এক উত্তাল ও অনিশ্চিত সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেন মোজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় ‘সুপ্রিম লিডার’। তবে এমন এক মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান তার ইতিহাসের কঠিনতম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, বংশপরম্পরা ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা এখন তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাবার ছায়া থেকে ক্ষমতার শীর্ষে মোজতবা খামেনি গত কয়েক দশক ধরে তার বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। ইরানের প্রভাবশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে মনোনীত করার পরপরই কট্টরপন্থিরা রাজপথে নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন। দেশটির সকল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নতুন কমান্ডারের প্রতি 'শেষ রক্তবিন্দু' দিয়ে অনুগত থাকার শপথ নিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রের গায়েও লেখা ছিল, "আপনার সেবায় নিয়োজিত, সৈয়দ মোজতবা"। ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিশোধের আগুন মোজতবার এই উত্থান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সাম্প্রতিক সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি শুধু বাবাকেই হারাননি, হারিয়েছেন মা, স্ত্রী এবং এক সন্তানকেও। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাকে আরও রহস্যময় ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই মোজতবাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা। গত রাতেই তেহরানের রাজপথে "মোজতবার মৃত্যু চাই" স্লোগান শোনা গেছে। বিরোধীদের মতে, তার শাসনামলে ইরান আরও কট্টরপন্থি ও দমনমূলক হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার নেতৃত্বকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তিনি বেশিদিন টিকবেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকে ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রহস্যময় ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ মোজতবা খামেনি বরাবরই জনসমক্ষে আসতে অপছন্দ করেন। তার কোনো পাবলিক বক্তৃতার রেকর্ড নেই এবং তিনি কখনো আনুষ্ঠানিক সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি। তবে ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সাথে তার গভীর সম্পর্ক তাকে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেউ কেউ তাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ইরানি সংস্করণ’ হিসেবে দেখছেন—যিনি কি না কঠোর হাতে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেও কিছুটা সামাজিক পরিবর্তনের আভাস দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝে মোজতবা খামেনি ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এমন দাবি করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই নেতানিয়াহু নিহত হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো দৃঢ় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে মূলত মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটার পরিচালনা করেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে হামলার কোনো ভিডিও, ছবি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। বরং নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তার অনুপস্থিতি, তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার সম্ভাব্য সফর স্থগিত হওয়া এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি কথিত ফোনালাপের উল্লেখসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত কয়েকজনকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেও ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার দাবি করেছিল। গত ২ মার্চ কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পরে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ দাবিকে গুজব বলে
রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের ১১ তলাবিশিষ্ট ‘এলএ প্লাজা’য় গতকাল সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা এবং শেখ রাকিবুজ্জামান। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। জীবন বাঁচাতে অনেকেই ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অত্যাধুনিক টার্ন টেবিল ল্যাডার (টিটিএল) ব্যবহার করে ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে ২৪ জনকে (১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী) নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। অভিযান চলাকালীন ভবনের চার ও পাঁচতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে আয়েশা ও রাকিবুজ্জামানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ওই মার্কেটে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। অন্যদিকে শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়। বর্তমানে তাদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে তা স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিমানবাহিনী ও নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
একসময়ের ‘শাস্তি’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষার ‘ওষুধ’। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারতের জন্যই রুশ তেল কেনার পথ প্রশস্ত করল হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ভারতের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সময় শর্ত ছিল যে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেলের চালান অনায়াসেই কিনতে পারবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য।
এক উত্তাল ও অনিশ্চিত সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেন মোজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় ‘সুপ্রিম লিডার’। তবে এমন এক মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান তার ইতিহাসের কঠিনতম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, বংশপরম্পরা ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা এখন তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাবার ছায়া থেকে ক্ষমতার শীর্ষে মোজতবা খামেনি গত কয়েক দশক ধরে তার বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। ইরানের প্রভাবশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে মনোনীত করার পরপরই কট্টরপন্থিরা রাজপথে নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন। দেশটির সকল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নতুন কমান্ডারের প্রতি 'শেষ রক্তবিন্দু' দিয়ে অনুগত থাকার শপথ নিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রের গায়েও লেখা ছিল, "আপনার সেবায় নিয়োজিত, সৈয়দ মোজতবা"। ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিশোধের আগুন মোজতবার এই উত্থান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সাম্প্রতিক সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি শুধু বাবাকেই হারাননি, হারিয়েছেন মা, স্ত্রী এবং এক সন্তানকেও। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাকে আরও রহস্যময় ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই মোজতবাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা। গত রাতেই তেহরানের রাজপথে "মোজতবার মৃত্যু চাই" স্লোগান শোনা গেছে। বিরোধীদের মতে, তার শাসনামলে ইরান আরও কট্টরপন্থি ও দমনমূলক হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার নেতৃত্বকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তিনি বেশিদিন টিকবেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকে ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রহস্যময় ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ মোজতবা খামেনি বরাবরই জনসমক্ষে আসতে অপছন্দ করেন। তার কোনো পাবলিক বক্তৃতার রেকর্ড নেই এবং তিনি কখনো আনুষ্ঠানিক সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি। তবে ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সাথে তার গভীর সম্পর্ক তাকে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেউ কেউ তাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ইরানি সংস্করণ’ হিসেবে দেখছেন—যিনি কি না কঠোর হাতে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেও কিছুটা সামাজিক পরিবর্তনের আভাস দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝে মোজতবা খামেনি ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের ১১ তলাবিশিষ্ট ‘এলএ প্লাজা’য় গতকাল সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা এবং শেখ রাকিবুজ্জামান। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। জীবন বাঁচাতে অনেকেই ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অত্যাধুনিক টার্ন টেবিল ল্যাডার (টিটিএল) ব্যবহার করে ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে ২৪ জনকে (১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী) নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। অভিযান চলাকালীন ভবনের চার ও পাঁচতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে আয়েশা ও রাকিবুজ্জামানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ওই মার্কেটে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। অন্যদিকে শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়। বর্তমানে তাদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে তা স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিমানবাহিনী ও নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ইউরোপেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সোমবার সকালে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা এখন একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মুখোমুখি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল তৈরি করছে। ইউরোপের নাগরিকেরা দুই পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভন ডার লিয়েন আরও বলেন, ইরানের জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে রাখার অধিকার রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সতর্ক করেছিলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর অর্থনৈতিক প্রভাব তত গভীর হবে। ইউরোপীয় নেতারা বর্তমানে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি। সোমবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কূটনীতির কোনো সুযোগ নেই। এই যুদ্ধ কেবল অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে শেষ হতে পারে। খারাজি জানান, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে চাইছে। তিনি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে অন্যান্য দেশকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হবে। ইরানের সামরিক অভিযানের ফলে হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বৈপ্লবিক প্রভাব পড়েছে; সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন আবাসিক ভবন এবং বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হয়েছেন, যা সংঘাত আরও জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খারাজি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নতুন নেতার ওপরও থাকবে, এবং আগের মতোই তারা এটি পালন করবেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোর চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সোমবার (৯ মার্চ) রাতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল চুরির সঙ্গে জড়িত। উদ্ধারকৃত খুলি ও হাড়ের উৎস, পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত তা শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য জানাতে বুধবার (১০ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
নেপালে শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে নেপালের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছাবার্তায় বলেন, “সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন করায় আমি নেপাল সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন নেপালের জনগণের দৃঢ়তা ও দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তির প্রতিফলন।” এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়, যেখানে প্রায় ৩৮ শতাংশ এমপির বয়স ৪০ বছরের নিচে। বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নেপালের নতুন সরকার ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।”
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
এক উত্তাল ও অনিশ্চিত সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেন মোজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় ‘সুপ্রিম লিডার’। তবে এমন এক মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান তার ইতিহাসের কঠিনতম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, বংশপরম্পরা ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা এখন তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাবার ছায়া থেকে ক্ষমতার শীর্ষে মোজতবা খামেনি গত কয়েক দশক ধরে তার বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। ইরানের প্রভাবশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে মনোনীত করার পরপরই কট্টরপন্থিরা রাজপথে নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন। দেশটির সকল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নতুন কমান্ডারের প্রতি 'শেষ রক্তবিন্দু' দিয়ে অনুগত থাকার শপথ নিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রের গায়েও লেখা ছিল, "আপনার সেবায় নিয়োজিত, সৈয়দ মোজতবা"। ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিশোধের আগুন মোজতবার এই উত্থান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সাম্প্রতিক সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি শুধু বাবাকেই হারাননি, হারিয়েছেন মা, স্ত্রী এবং এক সন্তানকেও। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাকে আরও রহস্যময় ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই মোজতবাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা। গত রাতেই তেহরানের রাজপথে "মোজতবার মৃত্যু চাই" স্লোগান শোনা গেছে। বিরোধীদের মতে, তার শাসনামলে ইরান আরও কট্টরপন্থি ও দমনমূলক হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার নেতৃত্বকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তিনি বেশিদিন টিকবেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকে ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রহস্যময় ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ মোজতবা খামেনি বরাবরই জনসমক্ষে আসতে অপছন্দ করেন। তার কোনো পাবলিক বক্তৃতার রেকর্ড নেই এবং তিনি কখনো আনুষ্ঠানিক সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি। তবে ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সাথে তার গভীর সম্পর্ক তাকে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেউ কেউ তাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ইরানি সংস্করণ’ হিসেবে দেখছেন—যিনি কি না কঠোর হাতে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেও কিছুটা সামাজিক পরিবর্তনের আভাস দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝে মোজতবা খামেনি ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এমন দাবি করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই নেতানিয়াহু নিহত হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো দৃঢ় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে মূলত মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটার পরিচালনা করেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে হামলার কোনো ভিডিও, ছবি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। বরং নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তার অনুপস্থিতি, তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার সম্ভাব্য সফর স্থগিত হওয়া এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি কথিত ফোনালাপের উল্লেখসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত কয়েকজনকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেও ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার দাবি করেছিল। গত ২ মার্চ কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পরে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ দাবিকে গুজব বলে
একসময়ের ‘শাস্তি’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষার ‘ওষুধ’। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারতের জন্যই রুশ তেল কেনার পথ প্রশস্ত করল হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ভারতের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সময় শর্ত ছিল যে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেলের চালান অনায়াসেই কিনতে পারবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য।
দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় নতুন ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ফুটেজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে এবং হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দিকে আঙুল তুলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে মিনাবের 'শাজারেহ তাইয়েবাহ' বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলায় ১৬৫ থেকে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী। হামলার সময় স্কুলটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর পর তিনটি মিসাইল (ট্রিপল ট্যাপ) স্কুল ভবন ও তার আশপাশে আঘাত হানে, যার ফলে দুই তলা ভবনটি মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সিএনএন এবং তদন্তকারী সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’-এর হাতে আসা নতুন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি মিসাইল স্কুলের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি নৌ ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, মিসাইলটির গঠন এবং গতিপথ মার্কিন ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’-এর (Tomahawk Land Attack Missile) সাথে হুবহু মিলে যায়। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধক্ষেত্রে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই এই নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্র রয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও ভিডিওতে সরাসরি স্কুলে আঘাতের মুহূর্ত দেখা যায়নি, তবে একই সময়ে সংলগ্ন ঘাঁটিতে মার্কিন টমাহক মিসাইলের আঘাত প্রমাণ করে যে স্কুলটি ওই একই হামলার অংশ ছিল। রাজনীতি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই এই হামলার জন্য দায়ী। তিনি একে ইরানের 'ভুল লক্ষ্যভেদ' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সিএনএন-এর সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, ভূ-অবস্থান (geolocation) এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে ভিন্ন কথা। এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এই ভিডিওটি প্রকাশ করে মার্কিন দাবিকে 'মিথ্যাচার' বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের জাতিসংঘ দূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে মিনাব স্কুলের ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে মর্মান্তিক। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানিনা ডিল বলেন, "এমনকি যদি ভুলবশত স্কুলটিকে সামরিক স্থাপনা ভেবে হামলা করা হয়ে থাকে, তবুও এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি গুরুতর লঙ্ঘন। হামলাকারীর দায়িত্ব ছিল লক্ষ্যবস্তু যাচাই করা।" ইউনেস্কো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মিনাব শহরে নিহত শিশুদের গণকবর দেওয়া হয়েছে, যেখানে শত শত শোকার্ত মানুষ বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে, তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। সূত্র: সিএনএন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।