যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী জুনে ৮০ বছর বয়সে পৌঁছাবেন। বয়সের এই কদর্যতা সত্ত্বেও তিনি এখনো কার্যনির্বাহী পদে সক্রিয় থাকলেও, অমর নয়—যা নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করলে ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে হস্তান্তরিত হয়। এতে কোনো ধরনের নির্বাচন বা বিলম্বের প্রয়োজন পড়ে না। তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের মৃত্যুর পরিস্থিতিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে নেতৃত্ব দেবেন। ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আটবার ঘটেছে। এর মধ্যে চারজন প্রেসিডেন্ট হত্যা ও চারজন স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনা ঘটে ১৯৬৩ সালে, যখন জন এফ কেনেডি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ডালাসে হত্যার শিকার হন। সেই সময় লিন্ডন জনসন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে ট্রাম্প ইরানে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চাপের মুখে রয়েছেন। টানা ৩৭ দিন ধরে যুদ্ধ চললেও এখন পর্যন্ত তার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশটির সবচেয়ে বয়সী এই প্রেসিডেন্টের জন্য সংকট মোকাবিলার চাপ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আমদানিকৃত পেটেন্ট করা বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে এই শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পাবেন। হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশীয় ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হবে, কারণ এই শুল্ক জেনেরিক ওষুধের ওপর প্রযোজ্য নয়, যা মার্কিন বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বিশাল ওষুধ প্রস্তুতকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যদি কোনো কোম্পানি মার্কিন উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে তাদের শুল্ক ২০ শতাংশে নেমে আসবে। চুক্তি অনুযায়ী যদি ওষুধের দাম সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, তাহলে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। কিছু চুক্তিতে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি যেমন মেডিকেইডের সঙ্গে সমপর্যায়ের দাম ধরে বিদেশি ওষুধ সরবরাহে সম্মত হয়েছে। গত বছরের ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় কম শুল্কের সুবিধা বহাল থাকবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে রপ্তানিকৃত কিছু ওষুধ তিন বছর শুল্কমুক্ত থাকবে। বিশ্লেষকরা বলেন, ছোট ও মাঝারি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর জন্য এই শুল্ক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এই নীতির প্রভাবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যেই এসেছে। একই সময়ে, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর আরোপিত শুল্ক নীতিতেও কিছু পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ধাতব উপাদান কম থাকা পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে নিজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে নিয়ে এক বিতর্কিত ও অস্বস্তিকর রসিকতা করেছেন। ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের ১ এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প রসিকতার ছলে অভিযোগ তোলেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যে ‘নেতিবাচক প্রচারণা’র শিকার হচ্ছেন, তার পেছনে লেভিটের ব্যর্থতা থাকতে পারে। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘটনা ঘটে। ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে তিনি ‘৯৩ শতাংশ খারাপ প্রচারণা’ পাচ্ছেন এবং সরাসরি লেভিটের দিকে তাকিয়ে বলেন, “তুমি খুব ভালো কাজ করছ না।” প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প হাসতে হাসতে যোগ করেন, “আমরা কি তাকে রাখব? আমার মনে হয়, রাখাই যায়।” পরে ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন যে, মন্তব্যটি স্রেফ কৌতুক হিসেবেই করা হয়েছিল। চলমান গণমাধ্যমের সমালোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, তাকে নিয়ে প্রকাশিত অধিকাংশ সংবাদই ‘নেতিবাচক এবং ভুয়া’। তবে ভোটাররা তার নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তারা এসব প্রতিবেদনে আস্থা রাখেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে ২৬ বছর বয়সী লেভিট প্রায়ই ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এর আগেও গত অক্টোবরে সাংবাদিকদের সামনে তার কাজের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট। ব্যক্তিগত জীবনে লেভিট বর্তমানে তার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি হিসেবে আগামী মে মাস থেকে তিনি সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব থেকে বিরতি নেবেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত কি তবে এসেই গেল? ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণকে ঘিরে যখন যুদ্ধের অবসানের গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাওয়া গেল এক ভিন্ন ইঙ্গিত। মঙ্গলবার রাত থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ট্রাম্প সম্ভবত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান বলছে অন্য কথা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এখনই যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছেন না। বরং যুদ্ধের সময়সীমা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এই ভাষণের মূল সুর হতে পারে 'সাময়িক কষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাপ্তি'। তিনি আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করবেন, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের সাথে সহমর্মিতা জানাবেন। তবে তার যুক্তির কেন্দ্রে থাকছে একটিই লক্ষ্য—একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে রুখে দেওয়া। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানের এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বেশ কম এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার রেটিংও নিম্নমুখী। এমতাবস্থায়, আমেরিকান জনগণের সমর্থন পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা হিসেবেই তিনি এই ভাষণকে ব্যবহার করতে চাইছেন।
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ব্যয় বহনে আরব দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। রোববার (৩০ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিভিট বলেন, ইরান যুদ্ধের ব্যয় ভাগাভাগি করার ধারণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে রয়েছে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বক্তব্য আসতে পারে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোকে এই ব্যয় বহনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে প্রেসিডেন্ট আগ্রহী হতে পারেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনাগুলো চলছেই, যদিও তেহরান ‘সর্বজনীন কৌশলগত বক্তব্য’ দিচ্ছে। রোববার (৩০ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। লিভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনাগুলো অব্যাহত রয়েছে এবং ভালোভাবে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তেহরানের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শাসনব্যবস্থার সর্বজনীন কৌশলগত বক্তব্য এবং মিথ্যা রিপোর্টিং সত্ত্বেও আলোচনা এগোচ্ছে এবং ফলপ্রসূ হচ্ছে। প্রকাশ্যে যা বলা হচ্ছে, তা আমাদের ব্যক্তিগতভাবে জানানো তথ্যের সঙ্গে অনেক ভিন্ন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে নিজের উত্তরাধিকার হিসেবে একজন ‘শান্তির দূত’ হিসেবে পরিচিত হতে চান। শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি চাই ইতিহাসে আমার নাম একজন মহান শান্তির দূত হিসেবে লেখা থাকুক।" বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় বিষয়টি সাংঘর্ষিক মনে হলেও, তিনি নিজেকে মনেপ্রাণে একজন শান্তিস্থাপক বলে দাবি করেন। তবে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তির কথা বললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানে আঘাত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এক সময় শক্তিশালী দেশ থাকলেও বর্তমানে তারা সেই সামর্থ্য হারিয়েছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ এখনো চলছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকেই শেষ করতে হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধে জয় ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। সরাসরি বিজয় ঘোষণা না করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই লড়াইয়ে আমেরিকা জয়ী হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন পাঁচ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক এবং ভবিষ্যতে দাম কমে আসবে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব উল্টো হতে পারে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হলে তেল ও গ্যাসের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফলভাবে সম্পন্ন হলে জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে এবং দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের হুমকি দিতে পারবে না। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় মূল্য ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৪৮ ডলার, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। মঙ্গলবার এই দাম আরও বাড়িয়ে ৩.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে দামের পার্থক্য স্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়ায় যেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ৫.২০ ডলার, সেখানে কানসাসে একই পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২.৯২ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। সোমবার এক পর্যায়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এই স্তরে পৌঁছায়। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অনেক তেলবাহী ট্যাংকার বন্দরেই অপেক্ষা করছে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও সতর্কতার কারণে উৎপাদন ও রপ্তানিতে কিছুটা সংযম দেখাচ্ছে। আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে। ইরান সেখানে মাইন পেতে নৌপথ বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পরিস্থিতিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারগুলোর জন্য বিশেষ বিমা সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী এসব জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও তার জ্বালানি বিষয়ক দল বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews