এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আজ ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের ফলে আকাশে দেখা যাবে বিশেষ রক্তিম চাঁদ, যা ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’ নামে পরিচিত। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করা যাবে। চন্দ্রগ্রহণের সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়)- পূর্ণগ্রাস শুরু: বিকাল ৫টা ২৮ মিনিট, পূর্ণগ্রাস শেষ: সন্ধ্যা ৬টা ০২ মিনিট, খণ্ডগ্রাস সমাপ্তি: রাত ৮টা ২৩ মিনিট কেন বলা হয় ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’? জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, মার্চ মাসের পূর্ণিমাকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘ওয়ার্ম মুন’ বলা হয়। শীত শেষে মাটি উষ্ণ হতে শুরু করলে কেঁচো ও পোকামাকড় মাটির ওপরে উঠে আসে- এ থেকেই নামের উৎপত্তি। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের লাল আলো প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এতে চাঁদ গাঢ় লাল বা তামাটে আভা ধারণ করে, যা ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। দুইয়ের মিলিত রূপই ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’। চন্দ্রগ্রহণ দেখতে কোনো বিশেষ চশমার প্রয়োজন নেই। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই নিরাপদে দেখা যাবে এই দৃশ্য। দূরবীন বা টেলিস্কোপ থাকলে লাল আভার সূক্ষ্ম পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব। ছবি তুলতে চাইলে ডিএসএলআর ক্যামেরায় আইএসও সামান্য বাড়িয়ে ভালো মানের ছবি ধারণ করা যাবে। উল্লেখ্য, এই গ্রহণ পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাংশ থেকেও দেখা যাবে, তবে ইউরোপ ও আফ্রিকার বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে এটি দৃশ্যমান হবে না।
বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। আইআরজিসির দাবি, হামলায় ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ও সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন লেগেছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাহরাইন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও মিত্র স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়ে আসছে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রুট অচল হলে ২০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেলক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সরবরাহ সংকট দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই প্রণালী দিয়ে। সরবরাহ বন্ধ থাকলে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা দেবে। চীনের অর্থনীতিতে বড় আঘাত মানে বিশ্ববাজারে তার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, কমতে পারে বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচক। বাজারমূল্য থেকে ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। সরবরাহ সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে দৃশ্যমান। অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এলএনজির দামও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান। দেশটির আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে টোকিওর অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার শিল্পনির্ভর অর্থনীতিগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু জ্বালানি বাজার নয় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়া আট বছরের শিশু ইরা আর বাঁচল না। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অংশ থেকে গলাকাটা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় শ্রমিকেরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ইরার বাড়ি কুমিরা এলাকায়। উদ্ধারস্থল তার বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিশু ইরার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আজ ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের ফলে আকাশে দেখা যাবে বিশেষ রক্তিম চাঁদ, যা ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’ নামে পরিচিত। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করা যাবে। চন্দ্রগ্রহণের সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়)- পূর্ণগ্রাস শুরু: বিকাল ৫টা ২৮ মিনিট, পূর্ণগ্রাস শেষ: সন্ধ্যা ৬টা ০২ মিনিট, খণ্ডগ্রাস সমাপ্তি: রাত ৮টা ২৩ মিনিট কেন বলা হয় ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’? জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, মার্চ মাসের পূর্ণিমাকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘ওয়ার্ম মুন’ বলা হয়। শীত শেষে মাটি উষ্ণ হতে শুরু করলে কেঁচো ও পোকামাকড় মাটির ওপরে উঠে আসে- এ থেকেই নামের উৎপত্তি। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের লাল আলো প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এতে চাঁদ গাঢ় লাল বা তামাটে আভা ধারণ করে, যা ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। দুইয়ের মিলিত রূপই ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’। চন্দ্রগ্রহণ দেখতে কোনো বিশেষ চশমার প্রয়োজন নেই। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই নিরাপদে দেখা যাবে এই দৃশ্য। দূরবীন বা টেলিস্কোপ থাকলে লাল আভার সূক্ষ্ম পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব। ছবি তুলতে চাইলে ডিএসএলআর ক্যামেরায় আইএসও সামান্য বাড়িয়ে ভালো মানের ছবি ধারণ করা যাবে। উল্লেখ্য, এই গ্রহণ পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাংশ থেকেও দেখা যাবে, তবে ইউরোপ ও আফ্রিকার বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে এটি দৃশ্যমান হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রুট অচল হলে ২০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেলক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সরবরাহ সংকট দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই প্রণালী দিয়ে। সরবরাহ বন্ধ থাকলে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা দেবে। চীনের অর্থনীতিতে বড় আঘাত মানে বিশ্ববাজারে তার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, কমতে পারে বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচক। বাজারমূল্য থেকে ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। সরবরাহ সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে দৃশ্যমান। অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এলএনজির দামও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান। দেশটির আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে টোকিওর অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার শিল্পনির্ভর অর্থনীতিগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু জ্বালানি বাজার নয় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী দেশ কাতার তাদের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত সোমবার কাতারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে একটি আঘাত হানে মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে এবং অন্যটি কাতার এনার্জির রাস লাফফানে। উল্লেখ্য, রাস লাফফান বিশ্বের বৃহত্তম তরল গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র, যেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এলএনজি রপ্তানি করা হয়। হামলায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার এনার্জি সাময়িকভাবে উৎপাদন স্থগিত রেখেছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায়। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে বর্তমানে প্রায় ৭০০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্যাসবাহী জাহাজ। ইতিমধ্যে এই পথে গ্যাস সরবরাহ ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশ ও বিশ্ববাজারে প্রভাব বিশ্বের মোট গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। আকস্মিক উৎপাদন বন্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতার থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন বলেন, কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধ হওয়া বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তবে পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এলএনজি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পর কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর রাজধানী আবুধাবি-তে একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আবুধাবির মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুসাফ্ফা জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনাল–এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। এ ঘটনায় টার্মিনালে আগুন ধরে গেলেও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা–এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। আইআরজিসির দাবি, হামলায় ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ও সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন লেগেছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাহরাইন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও মিত্র স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়ে আসছে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রুট অচল হলে ২০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেলক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সরবরাহ সংকট দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই প্রণালী দিয়ে। সরবরাহ বন্ধ থাকলে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা দেবে। চীনের অর্থনীতিতে বড় আঘাত মানে বিশ্ববাজারে তার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, কমতে পারে বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচক। বাজারমূল্য থেকে ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। সরবরাহ সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে দৃশ্যমান। অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এলএনজির দামও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান। দেশটির আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে টোকিওর অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার শিল্পনির্ভর অর্থনীতিগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু জ্বালানি বাজার নয় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ সতর্কতা জারি করা হয়। সোমবার প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতারসহ মোট ১৪টি দেশের নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে যত দ্রুত সম্ভব নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এর আগে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে মার্কিন প্রশাসন, যেখানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সতর্কতার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী সচিব মোরে নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত নাগরিকদের বিলম্ব না করে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে Amman-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, সম্ভাব্য হুমকির কারণে তাদের কিছু কর্মী কূটনৈতিক স্থাপনা ত্যাগ করেছেন। ওয়াশিংটন থেকে Al Jazeera-এর প্রতিবেদক প্যাটি কালহেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের ঘোষণা অস্বাভাবিক। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র সরকার নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকে। এ পরিস্থিতিতে আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিন নাগরিকদের কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও Israel ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি সহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, ইরান প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্য ঘোষণা করে এবং সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম Fox News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্য, ইরানই একমাত্র রাষ্ট্র যারা খোলাখুলিভাবে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ধ্বংসাত্মক অবস্থানের কথা জানায় এবং তা অর্জনে সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নেয়। তার দাবি, তেহরান নতুন গোপন স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার নির্মাণ করছে, যাতে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে তা আর সম্ভব হতো না। তার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকি জোরদার করতে চায়, তাই দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছিলেন। আলোচনা ও সতর্কবার্তার পরও ইরান অবস্থান পরিবর্তন না করায় শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জোট বর্তমানে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।