রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে এক হাজার কেজি বা তার বেশি পেলোড বহনে সক্ষম মিসাইল ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেবে ইরান। রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে মিসাইলের সংখ্যা কমিয়ে তাদের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কৌশলের ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান তুলনামূলক কম খরচের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়। এতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। তবে বর্তমানে তেহরান খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারে বেশি জোর দিচ্ছে। এসব মিসাইল উচ্চগতিসম্পন্ন এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে, যা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক টন বিস্ফোরক বহনকারী মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলে তা বড় ধরনের সামরিক অবকাঠামো অচল করে দিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশটিতে তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, লেবাননে চলমান এই সংঘাতের প্রতি দিন গড়ে ১০ জন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। ইউনিসেফের সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৮৩ জন শিশু নিহত হয়েছে। লেবাননের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্যমতে, এই অল্প কয়েক দিনে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৭০ ছাড়িয়েছে। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট ছোঁড়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হলেও, এর চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের। লিটানি নদীর দক্ষিণ তীরের বিশাল এলাকা খালি করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশের পর দেশটির প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, যেখানে বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্করা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই সমরকৌশল গাজার ভয়াবহ ধ্বংসলীলার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। গাজার মতোই এখানেও বেসামরিক জনগণকে আতঙ্কিত করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত করার মতো কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে এক হাজার কেজি বা তার বেশি পেলোড বহনে সক্ষম মিসাইল ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেবে ইরান। রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে মিসাইলের সংখ্যা কমিয়ে তাদের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কৌশলের ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান তুলনামূলক কম খরচের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়। এতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। তবে বর্তমানে তেহরান খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারে বেশি জোর দিচ্ছে। এসব মিসাইল উচ্চগতিসম্পন্ন এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে, যা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক টন বিস্ফোরক বহনকারী মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলে তা বড় ধরনের সামরিক অবকাঠামো অচল করে দিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করতে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। এ বিষয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি বিশ্ব পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। একই সঙ্গে এসব সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাজার ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাও প্রণয়ন করবে কমিটি। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কমিটি গঠনের দিনই বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পরপরই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করতে পারে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।
লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশটিতে তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, লেবাননে চলমান এই সংঘাতের প্রতি দিন গড়ে ১০ জন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। ইউনিসেফের সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৮৩ জন শিশু নিহত হয়েছে। লেবাননের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্যমতে, এই অল্প কয়েক দিনে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৭০ ছাড়িয়েছে। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট ছোঁড়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হলেও, এর চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের। লিটানি নদীর দক্ষিণ তীরের বিশাল এলাকা খালি করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশের পর দেশটির প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, যেখানে বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্করা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই সমরকৌশল গাজার ভয়াবহ ধ্বংসলীলার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। গাজার মতোই এখানেও বেসামরিক জনগণকে আতঙ্কিত করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত করার মতো কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে এক হাজার কেজি বা তার বেশি পেলোড বহনে সক্ষম মিসাইল ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেবে ইরান। রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে মিসাইলের সংখ্যা কমিয়ে তাদের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কৌশলের ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান তুলনামূলক কম খরচের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়। এতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। তবে বর্তমানে তেহরান খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারে বেশি জোর দিচ্ছে। এসব মিসাইল উচ্চগতিসম্পন্ন এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে, যা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক টন বিস্ফোরক বহনকারী মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলে তা বড় ধরনের সামরিক অবকাঠামো অচল করে দিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশটিতে তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, লেবাননে চলমান এই সংঘাতের প্রতি দিন গড়ে ১০ জন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। ইউনিসেফের সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৮৩ জন শিশু নিহত হয়েছে। লেবাননের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্যমতে, এই অল্প কয়েক দিনে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৭০ ছাড়িয়েছে। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট ছোঁড়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হলেও, এর চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের। লিটানি নদীর দক্ষিণ তীরের বিশাল এলাকা খালি করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশের পর দেশটির প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, যেখানে বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্করা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই সমরকৌশল গাজার ভয়াবহ ধ্বংসলীলার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। গাজার মতোই এখানেও বেসামরিক জনগণকে আতঙ্কিত করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত করার মতো কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।