লেবানন থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার মিসাইল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসাইল হামলার পর ইসরায়েলর মধ্যাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম The Times of Israel জানিয়েছে, গত ১৫ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হিজবুল্লাহ দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করেছে। এর আগে গত শনিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই হামলার দুই দিন পর সংঘাতে যোগ দিয়ে হিজবুল্লাহ কয়েকটি রকেট নিক্ষেপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেশে ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ঢাকা–দুবাই–ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি আজ বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে দুবাইর উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে দুবাই থেকে ঢাকার পথে ফিরবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইটটি বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছাড়বে। ফিরতি ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত ১০টায় দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। ৪৩৬ আসনবিশিষ্ট Airbus A330-300 উড়োজাহাজ দিয়ে এই বিশেষ ফ্লাইট দুটি পরিচালনা করা হবে। ফ্লাইট নম্বর ঢাকা–দুবাই রুটে বিএস-৩৪১ এবং দুবাই–ঢাকা রুটে বিএস-৩৪২। দুবাইয়ের বিমান কর্তৃপক্ষ Dubai Airport Authority চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এমিরেটস এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে—এমন বাংলাদেশি যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। টিকিট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইউএস-বাংলার সেলস সেন্টার কিংবা নিকটস্থ ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিস্তারিত তথ্যের জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের হটলাইন ১৩৬০৫ অথবা ০১৭৭৭৭৭৭৮০০–৮০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বর্তমান সমাজে পারিবারিক অশান্তি ও সহিংসতার একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে পরকীয়া সম্পর্ক। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্ক শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বই তৈরি করে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ভাঙন ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরকীয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেক সময় সঙ্গীর আচরণে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে পরকীয়ার সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তবে নিশ্চিত না হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সতর্কভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সঙ্গীর মোবাইল ফোন ব্যবহারের ধরন হঠাৎ পরিবর্তন হলে সেটির দিকে নজর রাখা জরুরি। একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় সঙ্গী যদি অকারণে ফোনে ব্যস্ত থাকেন, বারবার মেসেজ বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে কাজের প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার বাড়তেও পারে, তাই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এ ছাড়া সঙ্গী যদি আগের তুলনায় কম সময় দিতে শুরু করেন বা নিজের মধ্যে গুটিয়ে যেতে থাকেন, তবে সেটিও একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। তবে কর্মব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত চাপের কারণে এমন পরিবর্তন হতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অযৌক্তিক রাগ, খিটখিটে আচরণ বা কথায় বিরক্তির সুর থাকাও অনেক সময় পরকীয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। পাশাপাশি আপনার দৈনন্দিন চলাফেরা, বাড়ি ফেরার সময় বা অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত খোঁজখবর নেওয়াও সন্দেহের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সঙ্গীর হঠাৎ নিজের চেহারা, পোশাক বা সাজসজ্জার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়াও পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। তবে এটি সব সময় পরকীয়ার নিশ্চিত প্রমাণ নয়—সঙ্গী হয়তো নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অন্যতম উপায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলায় স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস–কে আতিথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। আমরা স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। এর আগে সোমবার স্পেন সরকার জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করেনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে না। মাদ্রিদ স্পষ্ট করে দেয়, তাদের সার্বভৌম সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা আটলান্টিকপারের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেশে ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ঢাকা–দুবাই–ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি আজ বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে দুবাইর উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে দুবাই থেকে ঢাকার পথে ফিরবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইটটি বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছাড়বে। ফিরতি ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত ১০টায় দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। ৪৩৬ আসনবিশিষ্ট Airbus A330-300 উড়োজাহাজ দিয়ে এই বিশেষ ফ্লাইট দুটি পরিচালনা করা হবে। ফ্লাইট নম্বর ঢাকা–দুবাই রুটে বিএস-৩৪১ এবং দুবাই–ঢাকা রুটে বিএস-৩৪২। দুবাইয়ের বিমান কর্তৃপক্ষ Dubai Airport Authority চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এমিরেটস এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে—এমন বাংলাদেশি যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। টিকিট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইউএস-বাংলার সেলস সেন্টার কিংবা নিকটস্থ ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিস্তারিত তথ্যের জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের হটলাইন ১৩৬০৫ অথবা ০১৭৭৭৭৭৭৮০০–৮০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর চলমান 'গজব লিল-হক' অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪৬৪ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ৬৬৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই অভিযানের সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে তালেবানের ১৮৮টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩১টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। মন্ত্রী আরও বিস্তারিত তথ্যে জানান, অভিযানে আফগান তালেবানের অন্তত ১৯২টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান জুড়ে ৫৬টি কৌশলগত অবস্থানে 'কার্যকরভাবে' আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেবানন থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার মিসাইল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসাইল হামলার পর ইসরায়েলর মধ্যাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম The Times of Israel জানিয়েছে, গত ১৫ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হিজবুল্লাহ দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করেছে। এর আগে গত শনিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই হামলার দুই দিন পর সংঘাতে যোগ দিয়ে হিজবুল্লাহ কয়েকটি রকেট নিক্ষেপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সমাজে পারিবারিক অশান্তি ও সহিংসতার একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে পরকীয়া সম্পর্ক। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্ক শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বই তৈরি করে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ভাঙন ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরকীয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেক সময় সঙ্গীর আচরণে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে পরকীয়ার সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তবে নিশ্চিত না হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সতর্কভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সঙ্গীর মোবাইল ফোন ব্যবহারের ধরন হঠাৎ পরিবর্তন হলে সেটির দিকে নজর রাখা জরুরি। একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় সঙ্গী যদি অকারণে ফোনে ব্যস্ত থাকেন, বারবার মেসেজ বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে কাজের প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার বাড়তেও পারে, তাই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এ ছাড়া সঙ্গী যদি আগের তুলনায় কম সময় দিতে শুরু করেন বা নিজের মধ্যে গুটিয়ে যেতে থাকেন, তবে সেটিও একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। তবে কর্মব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত চাপের কারণে এমন পরিবর্তন হতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অযৌক্তিক রাগ, খিটখিটে আচরণ বা কথায় বিরক্তির সুর থাকাও অনেক সময় পরকীয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। পাশাপাশি আপনার দৈনন্দিন চলাফেরা, বাড়ি ফেরার সময় বা অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত খোঁজখবর নেওয়াও সন্দেহের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সঙ্গীর হঠাৎ নিজের চেহারা, পোশাক বা সাজসজ্জার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়াও পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। তবে এটি সব সময় পরকীয়ার নিশ্চিত প্রমাণ নয়—সঙ্গী হয়তো নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অন্যতম উপায়।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
লেবানন থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার মিসাইল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসাইল হামলার পর ইসরায়েলর মধ্যাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম The Times of Israel জানিয়েছে, গত ১৫ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হিজবুল্লাহ দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করেছে। এর আগে গত শনিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই হামলার দুই দিন পর সংঘাতে যোগ দিয়ে হিজবুল্লাহ কয়েকটি রকেট নিক্ষেপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলায় স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস–কে আতিথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। আমরা স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। এর আগে সোমবার স্পেন সরকার জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করেনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে না। মাদ্রিদ স্পষ্ট করে দেয়, তাদের সার্বভৌম সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা আটলান্টিকপারের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর চলমান 'গজব লিল-হক' অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪৬৪ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ৬৬৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই অভিযানের সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে তালেবানের ১৮৮টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩১টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। মন্ত্রী আরও বিস্তারিত তথ্যে জানান, অভিযানে আফগান তালেবানের অন্তত ১৯২টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান জুড়ে ৫৬টি কৌশলগত অবস্থানে 'কার্যকরভাবে' আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সাধারণ মানুষের চরম মানবিক বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এর নিষ্ঠুর প্রভাব দেখে ব্যক্তিগতভাবে ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার টুর্ক। তিনি অবিলম্বে লিপ্ত পক্ষগুলোকে সহিংসতা বন্ধ করে সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফলকার টুর্কের অবস্থান তুলে ধরেন তার মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের লাখো মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি চাইলেই এড়ানো সম্ভব ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং যুদ্ধের পরিধি ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই সংকটের সমাধান খুঁজতে ইরানের পক্ষ থেকেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরাপত্তা পরিষদের বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই ‘হুঁশে ফেরার’ কড়া বার্তা এল।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।