভিযানে ‘বার্থ হাউস’ পরিচালনার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই ঘটনায় এক চীনা নাগরিক দোষ স্বীকার করে কারাদণ্ড ভোগ করেন।
ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের এক ভয়াবহ নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া নতুন এক আইনে ফিলিস্তিনি শিশুদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা এই আইনকে ‘জল্লাদ আইন’ (The Gallows Law) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই বিলে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আইনে শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ছাড় বা বয়সের সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক আদালতগুলোতে বর্তমানে ১২ বছর বয়সী শিশুকেও বিচার করার বিধান রয়েছে, যা এখন এই প্রাণঘাতী আইনের আওতায় চলে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নয়, বরং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ফিলিস্তিনি শিশুদেরও ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই আইন পাসের মাধ্যমে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এক আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত করার ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে এবং আপিলের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই আইনের অন্যতম প্রধান সমর্থক। তিনি বারবার দাবি করে আসছেন যে, যারা ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালায় তাদের একমাত্র পরিণতি হতে হবে মৃত্যু। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন মূলত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি এবং তাদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) এর তথ্যমতে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রতি বছর শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করে এবং তাদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নতুন এই আইন কার্যকর হলে সামরিক আদালতে শিশুদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে এবং সামান্য অজুহাতে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই বিতর্কিত আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই আইনকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এটি দ্রুত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ব্রিটেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই আইনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে নির্বিচারে হত্যার পাশাপাশি এখন ‘আইনের’ দোহাই দিয়ে শিশুদের ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলের চরম অমানবিকতারই প্রতিফলন। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এই সংশোধনী পাসের ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি আইনিভাবে চূড়ান্ত হলো। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের মূল সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সেই অধ্যাদেশটি বিল আকারে উত্থাপিত হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর ফলে দলটির সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞার আইনি বৈধতা অব্যাহত রইল। এদিন সংসদে আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। সেগুলো হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক সময়ের শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা-র বিয়ে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করায় এটি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই বিবাহ বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী গণমাধ্যমকে জানান, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হলে কাজি আইনত সেই বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না। নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন, বয়স গোপন করে বিয়ে হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিদেশে গিয়ে বিয়ে করলেও তা বাংলাদেশের আইনে বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন এবং ২০২৩ সালেও তিনি স্কুলে অধ্যয়নরত ছিলেন। এসব তথ্য বিবেচনায় তার বয়স আইনি সীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী, বাল্যবিবাহে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। সে হিসেবে, লুবাবার স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ককে শাস্তি না দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে একই মেয়াদে কারাদণ্ড বা ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।