রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের ১১ তলাবিশিষ্ট ‘এলএ প্লাজা’য় গতকাল সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা এবং শেখ রাকিবুজ্জামান। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। জীবন বাঁচাতে অনেকেই ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অত্যাধুনিক টার্ন টেবিল ল্যাডার (টিটিএল) ব্যবহার করে ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে ২৪ জনকে (১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী) নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। অভিযান চলাকালীন ভবনের চার ও পাঁচতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে আয়েশা ও রাকিবুজ্জামানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ওই মার্কেটে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। অন্যদিকে শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়। বর্তমানে তাদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে তা স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিমানবাহিনী ও নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
একসময়ের ‘শাস্তি’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষার ‘ওষুধ’। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারতের জন্যই রুশ তেল কেনার পথ প্রশস্ত করল হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ভারতের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সময় শর্ত ছিল যে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেলের চালান অনায়াসেই কিনতে পারবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য।
দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় নতুন ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ফুটেজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে এবং হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দিকে আঙুল তুলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে মিনাবের 'শাজারেহ তাইয়েবাহ' বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলায় ১৬৫ থেকে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী। হামলার সময় স্কুলটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর পর তিনটি মিসাইল (ট্রিপল ট্যাপ) স্কুল ভবন ও তার আশপাশে আঘাত হানে, যার ফলে দুই তলা ভবনটি মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সিএনএন এবং তদন্তকারী সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’-এর হাতে আসা নতুন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি মিসাইল স্কুলের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি নৌ ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, মিসাইলটির গঠন এবং গতিপথ মার্কিন ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’-এর (Tomahawk Land Attack Missile) সাথে হুবহু মিলে যায়। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধক্ষেত্রে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই এই নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্র রয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও ভিডিওতে সরাসরি স্কুলে আঘাতের মুহূর্ত দেখা যায়নি, তবে একই সময়ে সংলগ্ন ঘাঁটিতে মার্কিন টমাহক মিসাইলের আঘাত প্রমাণ করে যে স্কুলটি ওই একই হামলার অংশ ছিল। রাজনীতি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই এই হামলার জন্য দায়ী। তিনি একে ইরানের 'ভুল লক্ষ্যভেদ' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সিএনএন-এর সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, ভূ-অবস্থান (geolocation) এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে ভিন্ন কথা। এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এই ভিডিওটি প্রকাশ করে মার্কিন দাবিকে 'মিথ্যাচার' বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের জাতিসংঘ দূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে মিনাব স্কুলের ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে মর্মান্তিক। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানিনা ডিল বলেন, "এমনকি যদি ভুলবশত স্কুলটিকে সামরিক স্থাপনা ভেবে হামলা করা হয়ে থাকে, তবুও এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি গুরুতর লঙ্ঘন। হামলাকারীর দায়িত্ব ছিল লক্ষ্যবস্তু যাচাই করা।" ইউনেস্কো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মিনাব শহরে নিহত শিশুদের গণকবর দেওয়া হয়েছে, যেখানে শত শত শোকার্ত মানুষ বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে, তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। সূত্র: সিএনএন।
সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালকও রয়েছেন। তবে এই সফর ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতি ও সফরের খরচের উৎস নিয়ে। সরকারি নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের এই সফরের অফিসিয়াল নাম দেওয়া হয়েছে ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’। তিন দফা সময় পরিবর্তনের পর অবশেষে আগামী ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যে প্রকল্পের অর্থে এই সফর, তার বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হয়। প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, পরে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়। তবুও প্রকল্পটির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে- যে এইচভিএসি সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, সেই কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। নথিপত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ কর্মকর্তাদের সফরের যাবতীয় খরচ বহন করবে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহ করে থাকে এবং বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর করলে স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে। এতে সরবরাহ করা প্রযুক্তির মান যাচাই বা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেসব কর্মকর্তা সফরে যাচ্ছেন তারা হলেন- গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি। এদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানা গেছে। এমনকি নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণেও তাদের সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ সীমিত। এ বিষয়টিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজ শেষে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করতেই কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এইচভিএসি সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উন্নত দেশের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। তথ্য সূত্র: কালবেলা
একসময়ের ‘শাস্তি’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষার ‘ওষুধ’। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারতের জন্যই রুশ তেল কেনার পথ প্রশস্ত করল হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ভারতের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সময় শর্ত ছিল যে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেলের চালান অনায়াসেই কিনতে পারবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য।
রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের ১১ তলাবিশিষ্ট ‘এলএ প্লাজা’য় গতকাল সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা এবং শেখ রাকিবুজ্জামান। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। জীবন বাঁচাতে অনেকেই ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অত্যাধুনিক টার্ন টেবিল ল্যাডার (টিটিএল) ব্যবহার করে ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে ২৪ জনকে (১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী) নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। অভিযান চলাকালীন ভবনের চার ও পাঁচতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে আয়েশা ও রাকিবুজ্জামানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ওই মার্কেটে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। অন্যদিকে শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়। বর্তমানে তাদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে তা স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিমানবাহিনী ও নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ইউরোপেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সোমবার সকালে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা এখন একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মুখোমুখি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল তৈরি করছে। ইউরোপের নাগরিকেরা দুই পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভন ডার লিয়েন আরও বলেন, ইরানের জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে রাখার অধিকার রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সতর্ক করেছিলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর অর্থনৈতিক প্রভাব তত গভীর হবে। ইউরোপীয় নেতারা বর্তমানে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি। সোমবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কূটনীতির কোনো সুযোগ নেই। এই যুদ্ধ কেবল অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে শেষ হতে পারে। খারাজি জানান, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে চাইছে। তিনি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে অন্যান্য দেশকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হবে। ইরানের সামরিক অভিযানের ফলে হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বৈপ্লবিক প্রভাব পড়েছে; সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন আবাসিক ভবন এবং বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হয়েছেন, যা সংঘাত আরও জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খারাজি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নতুন নেতার ওপরও থাকবে, এবং আগের মতোই তারা এটি পালন করবেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোর চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সোমবার (৯ মার্চ) রাতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল চুরির সঙ্গে জড়িত। উদ্ধারকৃত খুলি ও হাড়ের উৎস, পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত তা শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য জানাতে বুধবার (১০ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
নেপালে শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে নেপালের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছাবার্তায় বলেন, “সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন করায় আমি নেপাল সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন নেপালের জনগণের দৃঢ়তা ও দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তির প্রতিফলন।” এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়, যেখানে প্রায় ৩৮ শতাংশ এমপির বয়স ৪০ বছরের নিচে। বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নেপালের নতুন সরকার ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।”
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
একসময়ের ‘শাস্তি’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষার ‘ওষুধ’। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারতের জন্যই রুশ তেল কেনার পথ প্রশস্ত করল হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ভারতের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সময় শর্ত ছিল যে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেলের চালান অনায়াসেই কিনতে পারবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য।
দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় নতুন ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ফুটেজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে এবং হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দিকে আঙুল তুলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে মিনাবের 'শাজারেহ তাইয়েবাহ' বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলায় ১৬৫ থেকে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী। হামলার সময় স্কুলটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর পর তিনটি মিসাইল (ট্রিপল ট্যাপ) স্কুল ভবন ও তার আশপাশে আঘাত হানে, যার ফলে দুই তলা ভবনটি মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সিএনএন এবং তদন্তকারী সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’-এর হাতে আসা নতুন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি মিসাইল স্কুলের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি নৌ ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, মিসাইলটির গঠন এবং গতিপথ মার্কিন ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’-এর (Tomahawk Land Attack Missile) সাথে হুবহু মিলে যায়। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধক্ষেত্রে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই এই নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্র রয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও ভিডিওতে সরাসরি স্কুলে আঘাতের মুহূর্ত দেখা যায়নি, তবে একই সময়ে সংলগ্ন ঘাঁটিতে মার্কিন টমাহক মিসাইলের আঘাত প্রমাণ করে যে স্কুলটি ওই একই হামলার অংশ ছিল। রাজনীতি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই এই হামলার জন্য দায়ী। তিনি একে ইরানের 'ভুল লক্ষ্যভেদ' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সিএনএন-এর সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, ভূ-অবস্থান (geolocation) এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে ভিন্ন কথা। এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এই ভিডিওটি প্রকাশ করে মার্কিন দাবিকে 'মিথ্যাচার' বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের জাতিসংঘ দূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে মিনাব স্কুলের ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে মর্মান্তিক। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানিনা ডিল বলেন, "এমনকি যদি ভুলবশত স্কুলটিকে সামরিক স্থাপনা ভেবে হামলা করা হয়ে থাকে, তবুও এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি গুরুতর লঙ্ঘন। হামলাকারীর দায়িত্ব ছিল লক্ষ্যবস্তু যাচাই করা।" ইউনেস্কো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মিনাব শহরে নিহত শিশুদের গণকবর দেওয়া হয়েছে, যেখানে শত শত শোকার্ত মানুষ বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে, তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। সূত্র: সিএনএন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমা অতিক্রম করার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সতর্ক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবার ঘটলে তুরস্ক তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দু’বার তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ৪ মার্চ এবং দ্বিতীয়টি ৯ মার্চ। উভয় ক্ষেত্রেই ন্যাটোর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সোমবার আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান টেলিফোনে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের এমন বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে তুরস্ক এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ফোনালাপে এরদোগান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হামলা চালানোকে ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ওপর হামলা কোনো পক্ষেরই উপকারে আসে না এবং আঙ্কারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনো সমর্থন করবে না। ভবিষ্যতে যদি আবার এমন ঘটনা ঘটে, তবে তুরস্ক নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শতাধিক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে তুরস্কের অভিযোগের জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে নিক্ষেপ করা হয়নি। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে ফোনালাপে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কথোপকথনে তুরস্কের আকাশসীমায় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনায় আঙ্কারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বলে জানিয়েছে আনাদোলু। তুরস্কের যোগাযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ান স্পষ্টভাবে জানান— তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন “কোনো কারণেই গ্রহণযোগ্য নয়” এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আঙ্কারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। এই ফোনালাপটি ইরানের অনুরোধে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করে। গত সপ্তাহেও সিরিয়া ও ইরাকের ওপর দিয়ে আসা আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো প্রতিরক্ষা ইউনিট ধ্বংস করে বলে তুরস্ক দাবি করে। এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক কোনো সংঘাতের পক্ষ না হয়েও এই উত্তেজনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে “অবৈধ হস্তক্ষেপ” সমর্থন করেন না, তবে একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোকে লক্ষ্য করা কারও স্বার্থে নয়—এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।” তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথ আবার খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক অঞ্চলে সংলাপ চালু করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ফোনালাপে এরদোয়ান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহতদের জন্য গভীর শোকও প্রকাশ করেন। ওই হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যদিও ইসরায়েল এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফেব্রুয়ারি ২৮-এ শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন, এতে অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।