যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নাইলস টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২১৯-এর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মেক্সিকোতে শিশু পর্নোগ্রাফি বহনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ইলিনয়ের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী টমাস নিল গত ১৭ জুন শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মেক্সিকো সিটির বেনিটো জুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর মেক্সিকান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বিতীয় ধাপের তল্লাশিতে তার মোবাইল ফোনে শিশু পর্নোগ্রাফির অসংখ্য ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়।
মেক্সিকো সীমান্তরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তার ফোন এবং লাগেজ বাজেয়াপ্ত করে। তল্লাশিতে তার লাগেজের ভেতর থেকে দুটি ল্যাপটপ এবং ছয়টি ইলেকট্রনিক স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে ওই লাগেজসহ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের জর্জ বুশ আন্তঃমহাদেশীয় বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়। হিউস্টনে পৌঁছানোর পরপরই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের গোয়েন্দারা নিলের ফোনে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে শিশু পর্নোগ্রাফির শত শত ফাইলের সন্ধান পান বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত টমাস নিল যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ইলিনয়ের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২১৯-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার তারা এই অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং চলমান তদন্তে কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। এক বিবৃতিতে ওই মুখপাত্র বলেন, "তদন্তাধীন ওই কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট ২১৯ যেকোনো কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং স্কুল কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখতে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।"
অভিযুক্ত টমাস নিল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ২৯ জুন তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিশু পর্নোগ্রাফি বহনের এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ফেডারেল কারাগারে ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত সাজা ভোগ করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলে মুসলিমসহ সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক পাঠ্যতালিকায় বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য শিক্ষা বোর্ড। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত বোর্ডের ৯-৫ ভোটে অনুমোদিত এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে ধর্ম, শিক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। টেক্সাস শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে নতুন পাঠ্যতালিকা চালু করা হবে। এতে বাইবেলের নির্বাচিত গল্প ও অংশের পাশাপাশি চার্লস ডিকেন্স, জেন অস্টেন এবং ঈসপের নীতিগল্পসহ বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন ধ্রুপদি রচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বোর্ডের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নতুন পাঠ্যতালিকা টেক্সাসের সরকারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে। ফলে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পটভূমির শিক্ষার্থীরা একই পাঠ্যসূচির আওতায় থাকবে। তবে শিক্ষা বোর্ড বলছে, বাইবেলকে ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে নয়, বরং ইতিহাস ও সাহিত্য শিক্ষার একটি উৎস হিসেবে পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশে ইহুদি-খ্রিস্টান ঐতিহ্যের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ পাঠ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের বাধ্যতামূলক পাঠ্যতালিকায় একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থের অংশ অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, এতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে এবং বিষয়টি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে। টেক্সাসে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় একটি অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের নীতিগত পরিবর্তন ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শিক্ষা বোর্ড পুনরায় স্পষ্ট করেছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় অনুশীলন বাধ্যতামূলক করা নয়। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশ বোঝাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের সঙ্গে বাইবেলের নির্বাচিত অংশও পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপরও সিদ্ধান্তটি নিয়ে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক, ধর্মীয় সংগঠন এবং নাগরিক অধিকারকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ পরিচয় ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্কের মধ্যেই নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে চালু হচ্ছে একটি নতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ‘মিস মেজর মিডল’ (Miss Major Middle) নামে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ, সম্মানজনক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা। তবে বিদ্যালয়টি কেবল তাদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; যে কোনো শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যালয়টি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। পরবর্তী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা জোজি ফ্লোরেন্স বলেন, অনেক শিক্ষার্থী প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় নিজেদের নিরাপদ বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় এমন একটি পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে শেখার সুযোগ পাবে এবং নিজের প্রতিভা বিকাশ করতে পারবে। পাঠ্যক্রমে নিয়মিত বিষয়ের পাশাপাশি শিল্পকলা, নাট্যচর্চা, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী মিস মেজর গ্রিফিন-গ্রেসির নামে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছেন। এই উদ্যোগ এমন সময় নেওয়া হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ পরিচয়-সংক্রান্ত নীতি, ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং জেন্ডার-সম্পর্কিত বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি প্রক্রিয়া লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। মোট আসনের অর্ধেক নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লিঙ্গ পরিচয় বা যৌন অভিমুখিতা কোনো শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে না। উদ্যোক্তাদের আশা, নতুন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলবে, যেখানে সব শিক্ষার্থী নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে যেসব পরিবার তাদের সন্তানদের জন্য বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুঁজছেন, তাদের জন্যও এটি একটি নতুন বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের বয়েল হাইটস এলাকার একটি বিশাল কোল্ড স্টোরেজে (হিমাগার) সপ্তাহব্যাপী ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এখন এক অদ্ভুত ও মারাত্মক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগুনে হিমাগারটির প্রায় ৪ কোটি পাউন্ড হিমায়িত খাবার (মাংস, মাছ ও সবজি) নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় এগুলো এখন প্রচণ্ড গরমে পচতে শুরু করায় পুরো এলাকা জুড়ে লাশের মতো দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই পুতিগন্ধময় পরিবেশের কারণে তাদের শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১৭ জুন ৫ লাখ বর্গফুটের এই বিশাল গুদামটিতে আগুন লাগে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকা এই আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের লাখ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহারের পর গত বুধবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে হিমাগারে থাকা সাড়ে ৮ কোটি পাউন্ড খাবারের মধ্যে অর্ধেকই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং বাকি অংশ ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় পচে গেছে। হিমাগারের ঠিক এক ব্লক দূরে থাকা কেলভিন ভাসকুয়েজ নামের এক বাসিন্দা জানান, "এখানকার গন্ধটা একদম কোনো মরা পশুর বা লাশের গন্ধের মতো। গত কয়েকদিন ধরে এখানকার মানুষেরা মাথাব্যথা, গলাব্যথা এবং বমি বমি ভাবসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।" হিমাগারটি লিজ নিয়ে পরিচালনা করত 'লিনেজ লজিস্টিকস' নামের একটি কোল্ড-স্টোরেজ কোম্পানি। তারা এলাকা পরিষ্কার করার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দিলেও এই বিপুল পরিমাণ পচা খাবার কীভাবে এবং কোথায় ফেলা হবে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি লস অ্যাঞ্জেলেসের স্বাস্থ্য বিভাগ। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হিমাগারের ছাদে থাকা বিশাল সোলার প্যানেলে পরীক্ষার কাজ চলার সময় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। লিনেজ লজিস্টিকস এই ঘটনার জন্য সোলার কোম্পানি 'আল্টাস পাওয়ার'-কে দায়ী করেছে। উল্লেখ্য, দুই বছর আগেও এই ভবনের সোলার প্যানেলে আগুন লেগেছিল, কিন্তু সে যাত্রায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশের রাস্তাঘাট এখন পুড়ে যাওয়া খাবার এবং নোংরা পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে, যা দ্রুত পরিষ্কার না করলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।