লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সামা টিভি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের এই এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে একটি টহল গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সদস্য নিহত হন। জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, বিস্ফোরণটি একটি পুলিশ যানবাহনের খুব কাছে ঘটে। সে সময় টহলরত দলটি দায়িত্ব পালন করছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সদর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) আজমসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা ও সাখি জাদা। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং কারা এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো ইরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী পুতিন হয়তো তেহরানকে “সামান্য সহায়তা” করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এর পেছনে রাশিয়ার একটি রাজনৈতিক যুক্তিও থাকতে পারে। ট্রাম্পের মতে, পুতিন সম্ভবত মনে করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে সমর্থন দেওয়াও অনেকটা তার প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপের মতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, শুধু রাশিয়াই নয়—চীনের মতো বড় শক্তিগুলিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন হিসাব-নিকাশ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বিভিন্ন দেশ বা মিত্রকে সহায়তা দিচ্ছে, তাই অন্য শক্তিগুলোও নিজেদের মিত্রদের সমর্থন দেওয়া স্বাভাবিক বলে তারা মনে করতে পারে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যমে নতুন একটি দাবি সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া নাকি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো হয়তো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তেহরানকে দিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। যদিও ট্রাম্প বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে সীমিত সহায়তা হিসেবে দেখছেন, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। একজন সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হেনেছে। আরেকটি নিরাপত্তা সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, কূটনৈতিক মিশনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সূত্রগুলো জানায়, বাগদাদে ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা বিমান হামলায় নিহত হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই দূতাবাসে এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলে। তবে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। সংলাপ ভেঙে যাওয়ার পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আলাদা সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান—যেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এক দুঃসাহসিক স্ম্যাশ-অ্যান্ড-গ্র্যাব ডাকাতির ঘটনায় মাত্র এক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের স্বর্ণ ও হীরার গয়না লুট করে পালিয়ে গেছে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ করেই একটি জুয়েলারি দোকানে ঢুকে পড়ে এবং হাতুড়ি ও ভারী বস্তু দিয়ে কাচের শোকেস ভাঙতে শুরু করে। দোকানের কর্মচারীরা আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে সরে যান, আর সেই সুযোগে ডাকাতরা দ্রুত মূল্যবান গয়না ব্যাগে ভরে ফেলে। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ সেকেন্ডের মধ্যে, যা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ডাকাতরা ঘটনাস্থল থেকে একাধিক গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত এলাকায় অভিযান চালায় এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই ডাকাতির সাথে একটি সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যালিফোর্নিয়া সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মব-স্টাইল স্ম্যাশ-অ্যান্ড-গ্র্যাব ডাকাতি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বিলাসবহুল দোকান, জুয়েলারি শপ ও ব্র্যান্ডেড স্টোরগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে, কারণ অল্প সময়ে বড় অঙ্কের মালামাল লুট করা সম্ভব। পুলিশ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো ইরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী পুতিন হয়তো তেহরানকে “সামান্য সহায়তা” করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এর পেছনে রাশিয়ার একটি রাজনৈতিক যুক্তিও থাকতে পারে। ট্রাম্পের মতে, পুতিন সম্ভবত মনে করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে সমর্থন দেওয়াও অনেকটা তার প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপের মতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, শুধু রাশিয়াই নয়—চীনের মতো বড় শক্তিগুলিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন হিসাব-নিকাশ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বিভিন্ন দেশ বা মিত্রকে সহায়তা দিচ্ছে, তাই অন্য শক্তিগুলোও নিজেদের মিত্রদের সমর্থন দেওয়া স্বাভাবিক বলে তারা মনে করতে পারে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যমে নতুন একটি দাবি সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া নাকি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো হয়তো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তেহরানকে দিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। যদিও ট্রাম্প বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে সীমিত সহায়তা হিসেবে দেখছেন, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সামা টিভি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের এই এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে একটি টহল গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সদস্য নিহত হন। জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, বিস্ফোরণটি একটি পুলিশ যানবাহনের খুব কাছে ঘটে। সে সময় টহলরত দলটি দায়িত্ব পালন করছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সদর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) আজমসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা ও সাখি জাদা। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং কারা এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দিতে পারেন বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এলিয়ট আব্রামস। সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্রামস বলেন, ট্রাম্পের সামনে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। তিনি বলেন, একটি সম্ভাবনা হলো—ইরানে কোনো ধরনের বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। অন্য সম্ভাবনাটি হচ্ছে, এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দেবেন এবং বলবেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিকল্পিত সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তাই এখন অভিযানের সমাপ্তি ঘটছে। আব্রামস, যিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলা ও ইরান বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, মনে করেন দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিই বেশি বাস্তবসম্মত। তিনি বলেন, ইরানের সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারকে তীব্রভাবে অপছন্দ করলেও সেই সরকার এক সপ্তাহের মধ্যে পতন ঘটবে নাকি পাঁচ বছর পর—এটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সূত্র: আল জাজিরা
তুরস্ককে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে টেনে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও আঙ্কারা নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার চেষ্টা করছে। রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের আকাশসীমার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। গত রাতেও আমরা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৃতীয়বারের মতো প্রতিহত করেছি। এরদোগান আরও বলেন, আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে এই বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাত থেকে দূরে রাখা। দেশের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের কূটনৈতিক অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়-এ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন ২৫–৩০ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, পরে তারা ইউএনও ও কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দিন ইউএনওকে অভিযুক্ত করে বলেন, আপনি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেবেন, আমরা তা মানব না।” ইউএনও রায়হানুল ইসলাম এই সময় জানান, “এই অফিস চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে। অধ্যক্ষ যদি কিছু অবৈধ দেখতে পান, বোর্ডকে জানান। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার লোকজন পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। আমি চেষ্টা করেছি কাগজপত্র ফিরিয়ে আনতে।” হরিপুর ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, “উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, ইউএনও নিয়োগ পরীক্ষার সময় পয়সা লেনদেন করেছেন, এবং এ বিষয়টি জানিয়ে তিনি সেখানে যান। তার দাবি, পরে কাগজপত্র অফিসে ফেরত রাখা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের ফলাফল ভোট গণনার সময় প্রভাবিত করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হিমালয় পার্কে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টি পঞ্চগড় জেলা শাখার ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই দায় যেমন অন্যদের ওপর দেওয়া যায়, তেমনি এটাও সত্য যে আমরা আমাদের ভোট গণনার সময় যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারিনি। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো কেন্দ্রে যদি আমাদের ১০ জন ভোটার থাকে, সেই ১০টি ভোটও রক্ষা করতে হবে। আবার কোথাও যদি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ৯০টি আমাদের হয়, তাহলে সেই ৯০টি ভোটও নিশ্চিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিরোধী দল হিসেবে সংসদে আছি। স্থানীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে নাকি আলাদাভাবে হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যেভাবেই হোক, জনগণের দেওয়া ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ অনেক আশা ও পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের লড়াই রাজপথ থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ভয় ও সাহসের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ভয় ছোঁয়াচে—ভয় পেলে মানুষ পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু সাহস আরও বেশি ছোঁয়াচে। একজন মানুষ যখন সাহস দেখায়, তখন অন্যরাও সেই সাহস থেকে অনুপ্রাণিত হয়। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আপনাদের মধ্য থেকেই কেউ মেম্বার, কেউ চেয়ারম্যান, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সামা টিভি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের এই এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে একটি টহল গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সদস্য নিহত হন। জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, বিস্ফোরণটি একটি পুলিশ যানবাহনের খুব কাছে ঘটে। সে সময় টহলরত দলটি দায়িত্ব পালন করছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সদর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) আজমসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা ও সাখি জাদা। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং কারা এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো ইরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী পুতিন হয়তো তেহরানকে “সামান্য সহায়তা” করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এর পেছনে রাশিয়ার একটি রাজনৈতিক যুক্তিও থাকতে পারে। ট্রাম্পের মতে, পুতিন সম্ভবত মনে করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে সমর্থন দেওয়াও অনেকটা তার প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপের মতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, শুধু রাশিয়াই নয়—চীনের মতো বড় শক্তিগুলিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন হিসাব-নিকাশ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বিভিন্ন দেশ বা মিত্রকে সহায়তা দিচ্ছে, তাই অন্য শক্তিগুলোও নিজেদের মিত্রদের সমর্থন দেওয়া স্বাভাবিক বলে তারা মনে করতে পারে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যমে নতুন একটি দাবি সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া নাকি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো হয়তো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তেহরানকে দিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। যদিও ট্রাম্প বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে সীমিত সহায়তা হিসেবে দেখছেন, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। একজন সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হেনেছে। আরেকটি নিরাপত্তা সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, কূটনৈতিক মিশনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সূত্রগুলো জানায়, বাগদাদে ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা বিমান হামলায় নিহত হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই দূতাবাসে এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলে। তবে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। সংলাপ ভেঙে যাওয়ার পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আলাদা সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান—যেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রে আটক ফিলিস্তিনি নারী লেকা করদিয়াকে তৃতীয়বারের মতো জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন এক অভিবাসন বিচারক। তবে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো মুক্তি পাবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের জন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে আটক করা হয়। এর আগে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে সেই অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়। অভিবাসন আদালত একাধিকবার মত দিয়েছে যে তিনি জননিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নন এবং তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তবুও প্রশাসনিক আপিল ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তার মুক্তি বারবার বিলম্বিত হচ্ছে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আটক অবস্থায় তার অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও সামনে এসেছে, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইনজীবীদের দাবি, আদালতের বারবার নির্দেশ সত্ত্বেও তাকে আটক রাখার ঘটনা অস্বাভাবিক এবং এটি অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তার অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।