ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো জটিল অবস্থার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সাহায্যের আহ্বান করা হলেও, ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেবেন না। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি এবং আমরা কূটনৈতিক সমাধান চাই।” ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে, কিন্তু কোনো পরিবর্তন করা হবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বলেছেন, “আমার নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ স্বার্থ অটল রাখা। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য আমরা ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি, কিন্তু যুদ্ধে জড়ানো হবে না।” ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কিও একইভাবে জানিয়েছেন, তাদের দেশের নৌবাহিনী হরমুজে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না। ইতালির একটি যুদ্ধজাহাজ যদিও ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরির সঙ্গে উপস্থিত, তবে কার্যক্রম কেবল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সীমিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় নেতারা একটি দ্বিমুখী সংকটে রয়েছেন। যদি তারা কোনো পদক্ষেপ না নেন, তবে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া হলে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে পারে। ইউরোপীয় নেতাদের ওপর আরেকটি চাপ ট্রাম্পের অভিযোগের মাধ্যমে এসেছে যে, ন্যাটোর দেশগুলো প্রতিরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যয় করছে না। রোববার ট্রাম্প বলেন, “কোনো দেশ আমাদের এই ছোট প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে না, সেটা দেখাটা বেশ মজার হবে।” বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানে ধ্বংসস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ ও বিমান বাহিনী হরমুজ প্রণালির বাইরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমাবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যদি স্থল সেনা পাঠানো হয়, তবে পরিস্থিতি ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো জটিল হতে পারে—এমন সতর্কতা প্রদান করেছিলেন এক সাংবাদিক। তবে ট্রাম্প এই ধরণের ভয়কে অগ্রাহ্য করেছেন এবং বলেছেন, তিনি কোনো পরিস্থিতিতেই ভয় পান না। ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে আমি কোনো কিছুতে ভীত নই। ইরানের বিষয়টি আমার কাছে দুই-তিন দিনের মধ্যে সমাধানযোগ্য ছিল। শুরুতেই আমরা তাদের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছি। এরপর বিমান বাহিনী এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করা হয়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আমরা তখন ইরানের আকাশসীমায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিলাম।” বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার এক অংশ।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি হত্যার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। যদিও ইরান বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি একটি সূত্র জানিয়েছে, লারিজানি নিহত হয়েছেন এবং হামলায় ইরানি অভ্যন্তরীণ সহায়তা ছিল। সূত্র জানায়, তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা লারিজানির সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, যা ব্যবহার করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী হামলা পরিচালনা করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানের বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই আমাদের লারিজানিকে শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন, যার মধ্যে গত শুক্রবারের কুড়্দস দিবসের র্যালি অন্যতম। এ সময় তিনি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন, যা তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল।” এই ঘটনায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছতে পারে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশ ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তবে মোজতবা খামেনি তা সরাসরি নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করছে, নতজানু হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।” ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথম বৈঠকেই খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নেন। বৈঠকের স্থান ও খামেনির সরাসরি উপস্থিতি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো গত সপ্তাহেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা দিতে মিত্র দেশগুলো এখনও সরাসরি এগোয়নি, ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো জটিল অবস্থার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সাহায্যের আহ্বান করা হলেও, ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেবেন না। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি এবং আমরা কূটনৈতিক সমাধান চাই।” ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে, কিন্তু কোনো পরিবর্তন করা হবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বলেছেন, “আমার নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ স্বার্থ অটল রাখা। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য আমরা ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি, কিন্তু যুদ্ধে জড়ানো হবে না।” ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কিও একইভাবে জানিয়েছেন, তাদের দেশের নৌবাহিনী হরমুজে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না। ইতালির একটি যুদ্ধজাহাজ যদিও ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরির সঙ্গে উপস্থিত, তবে কার্যক্রম কেবল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সীমিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় নেতারা একটি দ্বিমুখী সংকটে রয়েছেন। যদি তারা কোনো পদক্ষেপ না নেন, তবে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া হলে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে পারে। ইউরোপীয় নেতাদের ওপর আরেকটি চাপ ট্রাম্পের অভিযোগের মাধ্যমে এসেছে যে, ন্যাটোর দেশগুলো প্রতিরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যয় করছে না। রোববার ট্রাম্প বলেন, “কোনো দেশ আমাদের এই ছোট প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে না, সেটা দেখাটা বেশ মজার হবে।” বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানে ধ্বংসস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ ও বিমান বাহিনী হরমুজ প্রণালির বাইরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমাবদ্ধ।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিটের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের ‘এমওই৩’ কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লর্ড হ্যানসনও এই অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ বিচার খাতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়ন বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের পুলিশের কৌশলগত সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন এগিয়ে এলে পূর্ণ সমর্থন দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এমনটাই জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে প্রয়োজন হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতাও করবে তার দল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও উপস্থিত ছিলেন। শফিকুর রহমান তিস্তা নদীকে ‘উত্তরাঞ্চলের কান্না’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। অতীতে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবার জানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার ‘তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ গ্রহণ করে, যা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে সমীক্ষার মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে চীন ও ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো চীনের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করেই সহযোগিতা করে আসছে, যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি চীনের অর্থায়নে হাসপাতাল নির্মাণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা তৈরির ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেন।
রাজধানীর বাংলা কলেজ এলাকায় ভাসমান চা–বিক্রেতা ছয় বছর বয়সী শিশু ফাতেমা ও তার নানির পাশে ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় তালতলা এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বিশেষ ঈদ উপহার। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ফাতেমার খবর নজরে আসার পরই তিনি এই শুভেচ্ছার হাত বাড়িয়ে দেন। উপহারে শিশু ফাতেমার জন্য ছিল নতুন জামা, জুতা ও প্রসাধন সামগ্রী। তার নানির জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে শাড়ি ও প্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রী। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছাও জানিয়েছে। সম্প্রতি বাংলা কলেজের সামনে নানির চা দোকানে সাহায্য করতে গিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় আহত হয়েছিল ফাতেমা। তাকে একজন পুলিশ সার্জেন্ট উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এই মানবিক ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উপহার হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও ফরহাদ আলী সজীব। তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর, তারই অংশ হিসেবে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলো।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সব ধরনের জনসমাগম ও অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কুয়েত সরকার। এ অবস্থায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশের কুয়েত দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তাজনিত কারণে ঈদের ছুটিতে সব ধরনের জনসমাগমমূলক আয়োজন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নিষিদ্ধ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নাট্যানুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান বা কনসার্ট, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ যেকোনো ধরনের জমায়েত। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলেও জানানো হয়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকারের আইন ও নির্দেশনা অনুসরণ করে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ২৯৪টির মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন দলের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দার্জিলিংয়ের বাকি তিনটি আসন মিত্র দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বিজেপিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এবার ২২৬টি আসনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করবে তৃণমূল। গত নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি এবং বিজেপি ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছিল। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তারা সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে না নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “সাহস থাকলে সামনে এসে লড়াই করুন, আড়ালে থেকে কোনো লাভ হবে না।” তিনি আরও বলেন, “দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না,” এবং দাবি করেন, জনগণ এবার বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে। এবারের প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নতুন মুখ ও বিনোদন জগতের তারকাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, ব্রাত্য বসু ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিনোদন অঙ্গন থেকে প্রার্থী হয়েছেন রাজ চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাভলি মৈত্র। সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ৫২ জন নারী, ৯৫ জন তপসিলি সম্প্রদায়ের এবং ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। বিভিন্ন বয়সের প্রার্থীদের সমন্বয়ে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের ভারসাম্য রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো জটিল অবস্থার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সাহায্যের আহ্বান করা হলেও, ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেবেন না। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি এবং আমরা কূটনৈতিক সমাধান চাই।” ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে, কিন্তু কোনো পরিবর্তন করা হবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বলেছেন, “আমার নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ স্বার্থ অটল রাখা। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য আমরা ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি, কিন্তু যুদ্ধে জড়ানো হবে না।” ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কিও একইভাবে জানিয়েছেন, তাদের দেশের নৌবাহিনী হরমুজে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না। ইতালির একটি যুদ্ধজাহাজ যদিও ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরির সঙ্গে উপস্থিত, তবে কার্যক্রম কেবল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সীমিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় নেতারা একটি দ্বিমুখী সংকটে রয়েছেন। যদি তারা কোনো পদক্ষেপ না নেন, তবে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া হলে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে পারে। ইউরোপীয় নেতাদের ওপর আরেকটি চাপ ট্রাম্পের অভিযোগের মাধ্যমে এসেছে যে, ন্যাটোর দেশগুলো প্রতিরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যয় করছে না। রোববার ট্রাম্প বলেন, “কোনো দেশ আমাদের এই ছোট প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে না, সেটা দেখাটা বেশ মজার হবে।” বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানে ধ্বংসস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ ও বিমান বাহিনী হরমুজ প্রণালির বাইরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমাবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যদি স্থল সেনা পাঠানো হয়, তবে পরিস্থিতি ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো জটিল হতে পারে—এমন সতর্কতা প্রদান করেছিলেন এক সাংবাদিক। তবে ট্রাম্প এই ধরণের ভয়কে অগ্রাহ্য করেছেন এবং বলেছেন, তিনি কোনো পরিস্থিতিতেই ভয় পান না। ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে আমি কোনো কিছুতে ভীত নই। ইরানের বিষয়টি আমার কাছে দুই-তিন দিনের মধ্যে সমাধানযোগ্য ছিল। শুরুতেই আমরা তাদের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছি। এরপর বিমান বাহিনী এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করা হয়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আমরা তখন ইরানের আকাশসীমায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিলাম।” বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার এক অংশ।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি হত্যার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। যদিও ইরান বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি একটি সূত্র জানিয়েছে, লারিজানি নিহত হয়েছেন এবং হামলায় ইরানি অভ্যন্তরীণ সহায়তা ছিল। সূত্র জানায়, তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা লারিজানির সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, যা ব্যবহার করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী হামলা পরিচালনা করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানের বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই আমাদের লারিজানিকে শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন, যার মধ্যে গত শুক্রবারের কুড়্দস দিবসের র্যালি অন্যতম। এ সময় তিনি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন, যা তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল।” এই ঘটনায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছতে পারে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশ ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তবে মোজতবা খামেনি তা সরাসরি নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করছে, নতজানু হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।” ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথম বৈঠকেই খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নেন। বৈঠকের স্থান ও খামেনির সরাসরি উপস্থিতি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো গত সপ্তাহেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা দিতে মিত্র দেশগুলো এখনও সরাসরি এগোয়নি, ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।