আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মদাতা পিতার যৌন লালসার শিকার হয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা, নামমাত্র সাজায় ক্ষুব্ধ মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ১৫:৪৯
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ জন্মদাতা বাবার বিকৃত লালসার শিকার হয়ে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় অপরাধী নামমাত্র শাস্তি পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের মা। অভিযুক্ত বাবা মাত্র এক বছর কাউন্টি জেলে থাকার সাজা পাওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ আইনের কঠোর সমালোচনা করে রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

 

জানা গেছে, ১৮ বছর বয়সী মাকায়লা রেনে সেটেলস নর্থ ক্যারোলিনায় তার শৈশবের বাড়ি ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৪০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে মুরপার্কে বাবার সঙ্গে থাকতে এসেছিলেন। গত বছরের (২০২৫) জুলাই মাসে ৪১ বছর বয়সী বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শ্যাভেজ তাকে মদ্যপান করিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পাঁচ মাস পর বিষণ্ণতায় ভুগে মাকায়লা আত্মহত্যা করেন। আদালতে প্রসিকিউটররা শ্যাভেজের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, কারণ তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী কেবল 'অজাচার' বা ইনসেস্ট-এর বিষয়টিই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে শ্যাভেজ নির্লজ্জভাবে দাবি করেছিলেন যে এই সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতিক্রমেই হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শ্যাভেজকে মাত্র এক বছরের কাউন্টি জেল, তিন বছরের প্রবেশন এবং ২০ বছরের জন্য যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার সাজা দেওয়া হয়।

 

এই রায়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে মাকায়লার ৪০ বছর বয়সী মা ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, "এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর, এটি কোনো বিচার হতে পারে না। আমি এই আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে অন্য কোনো পরিবারকে আমাদের মতো এমন ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।" তিনি তার মেয়ের নামে নতুন আইন পাসেরও দাবি জানান। ক্যারোলিনা আক্ষেপ করে বলেন, মেয়ে জীবিত থাকতে গোয়েন্দাদের কাছে ভিডিও সাক্ষাৎকারে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিলেও, তার মৃত্যুর পর প্রসিকিউটররা জানান যে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই তথ্যগুলো আইনিভাবে আর বৈধ নয়। এমনকি কাজিনকে দেওয়া মাকায়লার একটি হৃদয়বিদারক অডিও রেকর্ডিং থাকলেও সেটি বিচার প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট ছিল না বলে জানানো হয়।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস-ভিত্তিক সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর নেমা রহমানি এই ঘটনাকে 'বিচারের নামে প্রহসন' বলে আখ্যায়িত করে বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত শ্যাভেজ তার মেয়ের মর্মান্তিক আত্মহত্যার সুযোগ নিয়েছে। ভুক্তভোগীর অনুপস্থিতিতে তার অসম্মতি প্রমাণ করতে না পারায় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করতে পারেননি।" এদিকে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও গভর্নর নিউসমের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গভর্নর যৌন নির্যাতনের বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ক্যারোলিনার মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনি কাঠামো ভুক্তভোগীদের চেয়ে অপরাধীদেরই বেশি সুরক্ষা দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করল শিক্ষা বোর্ড l ছবি: সংগৃহীত
মুসলিমসহ ৫০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে বাইবেলের নির্বাচিত অংশ, টেক্সাসের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলে মুসলিমসহ সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন সম্প্রতি ভোটের মাধ্যমে নতুন পাঠ্যসূচির অনুমোদন দিয়েছে।   নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে এই পাঠ্যসূচি চালু হবে। এতে বাইবেলের নির্বাচিত গল্প ও অংশের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন ধ্রুপদি রচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। টেক্সাস শিক্ষা বোর্ডের দাবি, এটি ধর্মীয় শিক্ষা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বোঝাতে বাইবেলের কিছু অংশকে শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হবে।   টেক্সাসে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। নতুন পাঠ্যসূচি কার্যকর হলে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পটভূমির সব শিক্ষার্থী একই পাঠ্যক্রমের আওতায় আসবে।   সিদ্ধান্তের সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন, ইতিহাস ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে ইহুদি-খ্রিস্টান ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দিতেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ পাঠ্যসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে।   তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদ, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী এবং ধর্মনিরপেক্ষ পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উপেক্ষিত বা অস্বস্তিকর অবস্থায় অনুভব করতে পারেন।   বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা নীতিতেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   তবে টেক্সাস শিক্ষা বোর্ড আবারও স্পষ্ট করেছে, নতুন পাঠ্যসূচির উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা উপাসনা প্রচার করা নয়। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবুও সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ধর্ম, শিক্ষা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ১৬:৪৫
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

স্কুল-পার্কের শৌচাগারেও নিরাপদ নয় শিশুরা! গোপনে ভিডিও ধারণ করে বানানো হতো শিশু পর্নোগ্রাফি

টেক্সাসের সব সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাইবেল পাঠ l ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে মুসলিমসহ সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক পাঠ্যতালিকায় বাইবেলের নির্বাচিত অংশ, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন বিতর্ক

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মদাতা পিতার যৌন লালসার শিকার হয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা, নামমাত্র সাজায় ক্ষুব্ধ মা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
বাহামায় হাঙরের ভয়াবহ হামলা, বড় ভাইয়ের সাহসিকতায় প্রাণে বাঁচল ১২ বছরের ছোট ভাই

পরিবার নিয়ে সমুদ্রসৈকতে আনন্দময় ছুটি কাটানোর মুহূর্তটি হঠাৎ করেই পরিণত হলো এক বিভীষিকায়। বাহামা দ্বীপপুঞ্জের উপকূল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর হাঙরের ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। তবে বড় ভাইয়ের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার কারণে প্রাণে বেঁচে গেছে ওই কিশোর। টেক্সাসের ফ্রেন্ডসউডের বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী পার্কার রোল তার ১৬ বছর বয়সী ভাই জ্যাকের সঙ্গে গত মঙ্গলবার এক্সুমা কে-তে একটি নৌকায় ভ্রমণ করছিল। সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।   স্ট্যানিয়েল কে দ্বীপের একটি উপসাগরে পরিবারের বাকি সদস্যদের রেখে দুই ভাই যখন একটু দূরে যায়, তখন পার্কার একটি বিশাল হাঙর দেখতে পায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ক্লিক-টু-হিউস্টনকে পার্কার জানায়, সে প্রথমে হাঙরটিকে একটি বড় পাথর ভেবে তার ভাই জ্যাককে দেখতে বলেছিল। হাঙরটি খুব কাছাকাছি চলে আসায় জ্যাক ভেবেছিল এটি হয়তো ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই হাঙরটি পার্কারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জ্যাকের ভাষ্যমতে, হঠাৎ এক কানে তালা লাগানো চিৎকার শুনতে পায় সে এবং তাদের চারপাশের পরিষ্কার নীল জলরাশি নিমিষেই গাঢ় লাল রঙে পরিণত হয়।   যন্ত্রণায় কাতর পার্কার কোনোমতে সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। হাঙরের কামড়ে তার পায়ের হাড় পর্যন্ত বেরিয়ে গিয়েছিল, যা তার কাছে বারবার ছুরি চালানোর মতো যন্ত্রণাদায়ক মনে হচ্ছিল। এই অবস্থায় জ্যাক একটুও সময় নষ্ট না করে ভাইকে বাঁচাতে ছুটে যায়। সে আশেপাশের সবাইকে দ্রুত পানি থেকে উঠে আসতে বলে এবং পার্কারের সুইমস্যুট খুলে সেটি দিয়ে তার ক্ষতস্থান শক্ত করে বেঁধে দেয়, যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়।   এ সময় দলের আরেক সদস্য নৌকার ক্রুরা না পৌঁছানো পর্যন্ত হাঙরটিকে দূরে রাখতে সাহায্য করেন। হাঙরটি কোন প্রজাতির ছিল তা জানা না গেলেও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলে টাইগার, হ্যামারহেড এবং বুল হাঙরের মতো আক্রমণাত্মক প্রজাতির আনাগোনা থাকে বলে জানা গেছে।   দুর্গম ওই দ্বীপে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা রেডিও সিগন্যাল না থাকায় উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর নৌকার ক্রুরা সিগন্যাল ফিরে পান এবং বন্দরে পৌঁছালে একটি অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্স পার্কারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার পা ও পায়ের পাতায় মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি সেলাই দিতে হয়েছে।   চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্যাক যদি তাৎক্ষণিকভাবে রক্তপাত বন্ধের ব্যবস্থা না করত, তবে এই হামলা প্রাণঘাতী হতে পারত। বর্তমানে পার্কার ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। উপকূল থেকে এত দূরে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির পরও অঙ্গহানি বা মৃত্যু ছাড়াই প্রাণে বেঁচে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে পার্কার ও তার পরিবার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ১৫:২৮
মেক্সিকো বিমানবন্দরে তল্লাশির সময় ফোনে মিলল শত শত শিশু পর্নোগ্রাফি l ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকোতে শিশু পর্নোগ্রাফি পাচারের দায়ে মার্কিন স্কুলশিক্ষক গ্রেপ্তার

মধ্যেই নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে যাত্রা শুরু করছে অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বিদ্যালয় ‘মিস মেজর মিডল’ l ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত বিতর্কের মধ্যেই নিউইয়র্কে চালু হচ্ছে বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয়ের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় নতুন স্কুল

টেক্সাসের সরকারি স্কুল পাঠ্যক্রমে বাইবেলের গল্প অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন | ছবি: গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সরকারি স্কুলের সিলেবাসে বাইবেল পড়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব পাস

ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাজ্যে খুনের শিকার ভাবা ব্যক্তি আসলে নিজের ছুরির ওপর ঘুমিয়েই মারা গেছেন

যুক্তরাজ্যে এক ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় নিজের ব্যাগে থাকা ছুরির ওপর অসাবধানতাবশত অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়ে নিজের মৃত্যুকে ডেকে এনেছেন। গত বছরের ১ আগস্ট সকালে নর্থহ্যাম্পটনের একটি খালের পাশের ফুটপাতে ৫৭ বছর বয়সী রবার্ট ব্রাউনকে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি বেঞ্চে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এটিকে একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধরে নিয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল, তবে পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের কোনো দোষ না পেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।   মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য আয়োজিত একটি আদালত শুনানিতে তদন্তকারীরা জানান, ব্রাউন আসলে মদ্যপ অবস্থায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। অসাবধানতাবশত ঘুমের ঘোরে গড়িয়ে তিনি নিজের পিঠের ব্যাগে রাখা একটি তীক্ষ্ণ ছুরির ওপর চেপে বসেন। পাঁচ ইঞ্চি লম্বা একধারের ধারালো ব্লেডটি ব্রাউনের ব্যাগ এবং তার পরিহিত কাপড়ের তিনটি স্তর ভেদ করে সরাসরি তার বাহুতে গিয়ে আঘাত করে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি ঘুমন্ত অবস্থাতেই বেঞ্চের ওপর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।   বিশেষজ্ঞরা আদালতে জানান, ব্রাউন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অ্যালকোহল বা মদ পানের সমস্যায় ভুগছিলেন। এই ধরনের আসক্তি মানুষের শরীরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত মদ পানের কারণে তিনি যখন ছুরির আঘাত পান, তখন ব্যথার অনুভূতি তীব্র থাকা সত্ত্বেও তিনি তা টের পাননি এবং গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারেননি। ফলস্বরূপ, কোনো ধরণের প্রতিরোধ বা চিকিৎসার সুযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণের কারণে তার শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।   ঘটনার পর নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ দীর্ঘ ছয় মাস ধরে একটি হত্যা মামলার তদন্ত চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে সব ধরণের ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে তারা নিশ্চিত হয় যে এখানে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তদন্তের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে পুলিশ প্রশাসন এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের হত্যা মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়। তারা এক বিবৃতিতে ঘোষণা করে যে, এই ক্ষতটি খুব সম্ভবত কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া সম্পূর্ণ নিজের মাধ্যমেই অনিচ্ছাকৃতভাবে তৈরি হয়েছিল।   আদালতের শুনানির পর চলতি সপ্তাহে রবার্ট ব্রাউনের এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে। এই মামলার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র করোনার অ্যান পেম্বার গত বৃহস্পতিবার পুরো ঘটনাটিকে একটি অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়নে এটি স্পষ্ট যে কোনো অপরাধমূলক চক্রের সাথে ব্রাউনের মৃত্যুর সম্পর্ক নেই। এটি কেবলই অসাবধানতা এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে সৃষ্ট একটি চরম বিপর্যয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ১২:৭
যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট | ছবি: পেক্সেলস

যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দ্বৈত নাগরিকদের অবশ্যই মার্কিন পাসপোর্ট লাগবে জানালো দূতাবাস

ফায়ার হোসের পানিতে ভেসে আসা ময়লা ও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছেন 'সিগন্যাল'-এর কর্মীরা | ছবি: শাটারস্টক

আমেরিকায় ৪ কোটি পাউন্ড খাবার পচে একাকার, গন্ধে টিকতে পারছে না মানুষ!

ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরায় ভূমিকম্পের দুই দিন পর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান | ছবি: এপি

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ উদ্ধারকারী দল

0 Comments