Live update news
মাহদী হাসান ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের নোটিশ পাঠালেন বিবিসি বাংলাকে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এ দাবিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।   মাহদী হাসান জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার কাছে ৪০ লাখ টাকা সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। এ তথ্য তার ব্যক্তিগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   গত ৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবিরের মাধ্যমে লন্ডনে অবস্থিত বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং ঢাকার কার্যালয়ের প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বিরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।   মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে মাহদী হাসান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাতে এবং মানহানিকর তথ্যের প্রতিকার পেতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নিজেকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ভিত্তিহীন এ তথ্যের কারণে তিনি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।   আইনি নোটিশে বিবিসি বাংলাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার বা সন্তোষজনক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

৯ মিনিট Ago
ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বা ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চায় না ইসরায়েল। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জেরুজালেমে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে সংঘাত কবে শেষ হতে পারে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি।   প্রায় ১১ দিন ধরে চলা এই সংঘাতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘাতের প্রভাব লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।   সংবাদ সম্মেলনে গিডিওন সার দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করেই যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সার আরও বলেন, ইসরায়েল এবং আমাদের অংশীদাররা যতক্ষণ প্রয়োজন মনে করবে, ততক্ষণ এই অভিযান চলবে। আমাদের লক্ষ্য ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদি যে হুমকি রয়েছে, তা দূর করা।   তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের জনগণের জন্য তাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘চরমপন্থী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে ভিন্নধর্মী ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সোমবার তিনি বলেন, এই সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ না হলেও খুব দ্রুত তা শেষ হতে পারে। তবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।   অন্যদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল আশা প্রকাশ করেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান বর্তমানে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত নয়।   এদিকে মঙ্গলবারও তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েলের দিকে মিসাইল ছুড়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও বিদ্যমান।

২৩ মিনিট Ago
এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার পুতিন–পেজেশকিয়ান ফোনালাপ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে।   ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।   রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়।   এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

৪২ মিনিট Ago
যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন, ভারী পেলোডের মিসাইল ব্যবহারের ঘোষণা ইরানের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে এক হাজার কেজি বা তার বেশি পেলোড বহনে সক্ষম মিসাইল ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেবে ইরান।   রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে মিসাইলের সংখ্যা কমিয়ে তাদের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কৌশলের ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে।   যুদ্ধের শুরুতে ইরান তুলনামূলক কম খরচের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়। এতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়।   তবে বর্তমানে তেহরান খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারে বেশি জোর দিচ্ছে। এসব মিসাইল উচ্চগতিসম্পন্ন এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে, যা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।   সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক টন বিস্ফোরক বহনকারী মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলে তা বড় ধরনের সামরিক অবকাঠামো অচল করে দিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

৫৪ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ
মাহদী হাসান ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের নোটিশ পাঠালেন বিবিসি বাংলাকে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এ দাবিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।   মাহদী হাসান জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার কাছে ৪০ লাখ টাকা সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। এ তথ্য তার ব্যক্তিগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   গত ৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবিরের মাধ্যমে লন্ডনে অবস্থিত বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং ঢাকার কার্যালয়ের প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বিরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।   মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে মাহদী হাসান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাতে এবং মানহানিকর তথ্যের প্রতিকার পেতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নিজেকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ভিত্তিহীন এ তথ্যের কারণে তিনি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।   আইনি নোটিশে বিবিসি বাংলাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার বা সন্তোষজনক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার পুতিন–পেজেশকিয়ান ফোনালাপ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে।   ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।   রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়।   এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বা ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চায় না ইসরায়েল। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জেরুজালেমে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে সংঘাত কবে শেষ হতে পারে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি।   প্রায় ১১ দিন ধরে চলা এই সংঘাতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘাতের প্রভাব লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।   সংবাদ সম্মেলনে গিডিওন সার দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করেই যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সার আরও বলেন, ইসরায়েল এবং আমাদের অংশীদাররা যতক্ষণ প্রয়োজন মনে করবে, ততক্ষণ এই অভিযান চলবে। আমাদের লক্ষ্য ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদি যে হুমকি রয়েছে, তা দূর করা।   তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের জনগণের জন্য তাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘চরমপন্থী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে ভিন্নধর্মী ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সোমবার তিনি বলেন, এই সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ না হলেও খুব দ্রুত তা শেষ হতে পারে। তবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।   অন্যদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল আশা প্রকাশ করেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান বর্তমানে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত নয়।   এদিকে মঙ্গলবারও তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েলের দিকে মিসাইল ছুড়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও বিদ্যমান।

কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেট
মার্কিন কনসুলেটে অতর্কিত গুলিবর্ষণ: উত্তাল টরন্টো

কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।  বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

হোয়াইট হাউস
ইরানের সাথে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউসের কাছে জনসম্মুখে ব্যাখ্যা দাবি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।  একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রতিদিন ১০ শিশু নিহত হচ্ছে

লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশটিতে তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, লেবাননে চলমান এই সংঘাতের প্রতি দিন গড়ে ১০ জন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। ইউনিসেফের সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৮৩ জন শিশু নিহত হয়েছে। লেবাননের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্যমতে, এই অল্প কয়েক দিনে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৭০ ছাড়িয়েছে।  ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট ছোঁড়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হলেও, এর চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের। লিটানি নদীর দক্ষিণ তীরের বিশাল এলাকা খালি করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশের পর দেশটির প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, যেখানে বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্করা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন।  মানবাধিকার কর্মীদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই সমরকৌশল গাজার ভয়াবহ ধ্বংসলীলার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। গাজার মতোই এখানেও বেসামরিক জনগণকে আতঙ্কিত করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত করার মতো কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না ইসরায়েল
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বা ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চায় না ইসরায়েল। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জেরুজালেমে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে সংঘাত কবে শেষ হতে পারে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি।   প্রায় ১১ দিন ধরে চলা এই সংঘাতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘাতের প্রভাব লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।   সংবাদ সম্মেলনে গিডিওন সার দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করেই যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সার আরও বলেন, ইসরায়েল এবং আমাদের অংশীদাররা যতক্ষণ প্রয়োজন মনে করবে, ততক্ষণ এই অভিযান চলবে। আমাদের লক্ষ্য ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদি যে হুমকি রয়েছে, তা দূর করা।   তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের জনগণের জন্য তাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘চরমপন্থী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে ভিন্নধর্মী ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সোমবার তিনি বলেন, এই সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ না হলেও খুব দ্রুত তা শেষ হতে পারে। তবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।   অন্যদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল আশা প্রকাশ করেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান বর্তমানে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত নয়।   এদিকে মঙ্গলবারও তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েলের দিকে মিসাইল ছুড়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও বিদ্যমান।

ছবি: সংগৃহীত
এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার পুতিন–পেজেশকিয়ান ফোনালাপ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনা
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে।   ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।   রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়।   এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন, ভারী পেলোডের মিসাইল ব্যবহারের ঘোষণা ইরানের
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে এক হাজার কেজি বা তার বেশি পেলোড বহনে সক্ষম মিসাইল ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেবে ইরান।   রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে মিসাইলের সংখ্যা কমিয়ে তাদের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কৌশলের ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে।   যুদ্ধের শুরুতে ইরান তুলনামূলক কম খরচের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়। এতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়।   তবে বর্তমানে তেহরান খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারে বেশি জোর দিচ্ছে। এসব মিসাইল উচ্চগতিসম্পন্ন এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে, যা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।   সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক টন বিস্ফোরক বহনকারী মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলে তা বড় ধরনের সামরিক অবকাঠামো অচল করে দিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রতিদিন ১০ শিশু নিহত হচ্ছে
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশটিতে তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, লেবাননে চলমান এই সংঘাতের প্রতি দিন গড়ে ১০ জন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। ইউনিসেফের সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৮৩ জন শিশু নিহত হয়েছে। লেবাননের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্যমতে, এই অল্প কয়েক দিনে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৭০ ছাড়িয়েছে।  ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট ছোঁড়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হলেও, এর চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের। লিটানি নদীর দক্ষিণ তীরের বিশাল এলাকা খালি করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশের পর দেশটির প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, যেখানে বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্করা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন।  মানবাধিকার কর্মীদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই সমরকৌশল গাজার ভয়াবহ ধ্বংসলীলার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। গাজার মতোই এখানেও বেসামরিক জনগণকে আতঙ্কিত করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত করার মতো কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
172 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
188 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
125 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়