দীর্ঘ ৪০ বছরের ঐতিহ্যে এবার যতি পড়ল। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার অজুহাতে লন্ডনে এই বছরের ‘আল-কুদস ডে’ পদযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ২০১২ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে কোনো রাজনৈতিক পদযাত্রা বা বিক্ষোভের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই নিষেধাজ্ঞায় অনুমোদন দেন। পুলিশের দাবি, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি থেকে বড় ধরনের দাঙ্গা বা সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে শেষবার ২০১২ সালে অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠী 'ইংলিশ ডিফেন্স লিগ'-এর মিছিলে এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতি বছর আয়োজিত এই কর্মসূচির আয়োজক সংস্থা ‘ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন’ (IHRC) সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি একে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সহযোগীদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ পার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেহরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দিকে যাওয়া যেকোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারকে ইরান ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ইব্রাহিম জোলফাকারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা আঘাতের নীতি এখন শেষ হয়েছে। তেহরানের বর্তমান নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে চরম আঘাত’। তেলের বাজার নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার দাবি, তেলের দাম মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
কানাডার টরন্টো শহরের ডাউনটাউনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, ভোরের দিকে কনস্যুলেট ভবনের দিকে গুলি ছোড়ার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ভবনের বাইরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা নাকি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কনস্যুলেটের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের টরন্টো কনস্যুলেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা ঘটায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক কারণ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দফায় দফায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (১১ মার্চ) দুটি ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, ঘানা ও ভারতের কয়েকজন শ্রমিক রয়েছেন, যারা সামান্য থেকে মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে ওঠার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটেছে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি ড্রোন আছড়ে পড়ে, এতে চারজন আহত হন। তবে এ ঘটনার পরও বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে কুমিল্লা জেলার জন্য ৫২০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে জেলার ১৭টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বণ্টন করা হয়েছে। ফলে বাকি ২০ কার্টনের কোনো হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, সৌদি যুবরাজের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর উপহার আসে। গত ১ মার্চ এসব খেজুর জেলাভিত্তিক বণ্টনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ওই তালিকা অনুযায়ী কুমিল্লা জেলায় ৫২০ কার্টন খেজুর পাঠানো হয়েছে বলে ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। তবে জেলার ১৭টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২০ কার্টনের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সংখ্যাগত ভুল বলে দাবি করেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী বলেন, তাদের কাছে ৫০০ কার্টন খেজুরই এসেছিল এবং সেগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। পরে অধিদপ্তর বিষয়টি সংশোধন করে ৫০০ কার্টন দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি। তালিকা সংশোধন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তালিকা নয়, বরাদ্দই ৫০০ কার্টন ছিল এবং সেটিই সংশোধন করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে কুমিল্লা জেলায় ৫২০ কার্টন খেজুর বরাদ্দের তথ্যই দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজ এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের হিসাব তুলে ধরেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ওই লাইভে দেবিদ্বারে ৩৯ কার্টন খেজুর পাওয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। তার এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
দীর্ঘ ৪০ বছরের ঐতিহ্যে এবার যতি পড়ল। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার অজুহাতে লন্ডনে এই বছরের ‘আল-কুদস ডে’ পদযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ২০১২ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে কোনো রাজনৈতিক পদযাত্রা বা বিক্ষোভের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই নিষেধাজ্ঞায় অনুমোদন দেন। পুলিশের দাবি, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি থেকে বড় ধরনের দাঙ্গা বা সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে শেষবার ২০১২ সালে অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠী 'ইংলিশ ডিফেন্স লিগ'-এর মিছিলে এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতি বছর আয়োজিত এই কর্মসূচির আয়োজক সংস্থা ‘ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন’ (IHRC) সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি একে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সহযোগীদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ পার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেহরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দিকে যাওয়া যেকোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারকে ইরান ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ইব্রাহিম জোলফাকারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা আঘাতের নীতি এখন শেষ হয়েছে। তেহরানের বর্তমান নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে চরম আঘাত’। তেলের বাজার নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার দাবি, তেলের দাম মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ওয়াশিংটন তাদের আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে হয়। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সহজ হবে না, এবং এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত পলাতক আসামি ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবাসী ভদ্রেশকুমার চেতনভাই প্যাটেলকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাকে ধরতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভবেশ কুমার প্যাটেল ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডানকিন ডোনাটস দোকানের ভেতরে তার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঘটনার পরপরই তিনি পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য কোনো দেশে পালিয়ে থাকতে পারেন। তার ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকায় তিনি ভারতে বা অন্য কোনো দেশে ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এফবিআই জানিয়েছে, এই মামলায় আগে কম পরিমাণ পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও গ্রেপ্তারে অগ্রগতি না হওয়ায় পুরস্কার বাড়িয়ে ১ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পলাতক আসামি। সংস্থাটি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা এফবিআইকে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে অথবা সেগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এসব স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সীমিত পর্যায়ে নেই এবং তা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
দীর্ঘ ৪০ বছরের ঐতিহ্যে এবার যতি পড়ল। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার অজুহাতে লন্ডনে এই বছরের ‘আল-কুদস ডে’ পদযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ২০১২ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে কোনো রাজনৈতিক পদযাত্রা বা বিক্ষোভের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই নিষেধাজ্ঞায় অনুমোদন দেন। পুলিশের দাবি, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি থেকে বড় ধরনের দাঙ্গা বা সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে শেষবার ২০১২ সালে অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠী 'ইংলিশ ডিফেন্স লিগ'-এর মিছিলে এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতি বছর আয়োজিত এই কর্মসূচির আয়োজক সংস্থা ‘ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন’ (IHRC) সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি একে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সহযোগীদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ পার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেহরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দিকে যাওয়া যেকোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারকে ইরান ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ইব্রাহিম জোলফাকারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা আঘাতের নীতি এখন শেষ হয়েছে। তেহরানের বর্তমান নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে চরম আঘাত’। তেলের বাজার নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার দাবি, তেলের দাম মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
কানাডার টরন্টো শহরের ডাউনটাউনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, ভোরের দিকে কনস্যুলেট ভবনের দিকে গুলি ছোড়ার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ভবনের বাইরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা নাকি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কনস্যুলেটের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের টরন্টো কনস্যুলেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা ঘটায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক কারণ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দফায় দফায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (১১ মার্চ) দুটি ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, ঘানা ও ভারতের কয়েকজন শ্রমিক রয়েছেন, যারা সামান্য থেকে মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে ওঠার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটেছে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি ড্রোন আছড়ে পড়ে, এতে চারজন আহত হন। তবে এ ঘটনার পরও বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।