যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার এক প্রবাসী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যিনি চাকরিসূত্রে ফ্রেসনো শহরে বসবাস করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ভোরে তিনি একাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পাড়ে তার জুতো এবং কিছু মাছ ধরার সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তার সাথে থাকা তিনটি ফিশিং রডের মধ্যে একটি রড এবং একটি হাতলযুক্ত জাল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিষয়ে কাউন্টি পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট জলপথটি অত্যন্ত গভীর এবং খরস্রোতা হওয়ায় সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ বলে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই জলপথের পানি San Francisco Bay অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে Los Angeles এলাকার দিকে যায়। ফলে পানির স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গভীরতা অনেক বেশি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিচ্ছিল তীরে পা পিছলে পড়ে যাওয়া, মাছ ধরার সরঞ্জাম টানতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো অথবা প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার মতো কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি একা থাকায় দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়নি বলেও মনে করা হচ্ছে। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী ও অল্পবয়সী সন্তান গভীর উদ্বেগ ও শোকের মধ্যে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ বা নিষিদ্ধ এলাকায় একা যাওয়া থেকে বিরত থাকতে। জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্ভাবনা ঘিরে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান। তিনি বলেন, যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে, তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেউ যদি শত্রুদের নির্দেশে বিক্ষোভে অংশ নেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিপ্লব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন গত ৮ মার্চ ইরানের জনগণকে ‘স্বাধীনতা অর্জনের’ আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি পুলিশপ্রধান দেশের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তখন ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের শৃঙ্খল’ ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বড় ঢেউ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
দীর্ঘ সময় হামলা বন্ধ থাকার পর আবারও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে নতুন করে হামলা চালানো হলে ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব জুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইরানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এবারের হামলায় ইসরাইলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোর ওপর এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফা-তে থাকা তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং জ্বালানি মজুদ ট্যাংক। পাশাপাশি তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’ এর ৩৩তম ধাপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের তেল ডিপোতে ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কতদিন চলবে—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে ততই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লাভ কমে যেতে পারে। ক্রিগ বলেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর সুফল কমে আসবে। তবে ইসরাইলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ তারা এই যুদ্ধ আরও কিছু সময় চালিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি রাখে। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার আচরণ ও অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে তিনি দ্রুত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে আগ্রহী। ক্রিগের মতে, ইসরাইল সহজে ‘মিশন সম্পন্ন’ ঘোষণা করবে না। বরং তারা সামরিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জনের জন্য আরও কিছু সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইতে পারে।
নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটনে চাপ দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের দুই পাশের বড় ডিজিটাল পর্দায় ভেসে ওঠে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতীকী ছবি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে পৌঁছে যায় নির্ধারিত ভাতার অর্থ। মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল সরকার গড়তে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে মঞ্চে উপস্থিত ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন কার্ডপ্রাপ্ত নারী মঞ্চে উঠে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। জরিনা বেগম নামে একজন নারী বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি এমন একটি কার্ড হাতে পাবেন। এই অর্থ তার পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হওয়াকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রথম ধাপে ঢাকাসহ দেশের ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ইতোমধ্যে ভাতার অর্থ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের হাতেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ইতোমধ্যে সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার এক প্রবাসী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যিনি চাকরিসূত্রে ফ্রেসনো শহরে বসবাস করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ভোরে তিনি একাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পাড়ে তার জুতো এবং কিছু মাছ ধরার সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তার সাথে থাকা তিনটি ফিশিং রডের মধ্যে একটি রড এবং একটি হাতলযুক্ত জাল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিষয়ে কাউন্টি পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট জলপথটি অত্যন্ত গভীর এবং খরস্রোতা হওয়ায় সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ বলে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই জলপথের পানি San Francisco Bay অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে Los Angeles এলাকার দিকে যায়। ফলে পানির স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গভীরতা অনেক বেশি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিচ্ছিল তীরে পা পিছলে পড়ে যাওয়া, মাছ ধরার সরঞ্জাম টানতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো অথবা প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার মতো কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি একা থাকায় দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়নি বলেও মনে করা হচ্ছে। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী ও অল্পবয়সী সন্তান গভীর উদ্বেগ ও শোকের মধ্যে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ বা নিষিদ্ধ এলাকায় একা যাওয়া থেকে বিরত থাকতে। জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কতদিন চলবে—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে ততই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লাভ কমে যেতে পারে। ক্রিগ বলেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর সুফল কমে আসবে। তবে ইসরাইলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ তারা এই যুদ্ধ আরও কিছু সময় চালিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি রাখে। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার আচরণ ও অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে তিনি দ্রুত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে আগ্রহী। ক্রিগের মতে, ইসরাইল সহজে ‘মিশন সম্পন্ন’ ঘোষণা করবে না। বরং তারা সামরিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জনের জন্য আরও কিছু সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইতে পারে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্ভাবনা ঘিরে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান। তিনি বলেন, যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে, তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেউ যদি শত্রুদের নির্দেশে বিক্ষোভে অংশ নেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিপ্লব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন গত ৮ মার্চ ইরানের জনগণকে ‘স্বাধীনতা অর্জনের’ আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি পুলিশপ্রধান দেশের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তখন ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের শৃঙ্খল’ ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বড় ঢেউ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে কাজের হিসাব তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ‘পুঁজি হলো সততা, ন্যায়-ইনসাফ-জনতা’ স্লোগান সামনে রেখে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি সংসদীয় এলাকায় বরাদ্দকৃত সরকারি সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডিজিটাল বোর্ডে স্লাইড দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপিত এই লাইভটি অনেকটা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। লাইভে তিনি দেবিদ্বার উপজেলায় চলমান সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘কমিশনমুক্ত ব্যবসার নিশ্চয়তা’ দিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান। লাইভের শেষ দিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ খোলার ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে তার নির্বাচনী এলাকার সব উন্নয়ন কাজের নিয়মিত আপডেট এবং প্রতিটি প্রকল্পের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানান। রাজনীতিতে আসার আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষকতা ও কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি ‘স্কুল অব এক্সিলেন্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও শিক্ষকসুলভ ভঙ্গিতে লাইভে এসে কাজের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করাকে তিনি জনগণের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। লাইভে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ধারণা দেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি জনগণের সামনে এসে এভাবে কাজের হিসাব দেওয়া এবং শিক্ষকতার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসনাত আব্দুল্লাহর এই ‘লাইভ ক্লাস’ উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্ভাবনা ঘিরে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান। তিনি বলেন, যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে, তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেউ যদি শত্রুদের নির্দেশে বিক্ষোভে অংশ নেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিপ্লব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন গত ৮ মার্চ ইরানের জনগণকে ‘স্বাধীনতা অর্জনের’ আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি পুলিশপ্রধান দেশের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তখন ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের শৃঙ্খল’ ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বড় ঢেউ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
দীর্ঘ সময় হামলা বন্ধ থাকার পর আবারও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে নতুন করে হামলা চালানো হলে ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব জুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইরানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এবারের হামলায় ইসরাইলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোর ওপর এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফা-তে থাকা তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং জ্বালানি মজুদ ট্যাংক। পাশাপাশি তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’ এর ৩৩তম ধাপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের তেল ডিপোতে ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কতদিন চলবে—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে ততই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লাভ কমে যেতে পারে। ক্রিগ বলেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর সুফল কমে আসবে। তবে ইসরাইলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ তারা এই যুদ্ধ আরও কিছু সময় চালিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি রাখে। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার আচরণ ও অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে তিনি দ্রুত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে আগ্রহী। ক্রিগের মতে, ইসরাইল সহজে ‘মিশন সম্পন্ন’ ঘোষণা করবে না। বরং তারা সামরিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জনের জন্য আরও কিছু সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইতে পারে।
চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত সাত সেনার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার দুটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। উল্লেখযোগ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রদান করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতাহতের সংখ্যা কম হলেও বাস্তবে আহত সেনার সংখ্যা অনেক বেশি। যুদ্ধের এই পর্যায়ে এ ধরনের আহত ও নিহতের সংখ্যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।