আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছর পর মা-ছেলের পুনর্মিলন, কাজ করতেন একই হাসপাতালে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২:৪৫
দীর্ঘ ২০ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় পুনর্মিলন হওয়া মা হলি শিয়ারার ও ছেলে বেঞ্জামিন | ছবি: সেন্ট মার্কস হাসপাতাল / এইচসিএ হেলথকেয়ার
দীর্ঘ ২০ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় পুনর্মিলন হওয়া মা হলি শিয়ারার ও ছেলে বেঞ্জামিন | ছবি: সেন্ট মার্কস হাসপাতাল / এইচসিএ হেলথকেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছর আগে দত্তক দেওয়া নিজের সন্তানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় খুঁজে পেয়েছেন এক মা। দীর্ঘ দুই দশক পর তাদের এই পুনর্মিলনের পর জানা গেছে এক অবিশ্বাস্য তথ্য। তারা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে অজান্তে একই হাসপাতালে একসঙ্গে চাকরি করছিলেন, অথচ কেউ কাউকে চিনতেন না। এই অদ্ভুত ও আবেগঘন ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার ইউটা অঙ্গরাজ্যের সল্ট লেক সিটির সেন্ট মার্কস হাসপাতালে।

 

ঘটনার শুরু ২০০১ সালে, যখন মাত্র ১৫ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেন হলি শিয়ারার নামের এক কিশোরী। সে সময় সন্তানের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি ছোট্ট বেঞ্জামিনকে একটি নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দত্তক দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। আইনি প্রক্রিয়ার কারণে পরবর্তীতে তাদের মধ্যকার সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে মা ও ছেলে—উভয়ই মনে মনে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একে অপরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

 

অবশেষে গত বছর বেঞ্জামিনের ২০তম জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান হলি। সেখান থেকেই শুরু হয় মা ও ছেলের নতুন করে যোগাযোগের সূত্রপাত। মেসেজ পাওয়ার পর বেঞ্জামিনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পরদিনই তারা সপরিবারে একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেন। প্রথম দেখাতেই তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বেশ কিছুক্ষণ কাঁদেন।

 

আবেগঘন সেই সাক্ষাতেই তারা জানতে পারেন যে, হলি ও বেঞ্জামিন দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট মার্কস হাসপাতালে কর্মরত আছেন। হলি সেখানে হার্ট সেন্টারের একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং বেঞ্জামিন একই হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত আছেন।

 

তারা প্রতিদিন একই পার্কিং লট ও একই প্রবেশপথ ব্যবহার করতেন এবং একই ক্যাফেটেরিয়াতে খাবার খেতেন। প্রতিদিন এত কাছাকাছি থেকেও কেউ জানতেন না যে তাদের রক্তের সম্পর্কের মানুষটি পাশেই রয়েছে। ২০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই অবিশ্বাস্য পুনর্মিলনের গল্পটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নর্থ ক্যারোলিনায় আবাসন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়া ‘দ্য অলিভার’ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হঠাৎ উধাও অ্যাপার্টমেন্ট কোম্পানি, বাড়ি ভাড়া দেওয়া নিয়ে ভাড়াটিয়াদের হাহাকার

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের শার্লট শহরের ইউনিভার্সিটি সিটি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো ম্যানেজমেন্ট বা আবাসন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সেখানে বসবাসরত বাসিন্দারা। নর্থ ট্রায়ন স্ট্রিটে অবস্থিত ‘দ্য অলিভার’ নামের ওই অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হুট করে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিটি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।   ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়ারা জানান, গত ১৭ জুন তারা প্রথম এই বিষয়টি জানতে পারেন। সে সময় লিজ অফিসের দরজায় একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল—'আর্কালাইন' (Arqline) কোম্পানি আর এই প্রোপার্টি পরিচালনার দায়িত্বে নেই এবং খুব শিগগিরই একটি নতুন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। কিন্তু তারপর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও নতুন কোনো কর্তৃপক্ষের দেখা মেলেনি এবং যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।   ১ জুলাই মাসের ভাড়া দেওয়ার শেষ সময় থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে মূল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সঠিক জায়গায় ভাড়া পরিশোধ করা নিয়ে। লিজ অফিসের দরজায় ঝুলানো দ্বিতীয় একটি নোটিশে বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন জুলাই মাসের ভাড়া চেকের মাধ্যমে বা মানি অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেন এবং যেকোনো জরুরি মেরামতের অনুরোধের জন্য একটি সাধারণ ‘জিমেইল’ (Gmail) ঠিকানায় মেইল করেন।   এদিকে একজন বাসিন্দা ফোনে জানান, প্রোপার্টির মালিকের এক বন্ধু নাকি মালিকের পক্ষে এই জুলাই মাসের ভাড়া সংগ্রহ করছেন। তবে ওই ব্যক্তির কাছে অনলাইনের কোনো পেমেন্ট সিস্টেম বা ভাড়াটিয়াদের তথ্যের কোনো অ্যাক্সেস নেই। এমনকি তিনি জানেনও না কার ভাড়া কত বা কোন ফ্ল্যাটে কে থাকছেন। ফলে ভাড়ার টাকা সঠিক জায়গায় যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সবাই চরম আতঙ্কে আছেন।   শার্লট এলাকায় ৩০টিরও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট পরিচালনা করা বড় প্রতিষ্ঠান 'আর্কালাইন' কেন হঠাৎ এই প্রোপার্টির দায়িত্ব ছেড়ে দিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অনেক বাসিন্দা ধারণা করছেন, প্রোপার্টির মূল মালিকের সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির আর্থিক বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাইয়াহ পেন্ডারগ্রাস নামের এক বাসিন্দা এই চরম অব্যবস্থাপনার একটি ভিডিও টিকটকে পোস্ট করার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি মানুষ তা দেখেছেন। বর্তমানে ওই অ্যাপার্টমেন্টের মালিক বা সাবেক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কেউই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ৩:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে নবজাতকদের জন্য ঘোষিত বিশেষ স্মারক সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের দেওয়া হবে 'ফ্রিডম ২৫০' বিশেষ সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি দোকানে বিক্রির জন্য রাখা ডিমের কার্টন | ছবি: এপি ফটো/টনি গুতেরেজ

ডিমের দাম কারসাজির অভিযোগে ৩ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বড় জরিমানা ও ডিম অনুদান

দীর্ঘ ২০ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় পুনর্মিলন হওয়া মা হলি শিয়ারার ও ছেলে বেঞ্জামিন | ছবি: সেন্ট মার্কস হাসপাতাল / এইচসিএ হেলথকেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছর পর মা-ছেলের পুনর্মিলন, কাজ করতেন একই হাসপাতালে

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন পারিবারিক ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে শতকোটি ডলার আয়কে সম্পূর্ণ আইনসংগত দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের | ছবি: গেটি ইমেজেস
প্রেসিডেন্ট পদে থেকে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিলিয়ন ডলার আয়কে ‘আইনসংগত’ দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে পারিবারিক ক্রিপ্টো কারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবসা থেকে ১ বিলিয়নেরও বেশি (১০০ কোটি ডলারের বেশি) আয় করার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আইনসংগত বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে এই বিপুল আয়ের তথ্য সামনে আসার পর গত বৃহস্পতিবার সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর এই ব্যবসায়িক আয়ের মধ্যে অবৈধ বা ভুল কিছুই নেই।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যবসা একটি ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে, যা তাঁর সন্তান এবং স্বাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁর নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এমনকি তাঁর অর্থ ব্যবস্থাপকেরা কারা, সেটিও তিনি জানেন না। তবে সমালোচকেরা এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই বিপুল আয়ের পেছনে স্বার্থের সংঘাত ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির অভিযোগ এনেছেন।   প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে তাঁর পারিবারিক ক্রিপ্টো ব্যবসার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার আবুধাবির এক রাজপরিবারের সদস্যের কাছে গোপনে বিক্রি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই রাজপরিবারের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পের নিজস্ব ক্রিপ্টো কয়েন ব্যবহার করে ২ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ ব্যবহারের আলোচনার বিষয়টিও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।   ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতি জোরালো সমর্থন দেখান এবং এই খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল নির্বাচনী অনুদান পান। ক্ষমতায় আসার পর তিনি ক্রিপ্টো খাতের সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার মধ্যে ক্রিপ্টো সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা কমানো এবং জাতীয় বিটকয়েন মজুদ গড়ে তোলার আহ্বান অন্যতম। এছাড়া গত অক্টোবরে তিনি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও-কে প্রেসিডেন্টশিয়াল ক্ষমাও ঘোষণা করেন।   ক্রিপ্টো কারেন্সির পাশাপাশি ট্রাম্পের অন্যান্য আয়ের খাত নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান কোম্পানির শেয়ারে ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন করেছেন। পাশাপাশি ফ্লোরিডায় অবস্থিত তাঁর মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ৭৭.৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এই ক্লাবের সদস্যপদ ফি বাড়িয়ে বর্তমানে ১০ লাখ ডলার করা হয়েছে এবং এটি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২:৩৫
ভার্জিনিয়ায় ডেটা সেন্টারের বাড়তি চাহিদার কারণে সরকারি ভবন ও স্কুলের বিদ্যুৎ বিল ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি | ছবি: সংগৃহীত

ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদায় বিপাকে ভার্জিনিয়া, স্কুলে বাতি-কম্পিউটার বন্ধ রাখার নির্দেশ

তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে বাল্টিমোর গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক (বিজিই) | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল গড়ে ৮ ডলার বাড়ানোর আবেদন বিজিই’র

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিপ্টো কারেন্সি খাত থেকে বিপুল আয় নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো কারেন্সি থেকে বিলিয়ন ডলার আয়কে ‘স্বাভাবিক’ বলছেন অর্থমন্ত্রী

তিব্বত প্রশ্নে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করলেন তিব্বতি বিক্ষোভকারী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তিব্বতি বিক্ষোভকারী। তিব্বতের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদ জানাতে তিনি এ পদক্ষেপ নেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিটে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বতি পতাকা হাতে ওই ব্যক্তি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কিছু লিফলেট ছড়িয়ে দেন। এরপর তিনি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। পুরো ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম লোবগা রাংজেন। তার বয়স ৪২ বছর। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এবং উবারচালক হিসেবে কাজ করতেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে তার পরিচয় জানা গেলেও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।   আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে থাকা উদ্ধারকর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিউ জার্সির এক বাসিন্দা জানান, তিনি প্রথমে ধোঁয়া দেখতে পান। পরে বড় আগুনের শিখা দেখতে পান এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।   নিহতের বন্ধু লবসাং পালজর জানান, রাংজেন সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিতেন এবং চীনের শাসনের বিরোধিতা করতেন।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি লিফলেট উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে একটি পোস্টারে "China Out of Tibet" লেখা ছিল, যা তিব্বতের স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের বহুল ব্যবহৃত একটি স্লোগান।   মানবাধিকার সংগঠন ফ্রি টিবেট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে তিব্বত ও আশপাশের অঞ্চলে ১৫০ জনের বেশি মানুষ চীনের নীতির প্রতিবাদে একই ধরনের আত্মাহুতি দিয়েছেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে তারা তিব্বতে মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।   নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ০:০
পুলে ডুবে যাওয়ার পর হাসপাতাল শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেছিল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল ১৮ মাসের শিশুকে, মর্গে গিয়ে ধরা পড়ল সে এখনো জীবিত

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য চালু হচ্ছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য চালু হচ্ছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’, মিলতে পারে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি অনুদান

যুক্তরাষ্ট্রে গম চাষে দেখা দিয়েছে দেড় শতাব্দীর সবচেয়ে বড় সংকট। ছবি: সংগৃহীত

১৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের গম চাষ, খাদ্যদাম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

0 Comments