আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তজনা চরমে পৌঁছেছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে পিয়ংইয়ংয়ের সুনান এলাকা থেকে ১০টিরও বেশি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে ছোঁড়া হয়েছে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্রে পতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পরপরই সিউল তার নজরদারি ও সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে সর্বোচ্চ যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (Freedom Shield)-এর একটি কঠোর প্রতিক্রিয়া। গত ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। শুরু থেকেই পিয়ংইয়ং এই মহড়াকে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং একটি ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং এক কড়া বিবৃতিতে সতর্ক করেছিলেন যে, শত্রুপক্ষের বাহিনী যদি তাদের দেশের সার্বভৌম অঞ্চলের কাছাকাছি সামরিক উসকানি চালায়, তবে এর পরিণতি হবে ‘কল্পনাতীত ভয়াবহ’। আজকের এই গণ-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কিম ইয়ো-জং-এর সেই হুমকিরই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর জানুয়ারিতেও একই ধরনের সামরিক তৎপরতা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। তবে এবারের ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই বিশাল বহর নিক্ষেপ করার ঘটনাটি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমা বা দুঃস্বপ্নের কাহিনি নয়, বরং এক রূঢ় বাস্তব এখন মধ্যপ্রাচ্যের দরজায় কড়া নাড়ছে। যে যুদ্ধ তেলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল, তা এখন বাঁক নিচ্ছে প্রকৃতির সবচাইতে অমূল্য সম্পদ— পানির দিকে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পরিধি যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে আগামীর দিনগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু কেবল তেলের পাইপলাইন হবে না, বরং হবে পানির পাম্প আর লবণ-মুক্তকরণ কারখানা। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই অঞ্চলে পানি এখন ‘তেলের চেয়েও ভারী’ হয়ে উঠেছে। পানির জন্য হাহাকার ও কৃত্রিম নির্ভরতা উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশ্বের মাত্র ২% মিষ্টি পানির সরবরাহ রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে টিকে থাকতে হয় সমুদ্রের পানিকে লবণ-মুক্ত (Desalination) করার ওপর নির্ভর করে। ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস্-এর তথ্যমতে, কুয়েতের ৯০%, ওমানের ৮৬% এবং সৌদি আরবের ৭০% মিষ্টি পানি আসে এই প্রক্রিয়ায়। ওমানের ড. উইল লা কেন-এর মতে, ২০২১ সালে এই কারখানাগুলো প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি টেনে নিত, তা দিয়ে অলিম্পিক মানের ৮,০০০ সুইমিং পুল ভর্তি করা সম্ভব। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ওপর সামান্য আঘাতও পুরো জনজীবনকে অচল করে দিতে পারে। রণকৌশল হিসেবে পানি: ইরানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে মোকাবিলা করার চেয়ে সংঘাতের ক্ষেত্র ছড়িয়ে দেওয়া এবং আতঙ্ক তৈরি করাই এখন ইরানের কৌশল। বাহরাইনের একটি লবণ-মুক্তকরণ কারখানায় সরাসরি হামলা এবং দুবাইয়ের জেবেল আলিতে হামলার ঘটনাগুলো এরই প্রমাণ। কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোন্স মনে করেন, ইরান চাইছে আরব দেশগুলোর ওপর এমন চাপ তৈরি করতে যেন তারা নিজ দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য বাধ্য করে। অধ্যাপক কাভেহ মাদানির মতে, এটি ইরানের একটি ‘সংকেত দেওয়ার কৌশল’—তারা দেখাতে চায় যে তারা কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কেশম দ্বীপের ক্ষত ইরান প্রতিটি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপের একটি পানি কারখানায় হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন গ্রামের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ‘নির্লজ্জ অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাহরাইনে করা হামলাকে ‘ন্যায়সংগত প্রতিশোধ’ বলে দাবি করেছেন। এই পাল্টাপাল্টি হামলা প্রমাণ করে যে, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ হলেও যুদ্ধের ময়দানে তা এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট ও ‘পানির আকাল’ প্রতিবেশীদের পানির ওপর আঘাত করলেও ইরান নিজেও শান্তিতে নেই। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদি স্বীকার করেছেন যে, ইরান এখন ‘চূড়ান্ত জলের আকালের’ মুখোমুখি। শতাব্দী প্রাচীন পাইপলাইনে ফুটো, কম বৃষ্টিপাত এবং সংঘাতের কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। তেহরানের মতো শহর আংশিক খালি করে দেওয়ার মতো হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এছাড়া হেলমন্দ নদী নিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে এবং টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে ইরানের বিরোধ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ প্রমাণ করছে যে জল-নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর। ঐতিহাসিক ভাবে পানি সবসময়ই হুমকি দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু বর্তমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা অকল্পনীয়। আগামীর সংঘাত কেবল জ্বালানিবাহী জাহাজ বা তেলের খনি দিয়ে নির্ধারিত হবে না; বরং নদী, ভূগর্ভস্থ পানির আধার আর সমুদ্রের পানি শোধনকারী কারখানাই হবে প্রধান রণক্ষেত্র। পানির এই সংকট যদি প্রশমিত না হয়, তবে তেলের আগুন নেভানোর মতো পানিও হয়তো একদিন আর অবশিষ্ট থাকবে না।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলে জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার (নিসা) এক বিশেষ অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের অন্তত ২২ জন সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে নিসা এই সফল অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে। মূলত জঙ্গিদের গোপন আস্তানা ও তাদের নেতৃত্বের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। নিসা-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুদুগ অঞ্চলের দুমায়ে এলাকায় পরিচালিত প্রথম অভিযানে গোষ্ঠীটির চারজন শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ১৫ জন সদস্য প্রাণ হারায়। অন্যদিকে, হিরান অঞ্চলের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের দুটি গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে আল-শাবাবের দুইজন প্রধান অর্থ সরবরাহকারী নেতাসহ আরও সাতজন নিহত হয়েছে। সোমালি জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গিদের অবশিষ্ট অংশগুলো নির্মূল না করা পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। উল্লেখ্য, গত ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে আল-শাবাব। তবে গত বছরের জুলাই মাস থেকে সোমালি জাতীয় সেনাবাহিনী তাদের দমনে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে। এই অভিযানে সোমালি বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে আফ্রিকান ইউনিয়ন সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন (AUSSOM) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদাররা। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমালিয়ায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক মিশনের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। আল-শাবাবের ক্রমাগত হামলার মুখে এই বর্ধিত সময়কাল দেশটির নিরাপত্তা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি বাহিনীর এই ধারাবাহিক সাফল্য সোমালিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা আর ভেন্যু নিয়ে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের অনড় অবস্থানের কারণে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ। আগামী ২৭ মার্চ কাতারের দোহায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তা এখন বাতিলের মুখে। আয়োজক সংস্থা উয়েফা ও কনমেবল নিরাপত্তার খাতিরে ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদ ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এই প্রস্তাবে একমত হলেও বাদ সেধেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। আর্জেন্টাইন সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেনে ম্যাচ খেললে স্বাগতিকরা বাড়তি সুবিধা পাবে। তার দাবি, ম্যাচটি আয়োজন করতে হবে বুয়েনোস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। দুই দেশের এই মতবিরোধের ফলে বর্তমানে তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে: বার্নাব্যুতে খেলা, লিসবন বা রোমের মতো নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া, অথবা ম্যাচটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা। তবে হাতে সময় খুব কম থাকায় এবং ইউরোপের বড় স্টেডিয়ামগুলো খালি না পাওয়ায় ম্যাচটি পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যম দাবি করছে, আর্জেন্টিনা সম্ভবত এই মুহূর্তে ম্যাচটি খেলতে খুব একটা আগ্রহী নয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তজনা চরমে পৌঁছেছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে পিয়ংইয়ংয়ের সুনান এলাকা থেকে ১০টিরও বেশি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে ছোঁড়া হয়েছে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্রে পতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পরপরই সিউল তার নজরদারি ও সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে সর্বোচ্চ যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (Freedom Shield)-এর একটি কঠোর প্রতিক্রিয়া। গত ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। শুরু থেকেই পিয়ংইয়ং এই মহড়াকে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং একটি ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং এক কড়া বিবৃতিতে সতর্ক করেছিলেন যে, শত্রুপক্ষের বাহিনী যদি তাদের দেশের সার্বভৌম অঞ্চলের কাছাকাছি সামরিক উসকানি চালায়, তবে এর পরিণতি হবে ‘কল্পনাতীত ভয়াবহ’। আজকের এই গণ-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কিম ইয়ো-জং-এর সেই হুমকিরই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর জানুয়ারিতেও একই ধরনের সামরিক তৎপরতা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। তবে এবারের ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই বিশাল বহর নিক্ষেপ করার ঘটনাটি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সামা টিভি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের এই এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে একটি টহল গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সদস্য নিহত হন। জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, বিস্ফোরণটি একটি পুলিশ যানবাহনের খুব কাছে ঘটে। সে সময় টহলরত দলটি দায়িত্ব পালন করছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সদর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) আজমসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা ও সাখি জাদা। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং কারা এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দিতে পারেন বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এলিয়ট আব্রামস। সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্রামস বলেন, ট্রাম্পের সামনে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। তিনি বলেন, একটি সম্ভাবনা হলো—ইরানে কোনো ধরনের বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। অন্য সম্ভাবনাটি হচ্ছে, এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দেবেন এবং বলবেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিকল্পিত সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তাই এখন অভিযানের সমাপ্তি ঘটছে। আব্রামস, যিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলা ও ইরান বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, মনে করেন দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিই বেশি বাস্তবসম্মত। তিনি বলেন, ইরানের সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারকে তীব্রভাবে অপছন্দ করলেও সেই সরকার এক সপ্তাহের মধ্যে পতন ঘটবে নাকি পাঁচ বছর পর—এটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা আর ভেন্যু নিয়ে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের অনড় অবস্থানের কারণে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ। আগামী ২৭ মার্চ কাতারের দোহায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তা এখন বাতিলের মুখে। আয়োজক সংস্থা উয়েফা ও কনমেবল নিরাপত্তার খাতিরে ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদ ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এই প্রস্তাবে একমত হলেও বাদ সেধেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। আর্জেন্টাইন সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেনে ম্যাচ খেললে স্বাগতিকরা বাড়তি সুবিধা পাবে। তার দাবি, ম্যাচটি আয়োজন করতে হবে বুয়েনোস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। দুই দেশের এই মতবিরোধের ফলে বর্তমানে তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে: বার্নাব্যুতে খেলা, লিসবন বা রোমের মতো নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া, অথবা ম্যাচটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা। তবে হাতে সময় খুব কম থাকায় এবং ইউরোপের বড় স্টেডিয়ামগুলো খালি না পাওয়ায় ম্যাচটি পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যম দাবি করছে, আর্জেন্টিনা সম্ভবত এই মুহূর্তে ম্যাচটি খেলতে খুব একটা আগ্রহী নয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলে জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার (নিসা) এক বিশেষ অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের অন্তত ২২ জন সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে নিসা এই সফল অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে। মূলত জঙ্গিদের গোপন আস্তানা ও তাদের নেতৃত্বের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। নিসা-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুদুগ অঞ্চলের দুমায়ে এলাকায় পরিচালিত প্রথম অভিযানে গোষ্ঠীটির চারজন শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ১৫ জন সদস্য প্রাণ হারায়। অন্যদিকে, হিরান অঞ্চলের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের দুটি গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে আল-শাবাবের দুইজন প্রধান অর্থ সরবরাহকারী নেতাসহ আরও সাতজন নিহত হয়েছে। সোমালি জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গিদের অবশিষ্ট অংশগুলো নির্মূল না করা পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। উল্লেখ্য, গত ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে আল-শাবাব। তবে গত বছরের জুলাই মাস থেকে সোমালি জাতীয় সেনাবাহিনী তাদের দমনে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে। এই অভিযানে সোমালি বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে আফ্রিকান ইউনিয়ন সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন (AUSSOM) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদাররা। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমালিয়ায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক মিশনের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। আল-শাবাবের ক্রমাগত হামলার মুখে এই বর্ধিত সময়কাল দেশটির নিরাপত্তা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি বাহিনীর এই ধারাবাহিক সাফল্য সোমালিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের ফলাফল ভোট গণনার সময় প্রভাবিত করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হিমালয় পার্কে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টি পঞ্চগড় জেলা শাখার ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই দায় যেমন অন্যদের ওপর দেওয়া যায়, তেমনি এটাও সত্য যে আমরা আমাদের ভোট গণনার সময় যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারিনি। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো কেন্দ্রে যদি আমাদের ১০ জন ভোটার থাকে, সেই ১০টি ভোটও রক্ষা করতে হবে। আবার কোথাও যদি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ৯০টি আমাদের হয়, তাহলে সেই ৯০টি ভোটও নিশ্চিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিরোধী দল হিসেবে সংসদে আছি। স্থানীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে নাকি আলাদাভাবে হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যেভাবেই হোক, জনগণের দেওয়া ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ অনেক আশা ও পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের লড়াই রাজপথ থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ভয় ও সাহসের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ভয় ছোঁয়াচে—ভয় পেলে মানুষ পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু সাহস আরও বেশি ছোঁয়াচে। একজন মানুষ যখন সাহস দেখায়, তখন অন্যরাও সেই সাহস থেকে অনুপ্রাণিত হয়। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আপনাদের মধ্য থেকেই কেউ মেম্বার, কেউ চেয়ারম্যান, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলে জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার (নিসা) এক বিশেষ অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের অন্তত ২২ জন সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে নিসা এই সফল অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে। মূলত জঙ্গিদের গোপন আস্তানা ও তাদের নেতৃত্বের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। নিসা-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুদুগ অঞ্চলের দুমায়ে এলাকায় পরিচালিত প্রথম অভিযানে গোষ্ঠীটির চারজন শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ১৫ জন সদস্য প্রাণ হারায়। অন্যদিকে, হিরান অঞ্চলের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের দুটি গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে আল-শাবাবের দুইজন প্রধান অর্থ সরবরাহকারী নেতাসহ আরও সাতজন নিহত হয়েছে। সোমালি জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গিদের অবশিষ্ট অংশগুলো নির্মূল না করা পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। উল্লেখ্য, গত ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে আল-শাবাব। তবে গত বছরের জুলাই মাস থেকে সোমালি জাতীয় সেনাবাহিনী তাদের দমনে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে। এই অভিযানে সোমালি বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে আফ্রিকান ইউনিয়ন সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন (AUSSOM) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদাররা। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমালিয়ায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক মিশনের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। আল-শাবাবের ক্রমাগত হামলার মুখে এই বর্ধিত সময়কাল দেশটির নিরাপত্তা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি বাহিনীর এই ধারাবাহিক সাফল্য সোমালিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে যাচ্ছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাপানের ওকিনাওয়া বন্দর থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনাল ইউনিটের প্রায় ২,৫০০ জন সৈন্য ইতিমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছেন। এই বাহিনী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ নামের আক্রমণকারী জাহাজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চল পৌঁছাবে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। মেরিনরা সাধারণত সমুদ্র ও স্থল—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করে, কিন্তু এবার তাদের নির্দিষ্টভাবে স্থল অভিযান পরিচালনার জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বা ইরানের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে সংঘাতে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি করছে। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ দেখাচ্ছে যে ওয়াশিংটন এই সংঘাতকে দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রথম দুই সপ্তাহে ইরানজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা চললেও একটি নির্দিষ্ট স্থান ছিল লক্ষ্যবস্তুর বাইরে। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত শুক্রবার খার্গ আইল্যান্ডে (Kharg Island) অবস্থিত ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যদিও মার্কিন কর্মকর্তা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, তেলের স্থাপনাগুলো এই দফায় অক্ষত রয়েছে; তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন এই দ্বীপটি ইরানের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ? পারস্য উপসাগরে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রবাল দ্বীপটি আয়তনে ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। অথচ এই ক্ষুদ্র দ্বীপটিই ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয় এই দ্বীপের মাধ্যমে। আহভাজ, মারুন এবং গাসসারানের মতো বিশালাকার তেলক্ষেত্রগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এখানে এসে পৌঁছায়। ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ ও বিশ্ববাজারের সমীকরণ কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকায় ইরানীদের কাছে এটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত। এর দীর্ঘ জেটিগুলো গভীর সমুদ্রে অবস্থিত হওয়ায় বিশালাকার সুপারট্যাঙ্কারগুলো সহজেই এখানে ভিড়তে পারে। ১৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সিআইএ-র এক নথিতে এই দ্বীপটিকে ইরানের অর্থনৈতিক সুস্থতার জন্য ‘অপরিহার্য’ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। বর্তমানে ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও মনে করেন, এই টার্মিনালটি ধ্বংস করতে পারলে ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। ট্রাম্পের হুমকি ও সংঘাতের আশঙ্কা বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চরমে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে এই তেল স্থাপনাগুলোই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খার্গ আইল্যান্ডে বড় ধরনের কোনো হামলা হলে তা কেবল ইরানের অর্থনীতি নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজারে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ-এর ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ (No Quarter) এবং ‘কোনো দয়া দেখানো হবে না’ (No Mercy) মর্মে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ বলেন, "আমরা চাপ অব্যাহত রাখব, আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের শত্রুদের জন্য কোনো ছাড় নেই, কোনো দয়া নেই।" তার এই মন্তব্যের পরই বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা নেই পেন্টাগনের আন্তর্জাতিক আইন এবং হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মসমর্পণকারী বা আহত শত্রুপক্ষকে ‘ছাড় দেওয়া হবে না’ বা সরাসরি হত্যা করার হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক ম্যানুয়ালেও এ ধরনের হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ব্রায়ান ফিনুকেন আল জাজিরাকে বলেন, "এই মন্তব্যগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি প্রশ্ন তোলে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই আইনহীন এবং উস্কানিমূলক বাগাড়ম্বর বাস্তবে কতটা প্রয়োগ করা হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধাদের হত্যা করা অমানবিক এবং পাল্টা ফলদায়ক। তবে প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ এসব সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধের কোনো "বোকামি ভরা নিয়ম" (Stupid rules of engagement) বা "রাজনৈতিকভাবে সঠিক যুদ্ধ" (Politically correct wars) মেনে চলবেন না। হেগসেথের এই 'সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী' (Maximum lethality) কৌশলের প্রভাবে ইরানে বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। সব মিলিয়ে চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪৪৪ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ওয়াশিংটন ডিরেক্টর সারাহ ইয়েগার বলেন, "আমি দুই দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে কাজ করছি, কিন্তু এ ধরনের ভাষা শুনে আমি স্তব্ধ। উর্ধ্বতন নেতাদের এই বক্তব্য যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের আচরণকে প্রভাবিত করে এবং এটি বড় ধরনের নৃশংসতার পূর্বলক্ষণ।" ওয়াচডগ গ্রুপ ‘এয়ারওয়ারস’ (Airwars)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার গতি আধুনিক ইতিহাসের যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে বেশি। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এমনকি আইএস (ISIS)-এর বিরুদ্ধে ছয় মাসে যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল, ইরানে প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই তার চেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে। সিনেটর জেফ মের্কলি এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে হেগসেথকে একজন ‘বিপজ্জনক অপেশাদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “তার এই ‘দ্বিধাহীন’ যুদ্ধের নিয়মনীতি একটি বেসামরিক স্কুল এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে ১৫০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রী ও শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন।” বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের এই আক্রমণাত্মক নীতি আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।