আমেরিকা

হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে একমত ট্রাম্প ও স্টারমার

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ হরমুজ প্রণালীতে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিশেষ ফোনালাপ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘ সংলাপে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামরিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


আজ কাতার সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘমেয়াদী করতে হয়, তবে এই প্রক্রিয়ায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। স্টারমার বলেন, “উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সরাসরি প্রতিবেশী। যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে তাদের মতামতের গুরুত্ব দিতেই হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই দেশগুলোর অত্যন্ত জোরালো অবস্থান রয়েছে।”


ফোনালাপের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ-চলাচল এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে মার্কিন ও ব্রিটিশ মিত্রদের সঙ্গে ন্যাটো সদস্যদের কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর অনীহার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোটের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমন এক নাজুক সময়ে ট্রাম্প ও স্টারমারের এই ফোনালাপ কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।


উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এই দেশগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “সংকটের এই মুহূর্তে বন্ধু এবং মিত্র হিসেবে আমরা তাদের পাশে আছি। এই সংঘাত হয়তো আগামী এক প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে। তাই আমাদের অত্যন্ত শক্তি ও সাহসের সাথে এর মোকাবিলা করতে হবে।”


তিন দিনের মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষে স্টারমার স্পষ্ট করেন যে, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই এখন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একযোগে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা: ওয়াশিংটনে আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এক নতুন কূটনৈতিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিডিসিতে ইসরায়েল, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।  ইসরায়েলি সরকারি সূত্র এবং আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য পক্ষগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই প্রথম দফার আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার শর্তাবলি এবং আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে "শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক" স্থাপন করা। তবে আলোচনার টেবিলে কিছু অমীমাংসিত জটিলতা এখনো বিদ্যমান। লেবানন শুরু থেকেই শর্ত দিয়েছে যে, আলোচনার আগে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, হামলার মুখে থেকে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। আজকের এই ঐতিহাসিক প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরবর্তী রূপরেখা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স | ছবি: সংগৃহীত

ইরান ‘চালাকি’ করলে কোনো ছাড় নয়; ইসলামাবাদ যাত্রার আগে কড়া হুঁশিয়ারি জেডি ভ্যান্সের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার | ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে একমত ট্রাম্প ও স্টারমার

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স | ছবি: সংগৃহীত

ইরান ‘সৎভাবে’ এগোলে সহযোগিতার হাত বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স

ছবি: সংগৃহীত
আবারও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ন্যাটো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস–এ ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে–এর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে ইঙ্গিত দেন।   পোস্টে তিনি বলেন, প্রয়োজনের সময় ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে না। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে ‘বড় কিন্তু খারাপভাবে পরিচালিত বরফখণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন তিনি, যা অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার তার আগের পরিকল্পনারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এর আগে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব ন্যাটোর বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের বিরোধিতার মুখে পড়ে। বিষয়টি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কেও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।   বৈঠক শেষে সিএনএন–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, আলোচনা ছিল ‘খোলামেলা’। তিনি আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিশ্ব পরিস্থিতি ‘আরও নিরাপদ’ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের পুনরায় এমন মন্তব্য ন্যাটোর অভ্যন্তরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি জোরালো, কিন্তু কংগ্রেসে সমর্থন অনিশ্চিত

ছবি: আমেরিকা বাংলা

হরমুজে টোল নিলে ‘ছেড়ে দেব না’: ইরানকে ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত।

ইরানে হামলা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানে এক নারীর কা’রাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানে এক নারীর কারাদণ্ড

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন এমন অভিযোগে এক নারীকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কানেকটিকাটের একটি ফেডারেল আদালত। কানেকটিকাটে বসবাসকারী ওই নারী বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিলেন বলে মিথ্যা তথ্য দেন।   কোনো এক সময়ে বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধী নাদা রাদোভান তোমানিচ হার্টফোর্ড থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় চলে যান, কিন্তু দূরত্বও তাকে তার কর্মকাণ্ডের পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ৫৩ বছর বয়সী নাদা রাদোভান তোমানিচকে বুধবার ব্রিজপোর্ট ফেডারেল আদালত আড়াই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ডেভিড সুলিভান-এর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১২ সালে হার্টফোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তার অপরাধমূলক অতীত গোপন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর দশকে বসনিয়া যুদ্ধের সময় তোমানিচ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সেনাবাহিনী-এর ‘জুলফিকার স্পেশাল ইউনিট’-এ দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি ও তার ইউনিটের অন্য সদস্যরা বসনিয়ান সার্ব বেসামরিক বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান, যার মধ্যে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নাগরিকত্বের আবেদনকালে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো আটক কেন্দ্রে কাজ করেননি বা কাউকে আটক রাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এমনকি তিনি কোনো যুদ্ধাপরাধেও জড়িত ছিলেন না বলে শপথ করে মিথ্যা তথ্য দেন। তদন্তে আরও জানা যায়, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) -এর কর্মকর্তার সামনে সাক্ষাৎকারের সময়ও তিনি শপথ নিয়ে এসব তথ্য অস্বীকার করেন। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তিনি অবৈধভাবে নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। রায় ঘোষণার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, বহু বছর পর হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়ার তদন্তকারীদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এফবিআইয়ের নিউ হ্যাভেন ফিল্ড অফিস-এর কর্মকর্তারা জানান, এই মামলাটি শুধু নাগরিকত্ব আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয় নয়; বরং তার অতীতের সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ও ছিল। এই মামলাটি তদন্ত করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সমন্বয় সহায়তা দেয় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ-এর হিউম্যান রাইটস ভায়োলেটরস অ্যান্ড ওয়ার ক্রাইমস সেন্টার (এইচআরভিডব্লিউসিসি) এবং মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর ফ্রড ডিটেকশন অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি (এফডিএনএস) অফিস, পাশাপাশি এফবিআই-এর ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইউনিট (আইএইচআরইউ)। এই তদন্তে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কর্তৃপক্ষকে—বিশেষ করে তাদের বিচার মন্ত্রণালয় ও রিপাবলিকা সার্পস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষসহ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি ট্রাইব্যুনালের অবশিষ্ট প্রক্রিয়া-কে ধন্যবাদ জানিয়েছে, যারা তদন্ত এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। মামলাটি পরিচালনা করেন ক্রিমিনাল ডিভিশনের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসিকিউশন্স সেকশনের ট্রায়াল অ্যাটর্নি এলিজাবেথ নিলসেন এবং কানেকটিকাট জেলার সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি আনাস্তাসিয়া কিং ও অ্যাঞ্জেল ক্রুল, এইচআরএসপি ইতিহাসবিদদের সহায়তায়। এছাড়া, বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সও এ মামলায় সহযোগিতা করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
স্কুলপড়ুয়া দুই শিশুসহ পরিবারকে ডিপোর্ট করা হয়েছে

স্কুলপড়ুয়া দুই শিশুসহ রহস্যজনকভাবে উধাও পরিবার, পরে জানা গেল ডিপোর্ট করা হয়েছে তাদের

জর্জিয়ায় দুইদিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা

জর্জিয়ায় দুইদিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা

ছবি: সংগৃহীত

এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার মেলানিয়া ট্রাম্পের

0 Comments