যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, এই সমঝোতা ইরানের জনগণের ‘ধৈর্য, সহনশীলতা ও সাহসিকতার’ প্রতিফলন।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তারা জনগণকে আশ্বস্ত করে আসছিলেন যে যুদ্ধের সমাপ্তি হবে ইরানের শর্তে। সাম্প্রতিক এই চুক্তিতে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা এবং দুই পক্ষের মধ্যে বেশিরভাগ বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার ইঙ্গিতকে তারা সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন।
তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই অর্জন সম্ভব হয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় অবস্থান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের কারণে। তারা দাবি করছে, যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে জনগণ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যা শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ নিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল করে শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা। তবে বাস্তবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো অটুট থেকেছে।
গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রমাণ করেছে বলেও দাবি করা হয়। দেশটির মতে, এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, তারা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলা এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। একদিকে ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির গুঞ্জন, অন্যদিকে নিজের দেশের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে নিজের গদি টিকিয়ে রাখতে তিনি এখন লেবানন ফ্রন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের 'চূড়ান্ত বিজয়', ইরানি হুমকির অবসান এবং ওই অঞ্চলে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'লায়ন’স রোর' বা সিংহের গর্জন, সেটিকে এখন ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা 'মাআরিভ'-এর সামরিক বিশ্লেষকরা 'হাউলিং ক্যাটস' বা বিড়ালের আর্তনাদ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী অবরোধ এবং ইরানি শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে, যা তেহরানের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে। এই রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই এখন দক্ষিণ লেবাননে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে রাখছেন নেতানিয়াহু। মূলত ভোটারদের এটা বোঝাতে চাইছেন যে, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। এদিকে নেতানিয়াহুর এই রণকৌশলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'রাজনৈতিক বিপর্যয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। লাপিদ বলেন: "সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, জনগণ অসীম ধৈর্য দেখিয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজের নির্ধারিত একটি লক্ষ্যও পূরণ করতে পারেননি। তার ঔদ্ধত্য এবং অদূরদর্শিতার কারণে দেশের যে কৌশলগত ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বছরের পর বছর সময় লাগবে।"
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে গোলাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বিরতিকে যুদ্ধের শেষ হিসেবে দেখা যাবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে সামরিক বাহিনীর সব ইউনিটকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখতে হবে। তেহরান থেকেও একই ধরনের সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক পদক্ষেপ—এটি কোনোভাবেই স্থায়ী শান্তির ইঙ্গিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, বিরতি মানে যুদ্ধের সমাপ্তি নয়। শত্রুপক্ষের সামান্যতম পদক্ষেপেরও শক্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর একটি পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি ছোট্ট শব্দ—‘ড্রাফট’—এই বিতর্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাটি হলো, তার পোস্টের একটি আগের সংস্করণে ‘Draft - Pakistan's PM Message on X’ লেখা ছিল। পরে চূড়ান্ত পোস্টে এই অংশটি মুছে ফেলা হলেও এক্সের (X) এডিট হিস্ট্রি ফিচারের কারণে আগের সংস্করণটি ব্যবহারকারীদের সামনে দৃশ্যমান হয়ে যায়। জানা গেছে, চূড়ান্ত পোস্ট দেওয়ার মাত্র এক মিনিট আগেই সেই খসড়া সংস্করণটি আপলোড করা হয়েছিল। এরপরই নেটিজেনরা দ্রুত স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, বার্তাটি যথাযথভাবে যাচাই না করেই সরাসরি কপি-পেস্ট করা হয়েছে। মূল পোস্টে শরিফ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং এ জন্য তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কাছে দুই সপ্তাহ সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইরানকে হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানান। তবে বার্তার বিষয়বস্তুর চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এর সম্পাদনার ইতিহাস। একজন ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লেখেন, “যিনি একটি টুইট ঠিকমতো দিতে পারেন না, তিনি দেশ চালাবেন কীভাবে?” আরেকজন দাবি করেন, এটি অন্য কারও তৈরি বার্তা, যা শুধু পোস্ট করা হয়েছে। অনেকেই যুক্তি দিচ্ছেন, যদি এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তৈরি হতো, তাহলে ভাষার ধরন ভিন্ন হতে পারত। ‘Pakistan's PM Message’ লেখাটি দেখে কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দেশের বাইরের কারও প্রস্তুত করা খসড়া হতে পারে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল। শরিফের পোস্টের পরপরই ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। এদিকে শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করতে চায়। ইসলামাবাদ এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিতর্ক পুরো বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।