যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে পয়েন্ট লুকআউট সৈকতে বিশাল এক হাঙরের উপস্থিতিতে দর্শনার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ৯ ফুট লম্বা এই হাঙরটি সাঁতারুদের নজরে আসে। তীব্র ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি পেতে যারা সৈকতের পানিতে নেমেছিলেন, হাঙর আতঙ্কে তারা দ্রুত পানি থেকে উঠে আসতে বাধ্য হন। হাঙর দেখার পরপরই স্থানীয় হেম্পস্টেড শহরের ‘শার্ক প্যাট্রোল’ বা হাঙর টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করে।
নিরাপত্তার স্বার্থে সৈকতে লাল পতাকা উড়িয়ে পানিতে নামা ও সাঁতার কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
হেম্পস্টেড শহরের তত্ত্বাবধায়ক জন ফেরেট্টি জানান, লাইফগার্ডরা হাঙরের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করার পরপরই পানিতে টহল দল নামানো হয় এবং সতর্কতা জারি করা হয়। নব্বই ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি তাপমাত্রার এই তীব্র গরমে সৈকতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য পানিতে নামার নিষেধাজ্ঞা কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে সাঁতার বন্ধ থাকার পর হাঙরের আর কোনো অস্তিত্ব না মেলায় দুপুর ২টার দিকে লাল পতাকা নামিয়ে নেওয়া হয়।এরপর দর্শনার্থীদের পুনরায় পানিতে নামার অনুমতি দেয় শহরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আসন্ন ছুটির দিনগুলো নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সামনেই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস বা ‘ফোরথ অব জুলাই’-এর দীর্ঘ ছুটি। এই ছুটির সপ্তাহান্তে হাঙরটি যদি পুনরায় সৈকতের কাছাকাছি কোথাও দেখা যায়, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আরও কয়েক দফায় সৈকত বন্ধ ঘোষণা করা হতে পারে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসন এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেনি। আপাতত সৈকতজুড়ে টহল ও কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ওহাইও ন্যাশনাল গার্ডের টহল দলের পেছনে হেঁটে হেঁটে নিজের মুঠোফোনে 'স্টার ওয়ার্স' সিনেমার বিখ্যাত ডার্থ ভেডার থিম সং বাজানোর দায়ে আটক হয়েছিলেন স্যাম ও'হারা নামের এক যুবক। তবে বিনা অপরাধে তাকে আটকে রাখার সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেষপর্যন্ত বড় জয় পেয়েছেন তিনি। বেআইনিভাবে আটকের অভিযোগ তুলে পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের বিরুদ্ধে করা ওই মামলায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫০ হাজার ডলার পেয়েছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা একটি আইনি নথিতে দেখা গেছে, স্যাম ও'হারাকে ক্ষতিপূরণের এই অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া (ওয়াশিংটন ডিসি)। এই আইনি লড়াইয়ে স্যামের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দেশটির রাজধানীতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতির প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি এই অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনায় ওয়াশিংটন ডিসি প্রশাসন, মেট্রোপলিটন পুলিশের চারজন কর্মকর্তা এবং ওহাইও ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তিনি। মামলার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির একটি রাস্তায় ন্যাশনাল গার্ডের কয়েকজন সদস্য টহল দিচ্ছিলেন। সে সময় তাদের পেছনে হেঁটে হেঁটে নিজের মুঠোফোনে স্টার ওয়ার্স-এর ‘দ্য ইম্পেরিয়াল মার্চ’ থিমটি বাজাচ্ছিলেন ও'হারা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সে সময় ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ও'হারাকে আটকে রেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাতকড়া পরিয়ে রাখে এবং পরে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেয়। ওই ঘটনার জেরে একই বছরের অক্টোবরে দায়ের করা মামলায় ও'হারা অভিযোগ করেন যে, পুলিশ কর্মকর্তারা তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ‘প্রথম সংশোধনী’ এবং অবৈধ তল্লাশি ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে থাকা ‘চতুর্থ সংশোধনী’ অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে কিছু এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি কর্মী ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে জটিলতার মুখে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের কিছু কার্যালয় লাইসেন্স নবায়নের আবেদন গ্রহণ করছে না। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হলেও বৈধ অভিবাসন মর্যাদা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজ করার অধিকার বহাল থাকে। নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক এইচ-১বি কর্মী এমন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীদের কাছেও অভিযোগ পৌঁছেছে। তাদের ধারণা, অভিবাসন আইন সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি অথবা বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণে অসামঞ্জস্যের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামূকন সেথুরজোথি জানান, বৈধ আই-৭৯৭ অনুমোদনপত্র এবং মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া আই-৯৪ নথি থাকলে একজন এইচ-১বি কর্মী আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে গণ্য হন। তাঁর ভাষায়, পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিল কেবল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত একটি ভ্রমণ নথি। দেশে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির বৈধ অবস্থান নির্ধারণ করে আই-৯৪ এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবার অনুমোদনপত্র। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইনজীবী এমিলি নিউম্যান। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হওয়াকে ভুলভাবে অভিবাসন মর্যাদা শেষ হয়ে যাওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর মতে, আইনগতভাবে বৈধ অবস্থান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আই-৯৪-ই মূল নথি, ভিসার সিল নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত খাতে কর্মরত হাজারো বিদেশি পেশাজীবী টেক্সাসে বসবাস করছেন। তাদের অনেকেই চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করলেও পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিল নবায়ন করেন না, কারণ নতুন ভিসার সিল সাধারণত বিদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকেই নিতে হয়। এদিকে টেক্সাস জননিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়নি। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব এইচ-১বি কর্মীর বৈধ আই-৯৪ এবং আই-৭৯৭ থাকা সত্ত্বেও লাইসেন্স নবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ পুনরায় আবেদন করুন এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিন। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, ভিসার সিল, অভিবাসন মর্যাদা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে এ ধরনের জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মীদের জন্য অভিন্ন নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নকল পণ্য বিক্রি ও মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক তদন্ত সংস্থা। সংস্থাটি বলেছে, জাল বিশ্বকাপ সামগ্রী শুধু ভোক্তাদের প্রতারিত করে না, বরং বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে এবং অপরাধী চক্রের অর্থায়নের উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় জানায়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাজারে নকল জার্সি, টুপি, স্মারক এবং অন্যান্য পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে আসল পণ্য কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, নকল পণ্যের বাণিজ্য শুধু মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন অপরাধী সংগঠনের কাছে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি করে। সংস্থাটি আরও জানায়, চলমান বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সীমান্ত, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর এবং অনলাইন বাজারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নকল পণ্য শনাক্ত, জব্দ এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমান আসরের আয়োজক দেশগুলোতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ স্মারক ও ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এই সুযোগে অসাধু চক্র নকল পণ্য বাজারজাত করার চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আসল ও অনুমোদিত পণ্য কিনে বৈধ ব্যবসাকে সমর্থন করুন এবং নকল পণ্যের বাজার নিরুৎসাহিত করুন।