সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

৯ লাখ অভিবাসীর স্ট্যাটাস অবৈধভাবে বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন: বিচারকের রায়

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৯:২৮
৯ লাখ অভিবাসীর স্ট্যাটাস অবৈধভাবে বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন
৯ লাখ অভিবাসীর স্ট্যাটাস অবৈধভাবে বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) প্রায় ৯ লাখ অভিবাসীর আইনি মর্যাদা অবৈধভাবে বাতিল করেছে এমন রায় দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক।


২০২৫ সালের একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলায় অ্যালিসন বুরোস ৩১ মার্চের রায়ে বলেন, ডিএইচএস নিজস্ব আইন ও নিয়ম ভঙ্গ করে সেইসব অভিবাসীদের ‘প্যারোল’ স্ট্যাটাস বাতিল করেছে, যারা সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে বৈধ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।


বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় আশ্রয়প্রার্থীরা সীমান্তে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করে যাচাই-বাছাই শেষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেতেন এবং তাদের আশ্রয় আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত দেশে থাকার সুযোগ দেওয়া হতো।


তবে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় এসে ২০২৫ সালের এপ্রিলেই সিবিপি ওয়ান কর্মসূচি বাতিল করে এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের ইমেইল দিয়ে জানায় যে তাদের আইনি মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে এবং দ্রুত দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়।


বাদীপক্ষের দাবি, এভাবে ৯ লাখের বেশি অভিবাসীর প্যারোল স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়েছে, যদিও তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রবেশ করেছিলেন।


বিচারক বারোউস রায়ে বলেন, ডিএইচএস আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা 'আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।'


অন্যদিকে ডিএইচএস এই রায়কে 'বিচারিক সক্রিয়তা' বলে উল্লেখ করে দাবি করেছে, ফেডারেল আইনের অধীনে তাদের প্যারোল বাতিলের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ।


এই রায়ের ফলে প্রভাবিত অভিবাসীদের জন্য আইনি মর্যাদা পুনরুদ্ধার বা বহিষ্কার স্থগিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ মে থেকে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারির মধ্যে সিবিপি ওয়ান-এর মাধ্যমে প্রবেশ করা অভিবাসীরা এর আওতায় পড়বেন।


বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড-এর প্রেসিডেন্ট স্কাই পেরিম্যান বলেন, 'আমাদের ক্লায়েন্টরা আইন মেনেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের এই মর্যাদা হঠাৎ করে কেড়ে নেওয়া ছিল অবৈধ ও নিষ্ঠুর।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুসলিম অধিকারকর্মী, এবার ফেডারেল মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষামূলক সফরে মসজিদে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ফেডারেল মামলায় নাম এসেছে মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর। ২০২৫ সালের শরতে স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে নেওয়া হয়েছিল। ওই সফরকে কেন্দ্র করে পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী। মামলায় বিলুর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে।    ৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। ‘কমিউনিটি মেম্বার্স ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামে একটি গ্রুপের সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবক ও বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী মামলাটি করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ওই সফরে শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়া হয়, মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের ইসলামি ধর্মীয় যুব কর্মসূচির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন ধারণার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছিল যে ইসলাম বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সফরের সময় শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা এবং অভিভাবকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া সেসব ছবি অনলাইনে প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।    এই মামলায় জাহরা বিলুর নাম আসার কারণ হলো, তিনি ওই সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বিলু কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা CAIR-এর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক। নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, তাকে একজন আমেরিকান মুসলিম নারী হিসেবে তার নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।    বিলু মামলাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, পাবলিক স্কুলে ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু নিরপেক্ষতার অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে দূরে রাখা নয়। তিনি বলেন, মসজিদ পরিদর্শন, মুসলিমদের নামাজ দেখা কিংবা ইসলাম সম্পর্কে শেখা আর শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করা এক বিষয় নয়।    পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, ধর্ম বিষয়ে স্কুলের শিক্ষা একাডেমিক হতে হবে, ধর্মীয় আচার পালনের উদ্দেশ্যে নয়। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার বা অবমূল্যায়ন করাও স্কুলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা চলমান থাকায় ডিস্ট্রিক্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি এবং জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছে।    অন্যদিকে, মামলাকারীরা বলছেন, সফরটি শুধু ধর্ম সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং ইসলামকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাবলিক স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে।    তবে সফরে অংশ নেওয়া অন্তত একজন শিক্ষার্থী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, এটি ছিল ধর্ম সম্পর্কে একটি বৃহত্তর শিক্ষামূলক ইউনিটের অংশ, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানানো হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে শেখা, কাউকে ধর্মান্তরিত করা নয়।    ফলে মামলাটিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন দাঁড়িয়েছে, পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সম্পৃক্ত করার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কোথায়। ফেডারেল আদালতে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমে সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৯:৪৯
আটক ব্যক্তি লুইস ম্যানুয়েল অ্যাভিলেস রোয়া

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৯ মাস সমুদ্রে মার্কিন নৌসেনা, দেশে ফেরার আগেই বাবাকে আটক করল আইসিই

লং আইল্যান্ডে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা

লং আইল্যান্ডের সংরক্ষিত এলাকায় ১৪ বছরের কিশোরীর সঙ্গে নগ্ন অবস্থায় যুবক আটক

নিহত শিক্ষার্থী অ্যালি রেনি সিং

ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্লিফ থেকে সাগরে গাড়ি পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আবাসন বাজারে বাড়ি
বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকলেই মাসে সাশ্রয় $১,০০০, যুক্তরাষ্ট্রের যে ৭ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়া দুটোই এখন অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তবে এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, দেশটির সাতটি বড় মেট্রো এলাকায় বাড়ি কেনার তুলনায় ভাড়া থাকলে মাসে কয়েকশ থেকে ১ হাজার ডলারের বেশি সাশ্রয় হতে পারে। এর মধ্যে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোতে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি।    তালিকায় রয়েছে টেক্সাসের অস্টিন, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো, কলোরাডোর ডেনভার, ওরেগনের পোর্টল্যান্ড, মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, ইউটাহর সল্ট লেক সিটি এবং ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। এসব মেট্রো এলাকায় গড় মাসিক রেন্টের তুলনায় মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।    অস্টিনে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪৭৫ ডলার। বিপরীতে গড় মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৪২১ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৪ ডলার কম খরচ হতে পারে।   স্যাক্রামেন্টোতে ব্যবধানও ১ হাজার ডলারের বেশি। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৬২১ ডলার, আর গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৭৯ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৪২ ডলার সাশ্রয় হতে পারে।    ডেনভারে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৫১৮ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৬৩৩ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৮৮৫ ডলার।   ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪০৪ ডলার, যেখানে গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৫১ ডলার। অর্থাৎ ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৮৫৩ ডলার কম খরচ হতে পারে।   মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ২৫৪ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫২৭ ডলার। এখানে ব্যবধান প্রায় ৭২৭ ডলার।   ইউটাহর সল্ট লেক সিটিতে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ১০৬ ডলার। গড় রেন্ট ১ হাজার ৪২৮ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৬৭৮ ডলার সাশ্রয় হতে পারে।   তালিকার সপ্তম শহর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ১ হাজার ৯৬৭ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৯০ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৩৭৭ ডলার।    বিশ্লেষণে ব্যবহৃত রেন্টের তথ্য এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বাজারের হিসাবের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী অস্টিনে গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৪২০ ডলার, স্যাক্রামেন্টোতে ১ হাজার ৫৮৩ ডলার, ডেনভারে ১ হাজার ৬৪২ ডলার এবং পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৫২৯ ডলার। একই সময়ে অরল্যান্ডোর গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ ডলার।    অস্টিনের আবাসন বাজার নিয়ে স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট দিলার শোয়ার্টজ ফক্স বিজনেসকে বলেন, শহরটিতে বাড়ি কেনা ও রেন্ট নেওয়া দুই বাজারেই চাহিদা রয়েছে। কাজের কারণে অস্টিনে আসা, নতুন এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা এবং বিভিন্ন সাবডিভিশনে স্থানান্তরের কারণে রেন্টাল ইনকোয়ারি বেড়েছে বলে তিনি জানান।   তবে রেন্ট বনাম বাইয়ের সিদ্ধান্ত শুধু মাসিক রেন্ট ও মর্টগেজ পেমেন্টের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে না। বাড়ি কিনলে ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, মেইনটেন্যান্স ও ক্লোজিং কস্টের মতো অতিরিক্ত খরচ থাকে। অন্যদিকে রেন্টারদের সাধারণত এসব মালিকানাসংক্রান্ত খরচ বহন করতে হয় না।   বর্তমান আবাসন বাজারে মর্টগেজের উচ্চ খরচ ও বাড়ির দামের কারণে অনেক পরিবারের জন্য রেন্ট নেওয়া স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোর মতো শহরে মাসিক ব্যয়ের ব্যবধান ১ হাজার ডলারের বেশি হওয়ায় বাড়ি কেনার আগে রেন্ট বনাম বাইয়ের হিসাব নতুন করে বিবেচনা করছেন অনেক ক্রেতা।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৭:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি, টার্গেটে ২ লাখ বিদেশি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ বহিষ্কৃত অভিবাসী নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ বহিষ্কৃত অভিবাসী নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া

ডেলাওয়ার ভ্যালিতে ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা

ডেলাওয়ার ভ্যালিতে ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে ১৫টি ঘাঁটির প্রবেশাধিকার হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক মার্কিন জেনারেল

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে।   ম্যাকক্যাফ্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১৫টি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ওয়াশিংটনকে নতুন করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম সৌদি আরব, ইসরায়েল ও দক্ষিণ ইউরোপে নতুন সামরিক প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে হতে পারে।   ম্যাকক্যাফ্রে দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে উপসাগরীয় যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসনেও দায়িত্ব পালন করেন।   তার এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার সময়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলটির মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।   ম্যাকক্যাফ্রের মতে, এর ফলে শুধু কয়েকটি সামরিক স্থাপনার বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রভাবের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।   তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রবেশাধিকার সীমিত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প ঘাঁটি ও নতুন সামরিক অংশীদার খুঁজতে হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৬:২১
মৃত শিশু লিলিয়ান স্মার্ট ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

৮ম জন্মদিনের পরদিনই লেকে সাঁতার কাটতে গিয়ে বিরল ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’তে আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু

ফোবানা নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থী মোহাম্মদ কাজল।

ফোবানা নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন মেরিল্যান্ডের কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ কাজল

ফ্লোরিডায় স্বামীর চোখের সামনেই বজ্রপাতে মা ও দুই বছরের কন্যার মৃত্যু

ফ্লোরিডায় স্বামীর চোখের সামনেই বজ্রপাতে মা ও দুই বছরের কন্যার মৃত্যু

0 Comments