Live update news
এবার যুদ্ধ ঘোষণা হিজবুল্লাহর, নতুন সঙ্কটে ইসরায়েল

দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার কড়া বার্তা দিল লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অব্যাহত হামলার মুখে আর চুপ থাকা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কোনো উস্কানি নয়, বরং এটি একটি ‘বৈধ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, গত ১৫ মাস ধরে ইসরায়েল ক্রমাগত লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলকে চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করার জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে, বিচারহীনভাবে এই হত্যাকাণ্ড এবং ধ্বংসযজ্ঞ চলতে পারে না। এখন সময় এসেছে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের অবসান ঘটানো।" তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে লেবানন সরকারের অবস্থানে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এখন থেকে তাদের ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই হিজবুল্লাহর এই পাল্টা হুঙ্কার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

১১ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুত আছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ‘মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি’ মানের যুদ্ধাস্ত্রের বিশাল মজুদ দিয়ে ‘চিরকাল’ পর্যন্ত যুদ্ধ চালানো সম্ভব বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে এ মন্তব্য করেন।   ট্রাম্প লিখেছেন, “আমাদের কাছে এসব অস্ত্রের মজুদ কার্যত অফুরন্ত। যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে, এবং আমরা বড় জয় পাওয়ার জন্য প্রস্তুত!!!”   একই পোস্টে নিজের পূর্বসূরি জো বাইডেন এর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ‘অত্যন্ত উন্নত মানের’ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন।   উল্লেখ্য, মেয়াদের শেষ দিকে বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে শক্তিশালী দূরপাল্লার ATACMS ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়, যা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।   মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র সরবরাহ নীতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।

১৬ মিনিট Ago
২০ ড্রোন ও ৩ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বাহরাইনে মার্কিন কমান্ড সেন্টার গুঁড়িয়ে দিল ইরান

উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।    মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।   আইআরজিসির বরাত দিয়ে ক্যাসপিয়ান পোস্ট জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ২০টি ড্রোন এবং তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলায় ঘাঁটিটির প্রধান কমান্ড এবং সদর দপ্তর ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি সঞ্চয়কারী ট্যাংকে আগুন ধরে যায় বলেও তারা দাবি করেছেন।   টার্গেট করা স্থাপনাটি শেখ ঈসা এয়ার বেসের কাছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তবে এই হামলার বিষয়ে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের পর থেকেই তেহরান পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়ে আসছিল। আইআরজিসির এই দাবি সেই হুমকিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।   উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া এবং মার্কিন বি-১ বোম্বারের ইরানে হামলার মতো খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

২৪ মিনিট Ago
মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বহু দেশ ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত নিচের দেশগুলো ত্যাগ করুন।’   সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।   এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাক থেকে অনেক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানে কর্মরত মার্কিন কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।   মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।   রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দাবি করেন, দুটি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আঘাত হেনেছে এবং এতে আগুন লাগে। পরে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।   এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়ালেও থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জেরুজালেমও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তেহরান ও বৈরুতে হামলা চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।   ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটলেও সম্প্রচারে বড় ধরনের বিঘ্ন হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ইরানে এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সংঘাতের তৃতীয় দিন পর্যন্ত ইরানে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান হবে ‘দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক’।   অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

৩৩ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত।
আন্তর্জাতিক
এবার যুদ্ধ ঘোষণা হিজবুল্লাহর, নতুন সঙ্কটে ইসরায়েল

দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার কড়া বার্তা দিল লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অব্যাহত হামলার মুখে আর চুপ থাকা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কোনো উস্কানি নয়, বরং এটি একটি ‘বৈধ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, গত ১৫ মাস ধরে ইসরায়েল ক্রমাগত লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলকে চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করার জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে, বিচারহীনভাবে এই হত্যাকাণ্ড এবং ধ্বংসযজ্ঞ চলতে পারে না। এখন সময় এসেছে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের অবসান ঘটানো।" তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে লেবানন সরকারের অবস্থানে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এখন থেকে তাদের ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই হিজবুল্লাহর এই পাল্টা হুঙ্কার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী অচল হলে থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি । ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী অচল হলে থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই রুট অচল হলে ২০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেলক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সরবরাহ সংকট দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।   বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই প্রণালী দিয়ে। সরবরাহ বন্ধ থাকলে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা দেবে।   চীনের অর্থনীতিতে বড় আঘাত মানে বিশ্ববাজারে তার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, কমতে পারে বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচক। বাজারমূল্য থেকে ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।   সরবরাহ সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে দৃশ্যমান। অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এলএনজির দামও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান। দেশটির আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে টোকিওর অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার শিল্পনির্ভর অর্থনীতিগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু জ্বালানি বাজার নয় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

হত্যার পর আটক ছোট ভাই
বোনকে হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় জনতার হাতে আটক ছোট ভাই

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বোনকে কুপিয়ে হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় ছোট ভাইকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী। সোমবার (২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হালিশহর থানার ঈদগাহ বড় পুকুর দক্ষিণপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   নিহত সেনোয়ারা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা সাবের আহমেদের স্ত্রী। হত্যার অভিযোগে আটক ছোট ভাইয়ের নাম জানে আলম। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।   প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সেনোয়ারার স্বামী ও ছেলে তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে ছিলেন। বাসায় একা থাকা অবস্থায় জানে আলম স্বর্ণালংকার নিতে গেলে বোন বাধা দেন। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে জানে আলম বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সন্দেহজনক আচরণ দেখে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন।   পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনির চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।   নিহতের ছেলে সেকান্দার হোসেন বলেন, তারাবির নামাজ শেষে বাসায় ফিরে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং দেখেন লোকজন তার মামাকে আটক করে রেখেছে।   হালিশহর থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সুলতান মোহাম্মদ আহসান উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জানে আলমকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

ছবি: সংগৃহীত
আবুধাবির জ্বালানি টার্মিনালে ড্রোন হামলা, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে

সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর রাজধানী আবুধাবি-তে একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   আবুধাবির মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুসাফ্ফা জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনাল–এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। এ ঘটনায় টার্মিনালে আগুন ধরে গেলেও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।   কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা–এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।

জাহের আলভী। ছবি: সংগৃহীত
ইকরার আত্মহত্যা: ভিডিওতে ‘মব’ আতঙ্কের দাবি আলভীর

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি।   ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি।   আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি।   ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান।   গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন।   ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।   রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিয়ে ইরানে হামলার নিন্দা জামায়াত আমিরের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।   বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।”   তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।”   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।”   তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”   বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত।
এবার যুদ্ধ ঘোষণা হিজবুল্লাহর, নতুন সঙ্কটে ইসরায়েল
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ৩, ২০২৬ 0

দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার কড়া বার্তা দিল লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অব্যাহত হামলার মুখে আর চুপ থাকা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কোনো উস্কানি নয়, বরং এটি একটি ‘বৈধ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, গত ১৫ মাস ধরে ইসরায়েল ক্রমাগত লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলকে চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করার জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে, বিচারহীনভাবে এই হত্যাকাণ্ড এবং ধ্বংসযজ্ঞ চলতে পারে না। এখন সময় এসেছে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের অবসান ঘটানো।" তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে লেবানন সরকারের অবস্থানে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এখন থেকে তাদের ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই হিজবুল্লাহর এই পাল্টা হুঙ্কার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
২০ ড্রোন ও ৩ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বাহরাইনে মার্কিন কমান্ড সেন্টার গুঁড়িয়ে দিল ইরান
আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৩, ২০২৬ 0

উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।    মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।   আইআরজিসির বরাত দিয়ে ক্যাসপিয়ান পোস্ট জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ২০টি ড্রোন এবং তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলায় ঘাঁটিটির প্রধান কমান্ড এবং সদর দপ্তর ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি সঞ্চয়কারী ট্যাংকে আগুন ধরে যায় বলেও তারা দাবি করেছেন।   টার্গেট করা স্থাপনাটি শেখ ঈসা এয়ার বেসের কাছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তবে এই হামলার বিষয়ে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের পর থেকেই তেহরান পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়ে আসছিল। আইআরজিসির এই দাবি সেই হুমকিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।   উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া এবং মার্কিন বি-১ বোম্বারের ইরানে হামলার মতো খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

ছবি: রয়টার্স
মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ
আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৩, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বহু দেশ ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত নিচের দেশগুলো ত্যাগ করুন।’   সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।   এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাক থেকে অনেক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানে কর্মরত মার্কিন কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।   মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।   রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দাবি করেন, দুটি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আঘাত হেনেছে এবং এতে আগুন লাগে। পরে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।   এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়ালেও থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জেরুজালেমও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তেহরান ও বৈরুতে হামলা চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।   ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটলেও সম্প্রচারে বড় ধরনের বিঘ্ন হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ইরানে এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সংঘাতের তৃতীয় দিন পর্যন্ত ইরানে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান হবে ‘দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক’।   অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হা/মলা
সৌদির রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হা/মলা: দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন
আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৩, ২০২৬ 0

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা, যার পরপরই দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দূতাবাস সীমানার ভেতরে আগুনের শিখা দেখা যায়। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে, বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি মূলত দুটি ড্রোন হামলার ফল। এতে দূতাবাসে 'সীমিত আকারে' আগুন লাগলেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে স্থাপনার কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় সৌদি আরবে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই অঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এবং ভ্রমণ সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে কারা জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
157 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
169 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
110 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
শিক্ষা
Advertisement
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়