ওয়াশিংটন, ১০ মার্চ: রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কে সরাসরি আশ্বস্ত করেছে মস্কো। রাশিয়ার কর্মকর্তারা টেলিফোনে আলোচনায় জানিয়েছেন, তারা ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ বা ঘাঁটি সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করছে না। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার জানান, সম্প্রতি ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এর মধ্যে এক টেলিফোন আলাপ হয়। সেই সময় রুশ পক্ষ স্পষ্টভাবে জানায় যে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক অবস্থান সম্পর্কিত কোনো গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার এই বক্তব্যকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে, তবে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন তথ্য আদান-প্রদান হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সন্দেহের কারণ : সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, রাশিয়া হয়তো ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। এই কারণে ওয়াশিংটন আগে থেকেই মস্কোকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, ইরানের সঙ্গে সামরিক বা গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করা হলে তা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। উত্তেজনার প্রেক্ষাপট : যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং রাশিয়াকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই টেলিফোন আলাপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ বাড়লে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সংক্ষেপে: রাশিয়া ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সরাসরি ট্রাম্পকে জানিয়েছে—এমন কোনো সহযোগিতা চলছে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার এক প্রবাসী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যিনি চাকরিসূত্রে ফ্রেসনো শহরে বসবাস করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ভোরে তিনি একাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পাড়ে তার জুতো এবং কিছু মাছ ধরার সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তার সাথে থাকা তিনটি ফিশিং রডের মধ্যে একটি রড এবং একটি হাতলযুক্ত জাল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিষয়ে কাউন্টি পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট জলপথটি অত্যন্ত গভীর এবং খরস্রোতা হওয়ায় সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ বলে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই জলপথের পানি San Francisco Bay অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে Los Angeles এলাকার দিকে যায়। ফলে পানির স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গভীরতা অনেক বেশি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিচ্ছিল তীরে পা পিছলে পড়ে যাওয়া, মাছ ধরার সরঞ্জাম টানতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো অথবা প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার মতো কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি একা থাকায় দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়নি বলেও মনে করা হচ্ছে। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী ও অল্পবয়সী সন্তান গভীর উদ্বেগ ও শোকের মধ্যে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ বা নিষিদ্ধ এলাকায় একা যাওয়া থেকে বিরত থাকতে। জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্ভাবনা ঘিরে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান। তিনি বলেন, যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে, তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেউ যদি শত্রুদের নির্দেশে বিক্ষোভে অংশ নেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিপ্লব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন গত ৮ মার্চ ইরানের জনগণকে ‘স্বাধীনতা অর্জনের’ আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি পুলিশপ্রধান দেশের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তখন ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের শৃঙ্খল’ ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বড় ঢেউ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
দীর্ঘ সময় হামলা বন্ধ থাকার পর আবারও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে নতুন করে হামলা চালানো হলে ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব জুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইরানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এবারের হামলায় ইসরাইলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোর ওপর এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফা-তে থাকা তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং জ্বালানি মজুদ ট্যাংক। পাশাপাশি তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’ এর ৩৩তম ধাপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের তেল ডিপোতে ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
ওয়াশিংটন, ১০ মার্চ: রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কে সরাসরি আশ্বস্ত করেছে মস্কো। রাশিয়ার কর্মকর্তারা টেলিফোনে আলোচনায় জানিয়েছেন, তারা ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ বা ঘাঁটি সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করছে না। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার জানান, সম্প্রতি ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এর মধ্যে এক টেলিফোন আলাপ হয়। সেই সময় রুশ পক্ষ স্পষ্টভাবে জানায় যে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক অবস্থান সম্পর্কিত কোনো গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার এই বক্তব্যকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে, তবে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন তথ্য আদান-প্রদান হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সন্দেহের কারণ : সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, রাশিয়া হয়তো ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। এই কারণে ওয়াশিংটন আগে থেকেই মস্কোকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, ইরানের সঙ্গে সামরিক বা গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করা হলে তা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। উত্তেজনার প্রেক্ষাপট : যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং রাশিয়াকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই টেলিফোন আলাপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ বাড়লে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সংক্ষেপে: রাশিয়া ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সরাসরি ট্রাম্পকে জানিয়েছে—এমন কোনো সহযোগিতা চলছে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার এক প্রবাসী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যিনি চাকরিসূত্রে ফ্রেসনো শহরে বসবাস করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ভোরে তিনি একাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পাড়ে তার জুতো এবং কিছু মাছ ধরার সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তার সাথে থাকা তিনটি ফিশিং রডের মধ্যে একটি রড এবং একটি হাতলযুক্ত জাল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিষয়ে কাউন্টি পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট জলপথটি অত্যন্ত গভীর এবং খরস্রোতা হওয়ায় সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ বলে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই জলপথের পানি San Francisco Bay অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে Los Angeles এলাকার দিকে যায়। ফলে পানির স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গভীরতা অনেক বেশি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিচ্ছিল তীরে পা পিছলে পড়ে যাওয়া, মাছ ধরার সরঞ্জাম টানতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো অথবা প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার মতো কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি একা থাকায় দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়নি বলেও মনে করা হচ্ছে। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী ও অল্পবয়সী সন্তান গভীর উদ্বেগ ও শোকের মধ্যে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ বা নিষিদ্ধ এলাকায় একা যাওয়া থেকে বিরত থাকতে। জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কতদিন চলবে—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে ততই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লাভ কমে যেতে পারে। ক্রিগ বলেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর সুফল কমে আসবে। তবে ইসরাইলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ তারা এই যুদ্ধ আরও কিছু সময় চালিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি রাখে। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার আচরণ ও অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে তিনি দ্রুত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে আগ্রহী। ক্রিগের মতে, ইসরাইল সহজে ‘মিশন সম্পন্ন’ ঘোষণা করবে না। বরং তারা সামরিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জনের জন্য আরও কিছু সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইতে পারে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্ভাবনা ঘিরে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান। তিনি বলেন, যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে, তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেউ যদি শত্রুদের নির্দেশে বিক্ষোভে অংশ নেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিপ্লব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন গত ৮ মার্চ ইরানের জনগণকে ‘স্বাধীনতা অর্জনের’ আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি পুলিশপ্রধান দেশের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তখন ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের শৃঙ্খল’ ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বড় ঢেউ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে কাজের হিসাব তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ‘পুঁজি হলো সততা, ন্যায়-ইনসাফ-জনতা’ স্লোগান সামনে রেখে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি সংসদীয় এলাকায় বরাদ্দকৃত সরকারি সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডিজিটাল বোর্ডে স্লাইড দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপিত এই লাইভটি অনেকটা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। লাইভে তিনি দেবিদ্বার উপজেলায় চলমান সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘কমিশনমুক্ত ব্যবসার নিশ্চয়তা’ দিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান। লাইভের শেষ দিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ খোলার ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে তার নির্বাচনী এলাকার সব উন্নয়ন কাজের নিয়মিত আপডেট এবং প্রতিটি প্রকল্পের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানান। রাজনীতিতে আসার আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষকতা ও কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি ‘স্কুল অব এক্সিলেন্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও শিক্ষকসুলভ ভঙ্গিতে লাইভে এসে কাজের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করাকে তিনি জনগণের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। লাইভে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ধারণা দেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি জনগণের সামনে এসে এভাবে কাজের হিসাব দেওয়া এবং শিক্ষকতার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসনাত আব্দুল্লাহর এই ‘লাইভ ক্লাস’ উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ওয়াশিংটন, ১০ মার্চ: রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কে সরাসরি আশ্বস্ত করেছে মস্কো। রাশিয়ার কর্মকর্তারা টেলিফোনে আলোচনায় জানিয়েছেন, তারা ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ বা ঘাঁটি সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করছে না। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার জানান, সম্প্রতি ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এর মধ্যে এক টেলিফোন আলাপ হয়। সেই সময় রুশ পক্ষ স্পষ্টভাবে জানায় যে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক অবস্থান সম্পর্কিত কোনো গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার এই বক্তব্যকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে, তবে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন তথ্য আদান-প্রদান হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সন্দেহের কারণ : সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, রাশিয়া হয়তো ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। এই কারণে ওয়াশিংটন আগে থেকেই মস্কোকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, ইরানের সঙ্গে সামরিক বা গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করা হলে তা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। উত্তেজনার প্রেক্ষাপট : যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং রাশিয়াকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই টেলিফোন আলাপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ বাড়লে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সংক্ষেপে: রাশিয়া ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সরাসরি ট্রাম্পকে জানিয়েছে—এমন কোনো সহযোগিতা চলছে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্ভাবনা ঘিরে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান। তিনি বলেন, যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে, তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেউ যদি শত্রুদের নির্দেশে বিক্ষোভে অংশ নেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিপ্লব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন গত ৮ মার্চ ইরানের জনগণকে ‘স্বাধীনতা অর্জনের’ আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি পুলিশপ্রধান দেশের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তখন ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের শৃঙ্খল’ ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বড় ঢেউ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
দীর্ঘ সময় হামলা বন্ধ থাকার পর আবারও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে নতুন করে হামলা চালানো হলে ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব জুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইরানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এবারের হামলায় ইসরাইলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোর ওপর এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফা-তে থাকা তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং জ্বালানি মজুদ ট্যাংক। পাশাপাশি তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’ এর ৩৩তম ধাপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের তেল ডিপোতে ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কতদিন চলবে—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে ততই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লাভ কমে যেতে পারে। ক্রিগ বলেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর সুফল কমে আসবে। তবে ইসরাইলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ তারা এই যুদ্ধ আরও কিছু সময় চালিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি রাখে। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার আচরণ ও অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে তিনি দ্রুত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে আগ্রহী। ক্রিগের মতে, ইসরাইল সহজে ‘মিশন সম্পন্ন’ ঘোষণা করবে না। বরং তারা সামরিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জনের জন্য আরও কিছু সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।